ভারতঃ নিহত মাওবাদীদের মধ্যে একজন ছিল সূর্যপেটের ১৯ বছরের কিশোর

v1

v2

11391174_711063599020198_2603492459987221721_n

শুক্রবার তেলেঙ্গানা-ছত্তিসগড় সীমান্তের কাছে পুলিশের সাথে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত মাওবাদীদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম বিবেক কোডামাগুন্ডলা (১৯)। তিনি হায়দ্রাবাদের পেন্ডেকান্তি আইন কলেজের পাঁচ বছর মেয়াদী কোর্সের পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিবেকের মৃত্যু তার নিজের শহর সূর্যপেটকে নাড়া দিয়েছে কারণ এখানকার অধিবাসীরা কেউ তার মাওবাদী সংযোগের কথা জানত না। তারা বলছিলেন ছোটবেলায় তারা কীভাবে বিবেককে বড় হয়ে উঠতে দেখেছেন।

ভগত সিং নগরে বিবেকদের বাড়ির প্রতিবেশীরা সাংবাদিকদের বলেন, বিবেক ও তার বড় ভাই শ্রীনিবাস কৃষ্ণ শৈশবে তাদের সাথে খেলাধুলা করেছেন।

শ্রীনিবাস কৃষ্ণ হায়দ্রাবাদের একটি বেসরকারী কলেজ থেকে বি-টেক পাশ করে চাকরী খুঁজছিলেন।

বিবেক তেলেঙ্গানা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

বিবেকের মা মাধবী ও বাবা যোগানন্দ চারি সহ তাদের অনেক নিকটাত্মীয় ছিলেন সরকারী স্কুলের শিক্ষক।

চারি ছিলেন নুথানকাল গ্রামের স্কুলের অংকের শিক্ষক ও তার স্ত্রী মাশবী ওয়ারাঙ্গাল জেলার কুম্মারাগুন্তলা গ্রামের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

বিবেক সূর্যপেটের কাকাতিয়া কনসেপ্ট স্কুলে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, এরপর তার মায়ের সাথে ওয়ারাঙ্গালে চলে যান।

স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, বিবেক সামাজিক শিক্ষা বিষয়ে ভাল ছিল কিন্তু তার বাবা তাকে আইআইটি তে ভর্তির জন্য কোচিং এ ভর্তি করান।

বিবেক সর্বশেষ ফেসবুকে তার স্কুলের এক বান্ধবীর সাথে যোগাযোগ করে তার বন্ধুদের খোঁজ খবর জানতে চেয়েছিল।

বিবেকের পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ একজন শিক্ষক জানান, বিবেকের বাবা চারি ছোটবেলা থেকে আরএসএস (RSS) এর সাথে যুক্ত ছিলেন তবে ওসামা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াকালীন তিনি কমিউনিস্টদের সাথে কাজ করতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি Democratic Teachers Federation এর সাথে কাজ করছিলেন।

ইতোমধ্যে, চারি ও মাধবী বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাও এর সাথে হায়দ্রাবাদে সাক্ষাৎ করেন এবং জানান, বিবেক ‘দরিদ্র মানুষকে নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে’ কাজ করবে এই জেদ ধরে অক্টোবরের ৯ তারিখ বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এর এক সপ্তাহ পর সে তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায় যে সে বাড়ি ফিরে আসবে।

খাম্মামে সিপিআই (মাওবাদী) এর তেলেঙ্গানা সেক্রেটারি জগন এক বিবৃতিতে বলেন,  তেলেঙ্গানা-ছত্তিসগড় সীমান্তের কাছে লংকাপল্লী জঙ্গলে পার্টির কাজ সেরে ফেরার পথে তারা পুলিশের একতরফা গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। এতে বিবেক ও অপর দুই নারী নিহত হয়।

জগন বিবেককে একজন ‘দলম’ কমান্ডার হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিবেক গত বছর পার্টিতে যোগদান করেন। দরিদ্র জনগণকে মুক্ত করার পথ বেছে নিয়েছিল বিবেক।

