বস্তারের শৈশব বিপন্নঃ সোনি সোরি

soni-sori-lead_730x419

সোনি সোরি

বস্তারের সাধারণ মানুষের অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনি সোরি। সেখানকার আদিবাসীদের জল জঙ্গল ও জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন করে পুলিশ ও আধা সেনার নিপীড়নের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। ২০১১ সালে তাঁকে নিয়ে শোরগোল পড়েছিল গোটা দেশজুড়ে, অভিযোগ উঠেছিল ছত্তিশগড়ের পুলিশ তাঁকে ধর্ষণ করে তাঁর যৌনাঙ্গে পাথরের কুঁচি ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তাঁর উপর এ্যাসিড হামলাও চালানো হয়, কিন্তু কোনভাবেই ছত্তিশগড়ের সাধারণ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকে তাঁকে সরানো যায় নি, সেই তিনি সোনি সোরি এবার কলকাতায় এসে বলে গেলেন, বস্তারে প্রশাসনের অত্যাচারে সেখানকার শৈশব কিভাবে বিপন্ন হতে বসেছে সে কথা। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আপেনাআপ ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শনিবার এক সভায় উপস্থিত হয়ে সোনি সোরি ছত্তিশগড়ে বর্তমানে যে গণতন্ত্র হরণ করে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। সোনি জানান বস্তারে এখন সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সেখানকার শৈশবের, একদিকে পুলিশের অত্যাচার, আধা সেনার নিপীড়ন অন্যদিকে মাওবাদীদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেহাদ, এই দুয়ের টানাপোড়েন শিশুদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে। সোনি সোরির মতে নিদারুন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মোকাবিলা করতেই সেখানকার শিশুরা মাওবাদী দলে নাম লিখিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে। সোনির মতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতিক্রিয়াতেই গোটা ছত্তিশগড় জুড়ে মাওবাদী আন্দোলন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। জল জমি জঙ্গল বড় বড় কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দিতে সেখানকার প্রশাসন যে আচরণ করছে তা যে কোন সভ্য মানুষকে কষ্ট দেবে বলে তাঁর মত। সোনি আবেদন করেন ছত্তিশগড়, বিশেষ করে বস্তারের শৈশবকে বাঁচাতে সকল পক্ষ যেন আলোচনায় বসে সেই দাবিতে সোচ্চার হোন দেশের গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটি মানুষ।

সূত্রঃ satdin.in


“সোনি সোরি ‘প্রকৃত বীর’, কাশ্মীরি নারীদের ধর্ষণ করছে ভারতীয় সেনা” : কানহাইয়া

মঙ্গলবার তিনি হাসপাতাল থেকে সোজা দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) গিয়ে হাজির হন।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের সাক্ষাৎ করা ও তাদের আন্দোলনের প্রতি নিজের সমর্থন জানাতে সেখানে যান সোরি।

জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমার সোরিকে জেএনইউয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কানহাইয়া গত মাসে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং গত সপ্তাহে দিল্লির তিহার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

সোরিকে প্রকৃত বীর বর্ণনা করে কানহাইয়া বলেন, “সোরি তার নিজের এলাকা থেকেই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন।”

গত সপ্তাহে কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কানহাইয়া জ্বালাময়ী এক বক্তৃতা দেন। বর্ণ প্রথা, দুর্নীতি ও অন্যান্য সামাজিক বৈষম্য দূর করার শ্লোগান দিয়ে বক্তৃতা শুরু করে একই শ্লোগানের মাধ্যমে বক্তৃতা শেষ করেন।

বক্তৃতায় তিনি ‘ভারতের ভিতরে স্বাধীনতা, ভারত থেকে স্বাধীনতা নয়’- এ দাবি তোলেন।

মুখে ও শরীরে আঘাতের ক্ষত নিয়ে মৃদুভাষী সোরি বলেন, তিনি কারাগারে থাকা জেএনইউ নেতাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন ও তাদের পাশে আছেন।

৯ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মোহাম্মদ আফজাল গুরুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বার্ষিকীতে জেএনইউতে আয়োজিত এক সমাবেশে কানহাইয়া ও তার সহযোগীরা জাতীয়তা-বিরোধী শ্লোগান দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগ কানহাইয়াকে গ্রেপ্তারের পর তার আরো কয়েক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখনও কারাবন্দি আছেন।

ছাত্রসমাবেশে সোরি বলেন, “বস্তারে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা যখন আদিবাসীদের পেটায় ও হত্যা করে, তারাও কি বিশ্বাসঘাতক না, নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করে, কোনো অভিযোগ ছাড়াই? আর এখানে শুধু শ্লোগান দেয়ার ভিত্তিতেই লোকজনকে জাতী-বিরোধী বলা হচ্ছে, কেন এই দ্বিমুখিতা?”

