মণিপুর আন্দোলনে ইরোম শর্মিলার পশ্চাদপসরণ – দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের এক নৈতিক পরাজয়

ইরোম শর্মিলা ছিলেন ভারতের মণিপুর রাজ্যের নারী আন্দোলনের এক বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর। যিনি ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের রাষ্ট্রীয় দমন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং তার রক্ষাকবচ গণবিরোধী আইন “আফসপা” (AFSPA) বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ অনশন ধর্মঘটের মাধ্যমে সংগ্রাম করে আসছিলেন। ইরোম শর্মিলার এই সংগ্রাম ছিল মণিপুরি জনগণের উপর ভারতীয় শাসকশ্রেণির আধিপত্য বজায় রাখার এক সন্ত্রাসী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মণিপুর রাজ্যের নিপীড়িত জনগণ ধারাবাহিকভাবে বীরোচিত সংগ্রাম করে আসছেন। এই সংগ্রাম বুর্জোয়া মিডিয়ায় বিশেষ প্রচার না পেলেও ইরোম শর্মিলার দীর্ঘ অনশন ধর্মঘটের কারণেই ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বর্বরোচিত হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের খবর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনসহ মণিপুরের সকল আন্দোলনেই রয়েছে সেখানকার নারীদের বিশেষ ভূমিকা। মণিপুর রাজ্যে ভারতীয় শাসকশ্রেণির শোষণ-শাসন এবং সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনগণের মুক্তি সংগ্রামের অংশ হিসেবে নিপীড়িত নারীদের যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে ইরোম শর্মিলার সংগ্রাম তারই অংশ।

২০০০ সালের ২ নভেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বর্বর হত্যাকান্ড (যা মালোম হত্যাকান্ড হিসেবে পরিচিত) ইরোম শর্মিলার বিদ্রোহী চিত্তে এক ঝড় তোলে। সেদিন বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত ১০ জন  যাত্রীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় কুখ্যাত সেনাবাহিনী। আর যে গণবিরোধী আইনের জোরে সেনাবাহিনী এই হত্যাকান্ডটি নির্বিকারে ঘটিয়েছিল ইরোম শর্মিলা সেই আইন “আফসপা”(AFSPA) বাতিলের দাবিতে সংগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ৫ নভেম্বর মালোম পৌঁছান। সেখানেই শুরু হয় তার অনশন ধর্মঘট। এই অনশন শুরু করার তিনদিন পরেই পুলিশ তাকে “আত্মহত্যার” চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে একই অভিযোগে তাকে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আটক করে এবং জোরপূর্বক অনশন ভাঙ্গানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শর্মিলা তাতে টলেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও মুখে কোন খাবার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নাকের মাধ্যমে তরল খাবার, পানীয় ও ভিটামিন দেওয়া হতো। শর্মিলার উপর আনীত অভিযোগের (আত্মহত্যার) মামলায় দিল্লীর এক আদালত ইরোম শর্মিলাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে প্রেরণ করে। ভারত রাষ্ট্রের যে গণবিরোধী আইন “আফসপা’র” (AFSPA) বিরুদ্ধে ইরোম শর্মিলা সংগ্রাম করেছিলেন সে আইনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যে কোন নাগরিক হত্যা করার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। ভারতীয় শাসকশ্রেণি ফ্যাসিস্ট এই আইনটিকে বৃহৎ “গণতান্ত্রিক” রাষ্ট্রের আইন এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আত্মহত্যা বলে জঘন্য প্রচারণা চালিয়েছিল।

