আসামে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বাড়ছে

ULFA-2

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হওয়ায় ভারতের আসাম রাজ্যে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের এভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ, প্রশাসন।

আসামের স্বাধীন গোষ্ঠীর (উলফা আই) স্বঘোষিত সর্বাধিনায়ক পরেশ বড়ুয়ার ভাইয়ের ছেলে মুন্না বড়ুয়া সম্প্রতি বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছেন।

ছেলের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন পরেশ বড়ুয়ার ভাই বিমল বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের কাছে বিমল বড়ুয়া বলেন, ‘ছেলে জেনেবুঝেই স্বজাতিকে রক্ষা করার কাজে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই।’

আসামের গণমাধ্যম উলফা আই নেতা পরেশ বড়ুয়াকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাঁর ভাইয়ের ছেলে স্বেচ্ছায় সশস্ত্র আন্দোলনে নাম লেখানোয় তিনি খুশি। আসাম জাতির জন্য এই আত্মত্যাগ তাঁকে গর্বিত করেছে বলেও নাকি পরেশ মন্তব্য করেছেন।

শুধু মুন্না বড়ুয়াই নন, রাজ্যে নতুন করে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা নিজেদের পেশা ভুলে যোগ দিচ্ছেন জঙ্গলের জীবনে। এই প্রবণতায় বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বন্ধে সব রকম তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আসামের পুলিশপ্রধান। সেই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এমনকি আসামের পুলিশপ্রধান তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, বন্দুকের নল দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে এই মত মানতে নারাজ উলফার আলোচনাপন্থী নেতা অনুপ চেটিয়া। তাঁর ভাষ্য, আসামের নাগরিকেরা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নাগরিকত্ব বিল পাস হলে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে যাবে আসাম। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতি তাই আস্থা নেই তরুণদের। এ কারণে তাঁরা হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত সরকার। এ জন্য বিল আনা হয়েছে পার্লামেন্টে। বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন।

অনুপ চেটিয়াদের মতে, বিলটি পাস হলে সমস্যায় পড়বে আসামের নাগরিকেরা। তাই তাঁরা ‘বিদেশি অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসছেন।

Advertisements