মাওবাদী নেতা RK এখন দণ্ডকারণ্যে, AOB এর নতুন দায়িত্বে গনপতি’র স্ত্রী !

state_on_alert1

মালকানগিরি জেলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যার যৌথ পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে এক এনকাউন্টারে সিপিআই(মাওবাদী)’র ৩১জন গেরিলা ও আদিবাসী নিহত ও তাদের বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা আহত হওয়ার পর গত শুক্রবার AOB স্পেশাল জোনাল কমিটির সম্পাদক পদ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আক্কিরাজু হরগোপাল ওরফে RK’কে সরিয়ে নিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)।

শুক্রবার একটি অডিও বার্তায় মাওবাদী নেতা ভূমিকা ওরফে পদ্মাক্কা AOBSZC এর নতুন সম্পাদক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। এই মাওবাদী নেত্রীকে সিপিআই(মাওবাদী) সম্পাদক গণপতির স্ত্রী হিসেবে ধারণা করা হয়। পদ্মাক্কা এনকাউন্টারের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন।

তিনি বলেন, ‘এনকাউন্টারের পর মাওবাদীরা ঐ অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, স্থানীয়রা আমাদের সাথে আছে কারণ আমরা তাদের জন্যেই যুদ্ধ করে যাচ্ছি’।

এনকাউন্টারের পর নিখোঁজ থাকা RK বর্তমানে নিরাপদ আছেন এবং দন্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে ঐ বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। মালকানগিরি’র ঐ এনকাউন্টারে RK’র ছেলে মাওবাদী গেরিলা মুন্নাও একইসাথে নিহত হন।

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/india-news-india/top-maoist-rk-safe-but-removed-from-post-3737975/


মাওবাদী বনধে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় জনজীবন স্তব্ধ

maobandh-300x240

৩০জন দলীয় নেতা কর্মীর হত্যার প্রতিবাদে ৫ রাজ্যে বনধের মধ্যেই ওড়িশায় পঞ্চায়েত সদস্যকে গুলি করে হত্যা করল মাওবাদীরা জানাচ্ছে sakhipost। মালকানগিরি, রায়গড়া, কোরাপুট সহ ওড়িশার একাধিক জেলায় বাস চলাচল বনধ। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় মাইন পুঁতে পুলিস খবর দেয় মাওবাদীরা। তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রের মাও প্রভাবিত এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ।

সূত্রঃ satdin.in


মাওবাদী নেতা RK পুলিসের হেফাজতে নেইঃ আদালতকে জানাল অন্ধ্র সরকার

akiraju-fresh-picture_647_102816091046

সিপিআই(মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণ পুলিসের হেফাজতে নেই। হায়দরাবাদ হাইকোর্টকে জানাল অন্ধ্র সরকার। sakshipost এর রিপোর্ট অনুযায়ী  ওই মাওবাদী নেতার  স্ত্রী  অভিযোগ নিজেদের হেফাজতে রেখে  RKকে হত্যার পরিকল্পনা করছে পুলিস। আর তাই হায়দরাবাদ হাইকোর্টে সোমবার হেবিয়াস করপাস দায়ের করেন রামকৃষ্ণের স্ত্রী শীর্ষা। এরপরই সরকারকে RK ও সংঘর্ষ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর বৃহষ্পতিবার সরকার জানায় RK পুলিসের হেফাজতে নেই। অন্যদিকে রামকৃষ্ণ যে পুলিসি হেফাজতে রয়েছে তার প্রমাণ মাওবাদী নেতার স্ত্রীকে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে  আদালতে  জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

সূত্রঃ satdin.in


মাওবাদী অধ্যুষিত সুকমা জেলায় IED বিস্ফোরণে খতম পুলিশ জওয়ান

1_1462236323

মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় জোড়া বিস্ফোরণ৷ বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে ডিসট্রিক্ট রিজার্ভ গ্রুপের এক জওয়ান৷

