ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলাঃ হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% নারী গেরিলা ছিল

গত সোমবার ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথে মাওবাদীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আহত একজন সিআরপিএফ সৈনিক বলেছে যে, হামলাকারীদের মধ্যে ৭০% ভাগই মাওবাদী নারী গেরিলা ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সৈনিক বলেন যে, ঐ সময় মাওবাদীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, যারা AK-47 নিয়ে সিআরপিএফ সৈন্যদের আক্রমণ করেছিল।

আরেকজন সৈনিক বলেন যে, সৈনিকদের হত্যা করার পর নারীরা অস্ত্র লুট করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, ২৪শে এপ্রিল ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ বাস্তার জেলার কালাপথের এলাকায় মাওবাদীদের সঙ্গে প্রচণ্ড এক লড়াইয়ের সময় ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়।

সূত্রঃ http://m.dailyhunt.in/news/india/english/oneindia-epaper-oneindia/chhattisgarh+maoists+attack+70+attackers+were+women-newsid-66871565?ss=fb&s=a


সন্দেহভাজন ৩ মাওবাদী নারী ছদ্মবেশী জীবনে থেকে রিক্রুটের জন্যে প্রচারণা চালাতেন

13781800_951413648297963_578538147150700152_n

অনূদিতঃ

সন্দেহভাজন ৩ মাওবাদী নারী নেতৃত্ব পুলিশের নজরদারী এড়াতে দূরবর্তী প্রত্যন্ত অবস্থান বেছে নিয়েছেন।  

শীর্ষ নারী নেতৃত্ব ‘কালা’ যদিও নিরক্ষর তবুও তিনি অস্ত্র চালনায় পারদর্শী ও মাওবাদী মতাদর্শে সুদক্ষ।   

পুলিশ সুত্র অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক জীবনের আড়ালে থাকা সন্দেহভাজন ৩ মাওবাদী নারী নেতৃত্ব Q BRANCH পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছেন।

এই তিন জনের মধ্যে, কালা ওরফে জানকী(৫২)কে তামিলনাড়ুর মাওবাদী আন্দোলনের সবচেয়ে বিশিষ্ট নেত্রী বলা হয় এবং ধারণা করা হয় তিনি অস্ত্র চালনায় সুপ্রশিক্ষিত।  পার্টির অন্যান্য ক্যাডাররা তাকে ‘আম্মা’ বলেই ডাকেন।  তিনি নিরক্ষর, কিন্তু মাওবাদী মতাদর্শে তার গভীর জ্ঞান ছিল এবং অস্ত্র চালনায় খুব প্রশিক্ষিত বলে কারুর পুলিশের একটি সূত্র জানায়।

তিনি কারুরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন, কিন্তু জীবনযাত্রার জন্যে প্রায়ই তার স্থান পরিবর্তন করতে হত। পুলিসি নজরদারী এড়াতে তিনি অধিকাংশ এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে অবস্থান করতেন।

সূত্র মতে, মাওবাদীদের সবচেয়ে সাধারণ সভাস্থল হিসেবে ধারণা করা তামিলনাড়ু, কেরালা ও কর্ণাটক জংশনে নতুন মাওবাদীদের অন্যতম প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি।  কালা’র স্বামী মানিকাভাসাগাম একজন মাওবাদী কর্মী, পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন।  পুলিশের ধারণা, কালা জনগণের মধ্যে মাওবাদী আন্দোলনের যোগদানের জন্য প্রচারণার কাজে জড়িত ছিলেন।  পুলিশের দাবী, তার বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা বিচারাধীন ছিল।

আরেক সন্দেহভাজন মাওবাদী, রেন্না জয়েস মরিয়ম(৩২), মাত্র ১ মাস আগে কাঞ্চীপুরম জেলায় পাদাপাইতে আসে এবং একটি বেসরকারী টেক্সটাইল ফার্মে একজন দর্জি হিসেবে যোগদান করেছেন বলে বলা হয়েছে।  সেখানে ঐ ফার্মে সপ্তাহে শুধুমাত্র কয়েক দিনের জন্য কাজ করত।  বাকি দিনগুলোতে তিনি জনগণকে মাওবাদী আন্দোলনে যোগদানের প্রভাবিত করত বলে কাঞ্চীপুরম পুলিশ সূত্র জানায়।  রেন্না’র স্বামী কান্নানও একজন সন্দেহভাজন মাওবাদী কর্মী, যিনি ২০০২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন।  উথাঙ্গারাই’তে রাজ্য পুলিশের এক অভিযানে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।

গ্রেফতার হওয়া ৩য় নারী চন্দ্র(৪২) কারুরে কালা’র সাথেই থাকতেন এবং একজন বাজিকর হিসেবে কাজ করতেন। আটককৃত এই ৩ জন পার্টির অন্যান্য ক্যাডারদের সাথে একটি গোপন যোগাযোগ পদ্ধতির বিকাশ ঘটিয়েছিল, যা পুলিশের সোর্স ব্যাখ্যা করতে অস্বীকার করে।

Q BRANCH এর এসপি এম. মহেস্বরন অভিযুক্ত মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।  যেহেতু দুই নারী – কালা ও চন্দ্র – বলেন যে, পুলিশ তাদের গ্রেফতারের পর কোন খাবার দেয়নি, তাই ম্যাজিস্ট্রেট তাদের খাবার কিনে দেয়ার জন্যে পুলিশকে নির্দেশ দেন।  ম্যাজিস্ট্রেট ১৫ দিনের বিচারিক হেফাজতে রাখার জন্য তাদের তিরুছি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন এবং ৫ই আগস্ট পর্যন্ত মামলাটি স্থগিত করেন।অপরদিকে রেন্নাকে ভেলোর কারাগারে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

সুত্রঃ http://www.newindianexpress.com/states/tamil_nadu/Suspected-Maoists-led-lives-undercover-canvassing-for-recruits/2016/07/23/article3543257.ece


পুরনো রাষ্ট্রের ধ্বংসের পরই কেবল আমাকে ধর্ষণ ও আমার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ বাস্তবায়িত হবে

nepal_girl_soldier-big-gun

 

পুরনো রাষ্ট্রের ধ্বংসের পরই কেবল আমাকে ধর্ষণ ও আমার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ বাস্তবায়িত হবে

