মাওবাদী ধরার নামে শিশু-হত্যা ভারতীয় বাহিনীর

মাওবাদী খোঁজার অভিযানে শিশুহত্যার অভিযোগে কাঠগড়ায় ঝাড়খণ্ডের পুলিশ ও সিআরপিএফ। পালামৌ জেলার বাকোরিয়ায় এই বীভৎস ঘটনা গত শুক্রবারের। সেই বাকোরিয়া, যেখানে পুলিশ-আধা সেনার তথাকথিত মাওবাদী বিরোধী অভিযানে ১১ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই গণহত্যা নিয়ে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত চলছে। তার মধ্যেই বাবা-কে না-পাওয়ার পরিণামে উন্মত্ত বাহিনী তিন বছরের একটি শিশুকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠল। পালামৌর পুলিশ সুপার অজয় লিন্ডা সোমবার সংবাদমাধ্যমে এই অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে।

সন্তানহারা ববিতা দেবী অভিযোগে জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ-সিআরপিএফের একটি দল বাকোরিয়া গ্রামে তাঁদের বাড়িতে আসে। ববিতার স্বামী বিনোদ সিংয়ের খোঁজ করে। যৌথ বাহিনী দাবি করে, বিনোদ নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠন ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি মোর্চার সদস্য। পুলিশ ও জওয়ানরা জোর করে বাড়ির মধ্যে ঢুকে সব তছনছ করে। বিনোদকে না পেয়ে তিন বছরের মেয়েকে কেড়ে নিয়ে সজোরে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দেয়। মারা যায় দুধের শিশুটি। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে ময়না-তদন্ত রিপোর্টে। পুলিশ ও সিআরপিএফের কারা সে রাতের অভিযানে ছিল, খোঁজ করা হচ্ছে। তবে কেউই এখনও ধরা পড়েনি। আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছেন ববিতারা। ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি মোর্চা বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাকোরিয়ায় বিনোদ সিং বলে কেউই তাদের সদস্য নয়।

সূত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/nation/maoist-capture-of-child-killing-force/articleshow/70849750.cms?fbclid=IwAR2tJZWA24kVGeEAErN6OInHhy2GoMzrzmw_aDNAOYfcHe_FbGAWUiNtYXs

Advertisements

শিশু ধর্ষণ এই সমাজ ব্যবস্থার একটি ব্যাধি

পত্র-পত্রিকার পাতা খুললে প্রায়ই দেখা যায় কোথাও না কোথাও শিশু ধর্ষণের ঘটনা। শহর-গ্রাম ঘরে-বাইরে চলার পথে কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। এ এক ঘৃণ্য অপরাধ। নির্মম বিভৎসতা, অমানবিক পৈশাচিকতা। ধর্ষণের শিকার একটি শিশুকে চির জীবনের জন্যে আতঙ্কগ্রস্ত থাকতে হয়। অনেকেই হয়ে যায় প্রতিবন্ধী।

সাধারণভাবে শিশুরা হয় দুরন্ত চঞ্চল। সহজ-সরল। সর্বদাই থাকে চিন্তামুক্ত ঝামেলাহীন। এমনি এক শিশু যখন ধর্ষণের মতো জঘন্য নির্মম নিপীড়নে পতিত হয় তখন অবুঝ শিশু আলোক উজ্জ্বল পৃথিবীকে অন্ধকার হিসেবে দেখতে থাকে।

২০১৫ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে (২৯ নভেম্বর পর্যন্ত) শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এ সময় ১১৭ শিশুকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয় ৩৩ শিশুকে। ২০১৫ সালে ৯৯ শিশু গণধর্ষণের শিকর হয় এবং ৩০ শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়। (শিশু অধিকার ফোরাম)। গ্রামে-গঞ্জে বহু শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে- যা বিভিন্ন কারণে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয় না। থেকে যায় অগোচরে। এতে বোঝাই যায় শিশু ধর্ষণের ঘটনা কতটা ভয়াবহ রকমের বেড়ে চলেছে।

এখানেই শেষ নয়। বিশেষত দরিদ্র শিশুরা ধর্ষণের কারণে এবং সামাজিক বিচারের নামে অপমানজনক নির্যাতনের কারণে অনেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। ১০/১২/১৬ তারিখে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে এমনি এক ঘটনা ঘটে। এই ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান মনিরুল ইসলাম যিনি একইসাথে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক, এক কিশোরীকে শালিসের নামে যে রায় দিয়েছে তার অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। বিবিসি সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এমনি ভয়াবহ পরস্থিতিতেও বর্তমান সরকার আইন করে কন্যাশিশু ধর্ষণের কার্যত বৈধতা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ১৮ বছর মেনে নিয়েও সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও বিশেষ কারণে বিয়ে দেয়ার আইন করেছে যা কিনা সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।

