কলকাতাঃ RADICAL এর গণসংযোগ- “নকশাল বাড়ী এক হি রাস্তা”

1

 

2

3

4

5

7

Advertisements

কলকাতাঃ ১৩ই ডিসেম্বর নকশালপন্থীদের ডাকে ‘হুকুম চাঁদ চলো’

12345499_218578945139878_8447508119349985375_n

বন্ধ হয়ে যাওয়া হুকুম চাঁদ জুটমিলে সেখানকার শ্রমিকদের অবস্থা ও জুট শিল্পের সমস্যা নিয়ে তথ্যানুসন্ধানের জন্য RADICAL এর একটি টিম 6.12.15, রবিবার হালিশহর গিয়েছিল নভেম্বর বিপ্লব শতবর্ষ প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে। সকাল থেকেই তথ্যানুসন্ধান টিমকে তাঁদের কাজে বাধা দেয় পুলিশ, শ্রমিকদের সাথে কথা বলা আটকাতে তাঁদের পেছনে পেছনে ঘুরে শ্রমিকদের ও টিমকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে থাকে। তাতেও আমাদের টিম ও শ্রমিকরা বিরত না হলে তথ্যানুসন্ধান টিমকে আটক করে নৈহাটি থানার পুলিশ। প্রায় ৫ ঘন্টা নৈহাটি থানায় বসিয়ে রেখে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী, এলাকার শ্রমিক, নভেম্বর বিপ্লব শতবর্ষ প্রস্তুতি কমিটি ও RADICAL এর কর্মীরা থানায় একপ্রকার অবস্থান শুরু করার পর সন্ধ্যা ৭.৩০ নাগাদ টিমের সদস্যদের PR bond এ ছাড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। মিল বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া এখন অপরাধ নয়, অপরাধ শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো। মিলমালিক ও প্রশাসনের যোগসাজশে এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। নীরবতার অর্থ সম্মতি দেওয়া। কতটা গণতন্ত্র বিরাজ করছে সারা দেশে-রাজ্যে(ক্ষমতায় যেই রাজনৈতিক দলই থাকুক) আর তারা কতটা ভীত শ্রমিক আন্দোলনের ভয়ে তারই প্রমান পাচ্ছি আমরা আবার। আসুন আমরা হুকুম চাঁদ সহ সমস্ত কারখানা, চা বাগান, কয়লা-পাথর খাদানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রমিক আন্দোলণের নতুন রূপরেখা প্রস্তুত করি।

আগামী ১৩.১২.২০১৫, রবিবার, সকাল ১১টায় সবা হুকুম চাঁদ জুটমিল(নৈহাটি) চলুন

সূচনা হোক বিকল্প শ্রমিক আন্দোলনের, আসুন রাষ্ট্রকে জানিয়ে দিই আমরা সবাই আঘাত নেমে এলে পাল্টা আঘাত ফিরিয়ে দিতে আমরা জানি, আমরা জানি আমরা জানি জনগণ যোদ্ধা, আক্রান্তের কান্নাকে তাঁরা ঘৃণা করেন।