– সংগ্রামী

প্রশ্নঃ আপনার প্রকৃত নাম, বয়স এবং ঠিকানা উল্লেখ করায় আপনার কোন সমস্যা নেইতো?
উত্তরঃ আমার নাম হিমালী গোলে (সংগ্রামী), বয়স ২৩ বছর এবং আমার বাড়ি দোলাখা জেলার ১নং ওয়ার্ডের গৌরীমুদি গ্রাম গণকমিটিতে (VPC)।

প্রশ্নঃ আপনি এখন গণমুক্তি বাহিনীর কোন্ পর্যায়ে কাজ করছেন?
উত্তরঃ আমি এখন নেপাল গণমুক্তি বাহিনীর চতুর্থ ব্যাটালিয়নের অধীন বি-কোম্পানীর সহকারী কমান্ডার হিসেবে কাজ করছি।

প্রশ্নঃ আপনি কীভাবে গণযুদ্ধে যুক্ত হলেন সে সম্পর্কে অনুগ্রহ ক’রে কিছু উল্লেখ করবেন কি?
উত্তরঃ গৌরীমুদিতে পুতালিকাথ স্কুলে যখন পড়ছিলাম তখন UML [ইউ.এম.এল. হলো নেপালের সর্ববৃহৎ সংশোধনবাদী পার্টি।  যা গণযুদ্ধকে বিরোধিতা করছে।  – অনু.]-এর ঘনিষ্ঠ অখিল AKHIL [সর্ব নেপাল জাতীয় স্বাধীন ছাত্র ইউনিয়নকে সংক্ষেপে অখিল বলা হয়।  – অনু.]-এর অধীনে কয়েক বছর কাজ করেছিলাম যা কিনা ১৯৯১ সালে গঠিত হয়েছিল।  ’৯৭-এ এস.এল.সি. পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার পর আমি বুঝতে পারলাম যে, ইউ.এম.এল-এর লাইন ভুল।  সে সময়ে আমি উপলব্ধি করতাম যে, গণযুদ্ধে আমার অংশ নেয়া উচিত। ২০০০ সালে খিমতি ব্যাংক দখলের পর মাওবাদী পার্টির কমরেডগণ আমার নিকট আসেন।  আলোচনার পর আমি এতে যোগ দিতে মনস্থির করি। ২০০০ সালের ১০ ও ১১ মে মাইনা পোখারি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আমাদের গ্রামে পুলিশ আসে। তারা আমার বাবা, মা, বড় বোন এবং চাচা সকলকে পিটিয়ে সংজ্ঞাহীন ক’রে ফেলেছিল। আমাকেও পিটিয়ে আমার চাচার বাড়িতে তারা আমাকে ধর্ষণ করতে চেষ্টা করেছিল। প্রথমে আমি তীব্র আর্তনাদ করেছিলাম, বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমার মুখম-লে ও মাথার খুলিতে পিটিয়ে আমাকে সংজ্ঞাহীন করে। আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি দেখলাম যে, ইতোমধ্যেই আমি ধর্ষিতা হয়েছি। আমি আর্তচিৎকার করি; (কিন্তু) তারা আমাকে ঘরের বাইরে আসতে দেয়নি।  রাতে আমি একটি জঙ্গলে পালিয়ে যাই এবং একটি গুহায় আশ্রয় নেই।  তারা সেখানে দু’দিন থাকে, পাঁঠা মেরে খায়, সম্পদ লুট করে এবং রাতে ফিরে যায়। এরপর আমি আমার বাড়িতে ফিরে আসি।
পরের দিন পুলিশ আমাকে ও আমার বাবাকে গ্রেফতার করে এবং আমাদেরকে জেলা পুলিশ সদরদপ্তরে নিয়ে যায়। যে ডি.এস.পি. আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল তাকে আমার উপর পুলিশের সমস্ত অপকর্মের কথা বলি, এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাই। এরপর আমি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের মাধ্যমে সমস্ত ঘটনা জনসাধারণ্যে জানাই।  প্রচন্ড চাপের মুখে তারা রাকেশ নামের সহকারী দারোগা (এ.এস.আই.)-কে হাজতে পাঠায়।  আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিলাম, তারা উক্ত এ.এস.আই.-কে ৭ বছরের জেল দেয়।
আমি নভেম্বর, ২০০০-এ কমরেড রিত বাহাদুর খাদকার সাথে কথা বলি।  সেই থেকে, আমি একজন সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে গণযুদ্ধে জড়িত আছি।

প্রশ্নঃ ২০০০ সালে যখন পুরনো রাষ্ট্র ভয়ংকর হত্যাকান্ড চালাচ্ছিল, সেই জটিল পরিস্থিতিতে আপনি কী ক’রে ঐরূপ দুঃসাধ্য পথ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন?
উত্তরঃ যখন আমরা ছোট ছিলাম, তখন আমাদের উপর কমিউনিজমের প্রভাব ছিল। আমরা অবিচার, নৃশংসতা ও নিপীড়নের শিকার ছিলাম, এবং আমাদের একটি অনুভূতি ছিল যে আমাদের উচিত এ সবের বিরোধিতা করা। আমার উপর যা ঘটেছিল, দেবী খাদকাসহ অন্য নারীদের ক্ষেত্রেও তা ঘটে।  আমি অনুভব করি যে, এধরনের ঘটনার যথোপযুক্ত প্রতিশোধ নিতে এবং তার অবসান ঘটাতে নিপীড়িত সর্বহারা শ্রেণির ক্ষমতা দরকার এবং ঐ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে।  ধর্ষণের ঘটনাও আন্দোলনে যোগ দিতে আমাকে আন্দোলিত করেছিল।

প্রশ্নঃ গণযুদ্ধে যোগদানের পর আপনি কীভাবে এ পর্যন্ত এসেছেন, দয়া ক’রে উল্লেখ করবেন কি?
উত্তরঃ সার্বক্ষণিক কর্মী হবার পর পি.এল.এ.-তে যোগ দিতে আমি আমার ইচ্ছা ব্যক্ত করি।  তারপর, একটি স্কোয়াডে এবং জেলা নারী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে কাজ করি। কিছুদিন পর, আমি একটি এলাকা পার্টি-কমিটিতে এবং একটি স্কোয়াডে কাজ করি।  যখন পার্টি কোম্পানী গঠন করলো তখন আমি তাতে যোগ দিতে চাই। এবং এখন পর্যন্ত আমি এর অধীনে কাজ ক’রে যাচ্ছি।

