বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাওকে গ্রেফতার করা হয়েছে –

6106_varavara_rao

বিপ্লবী লেখক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী ভারাভারা রাও এবং কিছু অন্যান্য কর্মীদের এনটিআর ট্রাস্ট ভবনের সামনে প্রতিবাদ করার সময় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারাভারা রাওয়ের নেতৃত্বে এই সকল কর্মীরা রামকৃষ্ণসহ মাওবাদী নেতার অবিলম্বে আদালতে উপস্থাপন করার জন্যে অবস্থান প্রতিবাদ করছিলেন।

এ সময় কর্মীরা স্লোগান এবং ট্রাফিক ব্লক করতে থাকলে বিশাল সংখ্যক পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

পরে mediapersons এর সাথে কথা বলার সময়, ভারাভারা রাও বলেন- তিনি তথ্য পেয়েছেন যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় মাওবাদী নেতা – রামকৃষ্ণ ওরফে আরকে এবং গাজারলা রবি- যিনি অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার (AoB) এলাকার সম্পাদক নামে পরিচিত, তাদের কথিত নকশাল এনকাউন্টার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। যে ঘটনায় সাম্প্রতিক ২০জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়।

তিনি তাদের আদালতগুলোতে উপস্থাপন না করায় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ভারাভারা রাও বলেন, কোন মাওবাদী নেতা পুলিশের হেফাজতে ছিল এটা অস্বীকার করে বিশাখাপত্তনমের গ্রামীণ এসপি রাহুল দেব শর্মার দেয়া বিবৃতি তারা বিশ্বাস করেননি।

ভারাভারা রাও এসময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আরকে ও তার সহযোগীদের কোন ক্ষতি করা হলে তার জন্যে অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকার দায়ী থাকবে বলে সতর্ক করে দেন।

তিনি বনাঞ্চলে চিরুনি অভিযানের অজুহাতে ভুয়া এনকাউন্টারের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মাওবাদীদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্যেও সরকারের প্রতি ভারাভারা রাও দাবি জানান।

সূত্রঃ http://www.thehansindia.com/posts/index/Andhra-Pradesh/2016-10-28/Varavara-arrested-as-activists-stage-sit-in-at-NTR-Trust-Bhavan/261442

 


অক্টোবর বিপ্লবের ১০০ বছর উপলক্ষ্যে কেরালায় অনুষ্ঠান

14793776_10210987372226170_2074533427_n


নকশালপন্থী কবি ভারাভারা রাও এর কবিতা ‘মানুষকে বাঁচাতে নয়’

67817_450406961688852_166618349_n

(কবি ভারাভারা রাও ১৯৪০ সালের ৩রা নভেম্বর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ওয়ারাঙ্গাল জেলার একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তেলেগু ভাষার কবি। নিচের কবিতাটি তাঁর ‘Not to Protect People’ কবিতাটির ইংরেজি ভাষান্তর থেকে অনুবাদকৃত)

মানুষকে বাঁচাতে নয়

ভারাভারা রাও

তেলেগু আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই
আমি পড়েছি পুলিশ অর্থ অভিভাবক…
“যদি তুমি বিবাদ কর
(বিবাদ অর্থ বৃহতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ)
পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে তোমায়;
সাবধানে থেকো, পুলিশ মানে অসুর,”
শৈশবে মা বলত আমায়।
মায়ের কথাগুলো সত্যি হয়েছে।
পুলিশের হাতে ধরা বন্দুকগুলো জনগণকে রক্ষার জন্যে নয়
বরং তাদের ধরে নিয়ে গুলি করবার জন্যে।
অন্ধের সাদা ছড়ি,
পুলিশকে লাঠিচার্জের ফন্দি আঁটতে শেখায়
শেখায় না তাদের পথ দেখাবার রাস্তা।
এখন আমি জানি এই সরকার
বরাদ্দ করে চলেছে এসিড আর ধারালো সুঁই
বন্দীদের অন্ধ ক’রে দেবার জন্য।


ভারতের নকশালপন্থী কবি ভারাভারা রাও এর কবিতা

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও


কসাই কবিতাটি ভারাভারা রাও এর তেলেগু কবিতার কে বালাগোপালকৃত (k Balagopal) ইংরেজি অনুবাদ The Butcher থেকে অনুদিত। কবিতাটি লেখা হয় ৯ জুন ১৯৮৫ সালে

আমি মুক্তির সাগরে মুক্তি খুঁজে বেড়ানো একফোঁটা জল...”

