ভারতঃ আনাগোনা বাড়ছে মাওবাদীদের, ‘খোকাদা’কে নিয়ে বিভ্রান্ত পুলিশ

300845-naxals-6565

ছত্রধর মাহাতোর সাজাকে ঢাল করেই কি জঙ্গলমহলে ফের নিজেদের জমি তৈরির কাজে নেমে পড়ল মাওবাদীরা? গত তিন-চারদিনে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় হঠাত্‍ করেই মাওবাদী তত্‍পরতা বেড়ে যাওয়ায় এমন আশঙ্কাই করছেন গোয়েন্দারা৷ এক সময় মাও অধ্যুষিত বেলপাহাড়ি, লালগড়ে এখন ঝাড়খণ্ড থেকে মাঝে মধ্যেই ঢুকছে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র স্কোয়াড৷ এদের নেতৃত্বে থাকছেন মাওবাদী কমান্ডার রঞ্জিত পাল৷ দীর্ঘ সময় পুরুলিয়ার অযোধ্যা স্কোয়াডের দায়িত্বপ্রান্ত রঞ্জিত কাজও শুরু করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায়৷

শুক্রবার এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ‘বর্ষা এগিয়ে আসছে, সুতরাং জঙ্গল আরও গভীর হচ্ছে৷ সেই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা৷ শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্তত পাঁচ জায়গায় মাওবাদীদের আনাগোনার খবর জানতে পেরেছি আমরা৷ কিন্তু সব কটা খবরই এসেছে ওরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর৷ এটাই উদ্বেগের৷’ জানা গিয়েছে, গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বেড়েছে একটি অজানা নামকে ঘিরেও৷ বেলপাহাড়ি এলাকায় ‘খোকাদা’ নামে ওডিশার বাসিন্দা এক ব্যক্তি এসে সংগঠন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন মাসখানেক আগে৷

এক গোয়েন্দা কর্তার ব্যাখ্যা, ‘এই অজানা নামগুলিকে নিয়েই সমস্যা৷ কারণ অনেক পরে হয়তো জানা যাবে ওই ব্যক্তি আসলে কে? এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০০ সালের শুরুর দিকেও৷ সে সময় বেলপাহাড়ির পুকুরিয়া গ্রামে মাওবাদী নেতা কিষেণজি প্রথম সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছিলেন ‘বিমলদা’ নাম নিয়ে৷ যখন আমরা জানতে পারি বিমলদাই আসলে কিষেণজি, ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে৷’ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের মতো আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না মাওবাদীরা৷ আবার তারা প্রথম দিকের মতো ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান শুরু করেছে৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বেলপাহাড়ির ভূমিপুত্র হলেও মদন মাহাতোর কাজকর্মে মাওবাদী নেতৃত্ব খুশি নয়৷ ফলে তারা মদনকে সাংগঠনিক কাজ থেকে দূরে রেখেছে৷ ছত্তিসগড়ে গা ঢাকা দিতে চলে যাওয়া মহিলা নেত্রী তারাকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে৷ এবং এই ঝাড়খণ্ডের সীমানাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এ রাজ্যে নতুন করে জমি তৈরির জন্য৷

