কলকাতাঃ কিষেণজি নিয়ে মিছিল করল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)

1336263185

কিষেণজির মৃত্যু নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে বুধবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। পরে পথসভায় অভিনন্দনও জানানো হয় তৃণমূল সাংসদ তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যিনি সম্প্রতি এক জনসভায় জানান, কিষেণজিকে হত্যা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এপিডিআরের সাধারণ সম্পাদক ধীরাজ সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘অভিষেককে অভিনন্দন। তিনি সত্যকে সামনে এনেছেন।’’ তাঁদের অভিযোগ, কিষেণজিকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে। ২০১১-র ২৪ নভেম্বর ঝাড়গ্রামের কাছে বুড়িশোলের জঙ্গলে ওই মাওবাদী নেতার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ মেলে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/rally-for-kishenji-at-dharmatala-1.180664


ভারতঃ কিষেনজির মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থ মামলা করবে APDR

images

1336263185

কিষেনজিকে হত্যা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বেলপাহাড়ির জনসভায় মমতার কৃতিত্ব দাবি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের জেরে জনস্বার্থ মামলা করতে চলেছে APDR। তবে কিষেনজির পরিবার যাতে এই মামলা করে তার চেষ্টা করছে APDR। তা না হলে APDR নিজেই এই মামলা দায়ের করবে। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার কর্মীরা  অভিযোগ করে আসছিলেন আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে এসে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে কিষেনজিকে। তৃণমূল সাংসদের  বক্তব্যে সেই দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হল মনে করছেন পর্যবেক্ষক  ।

২০১১ সালে ২৪ নভেম্বর নিহত হন মাওবাদী পলিটব্যুরোর সদস্য কিষেনজি। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। পরে জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী  জানিয়েছিলেন  যৌথবাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কিষেনজিকে।

সূত্রঃ  http://satdin.in/?p=3419


ভারতঃ আনাগোনা বাড়ছে মাওবাদীদের, ‘খোকাদা’কে নিয়ে বিভ্রান্ত পুলিশ

300845-naxals-6565

ছত্রধর মাহাতোর সাজাকে ঢাল করেই কি জঙ্গলমহলে ফের নিজেদের জমি তৈরির কাজে নেমে পড়ল মাওবাদীরা? গত তিন-চারদিনে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় হঠাত্‍ করেই মাওবাদী তত্‍পরতা বেড়ে যাওয়ায় এমন আশঙ্কাই করছেন গোয়েন্দারা৷ এক সময় মাও অধ্যুষিত বেলপাহাড়ি, লালগড়ে এখন ঝাড়খণ্ড থেকে মাঝে মধ্যেই ঢুকছে ছয়-সাতজনের সশস্ত্র স্কোয়াড৷ এদের নেতৃত্বে থাকছেন মাওবাদী কমান্ডার রঞ্জিত পাল৷ দীর্ঘ সময় পুরুলিয়ার অযোধ্যা স্কোয়াডের দায়িত্বপ্রান্ত রঞ্জিত কাজও শুরু করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকায়৷

শুক্রবার এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ‘বর্ষা এগিয়ে আসছে, সুতরাং জঙ্গল আরও গভীর হচ্ছে৷ সেই সুযোগটা নেওয়ার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা৷ শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্তত পাঁচ জায়গায় মাওবাদীদের আনাগোনার খবর জানতে পেরেছি আমরা৷ কিন্তু সব কটা খবরই এসেছে ওরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পর৷ এটাই উদ্বেগের৷’ জানা গিয়েছে, গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বেড়েছে একটি অজানা নামকে ঘিরেও৷ বেলপাহাড়ি এলাকায় ‘খোকাদা’ নামে ওডিশার বাসিন্দা এক ব্যক্তি এসে সংগঠন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন মাসখানেক আগে৷