ছাত্র-যুব-শ্রমিক-কৃষক ঐক্য জিন্দাবাদ
ইনকিলাব জিন্দাবাদ

R A D I C A L


কলকাতাঃ হুকুমচাঁদ জুটমিলে FACT FINDING TEAM এর একটি অভিজ্ঞতা ।। জুবি সাহা

201508131618215622_Situation-of-Hukumchand-jute-mill-is-not-normal-still-now_SECVPF
কাল(৬ই ডিসেম্বর) আমরা র‍্যাডিকাল এর উদ্যোগেনভেম্বর বিপ্লব শতবর্ষ প্রস্তুতি কমিটি’র পক্ষ থেকে ৫ জন ছাত্রছাত্রী হুকুমচাঁদ জুটমিলে যাই। আমরা ছিলাম সৌম্যদীপ (রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ),বাবু (সেতু প্রকাশনীর সাথে যুক্ত), সুব্রত ও গুপী(চাঁদপাড়া, ‘হককথা’ পত্রিকার সাথে যুক্ত) আর আমি জুবি(যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়)
আমরা গিয়েছিলাম একটা fact-finding team হিসেবে। এই জুটমিলে কতজন কাজ করেন, তাদের মধ্যে কতজন পার্মানেন্ট আর কতজন ঠিকা শ্রমিক, এখানকার শ্রমিকদের মধ্যে নারী-পুরুষ শ্রমিক কতজন, তাদের বেতন আদৌ সমান কি না, কারখানার ভেতরে কাজের পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যকর, মিল বন্ধ হওয়ার পর যে আন্দোলন চলছে তাকে ওনারা কিভাবে দেখছেন, মালিকপক্ষ কি বলছে, সরকারের কি মনোভাব, এই আন্দোলনের সাথে আশেপাশে যে আরও অনেক জুটমিল আছে সেখানকার শ্রমিকদের কিরকম সম্পর্ক- এ জাতীয় নানান বিষয় আমরা শ্রমিক বন্ধুদের কাছ থেকে জানব, এমনটাই ভাবনা নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম। প্রয়োজনে যদি সম্ভব হয় মালিক বা যেকোনো union এর নেতাদের থেকেও তাদের মনোভাব আমরা জানব।
কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল একেবারে নতুন ধাঁচের। হালিশহরে নেমে অটো চেপে দুপুর ১২ টা নাগাদ হুকুমচাঁদের গেটে পৌছতেই দেখলাম যে সেখানে প্রায় ৩০-৪০ জন পুলিশ পুরো গেটটিকে ঘিরে রেখেছে। আমরা যেতেই একজন মহিলা পুলিশ আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন, “আপনারা এখানে কি করছেন?” আমরা পাল্টা জিজ্ঞেস করাতে উনি বললেন, ওনাদের কাছে বিশেষ খবর আছে, তাই এখানে দাঁড়ানো চলবে না। আমরা জানতে চাই এখানে কি ১৪৪ ধারা আছে? উত্তর আসে ‘না’, কিন্তু এখানে দাঁড়ানো চলবে ‘না’। ওখানে তখন তেমন মানুষজন ছিল না। তাই খুব বেশী বাকবিতন্ডায় না জড়িয়ে আমরা পাশেই শ্রমিক মহল্লার দিকে চলে যাই। এরপর রাস্তায় স্থানীয় কিছু ছেলেদের সাথে যেই আমরা কথা বলতে যাই, দেখি আমাদের ঠিক পেছনে (প্রায় ঘাড়ের ওপর) একটা বড় গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১৪-১৫ জন পুলিশ, র্যা ফ সমেত। এদের মধ্যে ৪ জন ক্যামেরা দিয়ে আমাদের ভিডিও করছে। আমরা জিজ্ঞেস করি, এটা কি করছেন? কিন্তু ওদের মুখে কুলুপ আঁটা। যে ছেলেরা আমাদের সাথে কথা বলছিল তারা ভয়ে চুপ করে যায়। এরপর হাঁটতে হাঁটতে আমরা এক বাড়িতে ঢুকি। ঐ পরিবারটি হুকুমচাঁদের সাথেই যুক্ত। ওনারা আমাদের সাথে কথা বলতে রাজি হন। কিন্তু নিমেষে দেখি, বাড়ির দরজায় পুলিশ ক্যামেরা আর লাঠি হাতে ঘিরে ধরেছে। আমাদের এবং ঐ পরিবারের পুরো ভিডিও হচ্ছে। এবার আমরা ওদের পরিস্কারভাবে বলি এটা কি করছেন আপনারা? কেন করছেন? আপনাদের মধ্যে কে কথা বলবেন? কিন্তু আগের মতই নিরুত্তর। শুধুমাত্র আমদের সমস্ত চলাফেরা রেকর্ড হতে থাকে। আমরা বুঝতে পারি, এভাবে যে কাজে আমরা এসেছি, সেটা আজ আর করা সম্ভব নয়। কারণ এভাবে কেউ ভয়ে মুখই খুলতে চাইবে না। সিদ্ধান্ত নেই, আমরা এই মুহূর্তেই বাইরের বন্ধুদের, APDR, MEDIA সহ সমস্ত জায়গায় জানাবো এটা। একটা চায়ের দোকানে বসে ফোন করতে শুরু করি। সেটাও অবশ্য ক্যামেরাবন্দী অবস্থাতেই!
ইতিমধ্যে প্রথমে আমরা যে ছেলেদের সাথে কথা বলেছিলাম, তাদেরই মধ্যে একজন আমাদের কাছে এসে বলে, তোমাদের ওরা তুলবে। তোমরা চায়ের পয়সা দিও না। আমরা দেবো। আমরা বুঝতে পেরেছি, তোমরা ক্রান্তিকারী। এই অল্প সময়ে এটা আমাদের কাছে সত্যিই বড় পাওনা এবং উনি এটা আশেপাশের সবাইকে বলতে থাকেন। উনিও ক্যামেরার আওতাতেই ছিলেন!
পুলিশ চেয়েছিলো এলাকায় একটা মারাত্মক আতঙ্ক তৈরি করে কথাবার্তার সমস্ত পথ বন্ধ করতে আর এই খবরটা যাতে বাইরে না ছড়ায়, সেই ব্যবস্থা করতে। কিন্তু যখন দেখে তা হচ্ছে না, ওখানকার মানুষেরাও জানছেন আর এদিকে বাইরেও এটা সবাই জানছে, তখন ওরা সিদ্ধান্ত নেয় আমাদের তোলার, নিমেষে বড় বড় ৩টে গাড়ি ঢোকে, সঙ্গে প্রচুর force এবং বড়বাবু। গাড়ি থেকে পুরো DABANG এর কায়দায় বড়বাবু নেমে বললেন,“১ মিনিটের মধ্যে এখান থেকে বেড়িয়ে যা!” আমরা যখন বলি ‘কেন?’, উত্তর আসে ‘তোল সবকটাকে।’ শুরু হয় ঘুষি, লাথি, মার। তোলে গাড়িতে। থানায় নেমেই আমদের সবার ফোন, ব্যাগ কেড়ে নেয়। তারপর চলতে থাকে দফায় দফায় জেরা, ছবি তোলা আর Address বলা। প্রত্যেককে প্রায় ৩-৪বার করে জেরা করেছে ACP, STF, SPECIAL BRANCH এর অফিসার। জেরার সময় আমার ফোনের মেসেজ পুলিশ নিজের ফোনে আমকে দেখাচ্ছে। বুঝলাম ফোনের সবকিছু ওদের আওতায়। এরপর শুরু হয় প্রত্যেকের বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি। সৌম্যদীপের পাড়ায় তো পুলিশ ওকে ISIS এর চর বলে রটিয়ে দিয়েছে। কারণ ওর মুখে হাল্কা দাড়ি আর ও হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। ইতিমধ্যে বাইরে আমাদের অনেক বন্ধু অপেক্ষা করছিলো। তাদের এবং আমাদের প্রতিনিয়ত চাপের মুখে আমরা রাত ৮.৩০টায় মুক্তি পাই।
এই শ্রেণীবৈষম্যে ভরা সমাজের যে প্রান্তে আমরা থাকি তার উল্টো দিকের চেহারাটাকে আমরা জানতে গিয়েছিলাম, মেলাতে চেয়েছিলাম এই দুই প্রান্তকে। শ্রমিক-কৃষক-ছাত্রের যে ঐক্যের কথা আমরা মুখে বলি, তাকে বাস্তবায়িত করতে। আর এই ঐক্যকে যে রাষ্ট্রব্যবস্থা কতটা ভয় পায়, তা খুব ভালোভাবে আরও একবার টের পেলাম। তাই সেই ঐক্য গঠনের ন্যূন থেকে ন্যূনতম সম্ভাবনাকে সে গোড়াতেই মেরে ফেলতে চায়। কিন্তু পারবে কি? আমাদের চ্যালেঞ্জ এখন একটাই হওয়া উচিত যে সে ঐক্য আমরা গড়বোই। গণতন্ত্রের যে রিসার্ভ ফরেস্টে আমরা থাকি সেখান থেকে বেরিয়ে সেই সমস্ত জায়গায় আমরা যাবো যেখানে গণতন্ত্রের ‘গ’ নেই। ইতিমধ্যে অনেকেই হুকুমচাঁদে গেছেন, তাদের সবার কাছে আবেদন রইল চলুন আবার আমরা সবাইমিলে একসাথে আগামী ১৩ তারিখ হুকুমচাঁদে যাই। আর রাষ্ট্রের চোখরাঙ্গানির মুখে থুতু ছিটিয়ে বলে আসি
শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব ঐক্য জিন্দাবাদ।’

কোলকাতার নকশালপন্থী সংগঠন RADICAL -এর বক্তব্য

11230738_724701604330594_7423805322591780187_o

R A D I C A L

কিছু কথা , কিছু ভাবনা , কিছু প্রশ্ন

()