শুক্রবার এক পুলিশ কর্তা বলেন, আসলে মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে নতুন করে জল মাপতে চাইছে৷ বিভিন্ন পঞ্চায়েতে তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে গোলমালকে কতটা কাজে লাগানো যায় তা দেখতে দিনের বেলা গ্রামে ঢুকে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়েও যাচ্ছে তারা৷ কমিটির বহু নেতা বাঁচার স্বার্থে তৃণমূলে যোগদান করলেও তাদের অনেকেই পুরোনো মনোভাব পাল্টাতে পারেনি৷ তাদের গতিবিধির উপরেও নজরদারি চলছে৷ যেমন, লালগড় অঞ্চলে জনসাধারণের কমিটির এক প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বাঁশতলায় রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানোর মতো ঘটনার পর সংগঠনের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফিরে এসে শাসকদলে নাম লেখান৷ এ ধরনের লোকেদের বিরুদ্ধেও মাওবাদীরা কৌশলে প্রচার শুরু করেছে৷ খুব সম্প্রতি রামগড়ে এক ঠিকাদারের কাজে অসন্ত্তষ্ট হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখেছিলেন৷ পরে পুলিশ খবর পেয়ে আসায় তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷ দীর্ঘক্ষণ ঝামেলার পর সেই ঠিকাদারকে ছাড়া হয়৷ চলতি মাসের গোড়ায় বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা পঞ্চায়েত অফিসে একশো দিনের কাজের টাকা না পেয়ে সরকারি কর্মীদের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা৷ এর পিছনেও মাওবাদীদের মদত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশকর্তাদের৷

জানা গিয়েছে, ছত্রধর মাহাতোর সাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়েও জঙ্গলমহলে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাওবাদীরা৷ তাদের স্ট্র্যাটেজি, গ্রামের লোকেদের মধ্যে প্রচার করতে হবে যে উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করায় ছত্রধরকে সাজা দেওয়া হয়েছে৷ অথচ সেই আন্দোলনের জেরে উন্নয়ন যখন শুরু হল তখন শাসকদলের কিছু নেতারাই সব লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ আপাতত দলের তরফে এই প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন রঞ্জিত পাল৷ ইতিমধ্যেই আজনাশুলি, আগুইবনির মতো জঙ্গল এলাকাগুলিতে যাতায়াত শুরু করেছেন তিনি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসীর কথায়, দিন পনেরো আগে রঞ্জিত পাল আরও কয়েকজনকে গিয়ে আজনাশোলে এসেছিল৷ গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তাবও দেয়৷ কিন্তু দশ-বারোজনের বেশি গ্রামবাসী সেই বৈঠকে যাননি৷

শুক্রবার জঙ্গলমহলের কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক কর্তা বলেন, ‘৬ মাস আগে মাওবাদী নেতা বিকাশ ওদলচুয়ায় ঢুকেছে বলে আমরা জানতে পারি৷ রাতে সেখানেই হানা দিয়েছিলাম৷ তবে তার পাঁচ মিনিট আগেই সে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়৷ আগে এ সব খবর দ্রুত আমাদের কাছে চলে আসছিল৷ এখনও খবর আসছে ঠিকই, কিন্তু বড্ড দেরিতে৷ এটাই আমাদের চিন্তা বাড়িয়েছে৷’

সূত্রঃ

 http://banglaheadline.com/2015/05/17/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0/


মোদীর সফরে মাওবাদী হাতে আটক ২৫০, মুক্তি, জনতার আদালতে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

2afeab2c-6f96-4d23-8a29-b70f89aa5714wallpaper1

কথিত উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এ বারে মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তিনি গিয়ে ওঠার আগে রাত থেকেই কমপক্ষে দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে রেখে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরে তাদের আদৌ আস্থা নেই। মাওবাদীদের দাবি, এলাকার ভূ-সম্পদ লুঠ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়াই এই দুই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ দিন রাতে ওই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিলেও, মাওবাদীরা ‘জন আদালত’-এ বিচার করে এক জনকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোদীর সভাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জিরম উপত্যকায়। দু’বছর আগে ঠিক এখানেই কংগ্রেসের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালিয়ে বেশ কয়েক জন নেতাকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দন্তেওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ গিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। এর তিন দশক পরে গেলেন মোদী। কলকাতায় যাওয়ার আগে তাঁর এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুটি: এক, মাওবাদী অধ্যুষিত এই একটি জেলাতেই ২৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। যে প্রকল্পে ইস্পাত কারখানা থেকে রেল লাইন পাতা হবে। দুই,  মাওবাদীদের সুস্থ জীবনে ফেরার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মাওবাদীরা বয়কটের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, সুকমা জেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শুধুই দেশি-বিদেশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই সব প্রকল্প ঘোষণা করছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই কেন্দ্র জমি বিল আনতে চাইছে। বস্তারে হচ্ছে সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলও। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি তাই কেন্দ্রের ‘ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের সরকার’-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দন্তেওয়াড়ায় শান্তি-বার্তা দিয়ে মোদী কলকাতায় পৌঁছে গেলেও রমন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে ওঠে আটক করে রাখা গ্রামবাসীদের মুক্তির বিষয়টি। আলোচনার পথেই তাঁদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকে রাজ্য প্রশাসন। রাতে এক জন বাদে সবাইকেই ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সদারাম নাগ এক জন শুধু জীবিত ফেরেননি। ‘জন আদালতে দোষী’ হওয়ায় মাওবাদীরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

