মাওবাদী নেতা কমরেড ‘নিজামউদ্দিন মতিন’-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাওবাদী নেতা কমরেড ‘নিজামউদ্দিন মতিন’-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় এক মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র, তখন বিশ্বব্যাপী বিপ্লবী লড়াই-সংগ্রামের তাত্ত্বিক ভিত্তি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাও সেতুঙ চিন্তাধারা ও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৬৯ সালেই তিনি কমরেড সিরাজ সিকদার প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রস্তুতি সংগঠন ‘পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন’-এ যোগ দেন এবং বরিশাল শহরে কাজ শুরু করেন। মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭০ সালে তিনি দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুর্জোয়া একাডেমিক শিক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে পেশাদার বিপ্লবীতে পরিণত হন।
সার্বক্ষণিক সংগঠক হিসেবে কমরেড মতিন চট্টগ্রামে নিয়োজিত হন এবং সেখানে গ্রামাঞ্চলে সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পাবনায় কাজ করেন।
বিচ্ছিন্নতা ও যুদ্ধরত অবস্থায় কমরেড মতিন পার্টি গঠনের সংবাদ অবহিত হননি। পরে সংযোগ হলে তিনি কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বাধীন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি’তে যোগ দেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কমরেড মতিন বিক্রমপুরে প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭৩-৭৪ সালে বিক্রমপুরে পার্টির বিপ্লবী সংগ্রামের উত্থান ঘটে। এরপর শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে সারা দেশে বিপ্লবী লড়াইয়ের যে উত্থান সৃষ্টি হয় তাতে কমরেড মতিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ সালের ১৬ জুন ও ১৫-১৬ ডিসেম্বর পার্টির আহ্বানে যে হরতাল পালিত হয়, সেখানেও কমরেড মতিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৪ সালে কমরেড মতিন ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল পরিচালনা করেন এবং পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭৪ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংকট নিরসনে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত অধিবেশনে কমরেড সিরাজ সিকদার ৬ সদস্যের যে রাজনৈতিক ও সামরিক সাহায্যকারী দুটি গ্রুপ গঠিত করেন তাতে কমরেড মতিন ছিলেন ‘সামরিক সাহায্যকারী’ গ্রুপের ১ নম্বর সদস্য।
১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র্র কর্তৃক কমরেড সিরাজ সিকদার গ্রেফতার ও নিহত হলে পার্টি গুরুতর বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পার্টির নেতৃত্বদানের মারাত্মক সংকটকালে সাহায্যকারী গ্রুপদ্বয়ের কোনো সিনিয়র সদস্য দায়িত্ব নিয়ে সভা আহ্বান না করলে কমরেড মতিন উদ্যোগী হয়ে সভা আহ্বান করেন এবং আলোচনার ভিত্তিতে পার্টির অস্থায়ী কেন্দ্র ‘অস্থায়ী সর্বোচ্চ সংস্থা (অসস)’ গঠন করেন। কমরেড মতিনের ওপর প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব অর্পিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে পার্টির বর্ধিত অধিবেশনে তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। সে সময় তিনি পার্টিকে গুছিয়ে পুনরায় বিপ্লবী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমর্থনপুষ্ট খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সামরিকবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর কমরেড সিরাজ সিকদারের আগাম বিশ্লেষণ অনুযায়ী কমরেড মতিনের নেতৃত্বাধীন ‘অসস’ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে জাতীয় দ্বন্দ্বকে প্রধান দ্বন্দ্ব নির্ধারণ করে বিপ্লবী লড়াই অব্যাহত রাখে।
১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পার্টির দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কমরেড মতিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন। তাঁর গ্রেফতারের কিছুকাল পরে পার্টি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জেলবন্দী অবস্থায় কমরেড মতিন আরেক জেলবন্দী নেতা কমরেড সুলতানকে নিয়ে গঠন করেন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির বিপ্লবী সত্তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া’ যা সংক্ষেপে ‘সত্তা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরে জেলে অন্তরীণ থাকাকালে দুই লাইনের সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় তিনি কমরেড আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বাধীন পার্টি-কেন্দ্র ‘সর্বোচ্চ বিপ্লবী’ পরিষদ (সবিপ)’র সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ১৯৭৮ সালে ঐক্যবদ্ধ হন।
১৯৮০ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় কমরেড মতিন নিপীড়নমূলক কারা-আইনের বিরুদ্ধে দুর্বার সংগ্রাম গড়ে তোলেন। সব জেলে পার্টির জেলবন্দী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয় জেল আন্দোলন।
সুদীর্ঘ ১০ বছর কষ্টকর বন্দীজীবনে তিনি মাওবাদ ও বিপ্লবের প্রতি আনুগত্যকে কখনো শিথিল করেননি এবং ১৯৮৬ সালে বন্দীদশা থেকে মুক্তি লাভের পর পুনর্বার বিপ্লবী অনুশীলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
‘অভূতপূর্ব বিপ্লবী অনুশীলন, ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কমরেড মতিন ১৯৮৭ সালে পার্টির দ্বিতীয় ও ১৯৯২ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনেরও সদস্য ছিলেন।
তৃতীয় কংগ্রেসের পর দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়। তিনি তৃতীয় কংগ্রেসের গৃহীত লাইন অনুযায়ী বিপ্লবী লড়াই সূচনা করেন। পরে ’৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে পার্টি অভ্যন্তরে বিবিধ লাইন প্রশ্নে দুই লাইনের সংগ্রাম সূচিত হয়, যার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে পার্টি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কমরেড মতিন ১৯৯৯ সালের মে দিবসে গঠন করেন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন (এমবিআরএম)’।
নতুন কেন্দ্র গঠন করেই তিনি বিপ্লবী লড়াইয়ের সূচনা করেন এবং বেশকিছু সাড়া জাগায় ও বিকাশ ঘটায়। বিপ্লবী অনুশীলনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন গত ১১ আগস্ট ২০১৯ দুপুর ১২টায় মৃত্যুবরণ করেন।
কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের ত্যাগীজীবন, অধ্যাবসায়, অবিরাম বিপ্লবী অনুশীলন ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কমরেড মতিন আজীবন নয়াগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের জন্য লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে জনগণের সেবা করেছেন। তাই তাঁর মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী। কমরেড মতিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। কমরেড মতিনের স্মৃতির প্রতি আমরা জানাই লাল সালাম।