কসাই
– – – ভারাভারা রাও

আমি একজন মাংসের ব্যবসায়ী
তুমি যদি আমাকে কসাই ডাকতে চাও
তবে তা তোমার ইচ্ছে
আমি রোজ পশু হত্যা করি
তাদের মাংস কেটে বিক্রি করি
রক্ত আমার কাছে এক পরিচিত দৃশ্য
কিন্তু
সেই দিন আমি দেখেছিলাম
কসাই শব্দের আক্ষরিক রূপ

আমার এই হাত দিয়ে রোজ পশু হত্যা করি
রক্ত আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেনি কোনদিন,
কিন্তু সেই দিন রক্ত রাজপথে গড়িয়ে পড়েনি
পড়েছিল আমার হৃৎপিণ্ডে
তুমি কি ধুয়ে দেবে সেই রক্ত ?

তোমাদের মাঝে কেউ কি আছো যে বাড়িয়ে দেবে
একটি মানবিক হাত
আর আমার হৃদয়কে করবে অবমুক্ত
সেই বিভৎস দৃশের অসহনীয় বোঝা থেকে ?

ছয়টি লাঠি তার অস্থিগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করেছিল
যেন-কোন উন্মাত্ত ক্রোধে-
রাইফেলের বাট তার দেহকে দুমড়ে মুচড়ে পরিণত করেছিল
একতাল মাংসপিণ্ডে

সেই মাংসপিণ্ডের মুখ আটকে দিয়েছিল পুলিশওয়ালাদের চোয়াল
তারা তখন বলেছিল
“নষ্ট যুবকটি একটি ছুরি নিয়ে হামলা চালায়
এবং সেখানে একটি ‘এনকাউন্টার’ ঘটে”

পশু হত্যা করি আমিও
কিন্তু তাদের আমি কখনো ঘৃণা করিনি ,
আমি মাংস বিক্রি করি
কিন্তু কখনো কারো কাছে
আমি নিজেকে বিক্রি করিনি

চুঁইয়ে পড়ছে রক্তধারা
তার দেহের সহস্র ক্ষতস্থান থেকে
জলে ভরা সহস্র দৃষ্টি
কিন্তু ছেলেটির শুষ্ক চোখ
আমার ছুরির ফলার নীচে ক্রন্দনরত ছাগলের মত
সে ’ব্যা ব্যা’ চিৎকার করে ওঠে না
মনে হয় তার দৃষ্টি যেন চেয়ে আছে ভবিষ্যতের পানে

গতকালের দৃষ্টি
না, এটি ইতোমধ্যেই পরশু দিনের
এটি ১৫ই মে’র বন্ধের দৃশ্য
আমার সে স্মৃতি তাড়ানো যাবে না কোনদিন
যতদিন নিঃশ্বাস বইবে এ দেহে

আজ আমি তোমাকে অনুভব করাতে পারছি
কারণ আমি নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারছি না
লুকিয়ে ফেলতে পারি কাল

আমার জীবিকা ওরা ধ্বংস করুক
কিন্তু সেই শিশুটি
আমাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে ।

শোনো আমার ভাই, বোন, তোমরা শোনো
একটি সাপও আমরা ওভাবে মারি না
যে আমি, রোজ পাঁঠা হত্যা করি, সেদিন বুঝেছিলাম
নিষ্ঠুরতা কী, যা সম্মিলিত হয়ে ষড়যন্ত্র চালায়
একটি জীবনকে কেড়ে নেবার জন্য

আমি মাংসের ব্যবসায়ী
হ্যাঁ, আমি একজন কসাই
ভেড়ার মাংস আর পাঁঠার মাংস
আমি বিক্রি করি জীবিকার জন্য

