ইউরোপ জুড়ে আটক তুরস্কের মাওবাদী বিপ্লবীদের ট্রায়াল শুরু হয়েছে জার্মানিতে

13417428_1549102678719145_6186050069377615131_n

13428370_1549102815385798_3146588405612707018_n

13466448_1549102688719144_6832076386784238697_n

mahkeme_atik

ATİK(ইউরোপে তুরস্কের ওয়ার্কার্স কনফেডারেশন) এবং তুরস্কের মাওবাদী পার্টি(TKP/ML) এর নেতা সন্দেহে জার্মানি, ফ্রান্স, গ্রীস এবং সুইজারল্যান্ডে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ১০জন বিপ্লবীর ট্রায়াল গত ১৭ই জুন থেকে জার্মানিতে শুরু হয়েছে।  আটক বিপ্লবীদের কঠোর বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে এবং বন্ধু, পরিবার ও আইনজীবীদের থেকে তাদের যোগাযোগ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

তাদের ইতিমধ্যেই তুরস্কের মাওবাদী পার্টি((TKP/ML)-র সাথে একাত্মতার জন্য তুরস্কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এরই ভিত্তিতে তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে।  জার্মানির ফৌজদারি আইন ১২৯/এ-বি এর অধীনে, বিদেশী বংশোদ্ভূত কেউ যদি তাদের দেশে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে জার্মান রাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম” এর জন্যে তাদের যে কাউকে অভিযুক্ত করতে পারে।

TKP/ML হচ্ছে একটি মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি, যারা তুরস্ক ও উত্তর কুর্দিস্তানের শোষিত, নিপীড়িতদের রক্ষায় সংগঠিত হয়ে গত ৪০ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী তুরস্ক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।  তাদেরই সশস্ত্র শাখা শ্রমিক ও কৃষক লিবারেশন আর্মি(TİKKO), আন্তর্জাতিক ফ্রিডম ব্যাটালিয়নের অংশ হিসেবে রোজাভায় কুর্দি যোদ্ধাদের পাশাপাশি থেকে আইএসআইএস ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

Advertisements

ATIK কমরেড – মেহমেত ইয়েসিলকালি’র জন্যে স্বাধীনতা

mehmet_yesilcali-300x257

turchia510669175754364_4886993231518531945_n


পোস্টারঃ ATIK এর কারারুদ্ধ বন্দীদের মুক্তি চাই

upodutak_ENGLISH


থেসালোনিকি, গ্রীস। ATIK এর সাথে সংহতি জানিয়ে!

atik

২৩ মে, ২০১৫

ATIK (Confederation of workers from Turkey in Europe) এর মিলিট্যান্টদের গণ গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ২৩শে মে গ্রীসের থেসালোনস্কিতে জার্মান কনসুলেটের সম্মুখে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমর্থক কমিটি এ আন্দোলনের আয়োজক। জার্মানিতে চলমান জুডিশিয়াল প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়। বিক্ষোভ শেষে কনসুলেটের দেয়ালে একটি চিঠি লাগিয়ে দেয়া হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্রীসের কারাগারে বন্দী তুরস্কের তিনজন মিলিট্যান্টকে মুক্তি দেয়ার দাবী জানানো হয়েছে ও তাদেরকে জার্মানী ও ফ্রান্স সরকারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবী জানানো হয়েছে।। পরে বিক্ষোভকারীরা সংহতিমূলক স্লোগান দিয়ে ও লিফলেট বিতরণ করতে করতে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। নিকট ভবিষ্যতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


মোদীর সফরে মাওবাদী হাতে আটক ২৫০, মুক্তি, জনতার আদালতে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

2afeab2c-6f96-4d23-8a29-b70f89aa5714wallpaper1

কথিত উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এ বারে মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তিনি গিয়ে ওঠার আগে রাত থেকেই কমপক্ষে দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে রেখে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরে তাদের আদৌ আস্থা নেই। মাওবাদীদের দাবি, এলাকার ভূ-সম্পদ লুঠ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়াই এই দুই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ দিন রাতে ওই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিলেও, মাওবাদীরা ‘জন আদালত’-এ বিচার করে এক জনকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোদীর সভাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জিরম উপত্যকায়। দু’বছর আগে ঠিক এখানেই কংগ্রেসের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালিয়ে বেশ কয়েক জন নেতাকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দন্তেওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ গিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। এর তিন দশক পরে গেলেন মোদী। কলকাতায় যাওয়ার আগে তাঁর এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুটি: এক, মাওবাদী অধ্যুষিত এই একটি জেলাতেই ২৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। যে প্রকল্পে ইস্পাত কারখানা থেকে রেল লাইন পাতা হবে। দুই,  মাওবাদীদের সুস্থ জীবনে ফেরার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মাওবাদীরা বয়কটের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, সুকমা জেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শুধুই দেশি-বিদেশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই সব প্রকল্প ঘোষণা করছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই কেন্দ্র জমি বিল আনতে চাইছে। বস্তারে হচ্ছে সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলও। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি তাই কেন্দ্রের ‘ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের সরকার’-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দন্তেওয়াড়ায় শান্তি-বার্তা দিয়ে মোদী কলকাতায় পৌঁছে গেলেও রমন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে ওঠে আটক করে রাখা গ্রামবাসীদের মুক্তির বিষয়টি। আলোচনার পথেই তাঁদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকে রাজ্য প্রশাসন। রাতে এক জন বাদে সবাইকেই ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সদারাম নাগ এক জন শুধু জীবিত ফেরেননি। ‘জন আদালতে দোষী’ হওয়ায় মাওবাদীরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

images (2)

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদী মোকাবিলার পথ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ইউপিএ আমলের এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে রাজনাথ সিংহের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি খসড়া নীতিও তৈরি করে। যেখানে বলা হয়, দরকারে স্থলসেনা ও বায়ুসেনাকেও মাওবাদী মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। এই খসড়া সমালোচনার ঝড় তোলে। দেশের সেনাকে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে মোদী আজ মাওবাদী গড়ে গিয়ে যে ভাবে উন্নয়নের কথা বললেন, সেখানকার মানুষের দুঃখ-বেদনা বোঝার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট, কেন্দ্র এখন দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে। এক দিকে কড়া হাতে মাওবাদী মোকাবিলার প্রস্তুতি চালানো। এর পাশাপাশি, উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

মোদী এই সফরে দু’টি কাজই করতে চাইলেন। চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ১৮৮টি মাওবাদী হামলা হয়েছে। নিহত ৪৬ জন। এই অবস্থায় মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও গ্রামবাসীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। আর তাঁর বক্তব্যে জোর পেল দ্বিতীয় পথটি।

সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/india-news/pm-modi-to-visit-dantewada-today-maoists-call-for-bandh/article1-1345390.aspx