সুকমার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইরফান খান বলেন, ‘‘সোমবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মারাইগুড়া থানার কাছে মারাইগুড়া-গোলাপাল্লি রোডের উপর প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে৷ ঘটনার সময় এলাকায় টহল দিচ্ছিল সিআরপিএফ এবং ডিআরজি’র জওয়ানরা৷ সেই সময় রাস্তায় পুঁতে রাখা আইইডি’র উপর পা পড়ে যান অ্যাসিস্ট্যান্ট কনস্টেবল মাদক জোগার৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে তাঁকে তেলেঙ্গানায় বদলি করা হলে, সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর৷

সুত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/jawan-killed-in-ied-blast.html


বনদপ্তরে আক্রমণঃ তেলেঙ্গানা রাজ্যে নকশাল আন্দোলন পুনরূত্থানের ইঙ্গিত

th17-nation-war_17_2817210e

অনূদিতঃ গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারঙ্গল জেলার থাডভাই মণ্ডল সদরে তেলেঙ্গানা বনদপ্তরের অতিথি নিবাস এবং একটি সরকারি জিপ পুড়িয়ে দিল নকশালরা। পুলিশ জানিয়েছে, ওয়ারঙ্গল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে তেলেঙ্গানা-ছত্তিশগড় সীমান্তে এই হামলা হয়েছে। রাজ্যের পর্যটনে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্যে অতিথি নিবাসটি ও কিছু কুঁড়ে ঘর  কয়েকদিন দিন আগে সংস্কার করা হয়েছিল।

এলাকার এই ঘটনার উপর সিপিআই(মাওবাদী) করিমনগর-খাম্মাম-ওয়ারাঙল জেলার সম্পাদক দামোদর এক নোটে বলেন, এই এলাকায় ‘খনি প্রকল্পের উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের পোডূ ভূমি অধিগ্রহণ করা ও “জনগণের আন্দোলন” এ নেতৃত্ব দেয়া জনগণকে গ্রেফতার করা, তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকারকে বন্ধ করতে হবে।

এই নোটে একই সাথে জনগণের প্রতি আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহবান জানান তিনি।

সূত্রঃ thehindu


ভারতের গণযুদ্ধের সংবাদ- ০৮/০৪/২০১৬ তারিখের

ভারতের গণযুদ্ধের সংবাদ- ০৮/০৪/২০১৬ তারিখের

nax080420161460100814_storyimage

  • লাখীশারাইয়ে পুলিশী হেফাজতে রাজবন্দীকে হত্যা করা হয়েছে।

  • ছত্তিসগড়ে মাওবাদী অধ্যুষিত বিজাপুর জেলার পামেড থানার ঘন জঙ্গলে একটি হেলিপ্যাডের উপর মোতায়েন করা জওয়ানদের লক্ষ্য করে মাওবাদীদের একটি দলের অতর্কিত হামলায় একজন জওয়ান নিহত ও অন্য একজন আহত হয়েছে।

naxal01

  • মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে আদিবাসীদের টেণ্ডূ পাতা তোলার বিষয়ে মাওবাদীরা আদিবাসীদের প্রভাবিত করতে চাইছে। গত বৃহস্পতিবার বালাঘাটে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ হওয়া এই এলাকায় মাওবাদীদের নতুন নিয়োগ পাওয়া দলটি টেণ্ডূ পাতা তোলার কাজ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই এলাকায় এসেছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে। ২০১২ সালের ২৪শে মে এই এলাকায় ২ মাওবাদীকে হত্যা করেছিল পুলিশ, ৪ বছর পর ঠিক একই এলাকায় মাওবাদীরা আবার তাদের কার্যক্রম প্রসার করছে।

  • বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক আদালত, গত বছর কোয়েম্বাটুর জেলার কাড়ূমাথামপাত্তি’র একটি বেকারি থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন মাওবাদী নেতা রূপেশ, তার স্ত্রী সাইনা,  তাদের তিন সহযোগী ভিরামনি, কাণ্ণান এবং অনুপ ম্যাথিউ জর্জ এর বিচারিক হেফাজত ২৭শে এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