গুলি না । পাথর ছুঁড়ত ওরা একদিন । প্রাক-ইতিহাসের সেই ঊষাকালে । গুহাচিত্রের দিনগুলোয় । জাদুবিদ্যা জায়গা করে নিয়েছিল । লোক সংস্কৃতিতে । তার বুনোট-বুনোনের মধ্যে মিশে থাকত । মানুষের বাঁচার লড়াই । আর উদ্ভট কল্পনা । ওতপ্রোতভাবে । তারপরে । যুগান্তরের মোড়ের মাথায় । বুনোট খুলে বেড়িয়ে এলো । জাদুবিদ্যার দুই সন্তান । আলাদা পথের পথিক হল । জন্ম নিল । একদিকে বিজ্ঞান । ভেল্কি থেকে ভেষজ । অ্যালকেমি থেকে কেমিস্ট্রি । অন্যদিকে ধর্ম । প্রকৃতি পূজো । ঈশ্বর পূজো । পর পর । বাংলার রাজনীতির ইতিহাস । অনেকটা সেরকমই । কংগ্রেস বিরোধী রাজনীতি বলতে ছিল কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি । তার মধ্যে মিলেমিশে ছিল সংগ্রাম আর শোধনবাদ । আমে-দুধে মতো । এক সময়ে তারা আলাদা হল । জন্ম হল রাজনীতির দু-দুটো নতুন উপাদান । অকংগ্রেসী সরকার আর বিপ্লবী রাজনীতি । দুটোই ছিল সেদিন । নতুন আর কাঁচা । শেষ পর্যন্ত তাই টেঁকসই হতে সময় নিল দুটোই । ‘ওভার কারেকশন’ আর ‘আন্ডার কারেকশন’-এর মধ্যে দিয়ে । যুক্তফ্রন্ট থেকে বামফ্রন্ট । বামফ্রন্ট সরকারের তেত্রিশ বছর আর জোয়ারের পারে ভাটির টান । ক্ষুদে পাতি গণ্ডির ভেতরে গ্রুপ সম্রাটদের অন্তহীন মুষ্টিযুদ্ধ পেরিয়ে বাংলার বুকে বিপ্লবী সংগ্রামের নতুন উজ্জীবন । এ ছিল পরের ধাপের ইতিহাস । আর একটা মোড়ের মাথায় আমরা আজ । অকংগ্রেসী সরকার আর অকংগ্রেসী রাজনীতির মেটামরফোসিস । হাত কংগ্রেসের জায়গায় ঘাস কংগ্রেস । আর বামের জায়গায় রাম । আর কারাগারকে সাক্ষী রেখে । উদ্যোগ আর নিরুদ্যোগের দোলাচলে । সম্ভাবনা আর সংকটের রসায়নে । অকংগ্রেসী সরকার । তার রাজনীতি । তার বিবর্তন । তার ভবিষ্যতের রূপরেখা । তার সঞ্চারপথ । এটারও চর্চা দরকার । গভীর ভাবেই । কিন্তু আজকের চর্চার জন্য আমরা বেছে নেবো বিপ্লবী রাজনীতি । তার উজ্জীবন । তার সংকট । এ নিয়ে কিছু কথা । মোটা দাগে । গোদা ভাবেই । কিছু ভাবনা । কিছু প্রশ্ন ।

()

বাংলার বিপ্লবী আন্দোলন জায়গা করে নিল বাংলার বাইরে । আর বাংলায় শুরু হল পাতি গোষ্ঠীগুলোর ভূতের নাচ । দশকের পর দশক । ঐক্যের আলোচনা আর ভাঙন । চুলে পাক ধরল কুশীলবদের । আসলে বিপ্লবী আন্দোলন চলতির সঙ্গে ফিট করে নেবার কর্মসূচী । সেটাই ছিল রোজনামচা । আর বারোমাস্যা । ৭০-এর সেট ব্যাকের ভূত ঘাড়ে চেপে বসেছিল একেবারে আসন গেঁড়ে । সবই ভারসাম্যের সূত্রে বাঁধা আন্দোলন । ভারসাম্যের দুষ্টচক্রের ভুলভুলাইয়ায় ফেঁসে যাওয়া আন্দোলন । থোড়-মানে-খাঁড়া । প্রভাবের খুব ছোট ছোট বলয়কে ধরে রাখার জন্যে । ব্যস ।

ভূতের বোঝা ঘাড়ে , তিন কিল দিলে ছাড়ে ।

দরকার ছিল ভারসাম্যের বৃত্ত উপচে পড়া আন্দোলনের কিল । যাকে বলা যায় আন্দোলনের অভিঘাত । ভারসাম্যের সীমানা না পেরিয়েই সবাই চাইছিল ঐক্য । চাইছিল সংগঠনকে বড় করতে । আর সংগঠন ছোট হচ্ছিল দিনকে দিন ।

যতো ভাবি করি করি হওয়া তো হয় না । এই ছিল সংকট ।

()

বিপ্লবী আন্দোলন কি ? বিপ্লবী আন্দোলন মানে জনতার উত্থান । জল-জঙ্গল-জমি-জনপদের জন্য জনতার জাগরণ । যে উত্থান ভারসাম্যকে খান খান করে দেয় । যে উত্থান ধনী মানি বালির সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেয় । যে উত্থান সমস্ত সীমারেখাকে মুছে দেয় । যে উত্থান জনতাকেই নায়কের আসনে বসায় । চীনের ৪ঠা মে-র আন্দোলন । হুনান কৃষক আন্দোলন । ইংরেজ আমলের কৃষক বিদ্রোহগুলো । তেলেঙ্গানা , তেভাগা , গোর্খাল্যান্ড জাগরণ । হালের নন্দীগ্রাম , লালগড় । সবাই ছিল জাগরণের মহাকাব্য । জনতার উত্থান । তার চমক । তার অভিঘাত । তার প্রেক্ষিত । তার প্রতিক্রিয়া । মাটির বুকে ফাটল ধরিয়ে তার অনুরণন ।

এদের মধ্যে তফাৎ বিস্তর । আদর্শের ফারাক দেদার । এদের নেতৃত্বও এক না । এদের পরিণতিও আলাগ । তবু তারা ভারসাম্যের গণ্ডি ছাপিয়ে জাদা , জনগণের উত্থান । বিপ্লবী আন্দোলন মানে ভারসাম্যের গণ্ডি ছাপিয়ে যাওয়া আন্দোলন । মুখ্য ধারার গড়পড়তা আন্দোলন না । তার জাত আলাদা । তার পরিচয় করাতে হয় না । সে নিজেই তার পরিচয়কে সোচ্চার করে । রুশ পথ । চীনা পথ । অভ্যুত্থান । দীর্ঘস্থায়ী জনযুদ্ধ । যাই হোক , বিপ্লবী আন্দোলনের সাধারণ দিশাই হল গড়পড়তা আন্দোলন না । গতানুগতিক চলতি পথের পথিক হয়ে না । লক্ষণরেখা ছাড়িয়ে যাওয়া । এ দিশাকেই স্তালিন বলেছিলেন , রুশিয়ার বিপ্লবী গতিবেগ । মাও বলেছিলেন , দশের বিরুদ্ধে এক । আগ্রাসী এ মানসিকতাকে মানুষের মধ্যে জাগানো , এটাই অবস্থান বিপ্লবীর । যে অবস্থান অনূদিত হয় জাগরণের ভাষায় । উত্থানের ভাষায় । আন্দোলনের ভাষায় । বিপ্লবী আন্দোলনের নতুন উজ্জীবন বঙ্গদেশে আমরা দেখতে পেলাম নতুন শতাব্দীতে । আড়েবহরে তা গোপীবল্লভপুরের চেয়ে অনেক বড় । তার অভিঘাত অনেক গভীর । ভারসাম্যের আর উজ্জীবন তাদের মুখে থাপ্পড় মারল ।

()