প্রশ্নঃ পি.এল.এ.-তে আসার পর কোথায় কোথায় যুদ্ধে আপনি অংশ নিয়েছেন?
উত্তরঃ কিরাতেছাপ, থোকারপা, জারায়োতার, মাইনাপোখারী, খানিভানজিয়াং, ধোবি, ভাকুন্দেবেশি, চৈনপুর, ভিমান, লাহাল, ভোজপুর প্রভৃতিসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে আমি যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছি।

প্রশ্নঃ যুদ্ধে প্রথম অংশগ্রহণের সময় আপনি কেমন অনুভব করেছিলেন?
উত্তরঃ যুদ্ধের ফ্রন্টে প্রথম পৌঁছার পূর্বে আমি অনুভব করতাম এটা কেমন হবে; কিন্তু এটা শুরুর সাথে সাথে সাহস উজ্জীবিত হয়েছিল। যখন আমরা,
নিপীড়িতরা, যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছিলাম; আর সেজন্য আমি গর্বিত ছিলাম।

প্রশ্নঃ এটা বলা হচ্ছে যে নারীরা পুরুষের সমান যুদ্ধ করতে পারে না?
উত্তরঃ আমি মনে করি না যে, যুদ্ধে আমরা পুরুষের চেয়ে দুর্বল। বরং আমরা, শত-শত বছর ধরে নিপীড়িতরা মনে করি যে, যদি আমরা যুদ্ধ করার সুযোগ পাই তাহলে আমরা সবকিছু করতে পারি। মতাদর্শ আমাদেরকে শক্তি যুগিয়েছে, এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কেউ যদি সঠিক মতাদর্শ আঁকড়ে ধরে তাহলে সে সবকিছু করতে পারে। শারীরিক সমস্যার সময়ে পার্টি আমাদেরকে ব্যায়াম না করার নির্দেশ দেয়; কিন্তু নারী কমরেডগণ ঐ সময়কালেও তা করেন। আমরা কোন সমস্যা অনুভব করি না। এমনকি, এখন আমি মনে করি না যে আমরা কোনরকম দুর্বল।

প্রশ্নঃ পি.এল.এ.-তে কী পরিমাণ নারী আছে? নারী এবং পুরুষের মধ্যে কোনো পক্ষপাতিত্ব সেখানে আছে কি ?
উত্তরঃ পি.এল.এ.-তে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। পার্টি একটি সুস্পষ্ট নীতি নিয়েছে; সুতরাং কোন প্রকার পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠে না।

প্রশ্নঃ যদিও নারীদের সংখ্যা পুরুষের সমান্তরাল। কিন্তু বাহিনীর নেতৃত্বে পুরুষদের প্রাধান্যই দেখা যায়।
উত্তরঃ পি.এল.এ.-তে এখন নারীরা কমান্ডার এবং ব্যাটালিয়ন কমিশারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাই বাহিনীর নেতৃত্বে কোন নারী নেই প্রশ্নটা তা নয়।  অন্যদিকে, ’৯৬ সালে গণযুদ্ধ সূচনার পর প্রায় ’০১ সাল পর্যন্ত পি.এল.এ.-তে নারীর সংখ্যা খুবই কম ছিল।  যেহেতু পুরুষ কমরেডগণ দীর্ঘকাল যাবত কাজ করছেন, তাই এটা নিশ্চিত যে, তাদের পক্ষেই বেশি বিনিয়োগ, যোগ্যতা অর্জন- ইত্যাদি ঘটেছে।  কিন্তু নারীরা অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজেদেরকে বিকশিত ক’রে এখন এগিয়ে আসছেন।  আমরা নারীরা, যাদেরকে প্রতিক্রিয়াশীল-ক্ষমতা ভীরু, পলাতক বলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দাবিয়ে রাখতো, তারা এখন তাদের (শত্রুর) বিরুদ্ধে যুদ্ধকে এক জীবন-যুদ্ধে পরিণত ক’রে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন; এবং যুদ্ধফ্রন্টের প্রত্যেকটি দুঃখ-কষ্ট ও লড়াইকে সাধারণীকরণ করছেন।  আমরা এজন্য গর্বিত।

প্রশ্ন: পি.এল.এ.-এর প্রাত্যহিক রুটিন কীভাবে চলে ?
উত্তর: আমাদের বাহিনীতে খুব ভোরে শারীরিক ব্যায়াম করতে হয়। আমরা নিয়মিতভাবে ড্রিল করি। আমরা সামরিক গাইড, সামরিক রচনাবলী, সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক পুস্তকাদি অধ্যয়ন করি। যারা লেখাপড়া জানেন না, তাদেরকে তা শিক্ষা দেয়া হয়। বহু কমরেড এখানে আসার পর লেখাপড়া শিখেছেন। রান্না, খাওয়া, পাহারা প্রভৃতিসহ সমস্ত করণীয় কাজ, রুটিন মত চলে। আমরা যুদ্ধ সংক্রান্ত কাজ, উন্নয়নমূলক কাজ, জনগণের সেবামূলক কাজ, গণজমায়েত এবং অন্যান্য বিভিন্ন অভিযানেও অংশ নেই।

প্রশ্নঃ যখন আপনারা গ্রামাঞ্চল পরিদর্শন করেন, তখন অন্যান্য নারীরা কীরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় ?
উত্তরঃ যখন আমরা পি.এল.এ.’র পোষাকে গ্রামাঞ্চল পরিদর্শন করি, তখন মায়েরা এবং বোনেরা আমাদেরকে খুব ভালবাসে। শুরুতে যখন তারা আমাদেরকে যোদ্ধার পোষাকে দেখত, তখন পি.এল.এ.-তে নারীদের দেখে তারা আশ্চর্য বোধ করতো, তারা আমাদের দেখতে আসতো এবং বিভিন্ন কৌতূহল প্রকাশ করতো। কিন্তু এখন, কিছু কিছু উঠতি বয়সী বালক ও বালিকারা বলে যে, তারা আমাদের সাথে চলে আসবে; আর কিছু কিছু বৃদ্ধা মায়েরা বলেন, আমরা যদি জোয়ান থাকতাম তাহলে আমরাও তোমাদের মত যুদ্ধ করতে পারতাম।  কিছু ক্ষেত্রে, তারা তাদের উপর নিপীড়ন, অত্যাচার ও শোষণের গল্প শোনায় এবং দাবি করে যে, তাদেরকে যুদ্ধ করার সুযোগ দিতে হবে।