images (2)

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদী মোকাবিলার পথ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ইউপিএ আমলের এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে রাজনাথ সিংহের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি খসড়া নীতিও তৈরি করে। যেখানে বলা হয়, দরকারে স্থলসেনা ও বায়ুসেনাকেও মাওবাদী মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। এই খসড়া সমালোচনার ঝড় তোলে। দেশের সেনাকে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে মোদী আজ মাওবাদী গড়ে গিয়ে যে ভাবে উন্নয়নের কথা বললেন, সেখানকার মানুষের দুঃখ-বেদনা বোঝার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট, কেন্দ্র এখন দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে। এক দিকে কড়া হাতে মাওবাদী মোকাবিলার প্রস্তুতি চালানো। এর পাশাপাশি, উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

মোদী এই সফরে দু’টি কাজই করতে চাইলেন। চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ১৮৮টি মাওবাদী হামলা হয়েছে। নিহত ৪৬ জন। এই অবস্থায় মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও গ্রামবাসীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। আর তাঁর বক্তব্যে জোর পেল দ্বিতীয় পথটি।

সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/india-news/pm-modi-to-visit-dantewada-today-maoists-call-for-bandh/article1-1345390.aspx


রুপাছড়ার আন্দোলনের পেছনে বাস্তবেই মাওবাদীরা ? – রুপাছড়ার সাতকাহন (২)

aj

 

সুত্র – http://samayikprasanga.in/epaper.php?pn=1


ভারতের গণযুদ্ধের লাল সংবাদঃ ১১/২/২০১৫

-মঙ্গলবার ব্লগার জেসন সি কুপার ও এডভোকেট থুশার নির্মল সারথীর জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে এরনাকুলাম এর জেলা ও প্রিন্সিপাল সেশন আদালতের বিচারক এস মোহনদাস। যেহেতু এই মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে সেহেতু এই মুহূর্তে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হবেনা বলে আদালত জানায়।

-মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা নাগাদ উড়িষ্যার কালাহান্দি জেলার লাঞ্জিগড় এলাকায় মাওবাদীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি বিনিময় হয়। অল্প কিছু সময় গুলি বিনিময়ের পর মাওবাদীরা তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সিআরপিএফ সূত্রের দাবী, মাওবাদীদের পক্ষে থেকে হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে যদিও এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি।

– মঙ্গলবার তামিলনাড়ু পুলিশের ১২ সদস্যের একটি দল তামিলনাড়ু-কেরালা সীমান্তের কাছে আদিবাসীদের গ্রামগুলোতে মাওবাদীদের দমনের উদ্দেশ্যে চিরুনী অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ গ্রামবাসীদের কাছে সন্দেহভাজন মাওবাদীদের ছবি ও পুলিশের ফোন নাম্বার প্রদান করে। এছাড়া, সীমান্তের নিকটবর্তী থানাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি কেরালার আন্তঃরাজ্য সীমান্তের কাছে মাওবাদীরা হামলা চালায়।

সূত্রঃ newindianexpress.com/odishasuntimes.com/ thehindu.com