আসল কথা চলতি রোজনামচার জীবন থেকে বিপ্লবী আন্দোলনের বাস্তবতার ফারাক বড় বেশি । এতটাই বেশি যে তাকে স্বপ্ন মনে হয় । মনে হয় দূরেরই জিনিস । রোজকার জীবনের থেকে তার ফারাক দেখা দেয় বড় করে । মনে হয় কোন আকস্মিক ঘটনা । মনে হয় কোন অলৌকিক বলে । মনে হয় কোন ব্যতিক্রমের মতো । যার আবির্ভাব হয় বিশেষ ঘটনাচক্রে বহু যুগের পরে পরে । রোজনামচায় আটকে থাকে যে চোখ , সে চোখে তাই মনে হয় । আর পা যদি থাকে রোজনামচার মাটিতে কিন্তু ভবিষ্যতের দিগন্তে যদি থাকে দৃষ্টি , আজকের মাটিতে যার পা কালকের আকাশে যার চোখ , তার কাছে স্বপ্ন আর বাস্তবের ফারাক না , ধরে পড়ে শুধু মিল । বাস্তব থেকে শুরু করে স্বপ্নে পৌঁছোবার সেতু তার কাছে ধরা দেয় ।

মতাদর্শ যদি হয় ভারসাম্যকে ছাপিয়ে যাবার মতাদর্শ । রাজনীতি যদি হয় জনতার উত্থানের রাজনীতি । সংগঠনের তবে কাজ হবে গন্তব্যের সে ঠিকানা , সে ঠিকানায় যাবার পথ । সে পথকে ছোট ছোট বহু অংশে ভেঙে নেওয়া । এক পা এক পা করে সে পথে চলার সংস্কৃতি চালু করা । ভারসাম্যকে ছাপিয়ে যাওয়া শুরু করা । এরকমই অনেক ছোট ছোট লাফ দিতে দিতে , জনতাকে রপ্ত হবার সময় করে দিতে দিতে , একদিন বাঁধ ভেঙে , বড় মাপে , মানুষ গড়ে ইতিহাস । তাকিয়ে দেখে তার নিজের সৃষ্টিকে , ড্যাব ড্যাব করা চোখে , কান এঁটো করা হাসিতে , সৃষ্টিসুখের উল্লাসে । তাই তেরো বছর ধরে ছোট ছোট মাপে ভারসাম্যকে ছাপিয়ে যেতে যেতে একদিন রাঢ়ের মানুষ নামলো বড় মাপে । এর চমক আর আন্দোলনের পেছনে পড়ে ১৩টা বছরের লম্বা ইতিহাস । ১৩ বছর পরে খাসজঙ্গলে হুলসাইয়ের মেলা । আসলে কি গ্রাম কি শহর , বিপ্লবী আন্দোলনের রাজনীতি মানে । কারণ বিপ্লবী রাজনীতিকে সোচ্চার করা যায় শুধু আন্দোলনের ভাষাতেই । এ পথেই তাকে তুলে ধরা যায় লক্ষ জনের মনে । জাগানো যায় তার আবেদন । পাঠানো যায় তার বার্তা । একেকটা আন্দোলন , ভারসাম্য ছাপিয়ে যাবার আন্দোলন হয়ে ওঠে একেকটা মাইলস্টোন । জনতার চলার পথে , জনজীবনের চলতা ধারায় , এক আন্দোলন থেকে আরেক আন্দোলনে উত্তরণের সোপান বেয়ে এগিয়ে চলে জনতার ইতিহাস । জনতার সংগ্রামের ইতিহাস । এটাই হল গণ লাইন । আর এখানে এসেই সময় থমকে দাঁড়ায় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ।

()

সত্যিই কি ? আন্দোলনই কি শেষ কথা বলে ?? আন্দোলনই কি সবকিছু ??? আন্দোলনই কি আপনাতে আপনি সম্পূর্ণ ???? Think in Itself –এর মতো কিছু ????? আন্দোলন মানে কি ? আন্দোলন মানে শ্রেণীসংগ্রাম । এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক সেই বার্তা । শিক্ষকদের ঐতিহাসিক সেই ঘোষণা । শুধু শ্রেণীসংগ্রামকে স্বীকার করলেই সে মার্কসবাদী না । সর্বহারা একনায়কত্বকে যে স্বীকার করে , সেই মার্কসবাদী ।

সর্বহারার একনায়কত্ব কি ? সর্বহারা একনায়কত্বের ধারণা মানে বিকল্পের ধারণা । আর বিকল্প মানে রাজনীতি । মানুষকে দেবার মতো একটা বলিষ্ঠ রাজনীতি । শ্রেণী লাইন । বিকল্পের ধারণা মানে কি ? প্রত্যেক সংগঠনেরই থাকে তার তার মতো করে বিকল্পের ধারণা । থাকে তার তার নিজস্ব রাজনীতি । যে রাজনীতিতে সে মানুষকে প্রভাবিত করতে চায় । যে বিকল্পের স্বপ্ন সে মানুষকে দেখাতে চায় ।

মোদ্দা দুটো বিকল্পই হতে পারে । সংসদীয় বিকল্প আর বিপ্লবী বিকল্প । কিন্তু প্রত্যেকটা সংসদীয় দলেরও থাকে সংসদীয় রাজনীতিতে তার তার নিজস্ব ধরণ । সংসদীয় রাজনীতি মানেই , মুখ আর মুখোশের তফাৎ । নবান্নের আর ব্রিগেডে আলাদা রূপ । নবান্নের রূপটা সবারই প্রায় এক । কিন্তু ব্রিগেডের রূপটা আলাদা আলাদা । কারও মেহনতি মানুষের রূপ । কারও মা মাটি মানুষের রূপ । কারও বা গেরুয়া ত্রিশূলে , নোটের মালায় সাধু সাধ্বীর ভিড়ে এক জগাখিচুড়ি রূপ । গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল ডেমোক্রেসির দুই রণকৌশলে লেনিন বলেছিলেন : বিপ্লব নিশ্চয়ই আমাদের সবাইকেই শিক্ষা দেবে । কিন্তু প্রশ্ন হল , আমরা বিপ্লবকে কিছু শিক্ষা দিতে পারবো কিনা । বিপ্লবকে আমরা আমাদের রাজনীতি দিয়ে প্রভাবিত করতে পারবো কিনা । বিপ্লবের ওপরে আমাদের ছাপ আমরা ফেলতে পারবো কিনা । তাই গণ উত্থান আর রাজনীতি , গণ লাইন আর শ্রেণী লাইন একই মুদ্রার দু’পিঠ । অচ্ছেদ্য ভাবে যুক্ত । তবু তারা আলাদা । দুটো মেরু ।

গণ উত্থানের চলার পথে দেখা দেয় আরও দুটো মেরু । বিকল্পের দু’দুটো ধারণা । যুগপৎ সংসদীয় বিকল্প আর বিপ্লবী বিকল্পের ধারণা । তারা যদিও একেবারে আলাদা , তবু তারা দেখা দেয় একই সাথে । পরস্পরের মহলে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয় । পরস্পরের কাছে নিজেদের সোচ্চার করে । পরস্পরকে ব্যবহার করে নেবার সুযোগ খোঁজে । গণ লাইন আর শ্রেণী লাইন , জাগরণ আর বিকল্প , সঙ্গে থেকেও যারা আলাদা । আর সংসদীয় আর বিপ্লবী বিকল্পের রাজনীতি , আলাদা হয়েও যারা দেখা দেয় একসঙ্গে । এই সবকিছু মিলিয়ে আন্দোলনের সামনে তৈরি হয় জটিল এক পরিস্থিতি । জটিল যখন যুগ । জনতা যেখানে জাগার । তাই যেকোনো বিপ্লবী জাগরণের সামনেই , সংসদীয় বিকল্প সামনে আসে সমান তালে । আর তখনই দরকার হয় শ্রেণী লাইন । রাজনীতি । বিপ্লবী বিকল্প । রাজনৈতিক মেরুকরণ । বিভাজন রেখা ।