১৯৭২ সালের ১৪ মার্চ ইরোম শর্মিলার জন্ম। মাধ্যমিক পড়ার সময়েই স্কুলের পাঠ্যপুস্তক শর্মিলার কাছে অর্থহীন মনে হয়। কারণ, সে বইয়ে তিনি তার আশেপাশের মানুষের জীব-সংগ্রামের কোন ইতিহাস দেখতে পাননি। স্কুলে ভারত রাষ্ট্রের সংবিধান পড়েও তিনি তার অসারতা বুঝতে পেরেছিলেন- এটা ভূয়া গণতন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। তার মনে প্রশ্ন জাগে মণিপুরসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল রাজ্য কি ভারতের অংশ? তাহলে ভারতের অন্যান্য অংশের তুলনায় কেন এই ভূখন্ড এতোটা পিছিয়ে? এমন সব চিন্তা থেকে শর্মিলার আগ্রহ জন্মায় রাজনীতির প্রতি। মণিপুর রাজ্য জুড়ে বিদ্রোহী মুক্তিকামী সংগঠনগুলোর প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। তিনি নুপিলানের গণআন্দোলনের (বৃটিশ বিরোধী নারী আন্দোলন) নেতা-কর্মীদের সাথে এবং “মৈরা পাইব” (নারীদের দ্বারা গঠিত সামাজিক সংগঠন) সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে পরিচিত হন। মাধ্যমিক পড়ার পর তিনি একটি সাংবাদিকতার কোর্সে ভর্তি হন, আর এসময়েই তার চেতনার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তার বয়েসী ছেলে-মেয়েদের চেয়ে তিনি পৃথক চিন্তা-চেতনার অধিকারী হয়ে পড়েন। তিনি উপলব্ধি করেন ভারতের মূল ভূখন্ডের সাথে মণিপুর রাজ্যের যোজন যোজন পার্থক্য। ইরোম শর্মিলার সংগ্রাম মণিপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে সংগ্রামের ইতিহাস না জানলে ইরোম শর্মিলার সংগ্রামের তাৎপর্য উপলব্ধি করা আদৌ সম্ভব নয়।

মণিপুর হচ্ছে বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের একটি রাজ্য। কিন্তু মনিপুর কখনই ভারত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল না। মনিপুরের ইতিহাস সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ পর্যন্ত ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাজ্য। ১৮৯১ সালে বৃটিশ উপনিবেশিকরা মণিপুর রাজ্য দখল করে নেয়। বৃটিশ শাসকদের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মণিপুরের নিপীড়িত জনগণের ও নিপীড়িত নারীদের আন্দোলন গড়ে উঠে। মণিপুরের শ্রমজীবী নারীরা ১৯০৪ সালে যে আন্দোলন শুরু করেন তা ধারাবাহিকভাবে চলে। যার মধ্যে ছিল ইংরেজ বাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ, বাজার বয়কট, অস্বাভাবিক জলকর ধার্য, খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরের, কৃষকদের থেকে কম দামে ধান কিনে মজুদদারী এবং মণিপুরের বাইরে চাল রপ্তানির বিরুদ্ধে আন্দোলন।

১৯৪৭ সালে ১১ আগস্ট মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্ণর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দেয়া হয়। ১৫ আগস্ট ’৪৭ মণিপুর স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু ভারত তার সম্প্রসারণবাদী চরিত্রের দ্বারা ছলে-বলে-কৌশলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে দখলে নেয়। ১৯৪৯ সালে ১৫ অক্টোবর মহারাজা বোধ চন্দ্রের সাথে ভারত সরকারের এক চুক্তির মাধ্যমে মণিপুর ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই চুক্তি ছিল মণিপুরের পরাধীনতার চুক্তি। এই চুক্তিতে মহারাজাকে জোরপূর্বক রাজি করানো হয়েছিল। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান রচনাকালে মণিপুরকে তৃতীয় শ্রেণির অঙ্গরাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭২ সালে মণিপুরকে ভারত সরকার পূর্ণ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও মূলত ভারতের অধীনে একটি পরাধীন রাজ্য হিসেবে জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। ফলে বিগত দিনে জনগণের জীবন-মানের কোন উন্নয়নই ঘটেনি। বরং আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিপতিদের লুটপাট, কালোবাজারী, মাদক ব্যবসার কালো থাবায় মণিপুর রাজ্যকে গ্রাস করে চলে। সেখানে মদ্যপান মহামারী আকার ধারণ করে। সেই সাথে মায়ানমার থেকে চোরা পথে আসে হিরোইন, ইয়াবা, মরফিন, পেথিডিনের মতো মাদক দ্রব্য।

এই মাদকের বিরুদ্ধেও গড়ে উঠে নারী আন্দোলন। ১৯৭৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মণিপুরের নারীদের উদ্যোগে গঠিত হয় “নিশা বন্ধ” নামে একটি সংগঠন। এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে ১৯৭৬ সালের ২১ এপ্রিল সমমনা সংগঠনগুলো একটি সমাবেশের মাধ্যমে গঠন করে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন “অল মণিপুর উইমেনস সোশ্যাল রিফরমেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি” (এএমডব্লিউএসআরডিএস)। এই সংগঠনের কাজের ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালের ৪ এপ্রিল মদ ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজ্যব্যাপী বন্ধ (হরতাল) পালিত হয়।