কন্যাশিশু ধর্ষণ হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারী নিপীড়নের বিকৃত আরেক রূপ। পুরুষদের একাংশ বিভিন্ন উপায়ে নারীদের উপর জবরদস্তিমূলক নির্যাতন করেও সন্তুষ্ট হতে পারছে না। তাদের আরও বিকৃতির দিকে মনোযোগ। তাই তারা মেয়ে শিশু ছাড়াও ছেলে শিশুও ধর্ষণের বিকৃত পথ বেছে নিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ধর্ষণের পর শাস্তির ভয়ে এবং তথাকথিত মান-সম্মান রক্ষার জন্য কেউ কেউ কখনো কখনো ওই শিশুকে হত্যাও করছে। এটা ফ্যাসিবাদী হিংস্রতা। রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণি ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণকে, প্রগতিশীল ও বিপ্লবীদেরকে খুন-গুম-‘ক্রসফায়ার’-গ্রেফতার-নিখোঁজসহ বিভিন্ন নিপীড়ন চালাচ্ছে। তারা এই ফ্যাসিবাদ আজ জনগণের মাঝেও নিয়ে গেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই শিশু ধর্ষণ? কেনই বা তা অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে?

সাম্রাজ্যবাদ সম্প্রসারণবাদ নিয়ন্ত্রিত দালাল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাথে রয়েছে ক্ষয় হতে থাকা পুরানো সামন্তবাদী ব্যবস্থা। এই প্রতিক্রিয়াশীল দুই ব্যবস্থার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে এক জগাখিচুড়ি মার্কা সংস্কৃতি। এখানে একদিকে বিরাজমান সামন্ততান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে আধুনিকতার নামে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী ও বিকৃত পুঁজিবাদী শিল্প-সংস্কৃতির অবাধ চর্চা। প্রেম-বিয়ে যৌন জীবনে তার প্রতিফলন ঘটে নানা ধরনের বিকৃতি হিসেবে। যেমন- এদেশে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সাথে চলছে তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। যেজন্য বাংলাদেশী টিভি ভারতে প্রদর্শিত না হলেও ভারতীয় বাংলা-হিন্দি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা প্রভৃতির মাধ্যমে সিনেমা-সিরিয়াল-নাটক-গান-নাচ, যৌন উত্তেজক অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন প্রভৃতি প্রচার জনমনে তথা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিকৃত প্রভাব তৈরি করে চলেছে। একে ঘিরে খুনোখুনিও হয়েছে। এই গণবিরোধী অনুষ্ঠানগুলো আমাদের দেশে গ্রাম-গ্রামান্তরে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, পড়ছে। যা নানা বয়সের পুরুষদের একাংশকে যৌনতার লাগামহীন উন্মাদনায়ও ঠেলে দিচ্ছে। যে সংস্কৃতি খোদ ভারতের রাজধানী দিল্লিকেও ইতিমধ্যে ধর্ষণের নগরে পরিণত করেছে। এছাড়া ডিজিটালের নামে আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে ইন্টারনেট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যৌন ছবি দেখার অবাধ ব্যবস্থা করা হয়েছে বুর্জোয়াদের স্থূল মুনাফার স্বার্থে, প্রগতিশীল ও বিপ্লবী সংস্কৃতি রুখতে। এই সংস্কৃতির একটি বিকৃত রূপ হচ্ছে শিশু ধর্ষণ। এই সংস্কৃতির আগ্রাসনে ব্যাধিগ্রস্ত ধর্ষকরা নিজেদের ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ যৌন চর্চার একটি ক্ষেত্র খুঁজে ফিরছে এখানে। এজন্য এরা বেছে নেয় কোমলমতি শিশুদেরকেও। যারা ভয়-ভীতি-লজ্জা-শরমের কারণে এ জাতীয় ঘটনা সহসা প্রকাশ করবে না। এই সমাজে স্বেচ্ছামূলক প্রেম-বিয়ে-ভালবাসা-যৌনতা-বিচ্ছেদের অধিকারহীনতাও এক্ষেত্রে অন্যতম এক শর্ত।

বেশি ধর্ষণের শিকার হয় দরিদ্র শিশুরা। এই শিশুরা সর্বদাই হীনমন্য থাকায় সাধারণভাবে চুপ থাকে। এটা এক ধরনের শ্রেণি নিপীড়নও বটে।