সেই মন্ত্রী নিজে
পুলিশওয়ালাদের ভূষিত করে
পুরস্কার আর পদোন্নতি দিয়ে
পদক আর টাকার ওজন দিয়ে
মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার পুরস্কার হিসেবে
মন্ত্রী অর্থ সরকার
পুলিশ আমাদের রক্ষক
যাদের(যে মন্ত্রীদের) নিয়ে এ সরকার আর
যার রক্ষক হল তারা(পুলিশ)

অসীমে ভেসে চলা
সেই ছেলেটির প্রাণ
বলে গিয়েছিল আমাকে
জেনেছিলাম
প্রকৃত কসাই এর পরিচয়
রাষ্ট্র
***

৯ই জুন ১৯৮৫


ভারতঃ ৩০শে সেপ্টেম্বর ‘এসেম্বলি চল’ শীর্ষক প্রতিবাদ

12004887_1155189277830625_3201026931100461318_n

12027772_1155206274495592_2852349268622743635_n

12036371_1155500151132871_623092811855436327_n

সাজানো বন্দুকযুদ্ধে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিশদ তদন্তের দাবীতে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর ‘এসেম্বলি চল’ শীর্ষক প্রতিবাদ প্রদর্শনের ডাক দিয়েছে তেলেঙ্গানা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর ব্যানারে বিভিন্ন গণ সংগঠন। শুক্রবার প্রতিবাদের পোস্টার প্রকাশ কালে বিপ্লবী কবি ভারাভারা রাও বলেন,  মাওবাদী পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার যে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও দিয়েছিলেন, তা পালন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তার পরিবর্তে তিনি মাওবাদী পার্টির সদস্যদের অপসারণ করতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস লেলিয়ে দিয়েছেন।

বন্দুকযুদ্ধটিকে ‘সাজানো’ বর্ণনা করে গোবিন্দরাওপেট মণ্ডলের মদ্দুলাগুত্তায় সংঘটিত শ্রুতি ও বিদ্যাসাগর রেড্ডিকে হত্যার অপারেশনে অংশগ্রহণকারী পুলিশদেরকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করেন ভারাভারা রাও। তিনি দাবী জানান, “এই হত্যাকাণ্ডের জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ভার নিতে হবে। সরকারকে এই সাজানো বন্দুকযুদ্ধের বিশদ তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে”। বিভিন্ন গণ সমিতি ও গণতান্ত্রিক সংগঠন একত্রে হাত মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতি নিন্দা জানায়। শ্রুতির পিতা সুদর্শন বলেন, এটি অত্যন্ত পরিস্কার যে হত্যা করার আগে তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে ও নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/telangana/chalo-assembly-protest-on-september-30/article7691647.ece


ভারতঃ ভুয়ো সংঘর্ষে মারা হয়েছে ২ মাওবাদীকে অভিযোগ ভারাভারা রাওয়ের

11062155_1150105731672313_2111781750894714765_n

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

মঙ্গলবার ভোররাতে ওয়ারাঙ্গলে পুলিসের গুলিতে ২ মাওবাদীর নিহত হওয়ার ঘটনাকে ভুয়ো সংঘর্ষ বলে অভিযোগ করলেন ভারভারা রাও। নিহত দুই মাওবাদীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানে মানবাধিকার সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীরা বিক্ষোভ দেখান। বিশাল পুলিসি ঘেরাটোপের মধ্যে হাসপাতালে ময়না তদন্ত হয় নিহতদের। পুলিস দাবি করেছিল মঙ্গলবার ভোররাতে ওয়ারঙ্গলের জঙ্গলে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরেই মৃত্যু হয় ওই ২ মাওবাদীর।

সূত্রঃ দ্যা হিন্দু


ভারতঃ ‘রাষ্ট্র বিশ্বায়নের একটি এজেন্ট’ – কবি ভারাভারা রাও

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

কবিলেখক ভারাভারা রাও

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও বলেছেন, এদেশে বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি মডেল দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে মাওবাদী পার্টি।

মঙ্গলবার শহীদ স্মরণ সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে এক বক্তব্য প্রদান কালে তিনি বলেন, মাওবাদীরা শোষণমুক্ত, নিপীড়নমুক্ত ও ব্যক্তি সম্পত্তি মুক্ত একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল।

তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের নীতিমালাকে ছড়িয়ে দেয়ার এজেন্টে পরিণত হয়েছে রাষ্ট্র। মাওবাদীরাই একমাত্র পার্টি যারা বিশ্বায়নের নীতিমালার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এদেশের অরণ্য এলাকাগুলো কর্পোরেটদের হুমকির মুখে পড়েছে, কারণ ঐসব এলাকায় প্রাকৃতিক সম্পদের খনি রয়েছে এবং সস্তায় শ্রমিক পাওয়া যায়। এ কারণে অরণ্য এলাকা মাওবাদীদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু”।

তিনি উল্লেখ করেন, “সংবিধানে অরণ্যের সম্পদের উপর আদিবাসীদের অধিকার দেয়া হলেও দেশের অধিকাংশ অরণ্য যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে”। তিনি আরো বলেন, গ্রিন হান্ট, থান্ডারবোল্ট ও বিজয়া ইত্যাদি অপারেশনের নামে দরিদ্র আদিবাসীদের উপর সহিংসতা চালাচ্ছে রাষ্ট্র।তিনি বলেন, আপাতবিরোধী হলেও এটা সত্য যে একটি গণতান্ত্রিক দেশের গোটা উত্তর-পূর্ব ও কাশ্মিরে শাসন চালাচ্ছে আর্মি। তিনি বলেন যতদিন শ্রেণী থাকবে ততদিন শ্রেণী সংগ্রাম থাকবে।

জনগণ যে শোষণ ও নিপীড়নকে জয় করতে পারে তার মডেল হল ছত্তিসগড়ের দণ্ডকারণ্যে মাওবাদী পার্টির গঠিত সরকার।

ওয়েস্টার্ন ঘাট এলাকায় মাওবাদী কার্যক্রমের প্রশংসা করে লেখক বলেন ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড় ও ওয়েস্টার্ন ঘাটে পার্টি তাদের ঘাঁটি বিস্তার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, “মাওবাদী কর্মী ভার্ঘিসের সময় থেকে ওয়েস্টার্ন ঘাট এলাকায় সশস্ত্র সংগ্রামের ধারা চলে এসেছে। সরকার অপারেশন থান্ডারবোল্টের মাধ্যমে এই সংগ্রামকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালিয়েছে। সাম্প্রতিককালে, তারা মুরালি, রূপেশ ও সাইনার মত নেতাদের গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারের ফলে আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হলেও তারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পাল্টা আঘাত হানবে”।

পরাত্তাম এম এন রাভুন্নি এর নেতা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

সূত্রঃ

http://www.thehindu.com/news/national/kerala/state-an-agent-of-globalisation/article7475974.ece


ভারতঃ ‘মাওবাদী আন্দোলন থামানো যাবে না’ – কবি ও অধ্যাপক ভারাভারা রাওয়ের সাক্ষাৎকার

v

ভারতের বিশিষ্ট কবি ও কলেজের অধ্যাপক ভারাভারা রাও ভাবাদর্শগতভাবে একজন নকশালপন্থী। অন্ধ্র প্রদেশে নকশাল বা মাওবাদী আন্দোলন তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সশস্ত্র বিদ্রোহ একদিন ভারতে স্বাধীনতা আনবে, যেমনটি এনেছেন মাও সে-তুং কমিউনিস্ট চীনে। ২০০৪ সালে সরকারের সঙ্গে মাওবাদীদের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভারাভারা রাও। সম্প্রতি সাংবাদিক দ্বৈপায়ন হালদারের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন সিপিআই (মাওবাদী) নেতা কোবাদ গান্ধীর গ্রেপ্তার ও মাওবাদী আন্দোলনের ভবিষ্যত্ প্রসঙ্গে।

কোবাদ গান্ধীর গ্রেপ্তার ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বিরাট পুরস্কার। এটা কি মাওবাদী আন্দোলনের জন্য একটি বড় আঘাত?
কোবাদ সিপিআইয়ের (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। তাঁর গ্রেপ্তার নিশ্চয়ই আন্দোলনের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তবে একজন নেতা গ্রেপ্তার হলে মাওবাদী আন্দোলনে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না। তাঁর গ্রেপ্তার হওয়াটা দলের জন্য একটি আদর্শিক ক্ষতি।

