মাওবাদী হিসেবে অভিযুক্ত কারামুক্ত ভারতীয় সাংবাদিকের লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয়

দেড় বছর পর মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক সন্তোষ যাদব। মার্চ ১২, ২০১৭। [সন্তোষ যাদবের সৌজন্যে]

সাংবাদিক সন্তোষ যাদবের মতে মধ্যভারতের বামপন্থী মাওবাদী গেরিলা অধ্যুষিত অঞ্চলে পুলিশি নিষ্ঠুরতার বিপক্ষে লেখার জন্যই তাঁকে বন্দী ও নির্যাতন করা হয়েছিল।

প্রায় দেড় বছর কারাবাসের পর গত সপ্তায় জগদলপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্রিশগড়ের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সন্তোষ যাদব মুক্তি পান। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে মাওবাদী সমর্থক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও বনাঞ্চলে ঘাঁটি করে ১৯৬০ সাল থেকে মাওবাদীরা ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। মাওবাদীরা নকশাল হিসেবেও পরিচিত।

চীন বিপ্লবের নেতা মাও সেতুং এর অনুসারী এই বামপন্থীদের দাবি, তারা বনাঞ্চল থেকে সরকার কর্তৃক উচ্ছেদ হওয়া দরিদ্র এবং ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছত্রিশগড়ের অন্তত অর্ধ ডজন সাংবাদিককে হয় গ্রেপ্তার, না হয় এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সন্তোষ তাঁদের মধ্যে একজন।

সন্তোষের মতে, ছত্রিশগড় সাংবাদিকদের জন্য একটা উভয় সঙ্কটের স্থান।

“যারা মাওবাদী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে লেখে, যা অনেক ক্ষেত্রেই হয় পুলিশি নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা, তাঁদেরকে পুলিশও প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে,” বেনারেক বলেন সন্তোষ।

সন্তোষের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরীর মতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

“পুলিশ বলছে যে তারা সন্তোষকে একটি অভিযানের সময় মাওবাদীদের সাথে দেখেছে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন অন্ধকার রাতে ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে তিনি সন্তোষকে দেখে চিনতে পারেন। অথচ সেই কর্মকর্তাই কিন্তু তাঁকে অন্যান্যদের মধ্যে দেখে চিহ্নিত করতে পারেননি,” বেনারকে বলেন এই আইনজীবী।

তবে বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে বলে ছত্রিশগড়ের দুজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার কেউ সন্তোষ যাদবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাক্ষাৎকার

মুক্তির পর সন্তোষ যাদব বেনারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কথোপকথনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অংশ:

প্রশ্নঃ আপনাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল?

সন্তোষ যাদব: আমি সংবাদ পেয়েছিলাম যে, পুলিশ কয়েকজন আদিবাসীকে পাশের একটি গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তখন আমি তাঁদের পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য সেখানে যাই। পরে পরিবার সদস্যদের অনুরোধে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে আমি তাঁদের সাথে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যাই। সেখানে পুলিশ দাবি করে যে, গ্রেপ্তারকৃতরা মাওবাদী এবং তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা ছিল নিরীহ গ্রামবাসী। আমি পুলিশকে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করায় পুলিশ আমাকে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।

প্রশ্নঃ আপনি কখন আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো জানতে পারেন?

সন্তোষ যাদব: অনেক পরে। আটক করার কয়েকদিন পর আমাকে জানানো হয় যে, মাওবাদীদের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আমাকে আটক করা হয়েছে। আমি নাকি অভিযানের সময় মাওবাদীদের সাথে ছিলাম। সত্য হলো সেদিন আমি ওই এলাকাতেই ছিলাম না।

প্রশ্নঃ গ্রেপ্তারের পর কী ঘটেছিল?

সন্তোষ যাদব: আমাকে জগদলপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই অমানবিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হতো। সেখানে জীবন যাপনের ব্যবস্থা ছিল দুর্বিসহ। অখাদ্য খাবার খেয়ে আমাকে সেখানে থাকতে হতো। যতদিন পারা যায় সহ্য করে আমি প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু জেলখানার নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মানে, বাড়তি আরো কিছু নির্যাতন ডেকে আনা ছাড়া আর কিছু না।