শুধুমাত্র মেয়ে শিশুরা নয়, ছেলে শিশুরাও যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। কয়েকমাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১০ বছরের শিশু সাগর বর্মণকে পায়ুপথ দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে পাশবিক কায়দায় খুন দেশবাসীকে শিহরিত করেছিল। এর কিছুদিন আগে খুলনায় এক শিশুকে একই কায়দায় বাতাস ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।

এসব শিশু নির্যাতন বন্ধের জন্য বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই বলে থাকে বিচারহীনতার কথা। বাস্তবে বিচার করে শাস্তি দিলেই শিশু ধর্ষণ শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে না। বিগত কয়েক বছরে এ জাতীয় অপরাধে অনেককে শাস্তি দিলেও তা কমেনি।

এই বিকৃত সমাজ ব্যবস্থার সামাজিক ব্যাধি হচ্ছে শিশু ধর্ষণ। এজন্য ব্যক্তি-মালিকানাধীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থায় নারীদেরকে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে মনে করা হয়। এই ব্যবস্থার পরিপূর্ণ উচ্ছেদ ব্যতীত শিশু ধর্ষণ বন্ধ হবে না। যেমনি এই শাসক শ্রেণি পতিতাবৃত্তি বন্ধ করতে পারে না। একমাত্র সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদ করতে পারে। মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় এবং মাও সেতুঙের চীনে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশু ধর্ষণসহ সকল ধর্ষণের অবসান হয়েছিল। 

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা


জার্মানি থেকে ৬০০০ শরণার্থী শিশু-কিশোর গুম!

4bhk9e5c1112f61jli_620C350

জার্মানি থেকে মাতাপিতা বা অভিভাবকহীন হাজার হাজার শরণার্থী শিশু-কিশোর গুম হয়ে গেছে। গত বছর গুম হওয়া এসব শিশু-কিশোর অপরাধী এবং আদম পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। জার্মান সংবাদ সংস্থা ফাংক মেডিয়েন গ্রুপ এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার ৫,৮৩৫ শরণার্থী শিশু-কিশোর পশ্চিম ইউরোপীয় দেশটি থেকে গুম হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৫৫ জনই অনূর্ধ্ব-১৪ বছরের বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। রহস্যজনকভাবে গুম হয়ে যাওয়া এসব শিশুর অধিকাংশই আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া, মরক্কো এবং আলজেরিয়া নাগরিক।

এসব শিশু-কিশোরের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা কোথায় আছে সে বিষয়ে জার্মান কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না। জার্মান স্বরাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, সম্প্রতি দেশটির সরকার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া প্রায় ৬০০০ শিশুর বিষয়টি সংসদকে অভিহিত করেছে।

গুম হওয়া শিশুদের সংখ্যা আরো কিছু বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অবশ্য কেন এসব শিশু হারিয়ে গেছে সে বিষয়ে কিছু বলেন নি জার্মান মুখপাত্র।


ইসরায়েল কর্তৃক যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত ১১ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু ‘আলী আলকাম’

আলী আলকাম

আলী আলকাম

শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নৃশংসতা নিয়ে কখনও কখনও বিশ্বে তোলপাড় বা উদ্বেগ দেখা যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্বের শোষক শাসক-গোষ্ঠী বিশ্ব-সমাজের নীরবতার সুযোগে এবং কখনওবা মানবাধিকারের তথাকথিত সমর্থকদের সহায়তা নিয়েই শিশু হত্যা ও শিশু-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে ইসরাইল সরকারের নৃশংসতা লোমহর্ষক হলেও তা নিয়ে খুব-একটা জোরালো প্রতিবাদ বা নিন্দা বিশ্ব সমাজে দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি বর্ণবাদী ইসরাইল চলমান ইন্তিফাদা আন্দোলনে অংশ নেয়ার ‘মহা-অপরাধে’ ১১ বছরের এক বিপ্লবী ফিলিস্তিনি শিশুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আলী আলকাম নামের এই ফিলিস্তিনি শিশু হচ্ছে এখন বিশ্বের সবচেয়ে কম-বয়সী কারাবন্দি। ইসরাইলি সেনারা তাকে বন্দি করার সময় তার হাতে ও পেটে তিনটি গুলি বিদ্ধ করে। বন্দি আলীকে দেখতে আসে তার বাবা-মা। কিন্তু তাদেরকে মাত্র বিশ মিনিট সময় দেয় ইসরাইলি সেনারা।

শত শত ফিলিস্তিনি শিশু ইসরাইলি কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই শিশুদেরকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় রেখেছে দখলদার ইসরাইল।
ইহুদিবাদী ইসরাইল শিশুদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার করতে অভ্যস্ত এবং শিশু বন্দীদেরকে পরীক্ষাগারের ইঁদুরের মত ব্যবহার করে বলেও শোনা গেছে।