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন স্মরণ কমিটি

কর্মসূচি
স্মরণসভা : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, বিকেল ৪টা
স্থান : আরসি মজুমদার মিলনায়তন(কলা ভবনের পেছনে), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন

 

বাংলাদেশের ফেসবুকে বামপন্থীদের বিভিন্ন পোস্ট ও দেশটির জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ জানাচ্ছে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব, মাওবাদী ধারার কমিউনিস্ট পার্টি ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(এমবিআরএম)’ এর সম্পাদক কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন ওরফে কমরেড ‘ক’ ওরফে কমরেড শাহিন গত ১২ই আগস্ট সকাল ১১টায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় জন্ম নেয়া মাওবাদী ধারার এই কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ত্ব মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে তিনি সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে পুর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭৫সালে কমরেড  সিরাজ শিকদারকে হত্যার সময়ে কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন জেলে ছিলেন। সেখানেই বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভ্রান্তি এড়াতে নিজেরা তৈরী করেন “সত্ত্বা” নামে একটি আলাদা গ্রুপ। পরে আবার মিশে যান মূলধারার সাথে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা, টাংগাইল ফ্রন্টের দ্বায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অসংখ্য লেখা থেকে “শামুরবাড়ির প্রতিরোধ” স্মৃতিচারণমুলক লেখাটা ‘লাল সংবাদ’ আজ প্রকাশ করেছে।

 

 

বিশাখাপত্তনমে TDP বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়ককে গুলি করে হত্যা মাওবাদীদের

six-suspectsmaoistupats

অারাকুর TDP বিধায়ক সর্বেশ্বরা রাও ও প্রাক্তন বিধায়ক এস সোমান্নাকে রবিবার গুলি করে হত্যা করলো বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন মাওবাদী। প্রায় ৬০জন মাওবাদী এই হামলায় অংশ নেয়, এর মধ্যে ৪০জনই নারী গেরিলা ছিল। দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার সকালে ওই ২ নেতা যখন সভা করতে বিশাখাপত্তনমের কাছে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাদের গাড়ি অাটকায় ৫০-৬০জনের সশস্ত্র মাওবাদীদের একটি দল। পরে তথাকথিত গণঅাদালতে দোষী সাব্যস্ত করে ওই ২ টিডিপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করে তারা। অন্যদিকে পিটিঅাই জানাচ্ছে গাড়ি থেকে ওই ২ নেতাকে নামিয়ে গুলি করে মাওবাদীরা। খননের বিষয় নিয়ে বিধায়কের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল তারা। বিশাখাপত্তনম এলাকায় যথেচ্ছভাবে খননের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতি হলেও প্রশাসন তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। ২০১৪ সালে ysr কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন সর্বেশ্বর। সম্প্রতি হাওয়া বুঝে TDPতে যোগ দেন তিনি।

