কলকাতাঃ নকশালপন্থীদের দ্বন্দ্ব – রাজনৈতিক বিতর্কের আহবান জানিয়ে USDF এর বিবৃতি

12

সমাজ বিপ্লবের লড়াই কখনো লিঙ্গবৈষম্য এবং জাতপাত বিরোধী লড়াইকে বাদ দিয়ে হতে পারে না। সমাজ বিপ্লব ছাড়া লিঙ্গ ও জাতপাত বৈষম্য বিলোপের বাস্তব ভিত্তি তৈরি হতে পারে না। আর এই লড়াই করতে গিয়ে, বিতর্ক, সমালোচনার মধ্যে দিয়ে আমরা শিখি। প্রথমেই আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী, গণতান্ত্রিক ব্যক্তিবর্গকে যাঁরা সুশীল মান্ডি নিখোঁজ হওয়ার পর পপুলিস্ট মিসোজিনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন। অভিনন্দন জানাই যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ইউএসডিএফ কর্মীদের যারা পাবলিক ট্রায়াল এবং abduction , st-sc atrocity act সহ একাধিক ধারায় fir হওয়ার পরেও কোন রকম আপোষে না গিয়ে অভিযোগকারিণীর পক্ষে অবস্থানে অবিচল ছিল। অভিনন্দন জানাই অভি্যোগকারিণী অম্বুজা রাজকে, এই পরিস্থিতিতে যার দৃঢ় অবস্থান আগামীদিনে অন্য মেয়েদের সাহস যোগাবে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে কোনো মেয়ের পক্ষে এই ধরণের অভিযোগকে সামনে আনা সব সময়েই কঠিন, তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় ভয় দেখিয়ে বা মাথায় হাত বুলিয়ে। পিতৃতান্ত্রিক মানস কখনই চায় না যে যৌন হেনস্থা, যা কিনা কার্যত পুরুষের দশ হাজার বছরের স্বাভাবিক বিশেষ অধিকার হিসেবে চলে আসছে, তার বিরুদ্ধে নারী সোচ্চার হোক। এইবারেও দেখা গেল যে অভি্যোগকারিণী এবং তার সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলায় FIR করা হল। একদিকে অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে তাদের তরফে কোন অভিযোগ নেই এমন দাবি করা, অন্য দিকে অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধেই FIR করা, অথবা ক্ষমা চাইতে রাজি হওয়ার সাথে সাথে অভিযোগকারিণী এবং তার সমর্থনকারীর বিরুদ্ধে কুৎসা ভিক্টিম ব্লেমিং , নেম সেমিং করে র‍্যাডিকালরা যে দ্বিচারিতার পরিচয় দিয়েছে আমরা তার নিন্দা করি। একটা কথা আমরা আবারও বলতে চাই যে নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে কোনো আভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়নি এমনটা একেবারেই নয়, র‍্যডিকাল এবং ইউএসডিএফ থেকে একজন করে সদস্যা এই তদন্তের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগকারিণী, অভিযুক্ত এবং সাক্ষীদের সাথে বিস্তারিতভাবে আলোচনা চালান। র‍্যাডিকালের তরফে প্রথম দিন থেকেই ক্রমাগত ভিক্টিম ব্লেমিং এবং আইসিসির ১০০% ব্যর্থতার ফলে আমাদের কমরেডরা অধৈর্য হয়ে তাড়াহুড়োবাদের খপ্পরে পড়ে পদ্ধতিগত কিছু ভুল করেছে। এই বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আমরা চাই যে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে আনার পদ্ধতি নিয়ে গণ বিতর্ক হোক, গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলো তাদের মতামত জানাক। যা পরবর্তীকালে আন্দোলনের তাত্ত্বিক বোঝাপড়াকে সমৃদ্ধ করবে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে কার্যকরী GSCASH কেন একান্ত প্রয়োজন। আমরা মনে করিনা যে আদিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রসূত কোন চক্রান্ত করেছে আমাদের কমরেডরা যেমনটা দেখানোর চেষ্টা চলছে। বরং যে ছাত্র ছাত্রী সংগঠন গুলো ধারাবাহিক ভাবে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এবং আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে আমরা তাদের মধ্যে একটি। শ্রেণীগত বা জাতি-বর্ণগত পরিচয় যদি যৌন হেনস্থার অভিযোগ থেকে বাঁচতে ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা আন্দোলনের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। সংকীর্ণ স্বার্থে শ্রেণীগত বা জাতি-বর্ণগত পরিচয়কে লড়িয়ে দেওয়াকে আমরা তীব্র বিরোধিতা করি। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নারী অধিকারের প্রশ্নে আপোষ না করেই নকশালবাড়ির ধারায় শ্রেণীসংগ্রাম বিকশিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে তা ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে বলেই আশা করা যায়। আমরা মনে করি “খারাপ মানুষ”-রাই মলেস্ট করে ব্যাপারটা এরকম নয়। বৈষম্যমূলক সমাজে পিতৃতন্ত্র থেকে মুক্ত কেউই হতে পারে না। পিতৃতান্ত্রিক আচরণ সমাজের যে কোনো অংশে, যে কোন স্তরেই আমরা দেখতে পাই। পিতৃতন্ত্রের সমস্যা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব সমস্যা নয়, এটা একটা সামাজিক সমস্যা। খোলা মনে সমালোচনা গ্রহণ, আত্মসমালোচনা ছাড়া এর বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। অভিযুক্তকে বিচ্ছিন্ন করা কোনো প্রগতিশীল পদক্ষেপ হতে পারে না। আমরা চাই অভিযুক্ত এবং তার “বন্ধুরা” নিজেদের সমস্যাকে চিহ্নিত করুক, শুধরোক, এবং অভিযুক্ত তার এমফিল শেষ করুক এবং বাকিদের কাছে আমাদের আবেদন তাঁদের এই কাজে সাহায্য করুন। গত ২৫ তারিখ ‘র‍্যাডিকেল’রা দুই তিন দিনের মধ্যে হেবিয়াস কর্পাস করবে বলে দাবি করেছিলো, কিন্তু সবশেষে হেবিয়াস কর্পাস করার আগেই ফিরে আসার জন্য অভিযুক্তকে অভিনন্দন জানাই। ব্যক্তিগত তিক্ততা নয়, গঠনমূলক রাজনৈতিক বিতর্কের মাধ্যমে সমস্যার মোকাবিলা হোক।

সিদ্ধার্থ – সভাপতি

সৌম্য – সাধারণ সম্পাদক

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট USDF

 ০২/০৩/২০১৭