প্রশ্নঃ কিছু লোক বলে যে, পি.এল.এ-তে নারীদের উপর যৌন নিপীড়ন আছে?
উত্তরঃ এটা শুধু এক কাল্পনিক কাহিনী যে, সেখানে যৌন নিপীড়ন আছে।  যারা পি.এল.এ.-কে অপবাদ দিতে চায়, এগুলো তাদের দ্বারা আনীত মিথ্যা অভিযোগ।  পি.এল.এ. মার্কসবাদী নিয়মানুসারে কাজ ক’রে। এখানে প্রেম এবং বিয়েও সংঘটিত হয় এই নিয়মানুসারে। যদি কেউ ত্রুটি করে তাহলে তাদেরকে দারুণভাবে শাস্তি দেয়া হয়।

প্রশ্নঃ আমরা শুনেছি যে, পুরনো রাষ্ট্র আপনার বাবাকে হত্যা করেছে, তিনি কীভাবে নিহত হয়েছেন ?
উত্তরঃ ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৩, আমাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন আমার বাবা রাম বাহাদুর লামা গোলে (৫২) এবং নামডু ভিপিসি-তে তারা তাকে হত্যা করে।  ১৯৯৫ সালের পর তিনি ৪ বছর জেলে ছিলেন।  তিনি ভিপিসি’র প্রধান ছিলেন এবং গণযুদ্ধে অংশ নিচ্ছিলেন।

প্রশ্নঃ যখন আপনি আপনার বাবার হত্যার সংবাদ পেলেন, তখন আপনি কেমন অনুভব করেছিলেন ?
উত্তরঃ কেউ যখন তার নিজের বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনে, তখন তার কোন দুঃখ হবে না- এমন প্রশ্ন ওঠে না।  এটা একটা যুদ্ধ; বিপ্লবে শুধু নিজের রক্তই নয়, বহু লোকের রক্ত ঝরেছে।  আজকে বিরাট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে নেতৃত্ব, ক্যাডার ও জনগণের বড় বড় আত্মত্যাগের থেকে।  এটা যুদ্ধের একটা নিয়ম।  অবশ্যই আমার বাবার মহান মৃত্যুর জন্য আমি গর্বিত হব, এবং অবশ্যই আরো দৃঢ়ভাবে যুদ্ধে লেগে থাকব।  পুরনো রাষ্ট্রের ধ্বংসের মাধ্যমেই কেবল আমাকে ধর্ষণ ও আমার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ বাস্তবে পরিণত হবে।

প্রশ্নঃ পি.এল.এ.-তে যোগদান উপলক্ষে এখন আপনি কেমন বোধ করছেন?
উত্তরঃ আমি মনে করি যে, পি.এল.এ.-তে যোগ দেয়া বেছে নিয়ে ভাল করেছিলাম। কিন্তু আমি মনে করি আমার দেরি হয়েছিল; আরো আগেই আমার যোগদান করা উচিত ছিল।

প্রশ্নঃ আপনি কি আত্মবিশ্বাসী যে লড়াই ক’রে পুরনো রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে ?
উত্তরঃ আমরা জিততে পারি এর উপর প্রশ্ন তোলাটা প্রয়োজনীয় নয়।  এই যুদ্ধ, যা কিনা গতকাল পাথর আর ব্যাটনের মাধ্যমে লড়া হয়েছিল, তা এখন এমন এক মাত্রায় উপনীত হয়েছে যা বাংকার, আমেরিকান অস্ত্রশস্ত্র, পরিকল্পনা এবং আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক প্রশিক্ষণের সজ্জায় সজ্জিত রাজকীয় আমেরিকান বাহিনীকে পরাজিত করার শক্তি অর্জন করেছে।  পুরনো রাষ্ট্র এখন রাজধানী এবং হেডকোয়ার্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ……….আমাদের আগামী যুদ্ধ হচ্ছে শেষ এবং নির্ধারক যুদ্ধ।  শত্রু যখন ধ্বংসের মুখে তখন আমাদের আক্রমণ তার বিলোপ পর্যন্ত এগিয়ে যাবে এবং সর্বহারারা বিজয়ের পতাকা প্রজ্জ্বলিত করবে।

প্রশ্নঃ সবশেষে আপনি কি কিছু বলবেন ?
উত্তরঃ আমি পি.এল.এ.-এর একজন নারী যোদ্ধা হিসেবে সমগ্র নারী জাতিসহ সকল জনগণের কাছে এই চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য আবেদন জানাতে চাই।  আমি ‘জনাদেশ’-এ আমাদের মতামতের জন্য স্থান বরাদ্দ করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।

সূত্রঃ [নারী মুক্তি/৩নং সংখ্যায় প্রকাশিত ॥ ফেব্রুয়ারি, ’০৫।
সাক্ষাতকারটি নেপালের বিপ্লবী পত্রিকা ‘জনাদেশ’-এর ২৫ মে, ২০০৪ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল।]


নকশাল নারীদের হত্যাঃ গাদচিরোলিতে ৩১শে মে বনধ ডেকেছে মাওবাদীরা

13239340_1316954311654120_3131977406627397307_n

অনূদিতঃ 

গত জানুয়ারি থেকে পুলিশ কর্তৃক ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধের নামে ৫জন নকশাল নারীকে হত্যার প্রতিবাদে আগামী ৩১শে মে মহারাষ্ট্রের গাদচিরোলিতে বনধ ডেকেছে মাওবাদীরা, এই ৫জন নকশাল নারী হলেনঃ রজিথা উসেন্দি, মিনকো নারোতি, আরতি পুদো, নির্মলা দুম্মা ও সারিতা কোয়াসি।

পুলিশ সূত্রে জানাচ্ছে, সিপিআই(মাওবাদী) বিভাগীয় কমিটির সদস্য- ‘রজিথা’কে গত ৯ই মে এক সম্মুখযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে তাকে আত্মসমর্পণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে তা অস্বীকার করেছিল।  রজিথা, দীর্ঘ ১০ঘন্টা ধরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সহকর্মীদের পালানোর সুযোগ করে দিতে একাই পুলিশের সাথে AK 47 হাতে যুদ্ধ করেছিল, পুলিশ তাকে আয়ত্তে আনতে না পেরে ওই বাড়ীতে গ্রেনেড লাঞ্চার নিক্ষেপ করলে, গুলিবিদ্ধ ও অর্ধদগ্ধ অবস্থায় তিনি নিহত হন।