এক গোয়েন্দা কর্তার ব্যাখ্যা, ‘এই অজানা নামগুলিকে নিয়েই সমস্যা৷ কারণ অনেক পরে হয়তো জানা যাবে ওই ব্যক্তি আসলে কে? এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০০ সালের শুরুর দিকেও৷ সে সময় বেলপাহাড়ির পুকুরিয়া গ্রামে মাওবাদী নেতা কিষেণজি প্রথম সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছিলেন ‘বিমলদা’ নাম নিয়ে৷ যখন আমরা জানতে পারি বিমলদাই আসলে কিষেণজি, ততদিনে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে৷’ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের মতো আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না মাওবাদীরা৷ আবার তারা প্রথম দিকের মতো ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান শুরু করেছে৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বেলপাহাড়ির ভূমিপুত্র হলেও মদন মাহাতোর কাজকর্মে মাওবাদী নেতৃত্ব খুশি নয়৷ ফলে তারা মদনকে সাংগঠনিক কাজ থেকে দূরে রেখেছে৷ ছত্তিসগড়ে গা ঢাকা দিতে চলে যাওয়া মহিলা নেত্রী তারাকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে৷ এবং এই ঝাড়খণ্ডের সীমানাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এ রাজ্যে নতুন করে জমি তৈরির জন্য৷

শুক্রবার এক পুলিশ কর্তা বলেন, আসলে মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে নতুন করে জল মাপতে চাইছে৷ বিভিন্ন পঞ্চায়েতে তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে গোলমালকে কতটা কাজে লাগানো যায় তা দেখতে দিনের বেলা গ্রামে ঢুকে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়েও যাচ্ছে তারা৷ কমিটির বহু নেতা বাঁচার স্বার্থে তৃণমূলে যোগদান করলেও তাদের অনেকেই পুরোনো মনোভাব পাল্টাতে পারেনি৷ তাদের গতিবিধির উপরেও নজরদারি চলছে৷ যেমন, লালগড় অঞ্চলে জনসাধারণের কমিটির এক প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বাঁশতলায় রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানোর মতো ঘটনার পর সংগঠনের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফিরে এসে শাসকদলে নাম লেখান৷ এ ধরনের লোকেদের বিরুদ্ধেও মাওবাদীরা কৌশলে প্রচার শুরু করেছে৷ খুব সম্প্রতি রামগড়ে এক ঠিকাদারের কাজে অসন্ত্তষ্ট হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখেছিলেন৷ পরে পুলিশ খবর পেয়ে আসায় তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷ দীর্ঘক্ষণ ঝামেলার পর সেই ঠিকাদারকে ছাড়া হয়৷ চলতি মাসের গোড়ায় বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা পঞ্চায়েত অফিসে একশো দিনের কাজের টাকা না পেয়ে সরকারি কর্মীদের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা৷ এর পিছনেও মাওবাদীদের মদত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশকর্তাদের৷

জানা গিয়েছে, ছত্রধর মাহাতোর সাজা হওয়ার বিষয়টি নিয়েও জঙ্গলমহলে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাওবাদীরা৷ তাদের স্ট্র্যাটেজি, গ্রামের লোকেদের মধ্যে প্রচার করতে হবে যে উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করায় ছত্রধরকে সাজা দেওয়া হয়েছে৷ অথচ সেই আন্দোলনের জেরে উন্নয়ন যখন শুরু হল তখন শাসকদলের কিছু নেতারাই সব লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ আপাতত দলের তরফে এই প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন রঞ্জিত পাল৷ ইতিমধ্যেই আজনাশুলি, আগুইবনির মতো জঙ্গল এলাকাগুলিতে যাতায়াত শুরু করেছেন তিনি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসীর কথায়, দিন পনেরো আগে রঞ্জিত পাল আরও কয়েকজনকে গিয়ে আজনাশোলে এসেছিল৷ গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তাবও দেয়৷ কিন্তু দশ-বারোজনের বেশি গ্রামবাসী সেই বৈঠকে যাননি৷

শুক্রবার জঙ্গলমহলের কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক কর্তা বলেন, ‘৬ মাস আগে মাওবাদী নেতা বিকাশ ওদলচুয়ায় ঢুকেছে বলে আমরা জানতে পারি৷ রাতে সেখানেই হানা দিয়েছিলাম৷ তবে তার পাঁচ মিনিট আগেই সে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়৷ আগে এ সব খবর দ্রুত আমাদের কাছে চলে আসছিল৷ এখনও খবর আসছে ঠিকই, কিন্তু বড্ড দেরিতে৷ এটাই আমাদের চিন্তা বাড়িয়েছে৷’

সূত্রঃ

 http://banglaheadline.com/2015/05/17/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0/