অনুবাদ সূত্রঃ 

http://timesofindia.indiatimes.com/city/coimbatore/Judicial-custody-of-5-Maoists-extended/articleshow/51736117.cms

http://www.hindustantimes.com/bhopal/mp-maoists-in-balaghat-wanted-to-influence-tendu-leaf-plucking/story-coNc9C5lKZuCQJP3EUSxsJ.html

http://www.thehindu.com/news/national/other-states/jawan-killed-another-hurt-in-naxal-attack-in-bijapur/article8451976.ece

http://www.livehindustan.com/news/bihar/article1-naxal-killed-in-police-custody-524859.html


ক্যাঙ্গারু আদালতঃ ‘জন আদালতের’ মাধ্যমে স্থানীয়দের শাস্তি প্রদান করছে মাওবাদীরা

Maoists_1
সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ভারতের ছত্তিসগড়ে ‘জন আদালতের'( গণ আদালত বা ক্যাঙ্গারু আদালত) মাধ্যমে জনসম্মুখে সন্দেহভাজন রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরদের হত্যা করার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাওবাদীরা জনগণের ভেতর আভ্যন্তরীণ ন্যায়সঙ্গত বিচার ব্যবস্থা চলমান রাখার জন্য ‘জন আদালতের’ কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা; তাদের বক্তব্য, মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালাচ্ছে ও স্থানীয়দের মধ্যে রাষ্ট্রীয় চর তৈরি করছে, এ কারণে মাওবাদীরা এই পদক্ষেপ নিতে পারে।
পুলিশের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এ বছরের জুলাই পর্যন্ত বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে মাওবাদীরা ১৩টি জন আদালত বসিয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪।

সূত্রঃ http://www.dnaindia.com/india/report-kangaroo-courts-naxals-punish-locals-through-new-gane-plan-jan-adalat-2121850


ভারতঃ আনাগোনা বাড়ছে মাওবাদীদের, ‘খোকাদা’কে নিয়ে বিভ্রান্ত পুলিশ

300845-naxals-6565

ছত্রধর মাহাতোর সাজাকে ঢাল করেই কি জঙ্গলমহলে ফের নিজেদের জমি তৈরির কাজে নেমে পড়ল মাওবাদীরা? গত তিন-চারদিনে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় হঠাত্‍ করেই মাওবাদী তত্‍পরতা বেড়ে যাওয়ায় এমন আশঙ্কাই করছেন গোয়েন্দারা৷ এক সময় মাও অধ্যুষিত বেলপাহাড়ি, লালগড়ে এখন ঝাড়খণ্ড থেকে মাঝে মধ্যেই ঢুকছে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র স্কোয়াড৷ এদের নেতৃত্বে থাকছেন মাওবাদী কমান্ডার রঞ্জিত পাল৷ দীর্ঘ সময় পুরুলিয়ার অযোধ্যা স্কোয়াডের দায়িত্বপ্রান্ত রঞ্জিত কাজও শুরু করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায়৷

শুক্রবার এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ‘বর্ষা এগিয়ে আসছে, সুতরাং জঙ্গল আরও গভীর হচ্ছে৷ সেই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা৷ শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্তত পাঁচ জায়গায় মাওবাদীদের আনাগোনার খবর জানতে পেরেছি আমরা৷ কিন্তু সব কটা খবরই এসেছে ওরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর৷ এটাই উদ্বেগের৷’ জানা গিয়েছে, গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বেড়েছে একটি অজানা নামকে ঘিরেও৷ বেলপাহাড়ি এলাকায় ‘খোকাদা’ নামে ওডিশার বাসিন্দা এক ব্যক্তি এসে সংগঠন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন মাসখানেক আগে৷