আপনি কি বলতে চাইছেন তিনি গ্রেপ্তার হওয়ায় কৌশলগত ক্ষতির চেয়ে আদর্শিক ক্ষতি বেশি হয়েছে?
পুলিশকে দেখে মনে হচ্ছে তারা কোবাদ গান্ধীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে যাচ্ছে। যদি সত্যিই তারা তাঁর কাছ থেকে তথ্য পায়, তাহলে তা দলের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর হবে, সেটা বলা মুশকিল। যেকোনো দলেই কৌশলগত ও আদর্শগত ব্যাপারটা ভিন্ন। আমি এটা বলতে চাই, একজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ মাওবাদী আন্দোলন থামিয়ে দিতে পারবে না।

অতীতে বহু নকশাল নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু কোবাদ গান্ধী গ্রেপ্তার হলে হইচইটা যেন একটু বেশি হয়েছে। সেটা কি তিনি দুন ও অক্সফোর্ডে শিক্ষিত বলে?
অবশ্যই এটা একটা কারণ। কোবাদের গ্রেপ্তারের ঘটনাটা সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রধান শিরোনাম হয়েছে। তিনি কোনো বড় করপোরেট অফিসের প্রধান হতে পারতেন। তা না হয়ে তিনি নকশাল নেতা হলেন। স্বাভাবিকভাবেই জনগণের ব্যাপক আগ্রহ তাঁকে নিয়ে।

শহরাঞ্চলে নকশালবাদ কি তার আকর্ষণ হারাচ্ছে? কোবাদ গান্ধীর মতো আর কেউ কি আসছে মাওবাদীদের সংগঠনে?
একজন কোবাদ গেছে, আরও বহু কোবাদ তৈরি হবে। দুঃখের কথা হলো, অর্থনীতির বাজারটি দখল করে রেখেছে বুর্জোয়া শ্রেণীর যুবকেরা। অন্যদিকে প্রান্তিক শ্রেণীর যুবকেরা যেমন, মুসলিম ও দলিতরা বাজার শক্তিতে পরিণত হয়নি, কারণ তারা দেখেছে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। এ জন্য তারা এই আন্দোলনের ওপর বেশি আকৃষ্ট হয়েছে। এখন ভারতে কোনো ক্যাম্পাস সংস্কৃতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাওয়া ছাড়াই এখন যে কেউ উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে পারে। একটি ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। সেই সংস্কৃতি এখন মারা যাচ্ছে।

কিন্তু এখন শহরে যুবকেরা কীভাবে মাওবাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, যখন মাওবাদকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
ভারতে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অন্ধ্র প্রদেশে মাওবাদী কার্যক্রম বেশি হয়। যদি আপনি নকশালপন্থী বা নকশালবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বা সাধারণ একজন নাগরিক অধিকার কর্মী হন, তাহলে আপনাকে জেলে যেতে হবে অথবা সাজানো বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ১৯৯২ সালে সাংবাদিক গোলাম রসুল একটি উর্দু দৈনিকে ভূমি সমস্যা নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করেন। এর পরই পুলিশের সাজানো বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। পুলিশ তাঁকে অভিহিত করে নকশাল হিসেবে। ওই বন্দুকযুদ্ধে গোলাম রসুলের একজন বন্ধুও নিহত হন। একইভাবে যেসব চিকিৎসক সুবিধাবঞ্চিতদের চিকিৎসা করছেন বা যেসব আইনজীবী প্রান্তিক লোকজনের পক্ষে কথা বলছেন, তাঁরা জেলে যাচ্ছেন বা নিহত হচ্ছেন।

কিন্তু খোদ কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করেছে যে নকশালবাদ একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে
এগুলো হচ্ছে কেতাবি কথা। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, নকশালবাদ উদ্বেগের একটা কারণ। কিন্তু তিনি একই সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ধারণাকেও সমর্থন করছেন। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। অনেক মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। দেখুন না, সিঙ্গুরে কী ঘটল বা ঘটছে। এ ধরনের সমস্যার সমাধান যত দিন না হবে, তত দিন নকশালবাদ টিকে থাকবে।

(সাক্ষাৎকারটি ২০০৭ সালে নেয়া)

সুত্র http://www.dnaindia.com/india/report-the-movement-will-continue-1130315