১৩০তম মহান মে দিবসে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখা’র আহবান

peasants-launch-manifesto-for-agrarian-reform-after-historic-meeting

১৩০ তম মহান মে দিবসের ডাক

কৃষকের সার্বিক মুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবী রাজনীতিকে শক্তিশালী করুন!

কৃষকের উপর পুঁজিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক শোষণ উচ্ছেদে কৃষি বিপ্লবী কর্মসূচিকে আঁকড়ে ধরুন!

 

বন্ধুগণ,

১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস।

১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগোতে হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ হলে পুলিশ তাদের উপর গুলি চালায়।  শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় শিকাগোর রাজপথ। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকদের আন্দোলনের কাছে শাসক শ্রেণি ও মালিকরা মাথা নত করতে ও শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।  এর পর থেকে আন্তর্জাতিভাবে ১লা মে শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  আমাদের দেশে ৮ঘণ্টা শ্রম দিবস আজও কার্যকর হয়নি।  গার্মেন্টস শ্রমিকদের এখনো ১২/১৬ ঘণ্টা খাটানো হচ্ছে।  তাদের ন্যূনতম বেসিক মজুরি ৮,০০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন মালিক পক্ষ পুলিশ-মাস্তান দিয়ে দমন করলেও মজুরি কিছু বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়।  ইতিহাসে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ এবং লাগাতার আন্দোলন ছাড়া তাদের কোনো দাবিই আদায় হয়নি।  তাই, মে দিবসে রং মেখে নৃত্য করার দিন নয়।  শ্রমিকদের সার্বিক মুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার দৃপ্ত শপথ নেওয়ার দিন।  বড় ধনী শোষক শ্রেণি মে দিবসের চেতনাকে বিপথগামী করে উৎসবের দিন হিসেবে প্রচার করছে।

এই শ্রমিকশ্রেণির সার্বিক মুক্তি তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজে প্রধান নিপীড়িত-শোষিত কৃষকদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।  সেজন্য গ্রামে কৃষকদের মাঝে মে দিবস পালন ও তার রাজনৈতিক শিক্ষা প্রচারে জোর দিতে হবে।  শ্রমিক-কৃষকের দৃঢ় ঐক্য গড়তে হবে।

বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন নয়া বাকশালী কায়দায় আওয়ামী ফ্যাসীবাদ জনগণের ঘাড়ে দৈত্যের মতো জেঁকে বসেছে, এবং একে স্থায়ী করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে-চক্রান্তে তারা লিপ্ত রয়েছে।  সংবিধান, আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া প্রভৃতি দলীয়করণ করেছে।  আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনকে পাকাপোক্ত করতে মরিয়া এ সরকার বিগত পৌর ও চলমান ইউপি নির্বাচনেও ব্যাপক সন্ত্রাস ও পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে চলেছে।  এভাবে এরা এদের  বুর্জোয়া নির্বাচনী ব্যবস্থাকেও পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।  গ্রেপ্তার, খুন, ধর্ষণ, গুম, মিথ্যা মামলা দিনকে দিন বেড়েই চলছে।  বিগত চার মাসে এক হাজারের বেশি হত্যাকা- ঘটেছে।  সেনা বাহিনীর আবাসিক এরিয়ায় কলেজছাত্রী তনু হত্যাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে।

এই সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সহ উন্নয়নের নামে কৃষি জমি ও গ্রামকে গ্রাম বসতবাড়ি দখল, বস্তি উচ্ছেদ এবং মানুষ খুন করে চলেছে।  বাঁশখালী, হবিগঞ্জ এবং রামপালের  ঘটনা এর সাম্প্রতিক উদাহরণ।

কৃষিক্ষেত্রে পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণের কারণে কৃষকদের অবস্থা আজ আরো সংকটাপন্ন। বীজ, সার, কীটটনাশক, ডিজেল, বিদ্যুৎসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষক জনগণ কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।  প্রতিমণ ধান উৎপাদনে যা খরচ হয় তার চেয়ে অনেক কমে ধান বিক্রি করতে হয়।  অনেকেই অন্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন।  মাছ, মাংস ও সবজি চাষীরাও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।  মধ্যসত্ত্বভোগী দালাল ফরিয়ারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে- যাদের বিরাট অংশই সরকারি দলের নেতা-কর্মী- বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করে কৃষককে তার উৎপাদিত পন্য কম দামে বেচতে বাধ্য করছে।

সংগ্রামী হাওরবাসী,

কৃষি ও মাছ নির্ভর হাওর অঞ্চলের কৃষক ও জেলেদের নানাবিধও সমস্যা রয়েছে।  দুর্বল ফসলরক্ষা বাঁধ অথবা কোথাও তা না থাকার কারণে প্রতি বছরই পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়।  জোতদার-মহাজনী-এনজিও চড়া সুদের শোষণে কৃষকদের অনেকে ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছে।  অনেকে কৃষির বদলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।  নিম্ন মাঝারি কৃষকেরা কোনরকমে টিকে রয়েছে।  জেলেরা মাছ ধরার অধিকার থেকে বঞ্চিত।  নদী-বিল-ফিসারী মুনাফা লোভী ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে।  জেলেদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এসবের বিরুদ্ধে “কৃষক মুক্তি সংগ্রাম” কৃষক ও জেলেদের আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদেরকে সংগঠিত করে চলেছে।  এবং মূল কর্মসূচি কৃষকদের বিপ্লবী কৃষি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সক্রিয় রয়েছে।  আপনারা দলে দলে এ সংগঠনে যোগ দিন।

আওয়াজ তুলুনঃ

– সকল শ্রম ক্ষেত্রে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকর করতে হবে!

– নারী-পুরুষের সমশ্রমে সম মজুরি দিতে হবে!

– “খোদ কৃষকের হাতে জমি”- এই নীতির ভিত্তিতে ভূসি সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন, সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

– প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বণ্টন- এই নীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন!

– ছাত্র-বুদ্ধিজীবীগণ, “গ্রামে চলো” কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সাথে একাত্ম হোন!

– মাছ ধরবেন যিনি, জলার মালিক তিনি- বাস্তবানের জন্য আন্দোলন করুন!

– কৃষক মুক্তি সংগ্রাম- জিন্দাবাদ!

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখা ॥ মে,  ২০১৬।

 

Advertisements