এক গোয়েন্দা কর্তার ব্যাখ্যা, ‘এই অজানা নামগুলিকে নিয়েই সমস্যা৷ কারণ অনেক পরে হয়তো জানা যাবে ওই ব্যক্তি আসলে কে? এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০০ সালের শুরুর দিকেও৷ সে সময় বেলপাহাড়ির পুকুরিয়া গ্রামে মাওবাদী নেতা কিষেণজি প্রথম সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছিলেন ‘বিমলদা’ নাম নিয়ে৷ যখন আমরা জানতে পারি বিমলদাই আসলে কিষেণজি, ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে৷’ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের মতো আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না মাওবাদীরা৷ আবার তারা প্রথম দিকের মতো ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান শুরু করেছে৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বেলপাহাড়ির ভূমিপুত্র হলেও মদন মাহাতোর কাজকর্মে মাওবাদী নেতৃত্ব খুশি নয়৷ ফলে তারা মদনকে সাংগঠনিক কাজ থেকে দূরে রেখেছে৷ ছত্তিসগড়ে গা ঢাকা দিতে চলে যাওয়া মহিলা নেত্রী তারাকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে৷ এবং এই ঝাড়খণ্ডের সীমানাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এ রাজ্যে নতুন করে জমি তৈরির জন্য৷

শুক্রবার এক পুলিশ কর্তা বলেন, আসলে মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে নতুন করে জল মাপতে চাইছে৷ বিভিন্ন পঞ্চায়েতে তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে গোলমালকে কতটা কাজে লাগানো যায় তা দেখতে দিনের বেলা গ্রামে ঢুকে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়েও যাচ্ছে তারা৷ কমিটির বহু নেতা বাঁচার স্বার্থে তৃণমূলে যোগদান করলেও তাদের অনেকেই পুরোনো মনোভাব পাল্টাতে পারেনি৷ তাদের গতিবিধির উপরেও নজরদারি চলছে৷ যেমন, লালগড় অঞ্চলে জনসাধারণের কমিটির এক প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বাঁশতলায় রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানোর মতো ঘটনার পর সংগঠনের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফিরে এসে শাসকদলে নাম লেখান৷ এ ধরনের লোকেদের বিরুদ্ধেও মাওবাদীরা কৌশলে প্রচার শুরু করেছে৷ খুব সম্প্রতি রামগড়ে এক ঠিকাদারের কাজে অসন্ত্তষ্ট হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখেছিলেন৷ পরে পুলিশ খবর পেয়ে আসায় তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷ দীর্ঘক্ষণ ঝামেলার পর সেই ঠিকাদারকে ছাড়া হয়৷ চলতি মাসের গোড়ায় বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা পঞ্চায়েত অফিসে একশো দিনের কাজের টাকা না পেয়ে সরকারি কর্মীদের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা৷ এর পিছনেও মাওবাদীদের মদত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশকর্তাদের৷

জানা গিয়েছে, ছত্রধর মাহাতোর সাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়েও জঙ্গলমহলে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাওবাদীরা৷ তাদের স্ট্র্যাটেজি, গ্রামের লোকেদের মধ্যে প্রচার করতে হবে যে উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করায় ছত্রধরকে সাজা দেওয়া হয়েছে৷ অথচ সেই আন্দোলনের জেরে উন্নয়ন যখন শুরু হল তখন শাসকদলের কিছু নেতারাই সব লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ আপাতত দলের তরফে এই প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন রঞ্জিত পাল৷ ইতিমধ্যেই আজনাশুলি, আগুইবনির মতো জঙ্গল এলাকাগুলিতে যাতায়াত শুরু করেছেন তিনি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসীর কথায়, দিন পনেরো আগে রঞ্জিত পাল আরও কয়েকজনকে গিয়ে আজনাশোলে এসেছিল৷ গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তাবও দেয়৷ কিন্তু দশ-বারোজনের বেশি গ্রামবাসী সেই বৈঠকে যাননি৷