সূত্রঃ satdin.in


নেতৃত্বে তরুণ বুদ্ধিজীবীদের খুঁজছে মাওবাদীরা

MAOIST

সিপিআই(মাওবাদী) তাদের নেতৃত্বের সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে এবং নিম্ন স্তরের-কর্মীদের শিক্ষিত করতে(যাদের মধ্যে আদিবাসী ও দলিত রয়েছে) শহুরে ও বুদ্ধিবৃত্তিক তরুণদের সন্ধান করছে।

সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরোর সদস্য প্রশান্ত বসু ওরফে কিষেণদা পার্টির প্রকাশনা ‘লাল চিংড়ী প্রকাশন(Lal Chingari Prakhashan)’ এ জানালেন, সংগঠনে শিক্ষিত তরুণ ক্যাডারের অভাব তাঁদের ভোগাচ্ছে। তাই শহরের বিভিন্ন এলাকার ‘বিপ্লবী ভাবধারায় বিশ্বাসী শিক্ষিত ছাত্র ও বুদ্ধিদীপ্ত কমরেডদের’ পাঠানোর জন্য মাওবাদীদের সমস্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবকদের অভাবের কারণে দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে পার্টি। যুদ্ধক্ষেত্রে শিক্ষিত সংখ্যক ক্যাডারের সংখ্যা খুবই কম, এই সব ক্যাডারদের রাজনীতিকরণ করা সংগঠনটির রাজনৈতিক কর্মসূচির একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে, আমরা নিশ্চিত যে আমরা খুব শিগগির এই ধরনের শিক্ষিত, তরুণ ও গতিশীল কমরেড পেতে সক্ষম হব, যারা আমাদের দলের তৃতীয় এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব শুরু করতে সক্ষম হবে, যদিও পার্টি পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল সহ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দলিল তৈরি করেছে, কিন্তু পার্টি তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত শিক্ষাদানের মাধ্যমে ও জঙ্গল যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মাধ্যমেে একজন গ্রামীণ স্তরের ক্যাডারের মাওবাদী নেতা হয়ে উঠার জন্য কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগে। তিনি আরো বলেন, মাওবাদীদের অধিকাংশ কর্মী অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত, তাই তাদের নেতৃত্বে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের শিক্ষিত করতে ও নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষমতা আনার জন্যে তরুণ বুদ্ধিজীবীদের প্রয়োজন।

দলীয় মুখপত্রে প্রশান্তবাবু বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব তৈরি করাটাই এখন সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্যান্য রাজ্যে— অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডে আমরা দলিত, আদিবাসী, গরিবদের মধ্যে ভিত তৈরি করেছি। শিক্ষার হার সেখানে কম। কাজেই তাদের মার্ক্সবাদের প্রকৃত অর্থ শেখানো কঠিন। এদের শিক্ষিত করে তুলতে শিক্ষিত, বুদ্ধিদীপ্ত বিপ্লবীদের প্রয়োজন।’’ মাওবাদীদের শীর্ষ নেতাদের প্রায় প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ্ব। প্রবীণ ক্যাডারদের জন্য অবসর প্রকল্প চালু করেছে তারা।

সূত্রঃ https://economictimes.indiatimes.com/news/defence/cpi-maoist-scouting-for-urban-and-intellectual-youth-to-fill-ranks/articleshow/65740929.cms


ছত্তিশগড়ে ‘সংঘর্ষে’ নিহত অন্তত ৭ মাওবাদী

3-maoists-killed-in-encounter-in-malkangiri-district

ছত্তিশগড়ে ফের ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড ও এসটিএফের সঙ্গে ‘সংঘর্ষে’ নিহত সন্দেহভাজন মাওবাদীরা। সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী পুলিসের দাবি, আজ বৃহষ্পতিবার ভোররাতে দান্তেওয়াড়া-বিজাপুর সীমান্তের কাছে একটি জঙ্গলে সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৭ মাওবাদী। নিহতদের মধ্যে ৩জন মহিলা। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অাশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ satdin.in


