অধিকার ও মর্যাদার খেলাপ

kobad 1

ছয় বছর ধরে কারাবন্দী ৬৮ বছর বয়সী রাজবন্দী কোবাদ গান্ধীর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে। যদিও তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার কাজ এখনো আদালতে শুরু হয়নি। পেটের সমস্যা, মাথা ঘোরা, বমি, গুরুতর কিডনির সমস্যাসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এর জন্য তিনি All India Institute of Medical Sciences থেকে সময়ে সময়ে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। হৃদযন্ত্রের গুরুতর ব্যাধি ও নাড়ীর গতি অস্বাভাবিক হ্রাস পাওয়ায় তার শরীরে পেসমেকার বসাতে বলা হয়েছে।

তিহার জেলের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে বন্দী অবস্থায় তাকে তীব্র ধকলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি দ্রুত বিচার অথবা চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন। কোবাদ গান্ধীর হাইপারটেনশন, ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি, পায়ের নখে ক্ষত, প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া ও সারভিকাল স্পনডিলাইটিস ব্যাধিগুলোর কথা উল্লেখ করে সেপ্টেম্বর মাসে কারা সুপারিন্টেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার চলাকালীন তার স্বাস্থ্যের অবলতি পর্যবেক্ষণ করে অতিরিক্ত দায়রা জজ তার তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু আরো কিছু মামলা ঝুলে থাকার কারণে তাকে কারাগারেই রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক জামিনের বন্ড দাখিলের পূর্বেই তাকে গ্রেফতার করার জন্য অন্যান্য রাজ্যের পুলিশেরা অপেক্ষায় আছে।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিলকৃত একটি এফিডেভিট অনুযায়ী অন্ধ্র প্রদেশ সরকার জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, সুরাট, পাতিয়ালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খন্ডে মোট ১৪ মামলা রয়েছে। ভারতীয় পেনাল কোড ও Unlawful Activities (Prevention) Act (UAPA) এর বিভিন্ন ধারায় এইসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। দিল্লির মামলা প্রায় শেষ হয়ে আসছে এই অবস্থায় দেশ জুড়ে য়ারো গুরুতর সব মামলার সম্মুখীন হতে হবে তাকে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগগুলো হল- তিনি সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর সদস্য; তিনি এর আন্তর্জাতিক বিভাগ, গণ সংগঠনের উপকমিটি, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা ব্যুরো ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্যুরোর দায়িত্বে রয়েছেন।

(সংক্ষেপিত অনুবাদ)

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.frontline.in/cover-story/denial-of-dignity-and-rights/article8017713.ece

Advertisements