()

সংসদীয় বিকল্প মানে স্রোতে গা ভাসানো বিকল্প । সংসদীয় বিকল্প গণ উত্থানের সম্ভাবনাকে বাধা দেয় । জনতাকে বেঁধে রাখে ভারসাম্যের গণ্ডিতে । সংসদীয় বিকল্প গণ উত্থানকে আবার ফিরিয়েও আনে ভারসাম্যের গণ্ডিতে । যেমন ঝাড়খণ্ড আর গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে । সংসদীয় বিকল্পে একটা জোরের জায়গা আছে । স্বতঃস্ফূর্ততার জোর । চলতির জোর । চলমানতার জোর । ঐতিহ্যের জোর । জায়গা জুড়ে বসে থাকার জোর । অভ্যাসের জোর । যেটা আছে যেটা চলছে , যেটাকেই লোক দেখতে অভ্যস্ত । চোখ পচে গেছে যেটাকে দেখে দেখে । তাই সংসদীয় বিকল্প বারেবারে উদয় হয় । নতুন করে উদয় হয় । স্বতঃস্ফূর্তভাবেই উদয় হয় । ষাটের দশকে সিপিআই-এর স্লোগান ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে ফ্রন্ট । সিপিএম-এর স্লোগান ছিল , কংগ্রেসী কুশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম । কংগ্রেসের সঙ্গে ফ্রন্ট , মানে শ্রেণী সমঝোতার রাজনীতি । কংগ্রেসের সঙ্গে সংগ্রাম , মানে শ্রেণী সংগ্রামের রাজনীতি । কারণ সেদিন কংগ্রেস মানেই সরকার । সরকার মানেই কংগ্রেস । কংগ্রেসী কুশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম , কিন্তু বিকল্প কি ? অকংগ্রেসী সরকার ? নাকি বিপ্লবী আন্দোলন ? এ প্রশ্নে সেদিন মেরুকরণ তৈরি হয়নি । তাই ৬৬তে দক্ষিণবঙ্গে খাদ্য আন্দোলনের জাগরণ । ৬৭তে কংগ্রেসী শাসনের বিরুদ্ধে জাগরণ । তাতে আন্দোলন ছিল , বিপ্লবী বিকল্প ছিল না । গণ লাইন ছিল , শ্রেণী লাইন ছিল না । তাই তার পরিণতি হয়েছিল যুক্তফ্রন্ট সরকার ।

তবুও মেরুকরণকে আটকানো যায়নি । যখন যুক্তফ্রন্ট সরকার আর বিপ্লবী বিকল্পের রাজনীতি মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো দুই শ্রেণী রাজনীতির প্রতীক হয়ে । কংগ্রেসী কুশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দু’দুটো রূপ হয়ে । দুই শ্রেণী লাইন হয়ে । একই সঙ্গে । পাশাপাশি । যুগপৎ যুক্তফ্রন্ট সরকার আর নকশালবাড়ি কৃষক আন্দোলন হয়ে । কংগ্রেসী কুশাসনের দুটো বিকল্প হয়ে । সংসদীয় বিকল্প আর বিপ্লবী হয়ে । এটাই ইতিহাস । নয় খুব প্রাচীন ইতিহাস ।

()

সেকালেও যা , একালেও তাই । সামাজিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে , হার্মাদ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে , দেখা গেল আন্দোলনের দুটো রূপ । দুটো বিকল্প ।

মা-মাটি-মানুষের সরকার আর জঙ্গলমহল আন্দোলন । গত বিধানসভা নির্বাচনে দুটো বিকল্প ছিল পাশাপাশি ।

মা-মাটি-মানুষের পক্ষে ভোট আর ভোট বয়কট । দুই পরিণতি ছিল । দুই রাজনীতির পরিণতি । দুই বিকল্পের রাজনীতির পরিণতি । হার্মাদ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দুটো ফ্রন্ট । একেবারে আলাদা । বিভাজিত । কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে ছবিটা গেল পাল্টে । জঙ্গলমহল আন্দোলনে আমরা একটা অন্য বিভাজন দেখতে পেলাম । তৃণমূলীকে ভোট না বিপ্লবীকে ভোট । বিভাজনটাও স্পষ্ট ছিল না বিধানসভা ভোটের আগে । তৃণমূলের মিটিং-এ লোক এনে লোক ভরাতে দেখলাম আমরা । সে অগণিত লোক কাদের ? তারা আর যাই হোক তৃণমূলের লোক ছিল না । বিধানসভা ভোটে তৃনমূলে ভোট না বিপ্লবীকে ভোট । এ বিভাজনও স্পষ্ট ছিল না । বিভাজনটা ছিল শুধু জঙ্গলমহল আন্দোলনের মধ্যে । আসলে তারাই বিভাজিত হয়ে গেছিল । তৃনমূলকে ভোট না বিপ্লবীকে ভোট , এ প্রশ্নে । বাকি সব জায়গায় তৃণমূলকে ভোট , একটা জায়গায় বিপ্লবীকে ভোট , এটাও হয়নি । সত্যি সত্যি আন্দোলন বিভাজিত হয়ে গেছিল এ প্রশ্নে । বিভাজনের এ ভগ্নদশা কেন ? ভোট না সংগ্রামে বিভাজন ছিল বিধানসভা ভোটে । কাকে ভোট , এ বিভাজন ছিল । ভোট রঙ্গমঞ্চে না , আন্দোলনেরই সারির মধ্যে । কেন এ হতদ্দশা । লোকসভা ভোটে বিপ্লবকে শিক্ষা দেবার অধিকার ধরে রাখতে পেরেছিল যারা , বিধানসভা ভোটে তারা হারিয়েছিল সে অধিকার । পরিস্থিতিকে চালাতে পারেনি তারা । পরিস্থিতি তখন তাদের তাড়িয়ে নিয়ে চলেছিল । শুধু পরিস্থিতির তাড়া খেয়ে চলাই না । তাই থেকেও আরও দূরে সরে যেতে হয়েছিল । গাছে চড়ে নিজের হাতে গাছের ডাল কাটতে হচ্ছিলো তখন তাদের ।