যে ছাত্র আন্দোলন দেশছাড়া করল রাষ্ট্রপ্রধানকে

image

জনজোয়ার: প্যারিসের রাস্তায় ব্যরিকেডের বিরুদ্ধে ছাত্ররা।

সময়টা ১৯৬৮। প্যারিসে ছাত্র আন্দোলন তখন মধ্যগগনে। প্রতিদিন রাস্তায় ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের খন্ডযুদ্ধ চলছে। এরকম এক সন্ধেবেলায় রাজপথে তৈরি করা অস্থায়ী ব্যারিকেডের উপর দাঁড়িয়ে ছাত্রদের সামনে ধর্মঘটের সপক্ষে বক্তব্য রাখছিলেন বেলজিয়ামের মার্ক্সবাদী দার্শনিক আর্নেস্ট ম্যান্ডেল। বক্তৃতা শেষ করে নেমে এসেই তিনি দেখতে পেলেন সামনে একটি গাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলছে। ওই রাজপথেই শিশুর মতো আনন্দে নেচে উঠে চেঁচাতে লাগলেন ম্যান্ডেল, “কী অপূর্ব! কী সুন্দর! বিপ্লব তা হলে এসেই গেছে।” যারা দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখল, তাদের মধ্যে হাতেগোনা ওঁর কিছু ছাত্র ছিল। এক মাত্র তারাই জানত—ওই গাড়িটা  ছিল প্রফেসর ম্যান্ডেলের নিজের!

আজ, প্যারিসের ছাত্র আন্দোলনের অর্ধশতবর্ষ পূর্তিতে ফিরে দেখতে গেলে উপরের ঘটনাটির থেকে বেশি ব্যঞ্জনাময় গল্প আর কিছু হতেই পারে না। নিজের গাড়ি পুড়তে দেখে আনন্দে নাচার যাদুবাস্তবতা তো আসলে একটা অভ্যুত্থানের আকাশ ছুঁতে চাইবার রূপক মাত্র। কে না জানে, আন্দোলনরত প্যারিসের দেওয়ালে তখন সবচেয়ে বেশি যে স্লোগানটা চোখে পড়ত তা হল, ‘বাস্তববাদী হও, অসম্ভবের দাবি করো’!

অসম্ভবের দাবি ফিরে ফিরে আসে। বহু বছর পরে যখন ‘হোক কলরব’ স্লোগানে কলকাতা কেঁপে উঠবে, যখন কানহাইয়াকুমার, উমর খালিদদের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সমগ্র ভারত জুড়ে ছাত্রসমাজ আন্দোলনে নামবে, অথবা যখন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে ছাত্রছাত্রীদের অভিন্ন আবাসনের দাবিতে গর্জে উঠবে ক্যাম্পাস, তখন কি নেপথ্যে থেকে অট্টহাসি হাসবে ৬৮’র মে মাস? সেই ধর্মঘটও তো শুরু হয়েছিল গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতাদের মুক্তির জন্যই। আর আন্দোলনের সূত্রপাত কী থেকে হয়েছিল? নঁতের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের আবাসনে ছেলেদের ইচ্ছে মতো রাত্রিযাপনের অনুমোদনের দাবিতে।  আজ যখন ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলগুলি বিদ্রোহী প্রেসিডেন্সি বা যাদবপুরকে চিহ্নিত করে দেয়  নেশা ও যৌনতার আখড়া হিসেবে, তখন অবধারিতভাবেই তাই স্মৃতিতে উঁকি মারেন ১৯৬৮-র ফরাসি প্রধানমন্ত্রী পঁপিদ্যু। যিনি আন্দোলনরত ছাত্রদের অভিহিত করেছিলেন ‘নৈরাজ্যবাদী, যৌনবিকৃতির ধ্বজাধারী’ আখ্যায়।

HEZ-2662207 - © - Fine Art Images

জনজোয়ার: প্যারিসের রাস্তায় বিদ্রোহী ছাত্ররা। মে ১৯৬৮

বস্তুত, নাগরিক অধিকারের আন্দোলন কীভাবে রাজনৈতিক রূপ পেয়ে যায় তার একটা উদাহরণ হতে পারে ’৬৮-র প্যারিস। ছাত্রী-আবাসনে অবাধ প্রবেশের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিলই। ১৯৬৮-র মার্চ মাসে এই বিক্ষোভে যোগ দিল অন্যান্য বামপন্থী ছাত্ররা, স্লোগান তুলল ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে। মে মাসের শুরুতে নঁতের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিল প্রশাসন। বিদ্রোহী ছাত্ররা প্যারিসের প্রাণকেন্দ্র লাতিন কোয়ার্টারে অবস্থিত সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘাঁটি গাড়ল। প্রতিদিন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ মুখরিত হতে থাকল স্লোগান, কবিতা, গানে। প্রমাদ গুণে কর্তৃপক্ষ এবার পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলেন। দাবি, বহিরাগতদের হটিয়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। হোক কলরবের সময়কালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্ভবত এই ইতিহাস জানতেন না। ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকালে তার পরিণতি কতদূর অবধি যেতে পারে, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছে সরবোন।

image (2)