এই সকল হত্যাকাণ্ডকে “নির্মম” অভিহিত করে, দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উপ-আঞ্চলিক ব্যুরোর মুখপাত্র শ্রীনিবাস এক সংবাদ নোটে বলেন, ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদী মোদী সরকারের ‘ভাড়াটে হত্যাকারীরা’ ‘মধ্যযুগীয় নিষ্ঠুরতায়’ ৫জন ‘দুর্দান্ত বিপ্লবী’কে হত্যা করে এবং এরই প্রতিবাদে ৩১শে মে বনধ ডাকা হয়েছে।

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/cities/mumbai/killing-of-women-naxals-maoists-call-gadchiroli-bandh-on-may-31-2821189/


ভারতের নারী গেরিলা কমরেড মসির সাক্ষাৎকার

maoist-2

ভারতের নারী গেরিলা
কমরেড মসির সাক্ষাৎকার

[কমরেড মসি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-এর দণ্ডকারণ্য জেলার একজন প্লাটুন কমান্ডার এবং জেলা কমিটির সদস্য। তিনি এই সাক্ষাৎকারে সমাজে তার লাঞ্ছিত হবার কথা, কিভাবে তিনি পার্টির সংস্পর্শে আসলেন, তার আজকের এই অবস্থানে আসার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেছেন।  মসি তার সামরিক দক্ষতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।  তিনি অনেক এ্যামবুশ এবং রেইড আক্রমণে অংশগ্রহণ করেন।  তার কঠোর প্রচেষ্টা তাকে সামরিক ক্ষেত্রে অগ্রভাগে নিয়ে আসে।  দণ্ডকারণ্যে এক ডজনেরও বেশি নারী কমরেড তার মত সামরিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।  এ সাক্ষাৎকারটি ভারতের মাওবাদী সমর্থক পত্রিকা পিপলস মার্চ-এর ডিসেম্বর, ’০৬-এ প্রকাশ হয়। ]

মসি, তার জীবন সম্পর্কেঃ
এটা ছিল ‘বি’, যিনি আমাদের গ্রামে প্রথম এসেছিলেন এবং একটি মিটিং করেছিলেন।  তিনি সমগ্র নারীদের জীবন এবং তাদের সংগ্রাম সম্পর্কে আমাদের বলেছিলেন।  তিনি অন্য দেশের এক নারী সম্পর্কেও আমাদের বলেছিলেন।  এগুলো আমার ভেতরে নতুন চিন্তার উদ্রেক করে।  আমি ভেবেছিলাম এখন যেমন আছে এর থেকে জীবন অন্যরকম হবে।
কিভাবে সে তার জোরপূর্বক বিয়ের বিরোধিতা করেছিলঃ
আমার মা মদ পান করেছিল এবং আমার বিয়ে ঠিক করেছিল (মেয়ের এবং ছেলের মা কিংবা বাবা একসাথে দেশি মদ পান করা মানে বিয়ে চূড়ান্ত।) ছেলেটি ছিল আমার চাচাতো ভাই, চাচার ছেলে। কিন্তু আমি এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না। আমি বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমার মা আমাকে মেরেছিল। আমার দাদীমা আমাকে মেরেছিল। তারা আমাকে জোর করেছিল বিয়েতে মত দেবার জন্য।

নারী সংগঠনের মিটিং-এ যোগদানঃ
আমার বাড়িতে যখন এইসব চলছিল তখন সেখানে একটা নারী সংগঠনের মিটিং হচ্ছিল। সেই সময়ে আমি এটুকুও জানতাম না যে সংগঠনটির নাম ক্রান্তিকারী আদিবাসি মহিলা সংগঠন (কেএএমএস)। আমি শুধু এটুকু জানতাম যে এটা একটা নারীদের মিটিং। একই গ্রামে আমার এক বান্ধবী একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। আমরা উভয়েই সিদ্ধান্ত নিলাম মিটিংয়ে আমাদের সমস্যার কথা বলার। কিন্তু আমরা বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। ক্রমে আমরা আত্মবিশ্বাস অর্জন করলাম এবং তখন রেঞ্জ কমিটির এক সদস্যকে বললাম।
তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন আমরা এই বিয়ে মেনে নিতে অথবা কেএএমএস-এ যোগদান করতে চাই কিনা। তিনি আমাদেরকে চিন্তা করতে ও একটি স্থির সিদ্ধান্ত নিতে বললেন। আমরা ভাবলাম এবং তাকে বললাম যে আমরা প্রথমে কেএএমএস-এ যোগ দিতে চাই এবং পরে পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের কথা ভাববো।

বাড়িতে চাপ চলতেই লাগলোঃ
কিছুদিন পর আমার মা এবং আমার চাচা পুনরায় চাপ দিতে লাগলো। আমার চাচা আমাদের বাড়িতে আসলো এবং আমার মায়ের সাথে আলাপ করলো। আমি আমার চাচাকে বললাম সে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলে আমি ঐদিনই মরবো। কিন্তু আমার মা এবং চাচা আলাপ করেই চললো। আমি অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম। আমি উত্তেজিত হলাম। আমি আমার মাকে এবং পরে চাচাকে আঘাত করলাম এবং বাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালালাম। ঐ দিন আমি এক বান্ধবীর বাড়িতে ঘুমালাম। আমার চাচা আমাদের গ্রাম ছেড়ে গেল না। সে তার গ্রামে খবর পাঠালো আসার জন্য এবং আমাকে নিয়ে যাবার জন্য। আমার ছোটবোন আমাকে এই খবর দিয়েছিল। আমার মা এবং চাচা আমাকে খুঁজতে লাগলো। সুতরাং আমি অন্য গ্রামে চলে গেলাম। আমি সাপ্তাহিক বাজারে গেলাম এবং পাখি মারার ওষুধ ‘পিটা দাওয়াই’ (ঢ়রঃঃধ ফধধিুর) কিনলাম। আমি ওষুধ নিলাম এবং বাড়িতে গেলাম। আমি সেটা আমার মাকে দেখালাম এবং তাকে বললাম যে যদি তারা আমাকে জোর করে পাঠাতে চায় তবে আমি ওষুধ খাবো এবং মরবো। আমার একগুয়েমিতে আমার মা পুনরায় চিন্তা করলো। তারা তাদের সিদ্ধান্ত তুলে নিল। আমি বেঁচে গেলাম। ছয় মাস পার হয়ে গেল। আমার বান্ধবীটি বিয়ে করলো এবং অন্য গ্রামে চলে গেল। তারপর আবার চাপ শুরু হলো। সেই সময়ে আমি কেএএমএস-এ কাজ করছি। কাজ আমাকে জীবনের প্রতি আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। আমি স্কোয়াডে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সংশ্লিষ্ট কমরেডদেরকে জানালাম। তারা ছয় মাস সময় নিল সিদ্ধান্ত নিতে এবং আমাকে স্কোয়াডে নেয়া হলো।