বিপক্ষকে নিজের হাতেই শক্তি জোগাতে হচ্ছিলো , যাতে অচিরেই শত্রু তাদেরকে ছিন্নমূল করতে পারে । এ ছিল নিজের পায়ে কুড়ুল মারা । এ ছিল বিপ্লবকে শিক্ষা দেবার অধিকার ছেড়ে দেওয়া । বিপ্লবকে শিক্ষা দেবার অধিকার তুলে দেওয়া শত্রুর হাতে । বিপ্লবের সামনে সংসদীয় বিকল্পকে তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া । বিপ্লবকে সংসদীয় বিকল্প দিয়ে প্রতারিত করার দরজা খুলে দেওয়া । গণজাগরণের সামনে সংসদীয় খোয়াবের বেনোজল ঢোকার ফ্লাডগেট হাট করে দেওয়া । গণ লাইন আর শ্রেণী লাইনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো । বিপ্লবী উত্থান আর সংসদীয় বিকল্পের মেলবন্ধন ঘটানো । অপ্রাকৃতিক বিচ্ছেদ আর অপ্রাকৃতিক মেলবন্ধন । প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে । যেমন তেমন করে ।  খামখেয়ালে । শিবঠাকুরের আপন দেশের নিয়মে । তুঘলকি কর্মকাণ্ডে । দর্শনে একে বলে এক্লেক্টিসিজম (Eclecticism ) । মতাদর্শের ভাষায় একে বলে নতিস্বীকার । আত্মসমর্পণ । রাজনীতিতে একে বলে রাজনৈতিক উদ্যোগ হারিয়ে ফেলা ।

()

কেন এমন হয় ? বারবার ?? জাগরণ আর উত্থান কেন পরিণতি পায় অপ্রাকৃতিক বিচ্ছেদে , আর অপ্রাকৃতিক মেলবন্ধনে ? কেন জাগরণ আর উত্থান বেদখল হয়ে যায় ? সাময়িকভাবে ? কেন নিজের হাতে শক্তি জুগিয়ে দিতে হয় বিপক্ষের রাজনীতিকে ? কেন সরে যেতে হয় ? শ্রেণী লাইন থেকে ? কেন নিজের হাতে কুড়ুল মারতে হয় ? নিজেরই পায়ে ? সেখানে আর একটা মেরুকরণ আছে । সংগ্রাম আর প্রতিযোগিতার মেরুকরণ । শাসনের সাথে সংগ্রাম আর বিকল্পের জন্য প্রতিযোগিতা । শাসনের সাথে সংগ্রাম কোন লক্ষ্যে ? জনগণকে শাসন করার জন্যে ? না জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে ? এই হল দুই বিকল্প । শ্রেণী সংগ্রামের দুই বিকল্প । দুই বিকল্পের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা । শাসনবিরোধী সংগ্রামকে দখলের জন্যে প্রতিযোগিতা । গণজাগরণ আর গণ উত্থানকে দখলের জন্যে প্রতিযোগিতা । বিপ্লবকে শিক্ষা দেবার প্রতিযোগিতা । বিপ্লবের উপরে রাজনৈতিক ছাপ ফেলার প্রতিযোগিতা । প্রতিযোগিতার এই দৌড় । দমের এই লড়াই । লড়াই ছেড়ে দিতে হয় কেন ? কেন অন্যের রাজনীতিকে শক্তি জুগিয়ে দিতে বাধ্য হতে হয় ? কেন অন্যের হাতে মৃত্যুবাণ তুলে দিতে বাধ্য হতে হয় ? কেন নিজের পায়ে কুড়ুল মারতে বাধ্য হতে হয় ? কেন বারেবারে পড়তে হয় ভুলের ভুলভুলাইয়ায় ? দেখে শেখা আর ঠেকে শেখা কাজ করে না কেন ? কেন তিন জায়গায় গু লাগে আহাম্মকের ? গভীর কারণ আছে তার । যখন পরিস্থিতির ঘেরার মধ্যে পড়ে যেতে হয় , প্রত্যেকটা কাজের ফল যখন হয় উল্টো , তখনই পালের হাওয়া কেড়ে নেয় অন্যে । পরিবেশ পরিস্থিতির প্রতিকূলতা যখন ঘিরে ফেলতে থাকে ক্রমশ । যখন মাথা কাজ করে না । যখন উদ্যোগ হাট থেকে বেড়িয়ে যায় । যখন চলতে হয় পরিস্থিতির ঠোক্কর খেয়ে । পরিস্থিতির হাতে খেলতে হয় যখন । পরিস্থিতির তাড়া খেয়ে চলতে গিয়ে যখন নিজের হাতেই রচনা হয়ে যায় নিজের ফাঁস । চরম সে উদ্যোগহীন অবস্থায় নিজেদেরই কর্মকাণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না নিজেদের । নিয়ন্ত্রণ থাকে পরিস্থিতির । তখনই নিজের পায়ে কুড়ুল মারে মানুষ । মারতে বাধ্য হয় ।

ব্যক্তি মানুষের ক্ষেত্রে যা সত্যি , বিপ্লবী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তা সত্যি । লোকসভা নির্বাচনের সময়ে উদ্যোগ ছিল বিপ্লবী আন্দোলনের হাতে । বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে হাত থেকে পিছলে গেছিল সে উদ্যোগ ।

()

বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে যে অবস্থা ছিল , ভোটের পরে তা চলল পরিণতির পথে । হাত থেকে উদ্যোগ বেড়িয়ে যাওয়া । নিজের হাতে অন্যের হাত শক্ত করা , নিজের পায়ে কুড়ুল মারা । এবার সবটাই চলল পেকে ওঠার দিকে । রিভিউ কমিটি ছিল একটা সরকারী ভুলভুলাইয়া । অধিকার আন্দোলনের সামনে একটা ভুলভুলাইয়া । বিপ্লবী আন্দোলনের সামনেও রাখা একটা ভুলভুলাইয়া । ফলে অধিকার আন্দোলনের সামনে দুটো সম্ভাবনা দেখা দিল । সরকারী ভুলভুলাইয়ায় সবাইকে নিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া । অধিকার আন্দোলনকে সরকারী বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় আটকে ফেলা অথবা সরকারী বিভ্রান্তির জালকে উদ্ঘাটিত করা । পরিস্থিতি থেকে নির্ঝঞ্ঝাটে সরে যাবার সুযোগ যাতে কেউ না পায় , অধিকার আন্দোলনকে জোরদার করাটা তখন নির্ভর করছিল । নির্ভর করছিল সরকারী বিভ্রান্তির জালটাকে টেনে ছিঁড়তে পারার ওপরেই । কিন্তু সেসময়ে আর একটা মধ্যপন্থী ঝোঁক দেখা গেল । অধিকার আন্দোলনে সবাইকে একসাথে নিয়ে চলার ঝোঁক । সরকারী বেসরকারী সবাইকেই । যখন সরকারী আর বেসরকারী এসে দাঁড়িয়েছে মুখোমুখি । দুটো চলেছে দু’দিকে । তখন সবাইকেই একসাথে নিয়ে চলার নিদান । এটা আসলে ছিল । গাছেরও খাবো তলারও কুড়োবো মার্কা স্বপ্ন দেখা । এটা ছিল সরকারী বেসরকারী দুই জায়গাতেই ডিম রাখার কৌশল । কিন্তু পুরোপুরি ভুল আর আত্মঘাতি কৌশল । আজকে এ ব্যাপারে বিভ্রান্তির আর অবকাশ নেই । রিভিউ কমিটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে । মৃত্যু হয়েছে দু জায়গায় ডিম রাখার কৌশলের । কিন্তু সেই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে শক্তিশালী অধিকার আন্দোলন গড়ে তোলার এক স্বপ্নের । কিন্তু রিভিউ কমিটি তার অল্প দিনের জীবনে “কাজ” করে গেছে । বিপ্লবী আন্দোলনের সারি থেকে সরকারী পক্ষে জব্বর ডিগবাজি আর তিক্রমবাজী দেখতে পাওয়া গেছে দেদার । এর পরের ধাপটা আরও চতুর । সরকারের সঙ্গে আলোচনার টোপ । আর সে টোপ ফেলা হল অধিকার আন্দোলনের সরকারী গোষ্ঠীতে আলো করে থাকা লোকজনকে সামনে রেখে । দলত্যাগ আর দলত্যাগীর ওপরে ভরসা । সরকারী দূত হয়ে জায়গা বদলেছে যে , তাকেই বেছে নেওয়া সরকারের কাছে বার্তা পাঠাতে । যাকে আসলে সরকার নিজেই বেছে নিয়েছে , আন্দোলনের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবার জন্যে । সরকার কি বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছিল ? বিভ্রান্তির বার্তা । পশ্চিমে এগোনোর সময়ে পূবের দিকে পা ফেলার বার্তা । এ পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল , পূবের দিকে চলতে রাজি হবার বার্তা । সরকার যা চাইছিল , সেই বার্তা গেল সরকারের কাছে । সরকারের হাতে খেলা হল । যখন সরকার নিজে চাইছিল অন্য পথে । একেই বলে – যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই / যাহা পাই তাহা চাই না ।