এই ‘এনকাউন্টার’টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত ‘গ্রিন হান্ট’ এর তৃতীয় পর্যায়ের একটি অংশ।

সূত্রঃ

http://www.thehindu.com/news/cities/Hyderabad/suryapet-teenager-among-slain-maoists/article7313914.ece


ভারতঃ বন্দি মাওবাদীদের দেখা পাবেন না বন্ধুরা

file

জেলে বসেই কিছু মাওবাদী শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের নিকেশ করার ছক কষছে বলে রাজ্য সরকারের আশঙ্কা। গোয়েন্দা-তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসনের এ-ও অনুমান, বন্দি মাওবাদীরা জেল পালানোর চেষ্টা করতে পারে। এমতাবস্থায় বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত মাওবাদী বন্দিদের গতিবিধির উপরে নজরদারি বাড়াচ্ছে কারা দফতর।

এবং এরই অঙ্গ হিসেবে বাইরের লোকের সঙ্গে মাওবাদী বন্দিদের সাক্ষাতে রাশ টানা হচ্ছে। এমনিতে আত্মীয় বা উকিল বাদ দিয়ে বন্ধুরা ইচ্ছে করলে কয়েদির সঙ্গে দেখা করে আসতে পারেন। কিন্তু কারা দফতর সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, এখন মাওবাদী বন্দির সঙ্গে কোনও ‘বন্ধু’ দেখা করতে পারবেন না। পারবেন শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও আইনি পরামর্শদাতারা। তাঁদেরও যথেষ্ট আগে আবেদন করতে হবে।

কিন্তু জেলে তো কয়েদিদের চুরি-ডাকাতি কিংবা খুন-ধর্ষণের আসামি হিসেবে চিহ্নিত করার চল নেই! কারও গায়ে ‘মাওবাদী’ তকমাও লাগানো নেই। যার বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা চলছে বা সাজা হয়েছে, জেলে সেটাই তার পরিচয়। তা হলে কড়াকড়ি কার্যকর হবে কী ভাবে?

স্থির হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ প্রযোজ্য কিংবা যারা দেশদ্রোহিতায় অভিযুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে নতুন সাক্ষাৎ-বিধি বলবৎ হবে। এডিজি (কারা)-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘রাজনৈতিক বন্দি’র মর্যাদাপ্রাপ্তেরাও এর আওতায় পড়বেন। এই ধরনের কয়েদির সঙ্গে দেখা করতে হলে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা উকিলকেও অন্তত সাত দিন আগে আবেদন করতে হবে। পুলিশের কাছ থেকে আবেদনকারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরে জেল-কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের অনুমতি দেবেন।

এখানেই শেষ নয়। বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থীর কী কথা হল, তা-ও প্রশাসন নজরে রাখতে চায়। তাই কথাবার্তার সময়ে গোয়েন্দা দফতরের এক প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। ওই সময়ে তেমন কাউকে পাওয়া না গেলে সাক্ষাৎপর্বই যে বাতিল হয়ে যেতে পারে, বিজ্ঞপ্তিতে তারও ইঙ্গিত রয়েছে।

ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা কেন?