আমি স্কোয়াডে যোগদান করলামঃ 
কিন্তু আমি জানতাম না কিভাবে খাপ খাওয়াতে হয়, কিভাবে কথা বলতে হয় এবং আরো কত কিছু। আমি চিন্তা করা শুরু করলাম। আমার মন আলোড়িত হতে লাগল। আমি আমার বাড়ি ত্যাগ করলাম। আমি সেই জায়গা ত্যাগ করলাম যেখানে আমার পরিবার বহু পুরুষ ধরে থেকে আসছে। আমি গভীরভাবে ভাবতে লাগলাম আমার সিদ্ধান্ত সঠিক না বেঠিক। আমি ঘুমাতে পারলাম না। আমি ভাবতে লাগলাম স্কোয়াডের জীবন কেমন হবে। চিন্তাগুলো এক মাস ধরে ঘুরে ফিরে আমাতে আসতে লাগলো। কমরেডরা আমার ভয় নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো। আস্তে আস্তে এই পরিস্থি’তি আমি কাটিয়ে উঠতে লাগলাম। যখন তাদের সাথে কাজ করছিলাম তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করলো আমি অন্য জায়গায় যাবার জন্য প্রস্তুত কিনা। আমি বললাম হ্যাঁ। আমি তাদের সাথে কিছুদিনের জন্য রইলাম। স্কোয়াড আমাকে আমার গ্রামে পাঠালো। তারা একটা মিটিংয়ের আয়োজন করলো। মিটিংয়ে অনেক লোক এসেছিল। আমার মা আমাকে ছেড়ে গেল না। সে আমার সাথে স্থিরভাবে বসে থাকলো। আমি মিটিংয়ে বক্তৃতা দিলাম। আমি গ্রামবাসীকে বললাম কেন আমি স্কোয়াডে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যখন আমরা চলে যাই (তখন) আমার মা আমার জামা-কাপড় ও স্যান্ডেল পর্যন্ত নিতে দেয়নি। আমি এসব ছাড়াই চলে যাই।  আমি আর ফিরে আসিনি।

নতুন জায়গাঃ
আমি অন্য জায়গায় বদলি হলাম। কমান্ডার এবং লিডাররা আমার ব্যাপারে অনেক যত্ন নিয়েছিলেন। সবাই আমাকে ‘মাম্মি’ বলে ডাকতেন। কমান্ডার আমাকে সামরিক বিষয়াদির ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি আমাকে ও অন্য কমরেডদেরকে সবধরনের অনুশীলন করিয়েছিলেন। একটি সামরিক ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছিল। আমি এতে প্রথম হয়েছিলাম। তাই কমরেডরা আমাকে প্লাটুনে দেবার জন্য আমার স্কোয়াড কমান্ডারকে বললেন। সে অনুযায়ী আমি
ডিকে-তে (দন্ডকারণ্যতে- অনু.) অন্য এলাকায় বদলী হই।
সেই সময়ে আমি এক কমরেডকে আমার পছন্দে বিয়ে করি। সে সেই সময় প্লাটুন কমান্ডার ছিল।

প্রথম যখন আমি গুলির শব্দ শুনিঃ
আমি ভেবেছিলাম এটা গৃহ সরঞ্জাম মেরামতের শব্দ। আমি একনলা বন্দুক দিয়ে গুলি ছোঁড়া শিখেছিলাম। কিন্তু প্রথমবারের মতো আমি পুলিশ দেখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লাম। আমি প্রহরারত ছিলাম এবং দৌড়ে গ্রামের ভেতরে মিটিংস্থলে গেলাম এবং কমরেডদের বললাম। তারা গুলির পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন। পরে তারা ঘটনার পর্যালোচনা করেন। তারা আমাকে বললেন আমি শুধু-শুধুই ভয় পেয়েছি এবং এই সব পরিস্থি’তিতে আমাকে যুদ্ধ করতে হবে। আমার সাথী কমরেড আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়। এটা আমাকে অনেক ভাবিয়েছিল। আমি ভাবতে লাগলাম আমি কি আসলে ভয় পাচ্ছি, নাকি আমি কেবল ঘটনার আকস্মিকতায় ভয় পেয়েছি। এটা ছিল ছয় মাসের আরেকটি অশান্তি। যখন আমি এই প্লাটুনের সাথে ছিলাম (তখন) আমি আবারো পুলিশের মুখোমুখি হয়েছিলাম। এই সময়ে আমি ইতস্তত করিনি। আমি গুলি ছুঁঁড়লাম। এটা ছিল একটা দু’নলা বন্দুক। আমি খুশি হয়েছিলাম। তখন না পুলিশ না গুলি কোনটার সামনেই আমি ভীত ছিলাম না। আমার নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। এর কিছুদিন পর ডিকে-তে আরেকটি প্লাটুন গঠন করা হয় এবং আমার সঙ্গী ও আমি সেখানে বদলি হই। আমি পার্টি এরিয়া কমিটির একজন সদস্য হই।

নারীরা কিভাবে সৈন্যবাহিনীতে কাজ করেঃ
একগুচ্ছ নারী আছেন (যারা) আন্দোলনে বীরত্বের সাথে লড়াই করছেন। কিছু দ্বিধান্বিত। কিন্তু তারা অন্য ক্ষেত্রে ভালো করছেন। যখনই কোন এ্যামবুশ বা রেইড হয়, তখনই পর্যালোচনা হয়। পর্যালোচনায় আমরা সবকিছু আলোচনা করি। আমরা ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ এবং সঠিক প্রণালীগুলো ইতিবাচক ও নেতিবাচক নিয়ে আলোচনা করি। এভাবে আমরা আমাদের ভুলগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। এই প্রক্রিয়ায় আমরা সেগুলো অতিক্রম করতে চেষ্টা করি।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাসমূহঃ
আমি অনেক এ্যামবুশ এবং রেইড-এ অংশ নিয়েছি। সবসময়ই আমি অনেক আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি। আমি মাইন ফাটিয়েছি। পুলিশ ষ্টেশন ঘেরাওয়ে অতর্কিত আক্রমণ টিমে আমি ছিলাম। আমি বাধাদানকারী গ্রুপেও কাজ করেছি। আমি যে কাজ করি এতে খুবই উৎসাহ বোধ করি। আমি অন্যরকম শক্তি অনুভব করি যখন রাইফেল হাতে যুদ্ধ করি। একবার আমি ভূমি মাইনরোধক গাড়ি উড়িয়েছিলাম। বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল এবং ব্যক্তিগতভাবেও এটা ছিল একটা অর্জন। আমি মনে করি নারীদের সব ধরনের কাজে অবশ্যই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাদের অবশ্যই কঠোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে যাতে আমরা উচ্চতর পর্যায়ে নারীদের স্বতন্ত্রভাবে সংগঠিত করতে পারি। তাদের প্রয়োজন বিশেষ রাজনৈতিক এবং সামরিক শিক্ষা।