ইসরাইলের এসব নৃশংসতা নিয়ে তেমন জোরালো প্রতিবাদ শোনা যায় না। অথচ ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের কারণে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কেবল একটি শিশুরও যদি কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হত তাহলে তা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের নেতারাও সরব হয়ে উঠতেন এবং পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলোও নিন্দাবাদের ঝড় বইয়ে দিত।


ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ৪০০ জন ফিলিস্তিনি শিশু আটক রয়েছে

6de4958f45c869472bf3c9b38cac4351_XL

ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগারে ৪০০ ফিলিস্তিনি শিশু আটক রয়েছে বলে একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে। কারাগারে আটক এসব শিশুর বয়স ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বলে জানায় সংগঠনটি।

প্যালেস্টাইন প্রিজনারস সোসাইটি বা পিপিএস গতকাল (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গত অক্টোবরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ড থেকে বেশিরভাগ এসব শিশুকে আটক করেছে। ফিলিস্তিন ‘মান’ সংবাদ সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

গত মাসের শুরুতে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর দমন পীড়ন চালানোর অংশ হিসেবে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব আল-কুদস থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। এছাড়া, যাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে এদের অনেককেই এখন ইসরাইলি বাহিনী গৃহবন্দী করে রেখেছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

আটক ফিলিস্তিনি শিশুদেরকে কোনো খাদ্য বা পানি ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদ এবং আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক শিশুদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করার জন্য তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার পাশাপাশি মৌখিকভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ইসরাইলের ১৭টি কারাগারে ৭,০০০ বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী আটক রয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েক ডজনকে বিভিন্ন মেয়াদে যাবৎজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া, আরো প্রায় ৫৪০ জন ফিলিস্তিনিকে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে।


নিউ ইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৬০০০০, তাদের ৪০ শতাংশ শিশু

images

প্রত্যেক রাতে নিউ ইয়র্কে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ রাস্তার ফুটপাতে ঘুমান, এর মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশু। এসব গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার অন ফ্যামিলি হোমলেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে গৃহহীন পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। আর এসব গৃহহীন মানুষ নিরুপায় হয়ে রাস্তায় থাকছে। শুধুমাত্র নিউ ইয়র্কেই অন্তত ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে। কিন্তু ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম শহরটিতে গৃহহীন মানুষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে প্রত্যেক রাতে ৬০ হাজার মানুষ রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে,এটা শুধুমাত্র নিউ ইয়র্ক শহরে গৃহহীন মানুষের পরিস্থিতি। কিন্তু দেশটির অন্যান্য শহরের অবস্থা সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি।

সূত্রঃ https://www.rt.com/usa/319799-homelessness-new-york–children/


তুর্কির সমুদ্রতটে ছোট্ট শিশুর দেহও কি আমাদের নাড়া দেবে না?

11995425_10207683911561718_466214_n

11995467_10207683910721697_64925299_n

11951002_10207683911281711_1987035788_n

11992441_10207683911121707_1254156274_n

11938051_10207683912041730_557876935_n

11992257_10207683912881751_1510033456_n

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে নৌকা করে পালিয়ে আসার সময় ডুবে যায় অনেকের সঙ্গে আয়েলান কার্দিও। ৩ বছরের ছোট্ট ছেলেটির নিথর দেহ ভেসে উঠে তুর্কির সমুদ্রতটে। আর এর পর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বিতর্ক। সরকারের সংবেদনশীলতা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সিরিয়া, আফগানিস্তান, আফ্রিকা সহ বিভিন্ন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে ইউরোপে আসা শরণার্থীদের সমস্যা নিয়ে। এদের অধিকাংশের গন্তব্য জার্মানি। কিন্তু প্যারিস থেকে হাঙ্গেরি সর্বত্র হাজার হাজার মানুষ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন হয় রাস্তায় নয়তো বাতিল হয়ে যাওয়া বিল্ডিংয়ে। এই অসহায় মানুষদের দায় নিতে রাজী নয় কোন দেশেরই সরকার। তবে আশার কথা ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিকদের একটা অংশ এগিয়ে এসেছেন এদের পাশে। দুনিয়া জুড়ে বিভিন্ন অংশে যুদ্ধ চালু রাখার পিছনে যারা আসল কারিগর সেই বড় দেশগুলোর শাসকদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরী। তা না হলে আরো অনেক আয়েলানের এই পরিণতি আমাদের দেখতে হবে।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=4571