স্লোগানে, প্রতিবাদে মুখরিত ছাত্রছাত্রীরা। মে, ১৯৬৮।

৩ মে পুলিশ আসবার পরেই সমগ্র লাতিন কোয়ার্টার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। পুলিশকে লক্ষ করে বৃষ্টির মতো উড়ে আসতে থাকল পাথর। পুলিশ প্রত্যুত্তর দিল কাঁদানে গ্যাস, নির্মম প্রহার এবং নির্বিচারে গ্রেফতারের মাধ্যমে। পাল্টা জবাবে ৬ থেকে ১০ মে-র মধ্যে পরপর ধর্মঘটে অচল হয়ে গেল প্যারিস। সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিয়ে ছাত্ররা ঘোষণা করল এবার থেকে এটি হবে জনগণের শিক্ষাক্ষেত্র। অলিতে গলিতে খাড়া করা হল ছোটবড় ব্যারিকেড। টানা কয়েকদিন পুলিশ বনাম ছাত্রদের খণ্ডযুদ্ধ চলল। দেওয়ালগুলি ভরে উঠল অসংখ্য বাঙ্‌ময় স্লোগান এবং গ্রাফিতিতে।  ‘ব্যারিকেডে অবরোধ হয় রাস্তা, খুলে যায় পথ।’ ‘আমরা ভিক্ষা করি না, দখল করি।’ ‘বিপ্লব অবিশ্বাস্য, কারণ তা বাস্তব।’ স্লোগান আর কবিতা যেন করমর্দন করল একে অন্যের! কেউ লিখলেন, ‘ওঠো, জাগো, বিশ্ববিদ্যালয়ের হা-ঘরেরা।’ কেউ বা আরও স্পষ্ট: ‘পরীক্ষার খাতায় উত্তর দিয়ো প্রশ্নে প্রশ্নে।’ চেক সাহিত্যিক মিলান কুন্দেরা তাঁর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘লাইফ ইজ এলসহোয়ার’-এর নামকরণ করলেন এরকমই এক দেওয়াল লিখন থেকে। জীবন আর সাহিত্য যেখানে মিলেমিশে যায়, সেটাই হয়ত বিপ্লব!

৫ মে থেকেই শহরের সিনেমা হল এবং নাট্যশালাগুলিকে ছাত্ররা দখল করে জনসমাবেশ করছিল। এরকমই একটি সভায় এক মাওবাদী নেতা তাঁর রাষ্ট্রবিরোধী বক্তৃতায় বললেন, ‘দ্য গলের (তৎকালীন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট) স্বৈরাচার জনগণের সংসদকে বুর্জোয়া নাট্যশালায় পরিণত করেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে ছাত্রনেতা ওয়ালি রোজেল বলে উঠলেন, ‘‘আর ঠিক এই কারণেই বুর্জোয়া নাট্যশালাগুলোকে দখল করে তাদের আমরা জনগণের সংসদে পরিণত করব।’’ সরকার আন্দোলনকে দাগিয়ে দিল মাওবাদী ষড়যন্ত্র হিসেবে। দেশকাল নির্বিশেষে রাষ্ট্রক্ষমতা সম্ভবত একই রকমের ভূত দেখে!

সমাবেশগুলি থেকে দাবি উঠল লিঙ্গ সাম্যের। দাবি উঠল, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শোষিত জনগণের পাঠশালায় রূপান্তরিত করতে হবে। অবাধ চিন্তার স্বাধীনতা চাই। যৌনতা হোক মুক্ত। রক্ষণশীল দ্য গলের পতন হোক। সনাতনপন্থীরা তো বটেই, ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টিও ঢোঁক গিলল এবার। এই বিদ্রোহ এতই নতুন ধাঁচের যে চিরাচরিত মাকর্সবাদ দিয়ে ঠিক মেলানো যাচ্ছিল না। বিদ্রোহীদের নতুন আইকন এখন চে গেভারা, হারবার্ট মারক্যুস, মাও জে দং। তাদের দাবি যত না অর্থনৈতিক, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে। ফলে এক সময়ে দ্বন্দ্বটা শুধু নতুন বনাম সনাতনী সমাজ নয়, নতুন বনাম পুরনো বামপন্থার রূপও নিয়ে নিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়ার ব্যাঙ্গাত্মক আহ্বান, ‘ঢোকার সময় যেমন ভেবেছিলেন, ছাড়ার সময়ও তেমন সাফসুতরো রাখুন কমিউনিস্ট পার্টিকে’। অবশেষে সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে কয়েকদিন পরে কমিউনিস্ট পার্টির ট্রেড ইউনিয়ন তাদের নিজস্ব  দাবিদাওয়া নিয়ে ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়াল। শ্রমিকেরা দখল নিয়ে নিলেন একাধিক কারখানার। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এক কোটি শ্রমিকের ধর্মঘটে ফ্রান্স স্তব্ধ হয়ে গেল।