প্রশ্নঃ আপনার গ্রেপ্তারে আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

সন্তোষ যাদব: আমার তিন মেয়ে। আট বছরের দিব্য, চার বছরের ইসমেয়া এবং আমার গ্রেপ্তারের সময় ছোটটির বয়স ছিল মাত্র এক মাস। আমার স্ত্রী পুনম মাতৃসেবা ও পরিচর্যার কাজ করে। আমার বাবা একজন পিয়ন। আমার ছোট মেয়েটার নাম রাখার আগেই আমি গ্রেপ্তার হয়ে যাই। আমার স্ত্রী আমি মুক্তি পাবার আগ পর্যন্ত মেয়েটির নাম রাখতে চায়নি। আমরা এখনো তার নাম ঠিক করিনি। আমার পরিবার সব সময় আমার পেছনে একটি বিশাল সমর্থন হিসেবে ছিল, তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচুর কাজ করেছে।

প্রশ্নঃ আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

সন্তোষ যাদব: আমি ছত্রিশগড় থেকেই সংবাদ প্রচার অব্যাহত রাখব। এই ঘটনা আমাকে আমার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। আমি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখব। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো যেমন বন্ধ হওয়া দরকার, তেমনি কাউকে না কাউকে তো ভারতের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ এবং আদিবাসী মানুষদের মুখপাত্র হিসাবে কথা বলতেই হবে।

 

এক নজরে সন্তোষ যাদব

নবভারত এবং দৈনিক ছত্তিশগড়ের পূর্বতন কর্মী। সশস্ত্র সংগঠন, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদি) নামক নিষিদ্ধ গোষ্ঠির সদস্য হিসাবে অভিযুক্ত। ইউ,এ,পি,এ এবং সি,এস,পি,এস,এ ধারাগুলিতে অভিযুক্ত। দোষী সাব্যস্ত হলে ১০বছরের সাজা।

বাস্তার জেলার দারবা নামক ছোট্ট একটি জনপদে সন্তোষ যাদবের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। স্কুলে পড়ার সময় তার ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবার। কিন্তু হয়ে গেলেন সাংবাদিক। নিজের এলাকায় মাওবাদি সংগঠন এবং পুলিশি অত্যাচারের খবর বাইরের জগতের কাছে পৌছে দেওয়াই তার মুখ্য কাজ। নবভারত এবং দৈনিক ছত্তিশগড় নামক জাতীয় এবং স্থানীয় সংবাদপত্রের সংবাদ পরিবেশক। কিন্তু রাষ্ট্রের সপক্ষে সংবাদ পরিবেশন করতে না চাওয়ার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দরবা জঙ্গলের ভেতর মাওবাদি দমনের নামে বদ্রিমাহু গ্রামের ৫জন আদিবাসীকে রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য তাদের মিথ্যা মামলায় ফাসানো হয়েছে। সন্তোষ যাদব বদ্রিমাহু থেকে শুধু এই ঘটনার বিবরণ পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি, আদিবাসীদের জগদলপুরের আইনি সহায়তা কেন্দ্রের সাথেও যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা আদালতে এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করতে পারে।

রাজ্য পুলিশের হাতে আদিবাসীদের এই নিগ্রহ সন্তোষ যাদবের সংবাদের ফলে সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে এর কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের কারণ হিসাবে বলা হয়, ২৯শে সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র মাওবাদী নাশকতায় তিনি যুক্ত ছিলেন এবং সন্ত্রাস ও অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে খুন এবং নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠন, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদি), এর সক্রিয় সদস্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় জনসুরক্ষা আইন এবং ইউ এ পি এ ধারায় চার্জ গঠণ করা হয়েছে। এই দুটো আইনই আন্তর্জাতিক মানবিধিকার রক্ষা বিধি ও আরও অনেক আইনের পরিপন্থী। অভিযোগ প্রমাণে ১০ বছর জেল হওয়ার সম্ভাবনা।

তার পত্নী পুনম যাদব অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর ভারতীয় শাখাকে জানান,” ওর কাজের জন্য ওকে নানারকম ভাবে ভয় দেখানো হত। আমি ওকে অনেক সাবধান করেছি, এমনকি এই কাজ ছেড়ে অন্য কোথাও কাজ খুজতেও বলেছি। কিন্তু ও বোলতো, আমি অন্যকে সাহায্য করছি, আমি কাউকে ভয় পাইনা। পুলিশ ওকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।“

সন্তোষ যাদবের আইনজীবী, ঈষা খান্ডেলয়াল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় শাখাকে জানান যে, সন্তোষ যাদবকে পুলিশ মনগড়া কারণে গ্রেফতার করেছে। সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণ তার পাঠানো সংবাদে আদিবাসীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়ে পড়ছিল। তিনি এও বলেন, “ ২০১৩ সাল থেকে পুলিশ ওকে উত্তক্ত করছে। একবারতো পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে উলঙ্গ করে অপমানিত করে। ওকে পুলিশি চর বানানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছে।“