(১০)

ব্যাপারটা দাঁড়ালো এরকম , পাড়া গ্রামে দুটো শিয়াল মিলে যেভাবে ছাগল ধরে । একটা শিয়াল ছাগলের দড়ির একটা মাথা কামড়ে ধরে ছুটতে থাকে । আর একটা শিয়াল ছাগলের পায়ে কামড়ে থাকে । কামড় খেয়ে ছাগল ছুটতে থাকে , যেদিকে দড়ির টান সেদিকেই , গ্রাম আর লোকালয় থেকে দূরের দিকে । ছাগল বাঁচার জন্য ছোটে মরণের দিকে । বাঁচার জন্যে ছুটছে বলে ভেবে , ছোটে মরণের দিকে ।

উদ্যোগ হাত থেকে বেড়িয়ে গেলে এরকমই হয় । উদ্যোগ হারিয়ে ফেলা অবস্থা । তাই গ্রাম্য প্রবচনে বলে – গরু হারালে ওমনি হয় । কিন্তু কেনই বা হারায় গরু ? হারিয়ে যায় উদ্যোগের চাবিকাঠি ? কয়েক বছর আগে এ অবস্থা ছিল না । পালের হাওয়া সেদিন কেড়ে নিয়েছিল জনতা । মানুষ ঘর ছেড়ে পথকে করেছিল ঘর ।

লালগড়ের লাল মাটি

জ্যেগে ওঠে বহু বিটি

খাসজঙ্গলে হুলসাইএর মেলা ।

সেদিন জনতা যেদিকেই হাত বাড়াচ্ছিল , ধুলোমুঠো সোনামুঠো হচ্ছিলো । তবে কি করে হারালো গরু ? চলতি হাওয়ার পন্থী হয়ে । চলতি হাওয়ার পন্থী মানে হাওয়ার সঙ্গে চলা । ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে চলা । ঘটনাপ্রবাহের আগে চলা না । ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে চললে কি হয় ? স্বতঃস্ফূর্ততার লেজুরবৃত্তি করা হয় । আন্দোলন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে । তার উত্তরণ হয় না । আন্দোলন যতদিন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে , আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে , ততদিন তা বোঝাও যায় না । কিন্তু আড়ে বহরে । পুষ্টিতে গভীরতায় বাড়ে না ।

আন্দোলন আসলে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে । আন্দোলন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে , শত্রু শক্তি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না । তাদের থিংক ট্যাঙ্ক কাজ করতে থাকে । তাদের টাকার বান্ডিল কাজ করতে থাকে । তাদের পরিকাঠামো কাজ করতে থাকে ।

গ্রাম স্তরে তৈরি হয় শত্রু শক্তির গোপন পরিকাঠামো । বারেবারে সে পরিকাঠামোকে শেষ করতে গিয়ে , গ্রামীণ পরিবারগুলোর আরও কিছু অংশ আন্দোলনের বাইরে চলে যায় । আন্দোলনের পক্ষে গ্রামীণ যুক্তফ্রন্ট আরও দুর্বল হয় । আর এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে অবিরাম । কারণ বিরোধীশক্তি নাছোড়বান্দা । তারা কাজ করে শ্রেণী লাইনেই । উত্তরণহীন আন্দোলন । ভেতরে ভেতরে ক্রমশ দুর্বল হতে থাকা গ্রামীণ যুক্তফ্রন্ট । প্রথমে চোখের আড়ালে , পরে চোখে আঙুল দিয়ে ।

উদ্যোগ হাতছাড়া হতে থাকে ক্রমশ । এটাও হতে থাকে প্রথমে অদৃশ্যে ।

পরে চোখের সামনেই । তখন বড় আকারে হার্মাদ আক্রমণের মোকাবিলায় মা-মাটি-মানুষকে ভোট দেবার ডাক দিতে হয় । তখন গ্রামীণ জনতাই বলে , যাকে ভোট দিতে বলা হয় , তাকে কাজ করার সময়ও দিতে হয় । দেওয়া উচিৎ । এভাবেই এগোতে থাকে সময় , ইতিহাস , ঘটনার ক্রম ।

রাজনৈতিক উদ্যোগ হাতছাড়া হয় । আসে উদ্যোগহীন অবস্থা । উদ্যোগ যতো হাতছাড়া হয় , ততই এগোতে হয় সংসদীয় বিকল্পের দিকে । ভাবতে হয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা । ছাগল ততই ছুটতে থাকে । লোকালয় থেকে দূরে । মৃত্যুর দিকে ।

(১১)

আন্দোলন শুরু হয়েছিল পুলিশী অত্যাচারের বিরুদ্ধে , রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে । কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থায় শুধু রাষ্ট্রীয় দল থাকে না । থাকে বিরোধী দলও । রাষ্ট্র যদি নিপীড়ন দিয়ে উদ্যোগ হরণ করে , তাহলে বিরোধী দোল সংসদীয় বিকল্পের স্বপ্নকে সামনে রেখে উদ্যোগ হরণ করে । ছিনতাই করে আন্দোলনকে ।

কিন্তু এখানে তা হয়নি । পুলিশী অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ দাবী তুলেছিল । সিবিআই তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত অথবা ওঠবস আর নাকে খত দেবার । উদ্যোগ পুরোপুরি নিজের হাতে ছিল আন্দোলনের । ছিনতাই করার কোন সুযোগ ছিল না । তৈরি হল তৃণমূল স্তরে মানুষের ক্ষমতা । ওপরের স্তরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা । তৈরি হল এক দ্বৈত ক্ষমতা কিছুদিনের জন্যে ।