ব্যাপক সংখ্যায় মানুষ, গায়ক, কবি, অধ্যাপক এবার আন্দোলনের সমর্থনে এগিয়ে এলেন। রেনো কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্র-শ্রমিক সংহতির পক্ষে দার্শনিক জাঁ পল সার্ত্র প্রকাশ্যে বিলি করলেন নিষিদ্ধ মাওবাদী পত্রিকা। তখন কান চলচ্চিত্র উৎসব চলছিল। মঞ্চে উঠে চলচ্চিত্রকার জঁ লুক গদার আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি সহমর্মিতা জানালেন। প্রতিবাদে আইরিশ চিত্রপরিচালক পিটার লেনন চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘‘আমার ফিল্ম প্রদর্শনের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আপনাদের বিপ্লব শুরু হতে হল?’’ সপাটে  জবাব দিলেন গদার, ‘‘আমরা বিপ্লব নিয়ে কথা বলছি। আর আপনি এখনও ক্লোজ আপ আর ট্র্যাকিং শট নিয়ে কচকচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তফাতটা বুঝুন।’’ উৎসব বন্ধ হয়ে গেল। 

তত দিনে ফ্রান্সের সরকার প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। কারখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, রাজপথ—সব কিছুরই দখল সাধারণ মানুষের হাতে। এবার  চার্লস দ্য গল যেটা করলেন সেটা প্রায় অভাবনীয়। মন্ত্রিসভাকে অন্ধকারে রেখে দেশ ছেড়ে নিরুদ্দেশ হলেন। যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীকে বলে গেলেন, ‘‘আমার দিন শেষ’’। সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশ ফেটে পড়ল প্রবল উল্লাসে। অভ্যুত্থানের ভয়ে প্রেসিডেন্ট ভাগলবা হয়েছেন! কয়েকদিন বাদে অবশ্য ফিরেও এলেন। নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হল রাজবন্দিদের। জুন মাসে সাধারণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল। এরপর আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসল অভ্যুত্থান। কিন্তু দ্য গল আর কখনও তাঁর হৃত জনপ্রিয়তা ফিরে পাননি। নির্বাচনে জয়লাভ করা সত্বেও ১৯৬৯ সালে পদত্যাগ করেন তিনি।

আর্নেস্ট ম্যান্ডেল ভুল ভেবেছিলেন। বিপ্লব আসেনি। প্যারিসের ছাত্র আন্দোলন এক সময়ে স্তিমিত হয়ে নিভে গিয়েছে। কিন্তু বিপ্লবের থেকেও বেশি বিপজ্জনক হল বিপ্লবের ভূত, যা ভবিষ্যতের পৃথিবীকে তাড়া করে বেড়ায়। নতুন রূপে ফিরে আসে বারবার। জেএনইউ থেকে যাদবপুর, তাহিরির স্কোয়ার, শাহবাগ, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট…

এই ভোজসভায় সার্বিক সমাজের যোগদানের রূপ কেমন হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলেন ফ্রাঁসোয়া লেনার্ড। ফ্রাঁসোয়া ’৬৮-র ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, বর্তমানে পেশাদার ফটোগ্রাফার। প্যারিস রিভিউ-তে ’৬৮-র স্মৃতিচারণে ফ্রাঁসোয়া লিখেছিলেন, ইকোল নর্মাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁদের গ্রিক দর্শন পড়াতেন এক সুদর্শন শান্তস্বভাবের অধ্যাপক। ছাত্রবিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য এক দিন তাঁর ক্লাস কেটেছিলেন ফ্রাঁসোয়া। একটি অধিকৃত নাট্যশালায় পিছনের দরজা দিয়ে ভয়ে ভয়ে প্রবেশ করেছিলেন, যাতে আসবার পথে ক্লাসের কারোর চোখে না পড়ে যান। কিন্তু মঞ্চের কাছে গিয়ে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায় ফ্রাঁসোয়ার। দেখেন, জনগণের অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে সেই সৌম্য মূর্তি অধ্যাপক অগ্নিবর্ষী বক্তব্য রাখছেন! অধ্যাপকের নাম জাক দেরিদা!

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

image (1)

মঞ্চের কাছে গিয়ে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায় ফ্রাঁসোয়ার। দেখেন, জনগণের অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে সেই সৌম্য মূর্তি অধ্যাপক অগ্নিবর্ষী বক্তব্য রাখছেন! অধ্যাপকের নাম জাক দেরিদা!


ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের বিস্ফোরণে নিহত ৬ CRPF জওয়ান

jharkhand-maoists-17-10-17

মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের গাড়ওয়াতে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত হলেন জাগুয়ার বাহিনীর ৬ জওয়ান। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সন্দেহ করা হচ্ছে মাওবাদীদের ঘটানো বিস্ফোরণের জেরেই নিহত হয়েছেন ৬ জওয়ান। জাতীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী তল্লাশির সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। মাও বিরোধী অভিযানে CRPF এর বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী হল জাগুয়ার।

সূত্রঃ http://satdin.in


ভারতের মাওবাদীদের নতুন অস্ত্রঃ র‍্যাম্বো অ্যারো, রকেট বোম্ব ও পশু বর্জ্য

maxresdefault

র‍্যাম্বো অ্যারো

র‍্যাম্বো চলচ্চিত্রে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানতে নায়ক সিলভেস্টার স্ট্যালোন এর ব্যবহার করা বিস্ফোরক তীর/অ্যারো এর বাস্তব রূপ দিয়েছে ভারতের মাওবাদীরা। এছাড়াও মাওবাদীরা নতুন অস্ত্র উদ্ভাবন করেছে- রকেট বোম্ব ও বিস্ফোরকে পশু বর্জ্যে ব্যবহার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার জন্য মাওবাদীরা মারাত্মক মারণাস্ত্র এবং গোলাবারুদ তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’ এবং ‘রকেট বোম্ব’ যেগুলো নতুন আইইডি অস্ত্রসম্ভারের অংশ। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এ সব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আইইডি হুমকি নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা কমান্ডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাওবাদীরা নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা কুকুরের নজর এড়াতে বোমা তৈরিতে প্রাণীর বর্জ্য ব্যবহার করছে, যাতে সেগুলো শুঁকে খুঁজে বের করতে না পারে।

পিটিআই যে রিপোর্টটি হাতে পেয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, “২০১৭ সালের শুরুর দিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো লুকানো ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) খোঁজার সময় সেগুলোর বিস্ফোরণে মারা গেছে অথবা জখম হয়েছে”।

ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের পেতে রাখা বোমায় সিআরপিএফের দুটো কুকুর মারা যায়। এরপরই ‘অস্বাভাবিক’ এই ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাণীর বর্জ্য দিয়ে আইইডিগুলো লুকিয়ে রাখার কারণে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে কুকুরগুলো মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইইডি খুঁজে বের করা এবং সেনাদের জীবন রক্ষার জন্য এই কুকুরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।

টহল কুকুরের জন্য নতুন এই হুমকির ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।

এলডাব্লিউই থিয়েটারে আইইডি একটা বড় ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিগত অনেক বছর ধরেই এই বোমাগুলো বিস্ফোরণে বহু রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিপিআই (মাওবাদী) ক্যাডাররা এখন অস্ত্র তৈরীতে নতুন একটা বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করছে যেটাকে বলা হচ্ছে ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’।

তীরের মাথায় নিম্নমানের গান পাউডার বা ফায়ার ক্র্যাকার পাউডার লাগিয়ে দেয়া হয়, যেটা টার্গেটে আঘাত করার পর বিস্ফোরিত হয়।

নতুন আইইডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, র‍্যাম্বো অ্যারোতে খুব বেশি ক্ষতি হয় না কিন্তু মারাত্মক তাপ ও ধোঁয়া সৃষ্টি করে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দেয়। এতে করে সেনারা মারাত্মক আহত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে মাওবাদীরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র লুটে নিতে পারে”।

রিপোর্টে বলা হয়, মাওবাদীরা উচ্চ মানের বিস্ফোরক আইইডির পরিবর্তে এই কৌশলের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। কারণ উচ্চ মানের বিস্ফোরক ব্যবহার করলে নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং সেগুলো ব্যবহার করা যায় না।

রিপোর্টে বলা হয়, গত বছর ২৪ এপ্রিল এ ধরনের কৌশলের ব্যবহার দেখা গেছে। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদীরা সে সময় ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই হামলায় ২৫ জন সিআরপিএফ সদস্য নিহত হয় এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো লুট করা হয়।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ‘র‍্যাম্বো অ্যারো’ ছাড়াও মাওবাদীরা ইম্প্রোভাইজড মর্টার এবং রকেট উদ্ভাবন করেছে।