শীর্ষ প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য: বাম আমলে জঙ্গলমহল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি বারবার তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেবেন। কিন্তু তৃণমূল জমানায় বন্দিমুক্তি দূরের কথা, জঙ্গলমহলের তিন জেলায় এখনও ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। ‘‘ফলে মাওবাদীদের রোষের মুখে পড়েছে শাসকদল।’’— বলছেন এক আধিকারিক।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর: সরকারে আসার পরেও কিছু দিন তৃণমূলের সঙ্গে মাওবাদী-সহ জনগণের কমিটির সুসম্পর্ক বজায় ছিল। যার সুবাদে কমিটির বেশ কয়েক জন নেতা তৃণমূলে যোগ দেন। সুচিত্রা মাহাতো, জাগরী বাস্কের মতো কয়েক জন মাওবাদী আত্মসমর্পণও করেন। কিন্তু যে কিষেণজি মমতাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে দেখতে চেয়েছিলেন, মমতা-জমানাতেই যৌথ বাহিনীর হাতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ছবিটা বেবাক পাল্টে গিয়েছে। দু’পক্ষে দূরত্ব বেড়েছে। উপরন্তু ছত্রধর মাহাতোর মতো কিছু কমিটি-নেতার সাম্প্রতিক সাজা ঘোষণায় তা আরও বাড়ার আশঙ্কা। বস্তুত ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ায় মাওবাদীরা ফের একজোট হচ্ছে বলেও গোয়েন্দাদের কাছে খবর রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই প্রশাসনের সতর্কতা। এক কারা-কর্তার কথায়, ‘‘গোয়েন্দারা জেনেছেন, মাওবাদীরা জেলে বসেই শাসকদলের কয়েক জন বড় দরের নেতা-মন্ত্রীকে মারার ছক কষছে। ‘বন্ধু’দের হাত ঘুরে সেই পরিকল্পনা বাইরে আসছে।’’ গোয়েন্দা-সূত্রের দাবি, মাওবাদী বিভিন্ন গণ-সংগঠনের কর্মীরাই ‘বন্ধু’ পরিচয়ে জেলে ঢুকে খবরাখবর দেওয়া-নেওয়া করছে।

অতএব, কোনও ‘বন্ধু’র সঙ্গে মাওবাদী বন্দির সাক্ষাৎ করানোর ঝুঁকি নিতে সরকার আর রাজি নয়। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সিদ্ধান্তটি অবৈধ। রাজ্য গণতান্ত্রিক অধিকাররক্ষা সমিতির তরফে রণজিৎ শূরের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এরা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার বদলে এখন চরম অমানবিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে!’

সুত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/jail-authority-creates-more-security-for-the-convicts-maoists-1.145858


মোদীর সফরে মাওবাদী হাতে আটক ২৫০, মুক্তি, জনতার আদালতে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

2afeab2c-6f96-4d23-8a29-b70f89aa5714wallpaper1

কথিত উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এ বারে মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তিনি গিয়ে ওঠার আগে রাত থেকেই কমপক্ষে দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে রেখে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরে তাদের আদৌ আস্থা নেই। মাওবাদীদের দাবি, এলাকার ভূ-সম্পদ লুঠ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়াই এই দুই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ দিন রাতে ওই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিলেও, মাওবাদীরা ‘জন আদালত’-এ বিচার করে এক জনকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোদীর সভাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জিরম উপত্যকায়। দু’বছর আগে ঠিক এখানেই কংগ্রেসের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালিয়ে বেশ কয়েক জন নেতাকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দন্তেওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ গিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। এর তিন দশক পরে গেলেন মোদী। কলকাতায় যাওয়ার আগে তাঁর এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুটি: এক, মাওবাদী অধ্যুষিত এই একটি জেলাতেই ২৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। যে প্রকল্পে ইস্পাত কারখানা থেকে রেল লাইন পাতা হবে। দুই,  মাওবাদীদের সুস্থ জীবনে ফেরার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মাওবাদীরা বয়কটের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, সুকমা জেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শুধুই দেশি-বিদেশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই সব প্রকল্প ঘোষণা করছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই কেন্দ্র জমি বিল আনতে চাইছে। বস্তারে হচ্ছে সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলও। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি তাই কেন্দ্রের ‘ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের সরকার’-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দন্তেওয়াড়ায় শান্তি-বার্তা দিয়ে মোদী কলকাতায় পৌঁছে গেলেও রমন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে ওঠে আটক করে রাখা গ্রামবাসীদের মুক্তির বিষয়টি। আলোচনার পথেই তাঁদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকে রাজ্য প্রশাসন। রাতে এক জন বাদে সবাইকেই ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সদারাম নাগ এক জন শুধু জীবিত ফেরেননি। ‘জন আদালতে দোষী’ হওয়ায় মাওবাদীরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

images (2)

