মাওবাদী গেরিলা দল – ‘ভুটান টাইগার ফোর্স’

Communist_Party_of_Bhutan_Flag.svg

ভারত ও চীনের মধ্যবর্তী ছোট্ট এলাকা নিয়ে রয়েছে ভুটান। দুই পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী দেশের চাপের কারণে দীর্ঘদিন ভুটান নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিল বহির্বিশ্বের কাছে। এমনকি টেলিভিশন, ইন্টারনেট- সব কিছুই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ছিল দেশটিতে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। জনগণের সুখে থাকার সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয় দেশটির উন্নয়ন; অন্তত এমনটাই প্রচারিত হতো। এ প্রচার-প্রচারণার মধ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থা মূলত দীর্ঘদিন রাজতন্ত্রের হাতে বন্দি ছিল। উত্তরাধিকারসূত্রে রাজা দর্জি ওয়ানচেকের পর ক্ষমতাসীন হন তাঁর ১৬ বছরের ছেলে। দীর্ঘ বছর ধরে চলতে থাকা রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ হওয়ার কোনো চিহ্ন ভুটানে ছিল না। কিন্তু ২০০০ সালের দিকে ভুটানের রাজা গোটা ভুটানের ভাষা ও সীমারেখা পুনর্নিধারিত করলে নেপালি ভাষাভাষী ভুটানিরা তার প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ১০ দফা দাবি নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘দ্য ভুটান কমিউনিস্ট পার্টি’; যা সংক্ষেপে ‘সিপিবি’ নামে পরিচিত। আর ভুটান কমিউনিস্ট পার্টির(BCP [MLM]) সশস্ত্র বাহিনী ‘ভুটান টাইগার ফোর্স’ মূলত গেরিলা বাহিনী হিসেবে কাজ করে। ২০০৩ সালের ২২ এপ্রিল যাত্রা শুরু হয় ভুটান টাইগার ফোর্সের।

রাজতান্ত্রিক শাসন ক্ষমতা ভেঙে নয়া গণতান্ত্রিক ভুটান প্রতিষ্ঠা দলটির মূল দাবি। তা ছাড়া আদর্শিকভাবে মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট-মাওইস্ট ভাবনাপন্থী হওয়ায় সার্বিকভাবে সামাজিক সাম্য ও বৈষম্যহীনতা একান্ত কাম্য। ক্ষমতাবান দুই প্রতিবেশীর কারণে ভুটানের রাজা বরাবরই ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ফলে ভুটানের শাসনব্যবস্থায় ব্রিটেনের প্রভাব স্পষ্ট। তাই গণতন্ত্র, সাম্য- সব মিলিয়ে স্বাধীন, সর্বোভৌম ভুটান প্রতিষ্ঠা দলটির প্রধানতম দাবি। গেরিলা দলটিকে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ট্রেনিং, অস্ত্র, লোকবল- সব কিছু দিয়েই সাহায্য করছে শুরু থেকেই। ভুটানে নিষিদ্ধ হলেও ‘ভুটান টাইগার ফোর্স’ এখনো আন্ডারগ্রাউন্ড গেরিলা দল হিসেবে কাজ করছে। দলটি ২০০৭ সালের ১৩ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সালের ২৩শে এপ্রিল ও ৩০শে ডিসেম্বর, ২০০৯, ২০১০ সালে কয়েকটি গণযুদ্ধ পরিচালনা করে।  দলটির বর্তমান গেরিলা সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৬০০-১০০০ জন।

Advertisements