সুকুমায় মাওবাদী হামলাঃ CRPF আধিকারিকদের বক্তব্য

দুপুরে খাওয়ার জন্য সাময়িক বিরতি। ঠিক সেই সময়েই মাওবাদীদের গুলিবৃষ্টিতে একে একে লুটিয়ে পড়লেন সুকমায় টহলরত সিআরপিএফ জওয়ানরা। এমনটাই জানা যাচ্ছে তদন্তে।

মঙ্গলবার সিআরপিএফ-এর এক আধিকারিক জানান, সুকমা জেলার বুরকাপাল ও চিতাগুফা সংযোগকারী প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের সময় নিরাপত্তা প্রদান করাই দায়িত্ব ছিল সিআরপিএফ-এর ওপর। এর জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল প্রায় ১০০ জন বা এক কোম্পানি জওয়ান।

সোমবার সুকমার বুরকাপাল অঞ্চলে সদ্য নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিমি দীর্ঘ সড়কে নিরাপত্তা দিতে টহল দিতে বেরিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৬ জন জওয়ান। এমন সময়ে প্রায় ৩০০ মাওবাদী জওয়ানদের চারদিক থেকে ঘিরে অতর্কিত হামলা চালায়। খাবারের সময় হওয়ায় হামলায় একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন জওয়ানরা। মাওবাদীদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল, যার ফলে জওয়ানদের বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। ঘটনায় নিহত হয় ২৬ জন জওয়ান।

বাহিনীর ঐ আধিকারিক জানান, জওয়ানদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে যায় মাওবাদীরা। এ সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জিম্মায় থাকা ১৩টি একে সিরিজের অ্যাসল্ট রাইফেল, ৫টি ইনস্যাস রাইফেল, ৩৪২০ রাউন্ড গুলি, একে রাইফেলের ৭৫টি ম্যাগাজিন, ইনস্যাস রাইফেলের ৩১টি ম্যাগাজিন, ৬৭টি তাজা ইউজিবিএল কার্তুজ, ২২টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ২টি বাইনোকুলার, ৫টি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি ডিপ সার্চ মেটাল ডিটেক্টর লুঠ করে মাওবাদীরা।

ওই আধিকারিক জানান, প্রথমে মাওবাদীরা লঞ্চার দিয়ে মুহূর্মুহূ গ্রেনেড ছুড়ে জওয়ানদের বিভ্রান্ত করে দেয়। তারপর, লুকিয়ে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেয়। বাহিনীর অনুমান, ওই গ্রেনেড তারা এই সুকমাতেই গত ১১ মার্চের হামলা থেকে লুঠ করেছিল। সেই হামলায় ১২ জন জওয়ান নিহত হয়েছিলেন।

তবে মাওবাদী আক্রমণের সময় নিয়ে বাহিনীর মধ্যেই দেখা দিয়েছে মতান্তর। কেউ বলছেন, জওয়ানরা খাওয়া সারার পরমুহূর্তেই গুলি চালায় মাওবাদীরা। আবার কয়েকজন সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন, বেলা ১২-৩০র সময় মাওবাদীরা আক্রমণ হানার সময় কয়েকজন জওয়ান খাওয়া শেষ করতে পারেননি। সিআরপিএফ সূত্রে খবর, ঘটনায় অত্যাধুনিক আন্ডার-ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার ব্যবহার করে মাওবাদীরা। মনে করা হচ্ছে, গত ১১ মার্চ সুকমায় ১১ জন জওয়ানকে হত্যার পরে তাঁদের হেফাজত থেকেই অস্ত্র লুঠ করেছিল মাওবাদীরা। তবে সোমবারের হানায় বহু প্রচলিত আইইডি বিস্ফোরকের বদলে গুলি ও গ্রেনেডের আঘাতেই নিহত হয় ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান।

বাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘আমাদের বাহিনীর কাছাকাছি বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে মানব-ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাওবাদীরা।’ গ্রামবাসীদের সাহায্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ খুঁটিয়ে নজর রাখছিল মাওবাদীরা, মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সুকমার যে অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে, তা মাওবাদীদের দক্ষিণ বস্তার বিভাগীয় কমিটির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত যার নেতৃত্বে রয়েছে মাওবাদী কম্যান্ডার রঘু। এলাকাটি মাওবাদী জগরগুন্ডা এরিয়া কমিটির অধীনে রয়েছে, যার সর্বময় মাওনেতা পাপা রাও। সিআরপিএফ কর্তাদের দাবি, সোমবারের হানায় নেতৃত্ব দিয়েছে মাওবাদী পিএলজিএ বাহিনী, যার সর্বেসর্বা মাও কম্যান্ডার নেতা হিদমা।

সূত্রঃ http://eisamay.indiatimes.com/nation/sukma-attack-crpf-jawans-were-having-lunch-when-maoists-ambushed-them/articleshow/58363510.cms