গণভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে অস্ত্র লুঠ করে গেরিলা যুদ্ধের ডাক ‘মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি’র

র

নতুন করে পালিয়ে থাকা বা উৎসাহ হারিয়ে ফেলা কর্মীদের চাঙ্গা করতে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি চলতি বছরে বার্তা দিল। জানিয়ে দেওয়া হল, ২০১৭ যেভাবে চলেছে, সে পথে না গিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিতে হবে। দলকে শক্ত করতে হবে। শীর্ষস্তর থেকে একেবারে এরিয়াস্তরে নেতৃত্বকে যে কোনও মূল্যেই রক্ষা করতে হবে। এজন্য শুরু করতে হবে গণভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেরিলা যুদ্ধ। কেন্দ্রীয় কমিটির চিঠিতে যে বার্তা ছাপা হয়েছে, তাতে বলা হচ্ছে, ‘শত্রুপক্ষ’র ওপরে আলাদা আলাদা ইউনিটে ভাগ হয়ে আক্রমণ শানাতে হবে। অথবা, তাদের বাহিনীকে কৌশলে বিচ্ছিন্ন করে আক্রমণ করতে হবে। অস্ত্র লুঠ করতে হবে। এজন্য আরও বেশি নতুন করে লড়াইয়ে নামার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। 
কেন্দ্রীয় কমিটির চিঠিতে ৫টি দিকে মনোনিবেশ করার কথা বলা হয়েছে, দ্রুততা, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, নিজেকে রক্ষা করা, গেরিলা যুদ্ধকে আরও বেশি সংগঠিত করার জন্য কৌশলগত পরিবর্তন এবং গণভিত্তি আরও বেশি মজবুত করা।
মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে প্রতাপ এই বার্তা পাঠিয়েছেন, যা ইতিমধ্যেই গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। ৭ পাতার ওই চিঠিতে বস্তার অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে গেরিলা কমান্ডারদের। বলা হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত দণ্ডকারণ্য, বিহার-ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ সীমান্ত এলাকা, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ এবং পশ্চিমঘাটে ২০০-র বেশি যোদ্ধা লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে মহিলার সংখ্যা প্রায় ৫৪। বলা হচ্ছে, সেনা ও পুলিসের বহু কৌশলের কাছে যোদ্ধারা পর্যুদস্ত হয়েছে। এজন্য কোনওরকম প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করে লড়াই সংগঠিত করুন। যে সমস্ত নেতৃত্ব মারা গেছেন, তাঁদের কথাও বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য যে, নতুন করে দণ্ডকারণ্য, বিহার-ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্র-ওড়িশা সীমান্ত, পশ্চিমঘাট অঞ্চলে লড়াইয়ে শক্তিক্ষয় হয়েছে। কিন্তু সেই জমি পুনরুদ্ধারের জন্য আবার নতুন করে নিজেদের সংগঠিত করতে হবে। বলা হচ্ছে, বহু জায়গায় পুলিস বিস্ফোরক রেখে বা নিজেরাই সন্ত্রাস ঘটিয়ে মাওবাদীদের নাম দিচ্ছে। এজন্য নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, শহর, আধা শহর ইত্যাদি জায়গায় আবার নতুন করে সংগঠন বাড়াতে হবে। একটি তথ্যে মাওবাদীরা মনে করেন, ভুল সিদ্ধান্ত এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারে বহু কর্মী লড়াইয়ের পথ থেকে সরে গেছেন। উপরন্তু নতুন করে কৌশলগত কারণে অনেক জায়গাতেই শক্তিক্ষয় হয়েছে। ওই চিঠিতে মোদি সরকারেরও সমালোচনা করেছেন মাওবাদীরা। বলা হয়েছে, গ্রাম, এরিয়া, জেলা/ডিভিশন/জোনাল- এই সব জায়গায় নতুন করে র্যালি করার প্রয়োজন রয়েছে। আঞ্চলিক সমস্যাকে সামনে এনে নতুন করে গণভিত্তি মজবুত করতে হবে।

সূত্রঃ https://m.dailyhunt.in/news/india/bangla/aajkaal-epaper-aajkal/astr+luther+dak+maobadider-newsid-76559792