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদী মোকাবিলার পথ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ইউপিএ আমলের এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে রাজনাথ সিংহের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি খসড়া নীতিও তৈরি করে। যেখানে বলা হয়, দরকারে স্থলসেনা ও বায়ুসেনাকেও মাওবাদী মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। এই খসড়া সমালোচনার ঝড় তোলে। দেশের সেনাকে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে মোদী আজ মাওবাদী গড়ে গিয়ে যে ভাবে উন্নয়নের কথা বললেন, সেখানকার মানুষের দুঃখ-বেদনা বোঝার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট, কেন্দ্র এখন দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে। এক দিকে কড়া হাতে মাওবাদী মোকাবিলার প্রস্তুতি চালানো। এর পাশাপাশি, উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

মোদী এই সফরে দু’টি কাজই করতে চাইলেন। চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ১৮৮টি মাওবাদী হামলা হয়েছে। নিহত ৪৬ জন। এই অবস্থায় মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও গ্রামবাসীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। আর তাঁর বক্তব্যে জোর পেল দ্বিতীয় পথটি।

সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/india-news/pm-modi-to-visit-dantewada-today-maoists-call-for-bandh/article1-1345390.aspx


ভারত- পুলিশ বনাম মাওবাদীঃ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কি শক্তিশালী?

images

এসটিএফ (STF) এর প্লাটুন কমান্ডার শংকর রাওয়ের জন্য ১১ই এপ্রিল শনিবার ছিল একটি রক্তাক্ত দিন। এই দিন তিনি তার ৬১ জন সদস্যের সশস্ত্র দল নিয়ে মাওবাদী দমন অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। এসময় তারা ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলার পিদমেল-পলামপল্লী এলাকায় একটি উন্মুক্ত ত্রিভূজ এমবুশের মুখে পড়ে যায়। তিন দিক থেকে চালানো এ অতর্কিত হামলায় পড়ে এসটিএফ জওয়ানরা এমবুশ থেকে বের হয়ে আসার যথাসাধ্য চেষ্টা চালায়; অন্যদিকে মাওবাদীরা বেশ ভালরকম ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হয়। তারা সাতজন জওয়ান খতম করে ও এগারো জনকে আহত করে। এ ছিল কেবল শুরু। পরবর্তী তিন দিনে ভারতের সর্বোচ্চ আভ্যন্তরীণ হুমকি হিসেবে বিবেচিত মাওবাদীরা চারটি বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে রাজ্যের আরো চারজন পুলিশ ও একজন বিএসএফ জওয়ান খতম হয়। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিল যে প্রতিদিনকার রাজনৈতিক বুলি সত্ত্বেও মাওবাদীরা এখনো আঘাত করার ক্ষমতা রাখে এবং তারা চাইলে আঘাত করতে পারে।

jawans-2

রক্তাক্ত রণক্ষেত্র

ছত্তিসগড়ের এই হামলা গুলো নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতর বিতর্কের ঝড় তুলেছে আর বিতর্কের বিষয়বস্তু হল মাওবাদী দমন অপারেশন একটি বিশাল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে কিনা এবং ১০টি রাজ্য জুড়ে ৭৬টি জেলায় পরিচালিত রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফ এর যৌথ বাহিনী মাওবাদীদের মোকাবেলা করার মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে কিনা। কিছু তথ্যের দিকে নজর দেয়া যাক। ভারত রাষ্ট্রের মাওবাদী দমন অপারেশন বিষয়ে বিগত দশকের (২০০৫-২০১৫) সরকারী ডাটায় ভয়ংকর তথ্য পাওয়া যায়ঃ মোট ৪,৫১০ জন -১৭৫৩ জন জওয়ান ও ২৭৫৭ জন সাধারণ মানুষ মাওবাদীদের হাতে নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ২১৯৩ জন মাওবাদীকে হত্যা করেছে।

এর মানে দাঁড়ায়, মাওবাদীরা যুদ্ধে নিজেদের একজনকে হারানোর বিনিময়ে গড়ে দুইজনকে খতম করেছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর থেকে ৫৩৬টি অত্যাধুনিক অস্ত্রও কেড়ে নিয়েছে। যেটি উদ্বেগগজনক তা হল পুলিশের গুপ্তচরদেরকে হত্যা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে প্রায় ১৯ জন পুলিশের গুপ্তচর খতম হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৭৯। এ তথ্য থেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন চলে আসে আর তা হলঃ মাওবাদী আন্দোলনের উপর রাষ্ট্র কি কোন আঘাত হানতে পেরেছে?

