বাংলাদেশের এক শ্রমিকের লেখা শ্রমজীবী কবিতা – ‘মজদুর মেয়ে’

মজদুর মেয়ে

ইচ্ছে ছিল না মজদুর মেয়েটাকে নিয়ে গদ্য লিখার

কালি-কলম রক্তের অক্ষর লিখে যায়- সোনাফলানো

ক্ষেতের চাষি-মজদুরের কাহিনী, চাষি-বউরা নিদ্রায়।

মজদুর মেয়েটা কথা সারে চাষিদের সাথে, খুব ভোরে

বুনবে স্বপ্নের রোয়া চাষিদের জমিতে অথবা ভাড়ায়

কেনা। মজদুর মেয়েটার জমি নেই, তবু সব জমি তার

বেগার খেটে যাওয়া নয়, সে যেন চাষির সহদোর বোন

বর্ষার জলে ভিজে ভিজে সতেজ জমিতে ধান বোনা হয়

চাষিদের সাথে মজদুর মেয়েটাও ধান বুনে নিজ হাতে।

বৃষ্টির ছন্দ চাষিদের হাতে। পায়রার মত দোলায়

খোঁপা মজদুর মেয়েটা, গান ধরেঃ আয় বৃষ্টি ঝেপে- ধান

দেব যে মেপে। হেমন্তে নাচে বাঁকা ধানের শীষ। মজদুর

মেয়েটা গিয়েছে শহরে। বস্তিতে ব্যস্ত নারী শ্রমিকের কাজে

ফিরবে এ-গাঁয়ে বা অন্য গাঁয়ে। আন্ধার মেঘের ছায়ায়

নিখোঁজ সংবাদ এলো- সে ছিল এক কমরেড মজদুর।

 

রচনাকালঃ ২৪.০৫.২০১৫