গেরিলা দল ‘মন্টোনেরস’ পরিচিতি –

200px-Seal_of_Montoneros.svg

Roberto-Perdia-Montoneros_CLAIMA20130607_0183_24

১৯৬০ থেকে ‘৭০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার রাজনীতির অঙ্গন দাপিয়ে বেড়িয়েছিল মন্টোনেরস নামের একটি গেরিলা দল। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির রেশ লাতিন আমেরিকার প্রায় সব কটি দেশেই। ক্ষমতাসীন জনবিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছিল বাম দলগুলো। তেমনি একটি গেরিলা দল মন্টোনেরস। সত্তরের দশকে আর্জেন্টিনার গণতান্ত্রিক সরকারের আড়ালে চরম আকার নেয় ফ্যাসিবাদী সরকার। প্রায় একনায়কতন্ত্রী সরকার হিসেবেই ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহার করছিল সরকার। ফলস্বরূপ, শ্রেণীবৈষম্য ও অরাজকতা প্রকট আকার ধারণ করে। তার প্রতিবাদেই সাধারণ মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠে মন্টোনেরস। মূলত তরুণ ও যুবকরাই ছিল এর মূল শক্তি। প্রথম দিকে সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে চাইলেও তা ডানপন্থী সরকারের অনিচ্ছায় সম্ভব হয়নি, উল্টো অনেক ক্ষেত্রেই সরকার বেইমানি করে। অবশেষে বাধ্য হয়েই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আনুমানিক ১৯৭০ সালে গঠিত হয় মন্টোনেরস গেরিলা দলটি। সরকারের ফ্যাসিবাদী কাজে অনাস্থা জানিয়ে সরকারি ভবন ও করপোরেট কোম্পানিগুলোতে আকস্মিক হামলা চালায়। দলটির উপর্যুপরি হামলা ও জনগণের ক্ষোভের মুখে আর্জেন্টিনার স্বেচ্ছাচারী সরকার প্রায় বাধ্য হয়েই ১০ বছর পর সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সালের ওই নির্বাচনে বাম দল জনগণের রায়ে অগ্রাধিকার পেলে ১৮ বছর নির্বাসিত হওয়া অন্যতম নেতা পেরন দেশে ফিরে আসেন। তার আগমন উপলক্ষে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন মানুষের জমায়েতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যেখানে ডানপন্থী দলগুলো পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্নাইপারদের মাধ্যমে ওই জমায়েতের ওপর গণগুলি চালায়। যার ফলে বেশ কয়েকজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়। আগে মিলিটারি হামলা চালালেও নির্বাচনের পর থেকে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। গুপ্তহত্যা, শুট এট-সাইটসহ নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন নেমে আসে বাম ওই গেরিলা দলটির ওপর। এক রকম নির্বিচারে ও গণহারে হত্যা করা হয় ওই দলের সব সদস্যকে। একদিকে সরকারি হত্যা, অন্যদিকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে বিভীষিকা ছড়ানো- সব দিকেই সচেষ্ট ছিল ডান দলগুলো। তার খানিকটা সফলতাস্বরূপ ১৯৭৯ সাল থেকে এই নামের গেরিলা দলটির আর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

 220px-Flag_of_Montoneros.svg

Advertisements