সালওয়া জুডুম প্রধান মহেন্দ্র কর্মাকে খতমের পর সিপিআই(মাওবাদী)-র অডিও বিবৃতি-

article-2330992-19FF989E000005DC-674_634x507

আজ ২৫শে মে ঐতিহাসিক নকশাল বাড়ী দিবস।  ২০১৩ সালের ২৫শে মে এই দিনেই ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলার দরভা উপত্যকায় সালওয়া জুডুমের নেতা মহেন্দ্র কর্মা সহ ২৫ জন কংগ্রেস নেতা ও কর্মীকে খতম করে সিপিআই(মাওবাদী)।  এ ঘটনা নিয়ে সিপিআই (মাওবাদী)-এর দণ্ডকারণ্য স্পেশ্যাল জোনাল কমিটি অডিও ও প্রেস-বিবৃতি দিয়ে ‘বস্তারের নিপীড়িত মানুষের পরম শত্রু’ মহেন্দ্র কর্মা ও নন্দকুমার পটেল, তার পুত্র দীনেশ, প্রাক্তন ইউনিয়ন মন্ত্রী ভি সি শুক্লা-সহ অন্য কংগ্রেস নেতাদের হত্যা করার জন্য দলীয় কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছে। দণ্ডকারণ্য স্পেশ্যাল জোনাল কমিটির মুখপাত্র গুড়সা উসেন্ডির সই করা ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল, মহেন্দ্র কর্মা এবং আরও কিছু ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ কংগ্রেস নেতাকে খতম করা।  তবে এই হামলায় কয়েকজন নিরীহ মানুষ এবং কংগ্রেস কর্মীর হতাহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তাঁদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছে মাওবাদীরা।  ওই বিবৃতিতে রাজ্যপাল শেখর দত্ত, মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ-সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও পুলিশ অফিসারের নাম করে বলা হয়েছে, দণ্ডকারণ্যে বিপ্লবী আন্দোলন চুরমার করে দিতে তাঁরা উঠেপড়ে লেগেছেন।  তাঁরা নিজেদের ‘অপরাজেয়’ ভাবছেন।  মাওবাদীরা মন্তব্য করেছে, ‘জেড প্লাস’ শ্রেণির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর বুলেটপ্রুফ গাড়ির জন্য মহেন্দ্র কর্মাও ভেবেছিলেন তিনি চিরকাল ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন।  ২৬ মে তারিখে জারি করা ওই বিবৃতিতে মাওবাদীরা দাবি করেছে, শনিবারের খতম অভিযানের মধ্য দিয়ে সালওয়া জুড়ুমের গুন্ডা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজার হাজার আদিবাসীর নৃশংস হত্যার বদলা নেওয়া হল। তাদের অভিযোগ, সালওয়া জুড়ুম চলার সময়ে অসংখ্য আদিবাসী রমণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় হামলা চালিয়ে ওই কাজের বদলা নেওয়া হল। মহেন্দ্র কর্মা না হয় মাওবাদীদের দীর্ঘদিনের শত্রু, কিন্তু নন্দকিশোর পটেলকে খতম করা হল কেন? কেনই বা বিদ্যাচরণ শুক্লর মতো প্রবীণ নেতাকে খতম করা হল? এ বিষয়ে হিন্দিতে লেখা চার পাতার দীর্ঘ প্রেস বিবৃতিতে তারও উত্তর দিয়েছে মাওবাদীরা। জানিয়েছে, নন্দকুমার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীনই বস্তারে প্রথম আধা-সামরিক বাহিনী (সিআরপি) মোতায়েন করা হয়।  আর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ স্বরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। ‘নিপীড়ণমূলক’ নানা কেন্দ্রীয় নীতি রূপায়ণ করেছেন তিনি।  বিবৃতির দীর্ঘ অংশ জুড়ে রয়েছে মহেন্দ্র কর্মার পারিবারিক ইতিহাস ও তাঁর ‘জনবিরোধী’ নানা কাজের খতিয়ান।  মাওবাদীরা দাবি করেছে, বস্তারের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরেই ‘পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি’-র (পি এল জি এ) কাছে মহেন্দ্রকে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন।  কিন্তু এর আগে কয়েকবার ‘সামান্য ভুল’ আর অন্য কারণের জন্য তিনি বেঁচে গিয়েছেন।
মাওবাদীদের বিবৃতিতে স্পষ্ট, তারা ‘জনবিরোধী’ কাজের নিরিখে ছত্তীসগঢ়ে বিরোধী দল কংগ্রেস এবং শাসক দল বিজেপি-কে একাসনে বসাতে চায়।  তারা দাবি করেছে, ছত্তীসগঢ়ে বিপ্লবী আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে দু’টি দলের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।

সিপিআই(মাওবাদী)-র অডিও বিবৃতিটি শুনুন –