এতে বলা হয়, রকেট যখন আঘাত করে তখন একটা বিস্ফোরণ হয় এবং প্রচণ্ড শব্দ হয়। এই রকেট থেকে বোঝা যায় মাওবাদীদের অস্ত্রগুলো কতটা ভয়ঙ্কর।

এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পগুলোতে হামলার জন্য আরেক ধরনের রকেট ব্যবহার করছে মাওবাদীরা।

এলডাব্লিউই গ্রিড এলাকায় নিয়োজিত সেন্ট্রাল আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে যে রিপোর্ট বিনিময় করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার জন্য মাওবাদীরা সম্প্রতি মারাত্মক মারণাস্ত্র ইম্প্রোভাইজড রকেট ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রগুলো মাওবাদীদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০১৫ সালের মে থেকে নিয়ে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর বিজাপুর এবং কোন্দাগাঁও জেলায় যে সব হামলা হয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

বিস্ফোরকগুলো যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন বিস্ফোরিত লোহার রিংগুলোর কারণে মারাত্মক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আর এতে যে সালফিউরিক অ্যাসিড ও সুগার ক্লোরেড ব্যবহার করা হয়, সে কারণে তাবুসহ ক্যাম্পের অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

রিপোর্টের উপসংহারে বলা হয়েছে যে, “নতুন ধারায় দেখা যাচ্ছে, নকশালরা আইইডি এবং নিক্ষেপযোগ্য রকেটের সুইচ ও মেকানিজমের ব্যাপারে তাদের টেকনিক্যাল দক্ষতা অনেক বাড়িয়েছে”।

সূত্রঃ https://timesofindia.indiatimes.com/india/naxalites-innovate-get-rambo-arrows-and-poop-laced-bombs/articleshow/64056733.cms

https://economictimes.indiatimes.com/news/politics-and-nation/naxalites-latest-arsenal-includes-rambo-arrows-and-poop-laced-bombs/inspired-by-rambo/slideshow/64060367.cms

https://www.telegraphindia.com/india/rambo-arrows-on-maoist-report-228628

http://www.thehindu.com/news/national/maoists-new-weapons-rambo-arrows-rocket-bombs-and-animal-excreta/article23795092.ece

 


ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলায় নিহত ২ পুলিশ, আহত কয়েকজন

naxal_030511

ছত্তিশগড়ের গরিয়াবাধে মাওবাদীদের হামলায় নিহত হয়েছে দুই জওয়ান। ঘটনাটি ঘটেছে গরিয়াবাঁধের আলমোরা পাহাড় এলাকায়।
timesofindia.indiatimes.com জানাচ্ছে, আজ দুপুর ২.২৫ এর দিকে মাওবাদী দমনে অভিযানে নেমেছিল সিআরপিএফ ৬৫ ব্যাটেলিয়ন ও ছত্তিসগড়ের জওয়ানদের একটি দল। হঠাৎই তাদের উপর ব্যাপক IED হামলা চালায় মাওবাদীরা। এতে নিহত হয় দুই জওয়ান। এই ঘটনায় কয়েকজন জওয়ান আহত হয়েছেন। তাঁদের ধাওয়ালপুল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

 


ছত্তিসগড়ে গতকাল এবং আজ ‘সংঘর্ষে’ নিহত ৭ নারী সহ ১০ মাওবাদী

31369128_2114762971873246_1644968711702083404_n

মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে মাওবাদী তকমা দিয়ে ৩৯ জনকে হত্যা করার পর কয়েক দিনের মধ্যে গতকাল এবং আজকের কথিত ২টি সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ছত্তিশগড়ে নিহত হল ১০ মাওবাদী।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল তেলেঙ্গানা- ছত্তিশগড় সীমানার বিজাপুরের ইলমিদি থানার অধীনে একটি জঙ্গলের মধ্যে শুক্রবার তেলেঙ্গানার গ্রেহাউন্ড ও ছত্তিশগড় পুলিসের যৌথ অভিযানের সময় হয় এই ‘সংঘর্ষ’। এদের মাঝে ৬জন নারী গেরিলা ছিলেন। দ্য হিন্দ্যুর  রিপোর্ট অনুযায়ী  ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫টি বন্দুক , একটি পিস্তল সহ  ৬টি রকেট লঞ্চার ও ৬টি গ্রেনেড উদ্ধার করেছে পুলিস।

অপর ঘটনায় আজ সকালে ছত্তিশগড়ের সুকুমার বুরকাপাল এলাকার মেটাগুদাম গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর DRG, STF, CoBRA ও CRPF এর সাথে কথিত সংঘর্ষে ১ নারী সহ ২ মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে ndtv জানাচ্ছে। এসময় ১১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।