১৯৪৯ সালে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের মণিপুর রাজ্য দখলের পর নিপীড়িত জাতি ও জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে উঠে যা সশস্ত্র সংগ্রামেও রূপ নেয়। জাতীয়তাবাদী সংগঠনের পাশাপাশি সেখানে মাওবাদী বিপ্লবী সংগঠনও গড়ে উঠে। এই সংগঠনগুলো মণিপুর রাজ্যকে ভারত রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন করার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৭৮ সালে সশস্ত্র সংগ্রামরত পার্টিগুলো সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জোরদার বীরোচিত সংগ্রাম গড়ে তোলে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমূলে উচ্ছেদের জন্য ভারত সরকার মণিপুরে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালায়। পরে ১৯৮০ সালে সরকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে মূলত জনগণের বিদ্রোহ দমনে রাজ্যে সামরিক শাসন জারি করে। সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নামায়। আফসপা (AFSPA) হলো এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের রক্ষা কবচ।

রাষ্ট্রীয় বাহিনী হত্যা-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের তা-ব ঘটিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে- যাতে জনগণ বিদ্রোহীদের সহযোগিতা না করে। সেনাবাহিনী দ্বারা মণিপুরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ হত্যা-ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ও হচ্ছেন। যেমন, ২০০০ সালে মালোম হত্যাকান্ডের পর ২০০৩ সালে ৪ অক্টোবর জনৈকা নান্দৈবম সঞ্জিতার উপর ভারতীয় সেনারা পাশবিক নির্যাতন চালায়। ২০০৪ সালে ১১-১২ জুলাই সেনারা মনোরোমা নামের এক নারীকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার মা ও দুই ভাইকে আহত করে মনোরোমার দুই চোখ বেঁধে তার উপর নির্যাতন চালায় কয়েক ঘণ্টা ধরে। তাকে সারা শরীরে বেয়োনেট ও ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের অভিযোগ ছিল মনোরোমা বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন পিএলএ’র সাথে জড়িত।

এহেন পৈশাচিক নির্যাতন ও হত্যাকা-ের ঘটনায় গণবিক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। প্রতিবাদ উঠে সর্বত্র। এরই অংশ হিসেবে দেশের কাংলা দুর্গের সিংহদ্বারে বারোজন “মৈরা পাইবি” আন্দোলনকারী নারী প্রতিবাদ জানান। দুর্গে অবস্থানকারী আসাম রাইফেলসের বিভিন্ন রেজিমেন্টের সামনে এই প্রতিবাদী নারীরা তাদের পরনের যাবতীয় বস্ত্র খুলে একটি ব্যানার সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন। ব্যানারে লেখা ছিল “এসো ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের ধর্ষণ করো- আমরা সবাই মনোরোমার মা!” প্রতিবাদী এই নারীদের ছবি দেশে-বিদেশে প্রচার হবার পর রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে চারিদিকে নিন্দার ঝড় উঠে। প্রতিবাদী নারীরা বিবস্ত্র হয়ে সম্প্রসারণবাদী ভারত রাষ্ট্রের ‘গণতন্ত্র’র লেবাস খুলে ফ্যাসিবাদকে উন্মোচন করেন।

* ইরোম শর্মিলা ২০০০ সাল থেকে এইসব নির্যাতন ও বীভৎস হত্যাকা-ের প্রতিবাদে এবং তার রক্ষাকবচ গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট আইন “আফসপা”(AFSPA) বাতিলের দাবিতে বিগত ১৫ বছর ধরে অনশনের মাধ্যমে সংগ্রাম করে আসছিলেন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি খবরে প্রকাশ ইরোম শর্মিলা তার শান্তিপূর্ণ অনশন ভঙ্গ করে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বুর্জোয়া সংসদীয় নির্বাচন করবেন এবং সংসদীয় পদ্ধতিতেই তার চলমান প্রতিবাদ জানাবেন।