২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বস্তারের কোদেনার এলাকায় তিনজন অজ্ঞাত পরিচয় লোক সোরির উপর হামলা চালায়। রাস্তায় জোর করে তার গাড়ি থামিয়ে তার মুখে এক ধরনের কলো তরল ছুঁড়ে মারে, এতে তীব্র পোড়া যন্ত্রণা ও ব্যাথ্যা শুরু হয়।

মারাত্মক আহত সোরিকে প্রথমে গীদাম হাসপাতালে ও পরে জগদলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

“আমি সরকারকে জিজ্ঞেস করতে চাই, শুধু আমাদের অধিকার দাবি করার কারণে তোমরা আমাদের জাতি-বিরোধী বলছ? আমরা জাতীয়তাবাদী, সন্ত্রাসী না,” হিন্দিতে বলেন সোরি।

তিনি জানান, জেএনইউতে নিরাপদ বোধ করছেন তিনি, কারণ ‘আজাদি’ কী জিনিস তা এখানকার শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি উপলব্ধি করেছেন। কিন্তু এটা শুধু কয়েক মূহুর্তের জন্য, যখনই তিনি বস্তারে ফিরে যাবেন প্রতি নিঃশ্বাসে মৃত্যুর হুমকি তাকে তাড়া করবে।

এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জেএনইউ-র পড়ুয়াদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কানহাইয়া বলেন, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আফস্পার বিরুদ্ধে এবার আওয়াজ তুলতে চান তিনি৷ তাঁর দাবি, সেখানকার নারীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা৷ এই পরিস্থিতি বদলাতেই হবে৷


ভারতঃ কলকাতা- আগামী ১১ই জুলাই, মুক্তাঙ্গন প্রেক্ষাগৃহে গণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘মুক্তি চাই’ সফল করুন

CORPoster_Web-724x1024

মুক্তি চাই!
ছত্রধর মাহাতো সহ সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে গণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

দাবী
এই নিরন্ন স্তব্ধ মধ্যরাত্রির রক্তচোষা উদারতায় নীল নক্ষত্রের
কোটি কোটি মশাল জ্বালানো মুক্ত আকাশের নীচে
ভারতবর্ষ নামক এই বিশাল নিখুঁত ভাবে নির্যাতিত
মনুষ্যত্বগ্রাসী জেলখানা থেকে
সমস্ত রাজনৈতিক বন্দী সহ
সমস্ত গরীব মানুষের
শর্তহীন মুক্তি চাই।”
– ‘মানুষের অধিকার’, মণিভূষণ ভট্টাচার্য।

সুধী,

আজ থেকে দু’মাস আগে, মেদিনীপুরের সেশন কোর্ট ছত্রধর মাহাতো, সুখশান্তি বাস্কে, সগুন মূর্মু, শম্ভু সোরেন, রাজা সরখেল ও প্রসূন চ্যাটার্জীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। অপরাধ ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’! প্রথম চারজনের বিরুদ্ধে ইউ-এ-পি-এ নামক একটি দানবীয় আইনও ব্যবহার করা হয়। সারা দেশ জুড়েই এই রায়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সরব হয়েছেন। আইনের লড়াই-এর পাশাপাশি অন্যান্য ভাবে প্রতিরোধ খাড়া করা ছাড়া আমাদের সামনে আজ পথ নেই।

কিন্তু ছত্রধর মাহাতোরা একা নন। কাশ্মীর থেকে মণিপুর। ছত্তিসগড় থেকে বিহার। মারুতি কারখানার ১৪৮ জন শ্রমিক থেকে সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে অসংখ্য মুসলিম যুবক। জমি লুঠ, জঙ্গল লুঠ, শ্রম লুঠ, দেশ লুঠের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে সাংস্কৃতিক কর্মীরাও। ভারতরাষ্ট্রের জেলখানাগুলিতে পচছেন অনেক ছত্রধর মাহাতো আর অনেক মৌলানা মাদানি। অনেক সাইবাবা আর অনেক শচীন মালি। দেশের যে মানুষেরা খেতে ফসল ফলান, কারখানায় ঘাম ঝরান, বা যারা বনের সম্পদকে বহুযুগ ধরে ব্যবহার ও রক্ষা করে বেঁচে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আক্রমণ আরো সুচারুরূপে প্রাণঘাতী হচ্ছে। দেশের আইন-কানুন অতীতের ধারাবাহিকতা মেনেই যেন আরো বেশি সর্বনেশে হয়ে উঠছে। বিচার-ব্যবস্থাও।

এই প্রেক্ষিতকে মাথায় রেখেই, ‘প্রতিরোধের সিনেমা’র পক্ষ থেকে সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে আগামী ১১ই জুলাই, মুক্তাঙ্গন প্রেক্ষাগৃহে (বেলা ৩টে থেকে সন্ধ্যে ৭টা) একটি গণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তব্য রাখবেন ডাঃ বিনায়ক সেন, সোনি সোরি, শুভেন্দু দাশগুপ্ত, রাজীব যাদব, অজয় টিজি ও অন্যান্যরা। গান নিয়ে থাকবেন অনুশ্রী-বিপুল, নীতিশ রায়, সুস্মিত বোস, স্বভাব নাটক দল, রঞ্জন প্রসাদ ও ‘প্রতিরোধের গান’। আনন্দ পটবর্ধনের তথ্যচিত্র ‘জমির কে বন্দী’ (প্রিজনার্স অফ কনশেন্স) প্রদর্শিত হবে।

আপনার/আপনার সংগঠনের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করবে।