“তার একটাই অপরাধ, সে সাংবাদিকতার কাজকে ছাপিয়ে গ্রামবাসীদের আইনি সহায়তা পেতে সাহায্য করেছে। বাস্তারের পুলিশ চায়, সাংবাদিকরা কেবলমাত্র তাদের হয়েই কথা বোলবে। সন্তোষ যাদব দুদিকের কথাই তার লেখায় প্রকাশ করতো।“ ন্যাশনাল ডেলি পত্রিকার সাংবাদিক, রাজকুমার সোনি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় শাখাকে বলেন, “ পুলিশের বোঝা উচিৎ যে, উভয়পক্ষের কথাই বলা সাংবাদিকের কাজ। মাওবাদীদের সাথে কথা বলেছে বলেই একজন সাংবাদিক মাওবাদী হয়ে যায়না।”

তিনি আরও বলেন, “ আপনি কোনো ঘটনার বিষয় পুলিশের কাছে জানতে চাইলে, পুলিশ বলবে, আপনি দেশদ্রোহী তাই আপনাকে কোনো তথ্য দেওয়া যাবেনা। বাস্তারে মাওবাদীদের সাথে আপনি সাংবাদিক হিসাবে কালেভদ্রে একবার কথা বলতে পারবেন ঠিক যেমন মুম্বাইয়ের সাংবাদিকরা সেখানকার শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ বা পুলিশ আধিকারিকের সাথে কথা বলেন কোনো ঘটনার বিষয় তাদের মতামত জানার জন্য। এমন কোনো আইন আছে কি যে সাংবাদিকরা মাওবাদীদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারবে না !”

 

Advertisements

কলকাতাঃ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার ডাক্তার-সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীসহ বুদ্ধিজীবীরা!

msc.02

ডাক্তার শৈবাল জানার গ্রেফতারের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি অংশ৷ আর, তার জেরেই আবার সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ডাক্তাররা৷ আক্রান্ত হচ্ছে মানবাধিকার৷ একই সঙ্গে, ওই শিকারের থাবা থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না চিকিৎসা পরিষেবা এবং মেডিকেল এথিকসও৷ তবে, শুধুমাত্র আবার কেন্দ্রীয় সরকারও নয়৷ ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যেই ডাক্তারদের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীসহ বুদ্ধিজীবীরা৷ অভিযোগ এমনই৷

আর, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে, ডাক্তার শৈবাল জানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও উঠছে৷ ইতিমধ্যেই অবশ্য ডাক্তার শৈবাল জানার শর্তাধীন জামিন মিলেছে৷ তবে, তাঁর উপর থেকে ‘অন্যায়’ এবং ‘সাজানো’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিও উঠছে৷ এবং, এমনই বিভিন্ন দাবি আর অভিযোগের উপর ভিত্তি করে সোমবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছেন ১০টি সংগঠনের বহু সদস্য৷ একই সঙ্গে, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে ওই সব সংগঠনের তরফে সোমবার স্মারকলিপিও পেশ করা হয়েছে৷

ওই সব সংগঠনের তরফে এমনই জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্যের সরকার যেভাবে বিভিন্ন উপায়ে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী সহ বুদ্ধিজীবীদের উপর স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ করছে, সে সবের বিরুদ্ধে এককাট্টা হতেই সোমবারের ওই কর্মসূচি৷ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল পড়ুয়া, মানবাধিকার কর্মী এবং বুদ্ধিজীবী সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের বহু মানুষ কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ওই প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন৷ ওই সংগঠনগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম৷ তেমনই রয়েছে হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠন, ফোরাম ফর পিপলস হেলথ সহ মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস-ও৷ ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মিছিল শেষে ওই সব সংগঠনের তরফে বক্তব্য রাখা হয়৷ সেখানে ডাক্তার বিনায়ক সেন-ও বক্তব্য রাখেন৷

সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন সংসদ সদস্য তথা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য ডাক্তার তরুণ মণ্ডল, মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি ডাক্তার অশোক সামন্ত, সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার সজল বিশ্বাস, ফোরাম ফর পিপলস হেলথের সম্পাদক ডাক্তার দেবাশিস দত্ত, হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠনের সহ সভাপতি ডাক্তার বিশ্বনাথ পাড়িয়া৷ সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘ডাক্তার শৈবাল জানাকে শর্তাধীন জামিন দেওয়া হয়েছে৷ যে কারণে, যে কোনও দিন তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হতে পারে৷ আমাদের দাবি, অবিলম্বে ডাক্তার শৈবাল জানার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর উপর থেকে অন্যায় আর সাজানো মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ডাক্তার শৈবাল জানাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে শুধুমাত্র তাঁর উপরেই যে রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ ঘটল, তাই নয়৷ এর ফলে ডাক্তারদের এবং মেডিকেল এথিকসের উপরেও রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ ঘটল৷ লঙ্ঘিত হল মানবাধিকার৷ কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য বিভিন্ন রাজ্যের সরকারও চিকিৎসা পরিষেবা-ডাক্তার-মেডিকেল এথিকস-সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীসহ বুদ্ধিজীবীদের উপর স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ করছে৷’’


ভারতঃ ঠাঙারে বাহিনীর অত্যাচারে বস্তার ছাড়তে বাধ্য হলেন সাংবাদিক

malinimain

মাওবাদ বিরোধী সামাজিক একতা মঞ্চ( ঠাঙারে বাহিনী)র চাপে শেষ পর্যন্ত বস্তারের জগদলপুর শহর ছাড়তে বাধ্য হলেন scroll.in এর সাংবাদিক মালিনী সুব্রহ্মণ্যম।মালিনীর বাড়িওয়ালা তাঁকে ঘর ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন। এর আগে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় মঞ্চের সদস্যরা। জানুয়ারি মাসে তল্লাশির নামে নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা একাধিক মহিলাকে ধর্ষণের খবর জানাজানি হওয়ার পরই মালিনীর উপর পুলিস ও শাসক দলের আক্রশ বাড়ে বলে ওয়াকিবহাল মহলের খবর। বস্তারে পুলিস ও আধাসেনাদের অত্যাচারের খবর প্রকাশ করে scroll.in।

সূত্রঃ satdin.in


ভারতঃ মাওবাদীদের ধরিয়ে দিতে অস্বীকার করা সাংবাদিককে গ্রেফতার

f17134de-15a5-487d-b78c-031922db9b63

কয়েকদিন আগে আমরা জানতে পেরেছিলাম বস্তারের সাংবাদিক সন্তোষ যাদবকে টাকার টোপ দিয়ে মাওবাদীদের ধরিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছে পুলিস। মিডিয়ার একাংশে খবর প্রকাশিত হতেই ছত্তিশগড়ের পুলিস গ্রেফতার করেছে সন্তোষকে। শনিবার সন্তোষের মুক্তির দাবিতে রায়পুরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন সাংবাদিকরা। বিক্ষোভ দেখান হয় মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংয়ের বাড়ির সামনেও। বাস্তরের আইজির এইভাবে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হন সাংবাদিকরা।

কে এই সন্তোষ যাদব?

বাস্তরের গ্রামীণ সংবাদদাতা সন্তোষ কোন স্থায়ী সংবাদপত্রে চাকরি না করলেও তিনি একাধিক দৈনিকের হয়ে স্ট্রিংজারের কাজ করেন। গত জুন মাসে তাঁকে থানায় নিয়ে গেয়ে উলঙ্গ করে মারার তোড়জোড় করেছিল পুলিস। শেষ পর্যন্ত তা আর করেনি পুলিস। সন্তোষের অপরাধ সে পুলিসের থেকে টাকা নিয়ে মাওবাদীদের ধরিয়ে দিচ্ছে না। সন্তোষের দুর্ভোগ শুরু ২০১৩ সালে ধরবায় মাওবাদী হানায় মহেন্দ্র কর্মা সহ একাধিক নেতা কর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনার পর। তাঁর অপরাধ ঘটনার রিপোর্টিংয়ের জন্য ধরবায় সেই প্রথম সাংবাদিক যে পৌঁছেছিল। এর পর পুলিস তাঁকে ৫ লক্ষ টাকার টোপ দিয়ে মাওবাদীদের ধরিয়ে দিতে চাপ দেয়। সন্তোষ মাওবাদীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কথা অস্বীকার করলে শুরু হয় পুলিসি হয়রানি। এক মহিলাকে হয়রান করার মিথ্যা মামলায়ও সন্তোষকে ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ। মিডিয়া খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই কুখ্যাত জনসুরক্ষার কালা আইনে সন্তোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের।

journalist-community-in-orissa-decides-to-boycott-all-police-functions

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=5405