ইরোম শর্মিলা কোন বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠন বা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী গান্ধীবাদী অহিংস শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকামী। ফলে তার দৃষ্টিভঙ্গি বিপ্লবী ছিল না এবং তার সংগ্রামে বিপ্লবী দিশা ছিল অনুপস্থিত। উপরন্তু তিনি শত্রুর হাতে বন্দী ছিলেন। শত্রুরা সর্বদাই তার নৈতিক স্খলন ঘটাতে প্ররোচিত করেছে এবং ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করেছে। অবশেষে উদারনৈতিক মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিকভ্রান্ত সংগ্রামের পথ শর্মিলাকে বুর্জোয়া সংসদীয় পথে চালিত করেছে।

ইরোম শর্মিলার দীর্ঘ বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ইতিহাস যেমন নিপীড়িত নারী সমাজের সামনে এক বিরল দৃষ্টান্ত, তেমনি তার দৃঢ়চেতা সংগ্রাম থেকে পশ্চাদপসরণ এবং বুর্জোয়া সংসদীয় পথে প্রত্যাবর্তন তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের এক নৈতিক পরাজয়ও বটে। কারণ সংসদীয় প্রতিবাদে মণিপুরী জনগণের উপর থেকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের আগ্রাসন কখনো বন্ধ হবে না। আপোষহীন বিপ্লবী সংগ্রামই ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের কবল থেকে মণিপুরসহ সারা ভারতের নিপীড়িত জনগণকে  মুক্ত করবে একদিন।

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা

Advertisements

মণিপুর আদিবাসী ফোরামের উপর দিল্লী পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছে নকশালপন্থি DSU

13344646_845414662257136_3658904301257438789_n

CONDEMN BRUTAL ATTACK ON MANIPUR TRIBAL FORUM!
DOWN WITH RACIST BARBARIC DELHI POLICE!

On 7th June , Manipur Tribal Forum had organized a protest against three bills, outside Manipur Bhawan against the Chief Minister of Manipur, Okram Ibobi Singh’s visit to Delhi, where the protesters were brutally attacked by the Racist Delhi police with batons and water cannon.
During the attack, six protesters have been fatally injured and almost sixty were severely wounded. Protesters, even those with injuries were detained in Chanakyapuri police station and mercilessly beaten up, while others were hospitalized with injuries in head and chest.
Attacking Students and protesters in general, have been ritualized by Delhi police, when recently the protesters were fiercely attacked during the Occupy UGC movement and brutally beaten up protesters, marching for justice for Rohith Vemula along with RSS goons. In the recent times, there has been a surge of Racist attacks on the students and residents from Manipur, Nagaland, Africa and other places. Delhi Police have completely failed to book the perpetrators of these Racist attacks but the barbaric police came down heavily on the peaceful protesters.

DSU with strongest possible words condemns this planned assault on the democratic right of the people to protest and vicious attack by Delhi Police on the protesters. DSU stands with the protesting people of Manipur in their every democratic struggle, including against Indian occupation.

DSU


ভারতঃ ভূমিধ্বসে গ্রামবাসীদের মৃত্যুতে মনিপুর মাওবাদী পার্টির শোক

CLZ-Ot1WoAAMrCi

ইম্ফল, আগস্ট ২: গত ১লা চান্দাল জেলার যউমোল গ্রামে একটি বিশাল ভূমি ধ্বসে ২০ জন গ্রামবাসীর জীবন্ত মৃত্যুতে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি, মণিপুর গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

মণিপুর মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কমরেড নংলেন মেইতেই স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে, মণিপুরে বৃষ্টির নিরবচ্ছিন্ন ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট শক্তিশালী বন্যার পানি আবাসিক বাড়ী ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের দুঃখ- দুর্দশার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার অপেক্ষা ছাড়াই মাওবাদী পার্টি, বন্যা দ্বারা প্রভাবিত সকল গ্রামবাসীদের সম্ভাব্য সব সহায়তা প্রসারিত করার চেষ্টা করছে, পার্টি বাসস্থান এবং মৌলিক সুবিধা বঞ্চিত অভাবগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সাহায্য করার জন্য জনগণের কাছে আবেদন করেন। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভারী বর্ষণে ঊখড়ূল, থৌবাল ও ইম্ফল সহ অনেক জেলায় ঘর, ধানক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। ভূমি ধ্বসের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. এই ধরনের এমন একটি পরিস্থিতিতে সকলের জরুরী সাহায্যের প্রয়োজন ।

সূত্রঃ  http://kanglaonline.com/2015/08/maoist-mourns-death-of-villagers-in-landslide/