ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবীতে ১১ই আগস্ট গণ কনভেনশন

r

 

rr

Advertisements

ভারতের গণযুদ্ধে শহীদ নারী (১৭), কমরেড পদ্মাক্কা

 poddakka

কমরেড পদ্মাক্কা

  কমরেড পদ্মাক্কা ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের কর্ণোল জেলার আদোনী শহরের অধিবাসী। ছাত্রীবস্থায় তিনি বিপ্লবী রাজনীতির প্রভাবে আসেন ও ১৯৮৩ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। ১৯৮২-১৯৮৩ বছরগুলিতে কর্ণোলের ছাত্রদের মধ্যে তিনি কাজ করেন আর বিপ্লবী রাজনীতি প্রচার করেন। বিপ্লবী কাজের ধারাবাহিকতায় তিনি এক সহকর্মী কমরেডের প্রেমে পড়েন এবং তাকে বিয়ে করেন। তখন থেকে এই দম্পতি তাদের যুগলজীবনকে আন্দোলনের অগ্রগতির জন্য উৎসর্গ করেন। ১৯৮৫-৯০ সময়কালে তিনি সব সময় নারী সমস্যা নিয়ে ভাবতেন ও বিভিন্ন স্তরের পার্টি-কমিটিতে তা আলোচনা করতেন। এই সময়কালে একটি টেকনিক্যাল কাজ করার সময় কমরেড পদ্মাক্কা সমাজে নারীরা যে সমস্যা মোকাবেলা করছে সে বিষয়ে তীক্ষ্ণ আগ্রহ প্রকাশ করেন। নারীদের সংগঠিত করার কাজ করতে কঠিন পরিশ্রম করেন। ৮০ দশকের শেষার্ধ থেকে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের রয়েলসীমা অঞ্চলে নারী আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব নিলেন এবং এই দায়িত্ব পালন করতে করতেই মাত্র ৩৪ বছরের তরুণ বয়সে শহীদ হয়ে জীবন দিলেন।

  আন্ডারগ্রাউন্ড জীবন যাপনকারী একজন নারী হিসেবে যে সব সমস্যা ও কষ্ট মোকাবেলা করতে হয় কমরেড পদ্মাক্কা দক্ষতার সাথে হাসিমুখে সে সব সমস্যা সমাধান করেছেন, সেই সঙ্গে সাথী নারী কমরেডদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি নারী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য কমরেড পদ্মাক্কা এক দশক ধরে ক্লান্তিহীন ও অব্যাহতভাবে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন সবেমাত্র তার ফল ধরতে শুরু করেছিল। কমরেড পদ্মাক্কা সেইসব কমরেডদের অগ্রভাগ ছিলেন যারা নতুন জাত কিছু নারী লেখক ও নারীবাদী কর্মীদের মধ্যে বিদ্যমান ভুল চিন্তাধারার বিরুদ্ধে জীবন-মরণ রাজনৈতিক সংগ্রাম চালান। কমরেড পদ্মাক্কা ছিলেন একজন আদর্শ কমিউনিস্ট যিনি তার মতাদর্শগত স্তরকে উন্নত করতে প্রয়াস করেছেন। যাতে সেই সব উপদলের মুখোশ উন্মোচন করতে নিজেকে সক্ষম করে তোলা যায়। যারা সাম্রাজ্যবাদী ‘সাহায্য সংস্থা’ থেকে ভিক্ষা নিয়ে নারীবাদী চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিল, যারা ছিল সাম্রাজ্যবাদের পরোক্ষ সমর্থক। কমরেড পদ্মাক্কা তার ও নারী ফ্রন্টে কর্মরত সহকর্মী কমরেডদের জন্য পার্টির কাছে নিয়মিত গাইড চাইতেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নারী আন্দোলনে নিজেকে উৎসর্গ করেন এবং বিবিধ নারী সমস্যা বুঝতে ও অধ্যয়ন করতে তার কমরেডদের গাইড দিতেন। অন্ধ্রপ্রদেশে পার্টির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯৯২ সালে রাজ্য বিশেষ প্লেনামে নারীরা প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেন, আর কমরেড পদ্মাক্কা ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশ বিশেষভাবে একটি টাস্কফোর্স গঠন করলো কমরেড পদ্মাক্কাকে হত্যা করতে, যিনি ছিলেন নিলোর ও রয়েলসীমা অঞ্চলের মদ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতন চালিয়ে হত্যাসহ নারীদের বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের নেতৃত্বে। এই বর্বর অফিসগুলো শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্বর কমরেড পদ্মাক্কাকে ধরতে সক্ষম হলো। তার উপর অত্যাচার চালাতে যে সব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তা এমনকি একদা কুখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকার BOSS (ব্যুরো অব স্টেট সিকিউরিটি)-কেও লজ্জায় ফেলবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে তার সমগ্র শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলা হয়েছিল এবং তার দু’টি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। আসুন আমরা গভীরভাবে অনুভব করি কমরেড পদ্মাক্কার আত্মত্যাগ আর আদর্শের প্রতি দৃঢ়তা, যা তিনি শত্রুর সকল নির্যাতন সহ্য করে প্রদর্শন করে গেলেন।

  আসুন, আমরা বিপ্লবী সালাম জানাই, সর্বহারা যোদ্ধা কমরেড সুরাইয়া ও নারী বিপ্লবী যোদ্ধা কমরেড পদ্মাক্কাকে তাদের অনুপম ত্যাগ ও সাহসিকতার জন্য।

সুত্র

http://bannedthought.net/India/CPI-Maoist- Docs/Women/WomenMartyrsNaxalbariTo2010-Vol-1.pmd.pdf