গ্রামীণ উন্নয়নের কিছু কর্মসূচী নেওয়া হল । পানীয় জল আর রাস্তা । পুলিশ বয়কট । হার্মাদ প্রতিরোধ । গ্রামের বিকাশ । এই ছিল আন্দোলনের সামনে কর্মসূচী । মোটমাট জনতার উদ্যোগের ফলন্ত রূপ দেখা গেল । কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাত পড়েনি । আর গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাত না পড়লে গ্রামীণ ওলটপালট হয় না । গ্রামীণ রাস্তাঘাটে হাত পড়েছিল । গ্রামের নাভিদেশ তখনও অনাঘ্রাত । সারের ডিলাররা তখনও সারের কালবাজারী করছিল ।

চাষির জমির খিদে তখনও অভুক্ত । গ্রামের অর্থনীতিও অভুক্ত । গ্রামের অর্থনীতিতে হাত পড়লে কি আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন কমে যায় ? একেবারেই না । কিছু লোক সরে যেত নিশ্চয়ই । কিন্তু তখনই নিচুতলার মানুষ লক্ষগুণ সক্রিয় হয়ে এগোত । প্রভাব বাড়ত আন্দোলনের । শুধু আড়ে বহরে না , শুধু গায়ে গতরে না , গভীরত্বেও ।

আন্দোলনকে নিশ্চলতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে , রাজনৈতিক উদ্যোগকে ধরে রাখতে হলে , আন্দোলনের প্রভাবকে গভীরতর করা ছাড়া গতি নেই । এখনও পর্যন্ত জানা মার্কসবাদী , লেনিনবাদী , মাওবাদী সাহিত্যে , সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কৃষক আন্দোলনে , ওতপ্রোত জড়িয়ে থাকে জমি আন্দোলন ।

যাই হোক , যে কোন ভাবেই হোক , হাত দিতে হয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে । ভাঙতে হয় ভারসাম্য এক্ষেত্রেও । সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে হয় । অর্থনীতির ক্ষেত্রেও চলতি ভারসাম্য ভাঙতে হয় । কিন্তু শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভারসাম্য ভাঙা যায় না । করতে হত রাজনীতিকরণ । রাজনীতির সংগঠনের জাল তৈরি করতে হত ভীষণ গুরুত্ব দিয়ে ।

আর সবটাই করতে হত সময়মত । কারণ , সময় চলিয়া যায় / নদীর স্রোতের প্রায় । রাজনীতি আর যুদ্ধে সময় একটা খুব বড় ফ্যাক্টর ।

সময়ের কাজ সময়মত করা । উদ্যোগ হাতে ধরে রাখার একটা গ্যারান্টি । সময়মত কাজ বাছাই করে স্থির করা । উদ্যোগ ধরে রাখার এটাই গ্যারান্টি ।

নতুন নতুন কাজ স্থির করা । নতুন নতুন কাজে জনতাকে সমাবেশ করা । রাজনৈতিক উদ্যোগ ধরে রাখার গ্যারান্টি । আন্দোলনের পক্ষে গ্রামীণ যুক্তফ্রন্টকে ব্যপক আর গভীর করে তোলার গ্যারান্টি । আর রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার হয় রাজনীতিকরণের জন্যে । রাজনীতিকরণ মানে বিকল্পকে সামনে আনা । সংসদীয় বিকল্পের মোহ ভাঙা । শ্রেণী লাইনকে সামনে আনা ।

(১২)

শেষ কথা 

আশির দশক থেকে বাঁধা বাংলা-ভূতের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে । বোঝা নামলো নয়া শতাব্দীতে । বাংলার মরা গাঙে বিপ্লবী আন্দোলনের বান ডাকল । জনতা জাগল । মাথা তুলল । উঠলো জনজোয়ার । জনতার কর্মকাণ্ড – গণ লাইন , একটা মোড়ের মাথায় এসে পড়ল পিছলে ।

আন্দোলনে রাজনৈতিক উত্তরণের শূন্যতা সৃষ্টি হল । সময়ের দৌড়ের খেলায় পড়তে হল পিছিয়ে । হাতছাড়া হল উদ্যোগ । সংসদীয় বিকল্প মাথাচাড়া দিল । বিপ্লবী আন্দোলনে দেখা দিল সংকট । সংকট সঙ্গিন রূপ নিল চোরাবালির আবর্তে । বিপ্লব শিক্ষা দিল । সে শিক্ষা আত্মস্থ করে আবার জন্ম হবে বিপ্লবের । বিপ্লবকে শিক্ষা দিতে উঠে দাঁড়াবে বিপ্লবী । সময়কে হার মানিয়ে উত্তরণের পথে কেড়ে নেবে পালের হাওয়া ।

হার মানা আর হার না মানার মধ্যে দোলাচল মানুষই আবার গড়বে ইতিহাস ।

শহীদের রক্ত হবে আমাদের প্রেরণা ।

“ হাজারো কাজের কুমারী দিগন্ত সামনে । থর থর প্রত্যাশায় উদ্বেল অধীর । পৃথিবী বিশাল গতির ছন্দে মুখর । সময়ের স্তরে তৃপ্তিবিহীন দাবীর ঘোষণা লেখা ।

চার সমুদ্র কখন হয়েছে উত্তাল । মেঘের পাহাড় স্রোতসির ঢেউয়ে ক্রোধের ফণা পাঁচ মহাদেশ কিসের আবেগে উদ্বেল ঝড়ো বাতাসের পাঁজরে ফুঁসছে কি বিস্ফোরণ কীট পতঙ্গ নিপাত যাক – দুর্দমনীয় শক্তিতে মরা অগ্নুৎপাত ।”

মাও সে তুং

radical.alternative@gmail.com


কলকাতাঃ নকশালপন্থী সংগঠন Radical/র‍্যাডিক্যাল এর কিছু কথা, কিছু ভাবনা, কিছু প্রশ্ন

stabilityami

প্রাথমিক এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করেই র‍্যাডিক্যাল তার চর্চা, আলোচনা ও কাজের পরিসরকে কেন্দ্রীভূত করতে চায়। আলোচনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসা সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে কি কি কাজ করা যেতে পারে ও কিভাবে মানুষের কাজে লাগা যেতে পারে তাও আলোচনার মধ্য দিয়েই স্থির করার পক্ষে র‍্যাডিক্যাল-এর বন্ধুরা।

একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে র‍্যাডিক্যালের এই ভাবনার সাথে যারা সহমত পোষণ করেন বা করেন না, তাদের প্রত্যেককেই আমাদের আমন্ত্রণ রইল। সহযোগিতার মনোভাব থেকে মতামত দিন এবং মতামত দিয়ে সহযোগিতা করুন। আর যুক্ত হন আমাদের সাথে।

মাটিতো আগুনের মতোই হবে/যদি তুমি ফসল ফলাতে না জানো/যদি তুমি বৃষ্টি আনার মন্ত্র ভুলে যাও/তোমার স্বদেশ তবে মরুভূমি/তুমি মাটির দিকে তাকাও/মাটি প্রতিক্ষা করছে/তুমি মানুষের হাত ধরো/সে কিছু বলতে চায়… ‘ 

র‍্যাডিক্যালের কিছু কথা, কিছু ভাবনা, কিছু প্রশ্ন সম্পর্কে জানতে নীচে ক্লিক করুন

Radical