পশ্চিমবঙ্গঃ শালবনিতে উদ্ধার ল্যান্ডমাইন

2_1454933410

জঙ্গলমহলে যে মাওবাদীরা ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে সেই খবর মিডিয়াতে আসছিল। তবে শুক্রবার শালবনির সেঁজুয়াতে শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের চিন্তা বাড়িয়েছে।

মাওবাদী পোস্টারের পরে এবার মিলল শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন। চলতি মাসেই জনৈক মাওবাদী স্কোয়াড সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে চিন্তা ছড়াচ্ছে রাজ্যের জঙ্গলমহলে।

ঠিক দু’দিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জঙ্গলের পাশে রাস্তায় উদ্ধার হয়েছিল মাওবাদীদের বেশ কিছু পোস্টার৷ এবারে শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার হল কতোয়ালি থানার বেড়াবাগঘরার রাস্তার পাশের জঙ্গলে৷ গোয়ান্দা-সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী শির্ষী এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে এই মাইনের সন্ধান পায়৷

image (1)

রাস্তার পাশে মাটির তলায় পেতে রাখা ছিল শক্তিশালী ডিরেক্সনাল মাইনটি। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ও ২০৭ নম্বর কোবরা ব্যাটালিয়নের বম্‌ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ওই এলাকায় যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় মাইনটিকে দু’বার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মাইনটি সিআরপিএফ বা পুলিশের টহল বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাতা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এটির বিস্ফোরণ হলে বড় রকমের ক্ষতি হতে পারত। নিষ্ক্রিয় করার সময়ে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের আড়াই ফুট লম্বা মাইনটির বিস্ফোরণে কেঁপে যায় জঙ্গল এলাকা৷ মাওবাদীরাই এই শক্তিশালী মাইনটি পুঁতে রেখেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

দেখুন ভিডিও

সূত্রঃ http://ebela.in/state/landmine-found-at-west-midnapur-dgtl-1.307635

Advertisements

ভারতঃ পশ্চিমবঙ্গের শালবনিতে মাওবাদী পোস্টারে আগ্রহ-জল্পনা

b

ফের মাওবাদী পোস্টার৷ এবং, এ বারও মাওবাদী ওই পোস্টার মিলল সেই শালবনিতেই৷ আর, সেখানকার বাগমারির ওই পোস্টারকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন নতুন করে দেখা দিয়েছে আগ্রহ, তেমনই অন্যদিকে আবার এখন শুরু হয়েছে জোর জল্পনাও৷

প্রতিটি পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “দিদি” বলে সম্বোধন করে মাওবাদী নেতা কিষেণজির মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরকম ৮ থেকে ১০টি পোস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া পোস্টারগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে ৭টি প্রশ্ন করা হয়েছে। পোস্টারগুলির একটিতে কিষেণজির হত্যাকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আরেকটিতে শশধর মাহাতকে হত্যা করার পর তার স্ত্রীকে নবান্নে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হয়েছে তাও। এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের সাবধান হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে মাও পোস্টারে। জঙ্গলমহল থেকে CRPF তোলার দাবিও জানানো হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে পোস্টারে

রাষ্ট্রদ্রোহিতায় দোষী সাব্যস্ত ছত্রধর মাহাত সহ ছ’জনকে গত মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে মেদিনীপুর আদালত৷ আর, ওই রায়কে কেন্দ্র করেই, জঙ্গলমহলের সঙ্গে দ্বিচারিতার জন্য নিশানা করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এমনই বিভিন্ন ঘটনার জেরে, স্বাভাবিকভাবেই, শালবনির ওই মাওবাদী পোস্টারকে কেন্দ্র করে সেখানে নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনার পরিবেশ৷ লালগড়ে বিদ্রোহের জন্য সেখানকার মানুষকে এক হওয়ার কথাও বলা হয়েছে মাওবাদী ওই পোস্টারে৷ সাজা ঘোষণার পরে গত মঙ্গলবার ছত্রধর মাহাত জানিয়েছিলেন, যে বিস্ফোরণ ঘটানোর কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও প্রমাণ নেই৷ কোনও প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে৷ এর জবাব দেবেন জঙ্গলমহলের মানুষ৷ জঙ্গলমহলের আন্দোলন চলবে৷

কাজেই, মঙ্গলবার ছত্রধর মাহাতর ওই দাবি অথবা অভিযোগ এবং শালবনিতে মাওবাদী পোস্টার মেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, প্রশাসনিক মহলের একাংশেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা৷ এই দুই ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে৷ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ওই মাওবাদী পোস্টারকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক অথবা গ্রেফতারের কথা জানায়নি পুলিশ৷ জিন্দালদের প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে, ২০০৮-এর দুই নভেম্বর শালবনিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কনভয়ে৷ ওই বিস্ফোরণের পিছনে মাওবাদীরা যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠে৷ আর, ওই ঘটনার জেরে পুলিশি ধরপাকড় সহ অত্যাচার (অভিযোগ)-এর বিরুদ্ধে, লালগড়ে জন্ম নেয় পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির৷ ওই কমিটির-ই নেতা ছত্রধর মাহাত৷

সুত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/again-maoist-postars-shalbani-west-bengal.html