সূত্রঃ [নারী মুক্তি/৫নং সংখ্যায় প্রকাশিত ॥ ফেব্রুয়ারি, ’০৭], বিপ্লবী নারী মুক্তি প্রকাশনা


কালাহান্দিতে ৩জন নারী মাওবাদীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গতকাল উড়িষ্যার কালাহান্দি জেলার সাহাজখাওল রিজার্ভ ফরেস্ট পুলিশের এক চিরুনি অভিযানে নিষিদ্ধ সিপিআই(মাওবাদী)’র তিন জন সশস্ত্র নারী ক্যাডারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

কালাহান্দি’র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ব্রিজেশ রাই বলেন, “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী,  উড়িষ্যার পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নারী মাওবাদী নিহত হয়েছে”।    তিনি বলেন, এই অভিযানে বিশেষ অপারেশন গ্রুপ (SOG), উড়িষ্যায় একটি বিশেষ আধাসামরিক ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়।  ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু মাওবাদী সাহিত্য, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র, অস্ত্র ও গোলাবারুদ দুইটি .303 রাইফেল এবং 9 মিমি পিস্তল ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সুত্রঃ http://www.business-standard.com/article/pti-stories/3-women-maoists-killed-in-kalahandi-116043000873_1.html


‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ অতীত ও বর্তমান’- অনুরাধা গান্ধী

asit

[অনুরাধা গান্ধী(১৯৫৪- ১২ই এপ্রিল, ২০০৮), ভারতীয় বিপ্লবের একজন নেতৃস্থানীয় সংগঠক ও চিন্তাবিদ। তিনি ছিলেন মুম্বাই ও নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং এই দুই শহরে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরবর্তীতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় বনাঞ্চলে জনগণের উপর অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন এবং সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা উপ কমিটির প্রধান হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন দৃঢ়, নির্ভীক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী. দূরদর্শী বিবেচক। ১৯৮৩ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সদস্য কোবাদ গান্ধীকে বিয়ে করেন। দুঃখজনক ভাবে ২০০৮ সালের এপ্রিলে দণ্ডকারণ্যের গভীর জঙ্গলের গেরিলা জোনে সেরেব্রাল ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি নারী ক্যাডারদের নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।]

International_Womens_Day_19

আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ অতীত ও বর্তমানঅনুরাধা গান্ধী

২০০১ এর ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ৯১ তম বার্ষিকী যা ১৯১০ সালে সর্বপ্রথম ঘোষিত হয়। সে বছর সমাজতান্ত্রিক শ্রমজীবী নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমেরিকার শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ক্লারা জেটকিন বাৎসরিকভাবে নারী দিবস উদযাপনের প্রস্তাব পেশ করেন। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সভায় নারী অধিকারের আন্দোলনকে মর্যাদা প্রদান করতে ও সারা বিশ্বে নারীদের ভোটাধিকার অর্জনে সহায়তার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত একটি নারী দিবস চালু করা হয়। ১৭টি দেশের ১০০ জনেরও বেশী নারীদের সর্বসম্মত অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। দিবসটি পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোন তারিখ নির্বাচন করা হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে ১৯১১ সালের ১৯শে মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে দশ লাখেরও বেশী নারী ও পুরুষ এক র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করে। ভোটের অধিকার ছাড়াও তারা কাজ ও কারিগরী প্রশিক্ষণের অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধের দাবী জানায়। জার্মানীতে নারীরা ১৯শে মার্চ দিনটি বেছে নেয় কারণ ১৮৪৮ সালের এই দিনে এক সশস্ত্র বিদ্রোহের সময় প্রুশিয়ার রাজা নারীদের ভোটাধিকার সহ অনেক রকম সংস্কার সাধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

১৯১৩ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনটি বদলে করা হয় ৮ই মার্চ। ঐ দিনে ঘটে যাওয়া দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে এটি করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ নিউইয়র্ক শহরে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলের নারী শ্রমিকেরা দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ ও নিম্ন মজুরী প্রদান ইত্যাদি অমানবিক অবস্থার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এতে পুলিশ হামলা চালায় ও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই বছর পর আবারো মার্চ মাসে এই নারীরা প্রথমবারের মতো একটি ইউনিয়ন গঠন করে। ১৯০৮ সালের ৮ই মার্চ পুনরায় সীমিত কর্মঘন্টা, উন্নত মজুরী, ভোটাধিকার ও শিশু শ্রম বন্ধের দাবীতে ১৫,০০০ নারী নিউ ইয়র্ক শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

তাদের শ্লোগান ছিল ‘রুটি ও গোলাপ’; অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক হল রুটি এবং জীবনযাত্রার উন্নত মান বোঝাতে গোলাপ। সে বছরের মে মাসে আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক পার্টি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার দিনটিকে জাতীয় নারী দিবস হিসেবে পালনের জন্য মনোনীত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় নারী দিবস পালিত হয় ১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি। শীঘ্রই ইউরোপের নারীরা ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার দিনটিতে নারী দিবস উদযাপন করতে আরম্ভ করে। এই পটভূমিতে ১৯১০ সালে অনুষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন একটি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাব পেশ করেন।

