বাস্তার নিয়ে সাংবাদিকের রিপোর্টের দায় নিতে নারাজ NDTV

maya-mirchandani_650x400_41425720255

বাস্তারে আদিবাসী মহিলাদের স্তনে হাত দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা পরীক্ষা করে দেখছে স্তনে দুধ রয়েছে কি না, যদি দুধ থাকে তাহলে সে বিবাহিত আর তা হলেই সে মাওবাদী নয়। এই ভয়ঙ্কর খবর আজ আর অনেকেরই অজানা নয়। ইতিপূর্বে এ বিষয়টি নিয়ে বাংলায় প্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিল লাল সংবাদ । এছাড়াও অজানা নয় ভুয়া সংঘর্ষে গত কয়েক মাসে বাস্তারে অন্তত ১০০জনের হত্যার খবরও।  মূল ধারার বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলো  এই খবরগুলোকে সাধারণত এড়িয়েই চলে। তবে সম্প্রতি NDTV এর সাংবাদিক মায়া মিরচান্দানি বাস্তার সফর করে এরকমই খবর জানিয়েছেন তাঁর সংস্থাকে। NDTV এর ওয়েবসাইটে তা আপলোডও করা হয়েছে। তবে সতর্কীকরণ সহ। জানান হয়েছে রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা মায়ার ব্যক্তিগত মত এর দায়  NDTV -এর নয়।

রিপোর্টটি পড়ার জন্যে নীচে ক্লিক করুন –

How Breastfeeding Women Are Abused In Bastar – And Other Horror Stories

Advertisements

নকশাল পরীক্ষাঃ সেনা ও পুলিশ কর্তৃক আদিবাসী নারীদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তারা নকশাল কিনা?

blur-800x445

প্রিয়াঙ্কা শাণ্ডিল্য ও জি এস দিব্যা

গত ১২ই জানুয়ারি ২০১৬ সালে, ছত্তিসগড়ের সুকুমা জেলার পেদ্রাস গ্রামে রাষ্ট্রীয় ব্যাটেলিয়ন টহল দেয়ার সময় আদিবাসী নারীদের ‘নকশাল পরীক্ষা’ দেয়ার জন্যে যেতে বলে। এটা সরকারের একটা অন্তর্নিহিত নিয়ম যে, যদি কোন আদিবাসী নারী অবিবাহিতা হন তবে সে নকশাল। কারণ নকশালরা কখনো বিয়ে করে না। ‘নকশাল পরীক্ষা’য় একজন আদিবাসী নারীকে নকশাল নন এটা প্রমাণ করার জন্যে তাঁর স্তন থেকে দুধ বের করতে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়। কখনও কখনও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আদিবাসী নারীদের কাপড় ছিড়ে এবং তাদের স্তন টিপে অথবা কখনও কখনও নারীরা নিজেরাই তাদের জীবন রক্ষা করার জন্যে এই পরীক্ষা করতে বাধ্য হন। এই পরীক্ষাটি নির্বিচারে তাদের বয়সী সকল নারীর জন্য প্রযোজ্য এবং এমনকি স্তন্যদায়ী মায়েদেরও স্পর্শ করা হয়। যদি স্তন থেকে দুধ বের না হয় তবে তিনি নকশাল। এই পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে যে, যারা বিবাহিত তাদের স্তনে দুধ থাকতে হবে এবং যাদের স্তনে দুধ আসে না তারা অবিবাহিত ও নকশাল। পুলিশ/সেনা টহলের সময় এটা খুব সাধারণ বিষয় যে আদিবাসী নারীদের বিবাহিত হিসেবে নিজেদের ভাষায় বর্ণনা করতে ‘মঙ্গলসূত্র’ পড়ে থাকতে হয়, কারণ তাদের প্রধান উদ্বেগ নিজেদের জীবন রক্ষা করা। এই ঘটনায় অর্ধ ডজন নারী আটক হয়েছে, যৌন নির্যাতন, পিটানো ও ধর্ষন করা হয়েছে এবং সেনারা পেদ্রাস গ্রামে এক নারীর হাতও ভেঙে দিয়েছে।

এই ধরনের বিষয়টি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর আগে ছত্তিসগড়ের সুকুমা ও দান্তেওয়াদা জেলায় ‘নকশাল পরীক্ষা’র দুটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু এটা মিডিয়ার মনোযোগ পায়নি কিংবা ফোরামে কোনো আলোচনা পর্যন্ত ওঠে ​​নি, বিচার পর্যন্ত পৌঁছানো তো দূরের কথা !!

একজন আদিবাসী নারী যিনি বন্দুকের নলের মুখে যৌন নির্যাতিত, ধর্ষণ হচ্ছেন, তার নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে সংগ্রাম করছেন এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছুই হতে পারে না।

এখানে প্রশ্ন- সম্মান, মর্যাদা ও নৈতিকতার নয়, বরং সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচার।

অনুবাদ সূত্রঃ