শুক্রবার জঙ্গলমহলের কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক কর্তা বলেন, ‘৬ মাস আগে মাওবাদী নেতা বিকাশ ওদলচুয়ায় ঢুকেছে বলে আমরা জানতে পারি৷ রাতে সেখানেই হানা দিয়েছিলাম৷ তবে তার পাঁচ মিনিট আগেই সে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়৷ আগে এ সব খবর দ্রুত আমাদের কাছে চলে আসছিল৷ এখনও খবর আসছে ঠিকই, কিন্তু বড্ড দেরিতে৷ এটাই আমাদের চিন্তা বাড়িয়েছে৷’

সূত্রঃ

 http://banglaheadline.com/2015/05/17/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0/


মোদীর সফরে মাওবাদী হাতে আটক ২৫০, মুক্তি, জনতার আদালতে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

2afeab2c-6f96-4d23-8a29-b70f89aa5714wallpaper1

কথিত উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এ বারে মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তিনি গিয়ে ওঠার আগে রাত থেকেই কমপক্ষে দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে রেখে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরে তাদের আদৌ আস্থা নেই। মাওবাদীদের দাবি, এলাকার ভূ-সম্পদ লুঠ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়াই এই দুই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ দিন রাতে ওই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিলেও, মাওবাদীরা ‘জন আদালত’-এ বিচার করে এক জনকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোদীর সভাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জিরম উপত্যকায়। দু’বছর আগে ঠিক এখানেই কংগ্রেসের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালিয়ে বেশ কয়েক জন নেতাকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দন্তেওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ গিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। এর তিন দশক পরে গেলেন মোদী। কলকাতায় যাওয়ার আগে তাঁর এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুটি: এক, মাওবাদী অধ্যুষিত এই একটি জেলাতেই ২৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। যে প্রকল্পে ইস্পাত কারখানা থেকে রেল লাইন পাতা হবে। দুই,  মাওবাদীদের সুস্থ জীবনে ফেরার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মাওবাদীরা বয়কটের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, সুকমা জেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শুধুই দেশি-বিদেশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই সব প্রকল্প ঘোষণা করছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই কেন্দ্র জমি বিল আনতে চাইছে। বস্তারে হচ্ছে সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলও। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি তাই কেন্দ্রের ‘ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের সরকার’-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দন্তেওয়াড়ায় শান্তি-বার্তা দিয়ে মোদী কলকাতায় পৌঁছে গেলেও রমন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে ওঠে আটক করে রাখা গ্রামবাসীদের মুক্তির বিষয়টি। আলোচনার পথেই তাঁদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকে রাজ্য প্রশাসন। রাতে এক জন বাদে সবাইকেই ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সদারাম নাগ এক জন শুধু জীবিত ফেরেননি। ‘জন আদালতে দোষী’ হওয়ায় মাওবাদীরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

images (2)

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদী মোকাবিলার পথ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ইউপিএ আমলের এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে রাজনাথ সিংহের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি খসড়া নীতিও তৈরি করে। যেখানে বলা হয়, দরকারে স্থলসেনা ও বায়ুসেনাকেও মাওবাদী মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। এই খসড়া সমালোচনার ঝড় তোলে। দেশের সেনাকে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে মোদী আজ মাওবাদী গড়ে গিয়ে যে ভাবে উন্নয়নের কথা বললেন, সেখানকার মানুষের দুঃখ-বেদনা বোঝার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট, কেন্দ্র এখন দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে। এক দিকে কড়া হাতে মাওবাদী মোকাবিলার প্রস্তুতি চালানো। এর পাশাপাশি, উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

মোদী এই সফরে দু’টি কাজই করতে চাইলেন। চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ১৮৮টি মাওবাদী হামলা হয়েছে। নিহত ৪৬ জন। এই অবস্থায় মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও গ্রামবাসীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। আর তাঁর বক্তব্যে জোর পেল দ্বিতীয় পথটি।

সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/india-news/pm-modi-to-visit-dantewada-today-maoists-call-for-bandh/article1-1345390.aspx


রুপাছড়ার আন্দোলনের পেছনে বাস্তবেই মাওবাদীরা ? – রুপাছড়ার সাতকাহন (২)

aj

 

সুত্র – http://samayikprasanga.in/epaper.php?pn=1