১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো এ দিবস উদযাপনের এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ট্র্যাজিক ট্রায়াঙ্গেল ফায়ারে’ (‘Triangle Shirtwaist Factory’তে সঙ্ঘটিত অগ্নিকাণ্ডে) ১৪০ জন শ্রমজীবী নারী নিহত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইনে এই ঘটনা সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে আরো বেগবান করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৩ সালে রুশ নারীরা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে। পরের বছর ৮ই মার্চ কিংবা তার কাছাকাছি সময়ে ইউরোপে নিপীড়িত নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে নারীরা র‍্যালির আয়োজন করে। সব থেকে বিখ্যাত শ্রমজীবী নারী দিবস ছিল ১৯১৭ সালের ৮ই মার্চ (রুশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৪শে ফেব্রুয়ারি)। এদিন সেন্ট পিটার্সবার্গের রুশ নারীদের নেতৃত্বে ‘রুটি ও শান্তি’র দাবীতে হরতাল পালিত হয়। ক্লারা জেটকিন এবং আলেকজান্দ্রা কোল্লনতাই উভয়েই এতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের হরতালে দাঙ্গা তৈরি হয় যা ৮ থেকে ১২ই মার্চের মধ্যে গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের (এটি এ নামেই পরিচিত) ফলে জারের পতন ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নে ৮ই মার্চকে বীর নারী শ্রমিকদের বীরত্ব উদযাপনের পাশাপাশি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। তখন থেকে ৮ই মার্চ এর তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে দিনটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয় যা সারা বিশ্বের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা ছিল।

১৯৪৯ সালের চীন বিপ্লব দেখিয়ে দিল সামন্তীয় মূল্যবোধ ও পিতৃতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় নিমজ্জিত বিশ্বের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটিতে নারীরা পরিবর্তনের জন্য কী করে জেগে উঠতে পারে। সমাজতান্ত্রিক চীনে নারীরা যে বিরাট পদক্ষেপটি নিয়েছিল তা ছিল গোটা তৃতীয় বিশ্বের নারীদের জন্য একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত। চীনে নারীদের ক্ষমতায়নের একটি বড় উৎস্য হিসেবে বিশেষ ভাবে কাজ করেছে মহান প্রলেতারিয়েত সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সামন্তীয় কনফুসিয় ধ্যান ধারণার উপর এর নিরন্তর আক্রমণ। কমরেড চিয়াং চিয়াং ছিলেন এর জীবন্ত প্রতীক। ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকে পুঁজিবাদী দেশগুলোতে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক উত্থান ঘটে এবং তৃতীয় বিশ্বে ক্ষমতাশালী জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে উঠে এবং এসময় নারীদের স্বাধীনতা আন্দোলনেও পুনর্জাগরণ ঘটে।

গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন এত বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিল যে সাম্রাজ্যবাদীরা আত্তীকরণের মাধ্যমে একে স্বপক্ষে এনে ও নিজেদের গ্রহণযোগ্য পথে এর গতি পরিবর্তন করে একে ধ্বংস করতে চাইল। আত্তীকরণের মাধ্যমে স্বপক্ষে টানার এই প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ রূপ হল ১৯৭৭ সালে ৮ই মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃতি প্রদান।

সেই থেকে চরম বুর্জোয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোও ৮ই মার্চ ‘উদযাপন’ করে আসছে। অবশ্য যে বিপ্লবী উপাদান ও সংগ্রামের ইতিহাস থেকে এর উদ্ভব সেটুকু তারা বর্জন করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরবর্তীতে চীনে সমাজতন্ত্রের পরিবর্তন ঘটে যা এই অবস্থার পিছনে অনুঘটকের কাজ করে। এই সব পরিবর্তনের ফলে প্রথম যে ক্ষতিটা হয় তা হল সমাজতন্ত্রের অধীনে নারীদের অর্জিত কিছু অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো। তারপরেও বিশ্বের নিপীড়িত নারীদের মাঝে আন্তর্জাতিক নারী দিবস বেঁচে আছে। কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সমাজতন্ত্রের সাময়িক অবনতি এবং পুঁজিবাদের/সাম্রাজ্যবাদের পুনর্বহাল নারীদের কঠিন আঘাত করেছিল।

বিশ্বায়ন ও এর সাথে চূড়ান্ত ভোগবাদের ফলে নারীদের যে মাত্রায় পণ্যায়ন ঘটেছে তা আগে শোনা যায়নি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের প্রতি কোন ধরনের সম্মান না দেখিয়ে প্রসাধনী শিল্প, পর্যটন ও বুর্জোয়া গণমাধ্যম এমনভাবে নারীদের মর্যাদার হানি করেছে যা পূর্বে কখনো ঘটেনি। এর সাথে গণ দারিদ্র্য যোগ হয়ে গোটা জনগোষ্ঠীকে দেহব্যবসার দিকে ঠেলে দিয়েছে যেমনটা ঘটেছে পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, নেপাল ইত্যদি স্থানে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদ এবং বিভিন্ন উপদলের উত্থান যা নারীদের আরেকটি অংশকে প্রাচীন অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই দুই চরমপন্থীর মাঝখানে চাপা পড়ে নারীরা আজ তাদের পুরুষ প্রতিমূর্তির সাথে স্বাধিকারের, আত্মমর্যাদার ও সমতার প্রয়োজনীয়তা আগের থেকে অনেক বেশী করে অনুভব করছে। সুতরাং, আজ ৮ই মার্চের তাৎপর্য্য আরো বেশী।

সংশোধনবাদী ও বুর্জোয়া উদারবাদীরা সহানুভূতিশীল ত্রাতার ভূমিকায় অভিনয় করে ও ছদ্ম ‘উদ্বিগ্নতা’ দেখিয়ে নারীদেরকে গৃহবন্দী করে তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে স্তিমিত করার পায়তারা খোঁজে। তারা পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামন্তীয় ধ্যান ধারণার সাথে আপোষ করে আর নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাধিকারকে ভয় পায়। অবশ্য এরাও রুটিনমাফিক নারী দিবস ‘উদযাপন’ করে এবং নিয়মিত ভণ্ডামিপূর্ণ বিবৃতি দেয়।

সারা পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবী শক্তি বিশেষ করে মাওবাদীরা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মাঝে জীবনীশক্তি ফিরিয়ে এনেছে; দিনটিকে তারা আরো একবার সকল পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শোষণমূলক রীতি থেকে মুক্তির জন্য, আত্মমর্যাদার জন্য, সমতা ও ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারত সহ সারা পৃথিবীর নিপীড়িত নারীদের মাঝে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে এই বিপ্লবী চেতনা।

অনুবাদ সূত্রঃ Scripting the Change- Selected writings of Anuradha Ghandy