সৌদি আরবে নারীদের ভোটাধিকার নারীদের সত্যিকারের মুক্তি দিতে পারে না

maxresdefault

সৌদি আরবে গত ১২ ডিসেম্বর দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে এই প্রথম বার নারীরা ভোট দেবার সুযোগ পেয়েছেন এবং ৯৭৮ জন নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছেন।
বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নারীরা বুর্জোয়া ভাবাদর্শে যখন অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন, শত বছরেরও অধিককাল যাবত নারীরা ভোট দিচ্ছেন। সামন্ততান্ত্রিক-রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের নারীরা মাত্র ২০১৫ সালে ভোটাধিকার পেলেন। সৌদি আরবের নারীদের জন্য এটা কি কোনো মুক্তির সুবাতাস বয়ে আনবে? নিশ্চয়ই এই ভোটাধিকার কোনো সুবাতাস বয়ে আনবে না। আমরা যদি সৌদি আরবের সমাজ ব্যবস্থার দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখবো সৌদি আরবের নারীদের অবস্থা পুঁজিবাদী সমাজে নারীরা যতটুকু অধিকার ভোগ করতে পারেন সামন্ততান্ত্রিক-রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের নারীরা একধাপ পিছনে পড়ে আছেন। হাস্যকর বিষয়ই বটে- নারীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অথচ তারা নির্বাচনী প্রচারনা করতে পারেননি। নির্বাচনী প্রচারনা করেছেন তাদের পুরুষ প্রতিনিধি। তারা মধ্যযুগীয় ব্যবস্থায় বসবাস করছেন।
নারীর জন্য অবমাননাকর মধ্যযুগীয় বিধানগুলো এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। নারী স্বাধীনতা বা মুক্তি তো আরো সুদূরপ্রসারী বিষয়। যেমন সম্পত্তিতে সমানাধিকার নেই। সৌদিআরবের নারীরা কোনো পুরুষ ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না।
পুরুষটি আবার পরিবারের অভিভাবক হতে হবে। পোষাকের ক্ষেত্রে কঠোর পর্দার মধ্যে চলতে হবে। দু’চোখ ছাড়া আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হবে। নারীদের পর্দা ঠিক মতো হচ্ছে কিনা তারজন্য সৌদিআরবে ধর্মীয় পুলিশও আছে। বিয়ে এবং বিয়ে প্রথাও মধ্যযুগীয় রয়ে গেছে। এসমস্ত ক্ষেত্রে কোনো রকম ব্যতিক্রম হলে বা কোনো নারী না মানলে বা বিদ্রোহ করলে তাকে মাটিতে অর্ধেক পুঁতে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। বেত্রাঘাত করে, র্দোরা মেরে হত্যা করা হয়। অথবা জীবন্ত কবর দেয়া হয়।
এই হচ্ছে সৌদিআরবের সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে নারীর মৌলিক অধিকার পরের বিষয়, মানুষ হিসেবে যে অধিকারগুলো পাবার কথা তাই পাচ্ছেন না। অগণতান্ত্রিক, রাজতান্ত্রিক, পুরুষ তান্ত্রিক নিপীড়নমূলক, পশ্চাদপদ, মধ্য যুগীয় ধর্মান্ধ সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার বহাল রেখে, এই ব্যবস্থার অধীনে সৌদি আরবের নারীরা ভোটাধিকার পেলেও নারীদের সত্যিকার মুক্তি আসবে না। সৌদিআরবই শুধু নয় সমগ্র আরব বিশ্বের নারীদের উপর একই বিধিবিধান বহাল রয়েছে। আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশে নারীরা ভোটাধিকার পেলেও যেমন তাদের মুক্তি আসেনি, তেমনি সৌদি আরবের নারীরাও যে সত্যিকারের মুক্তি পাবেন না তা প্রমাণিত সত্য। নারীমুক্তির শত্রুদের বহাল রেখে নারীমুক্তি আসতে পারে না।
সৌদিআরবসহ সমগ্র আরব বিশ্বের নারীদের মুক্তির জন্য সচেতন, প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবী সংগামে। যেভাবে বিপ্লবী সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন ইরানে আয়াতুল্লা খোমেনীর ধর্মান্ধ-বর্বর একনায়কতান্ত্রিক শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আরব বিশ্বের নারীদের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আরব বিশ্বের নারীদের আর কোনো বিকল্প পথ নেই।