ভারতঃ অধ্যাপক সাইবাবাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার অনুমতি দিল বোম্বে হাইকোর্ট

gn_saibaba_20150518.jpg

মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহে জেলবন্দি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএন সাইবাবাকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুমতি বুধবার দিল বোম্বে হাইকোর্ট। এর আগে সাইবাবার তরফে আদালতকে জানান হয় জেলে তাঁর কোন চিকিৎসা সম্ভব নয়।

আদালতকে গত সপ্তাহেই সংবাদপত্রের রিপোর্টকে উল্লেখ করে পূর্ণিমা উপাধ্যায়ে নামে এক  মহিলার  আদালতে পাঠানো চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে সাইবাবার মেডিক্যাল রিপোর্ট সরকারের কাছে চেয়ে পাঠায় বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিতারপতি মোহিত শা ও একে মেননের ডিভিশন বেঞ্চ।

গত বছর মে মাসে দিল্লির ফ্ল্যাট  থেকে কার্যত অপহরণের কায়দায় ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইবাবাকে  গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্রের পুলিস। এর পর তাঁকে রাখা হয়েছে নাগপুরের কুখ্যাত আন্ডা সেলে। সাইবাবার মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বহু বিশিষ্টজন। কিন্তু সারাদেশে অসংখ্য মানুষ বিনা বিচারে বা জামিনের অর্থ জোগাড় করতে না পেরে জেলেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সুত্রঃ http://satdin.in/?p=2258

Advertisements

ভারতঃ নিহত মাওবাদীদের মধ্যে একজন ছিল সূর্যপেটের ১৯ বছরের কিশোর

v1

v2

11391174_711063599020198_2603492459987221721_n

শুক্রবার তেলেঙ্গানা-ছত্তিসগড় সীমান্তের কাছে পুলিশের সাথে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত মাওবাদীদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম বিবেক কোডামাগুন্ডলা (১৯)। তিনি হায়দ্রাবাদের পেন্ডেকান্তি আইন কলেজের পাঁচ বছর মেয়াদী কোর্সের পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিবেকের মৃত্যু তার নিজের শহর সূর্যপেটকে নাড়া দিয়েছে কারণ এখানকার অধিবাসীরা কেউ তার মাওবাদী সংযোগের কথা জানত না। তারা বলছিলেন ছোটবেলায় তারা কীভাবে বিবেককে বড় হয়ে উঠতে দেখেছেন।

ভগত সিং নগরে বিবেকদের বাড়ির প্রতিবেশীরা সাংবাদিকদের বলেন, বিবেক ও তার বড় ভাই শ্রীনিবাস কৃষ্ণ শৈশবে তাদের সাথে খেলাধুলা করেছেন।

শ্রীনিবাস কৃষ্ণ হায়দ্রাবাদের একটি বেসরকারী কলেজ থেকে বি-টেক পাশ করে চাকরী খুঁজছিলেন।

বিবেক তেলেঙ্গানা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বিবেকের মা মাধবী ও বাবা যোগানন্দ চারি সহ তাদের অনেক নিকটাত্মীয় ছিলেন সরকারী স্কুলের শিক্ষক।

চারি ছিলেন নুথানকাল গ্রামের স্কুলের অংকের শিক্ষক ও তার স্ত্রী মাশবী ওয়ারাঙ্গাল জেলার কুম্মারাগুন্তলা গ্রামের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

বিবেক সূর্যপেটের কাকাতিয়া কনসেপ্ট স্কুলে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, এরপর তার মায়ের সাথে ওয়ারাঙ্গালে চলে যান।

স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, বিবেক সামাজিক শিক্ষা বিষয়ে ভাল ছিল কিন্তু তার বাবা তাকে আইআইটি তে ভর্তির জন্য কোচিং এ ভর্তি করান।

বিবেক সর্বশেষ ফেসবুকে তার স্কুলের এক বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ করে তার বন্ধুদের খোঁজ খবর জানতে চেয়েছিল।

বিবেকের পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ একজন শিক্ষক জানান, বিবেকের বাবা চারি ছোটবেলা থেকে আরএসএস (RSS) এর সাথে যুক্ত ছিলেন তবে ওসামা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াকালীন তিনি কমিউনিস্টদের সাথে কাজ করতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি Democratic Teachers Federation এর সাথে কাজ করছিলেন।

ইতোমধ্যে, চারি ও মাধবী বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাও এর সাথে হায়দ্রাবাদে সাক্ষাৎ করেন এবং জানান, বিবেক ‘দরিদ্র মানুষকে নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে’ কাজ করবে এই জেদ ধরে অক্টোবরের ৯ তারিখ বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এর এক সপ্তাহ পর সে তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায় যে সে বাড়ি ফিরে আসবে।

খাম্মামে সিপিআই (মাওবাদী) এর তেলেঙ্গানা সেক্রেটারি জগন এক বিবৃতিতে বলেন,  তেলেঙ্গানা-ছত্তিসগড় সীমান্তের কাছে লংকাপল্লী জঙ্গলে পার্টির কাজ সেরে ফেরার পথে তারা পুলিশের একতরফা গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। এতে বিবেক ও অপর দুই নারী নিহত হয়।

জগন বিবেককে একজন ‘দলম’ কমান্ডার হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিবেক গত বছর পার্টিতে যোগদান করেন। দরিদ্র জনগণকে মুক্ত করার পথ বেছে নিয়েছিল বিবেক।

এই ‘এনকাউন্টার’টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত ‘গ্রিন হান্ট’ এর তৃতীয় পর্যায়ের একটি অংশ।

সূত্রঃ

http://www.thehindu.com/news/cities/Hyderabad/suryapet-teenager-among-slain-maoists/article7313914.ece