একজন উর্ধ্বতন আইপিএস  (IPS) কর্মকর্তা তার বইয়ে লিখেছেনঃ “আমরা যুদ্ধটা করছি তাদের (মাওবাদীদের) মতো করে, আমাদের মতো করে নয়”। ব্যাপক আকারে বিনিয়োগ ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা সত্ত্বেও মাওবাদী দমন অপারেশন ফলপ্রসূ না হওয়ার পিছনে কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “ট্রাজেডি হল, এত বিশাল সম্পদ তাদের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে যাদের কমান্ড দেয়ার যোগ্যতা নেই, যাদের যুদ্ধ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই”। যদিও মাওবাদী দমন অপারেশন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের সম্মিলিত কার্যক্রম, এ কার্যক্রমে মোট ১০৮ টির বেশি ব্যাটেলিয়নকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। ১০৮ টি ব্যাটেলিয়নের মধ্যে (প্রায় ১৩৪,৬৬৭ জন সদস্য) সিআরপিএফ এর ৮৩টি ব্যাটেলিয়ন, বিএসএফ এর ১৫টি ব্যাটেলিয়ন, আইটিবিপি (Indo-Tibetan Border Police) ও সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এর প্রতিটি বাহিনীর রয়েছে ৫টি করে ব্যাটেলিয়ন। রাজ্যগুলো তিরিশ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। পুরো শক্তিকে যদি একত্রিত করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, আনুমানিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ সশস্ত্র মাওবাদীদের দমন করার জন্য মাটির উপর ১৬৪,৬৬৭ জোড়া বুট মোতায়েন করা হয়েছে- একজন মাওবাদীকে হত্যা করার জন্য আছে ১০ জন জওয়ান।

সূত্রঃ

http://www.newindianexpress.com/magazine/Police-vs-Maoists-Are-Indian-Security-Forces-Strong-Against-Naxals/2015/04/25/article2779418.ece


“প্যারাগুয়ে পিপলস আর্মির (Ejército del Pueblo Paraguayo) বিবৃতি”

স্পানিশ ভাষা থেকে অনুবাদিত – 

Statement of Paraguayan People’s Army (Ejército del Pueblo Paraguayo) -2015/6/2

11004878_879355445460682_1980571020_n

Reactionaries are lies, the revolutionary truth.

 

The Narco-government,” because of Horacio Cartes has been rushing to deploy a media campaign, seeking to place blame for their crimes to the insurgency. Wednesday night the Task Forces criminals (FTC), mercenary forces of the Colorado Party, shot on a command of elite of the EPP guarding those detained, Robert Natto and Erika Reiser. In the scuffle the first shots that came from the FTC, reached to the prisoners, due to the fact that they do not have military training, being unemployed, being targets of the indiscriminate firing by the forces of repression, they fall in battle by firing on everything that has movement, are not controlled, they go crazy before the fear. Read the rest of this entry »


ভারতে নকশালরা ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ রাজ্যে বন্ধ ডেকেছে …

বিশাখাপত্তনম : রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জন বিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে সিপিআই (মাওবাদী) ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ থেকে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানা সহ পাঁচ রাজ্যে বন্ধ ডেকেছে। বৃহস্পতিবার টিওআই পাঠানো একটি প্রেস রিলিজে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক ব্যুরো (CRb) মুখপাত্র প্রতাপ- ছত্তিশগড়, উড়িষ্যা এবং মহারাষ্ট্রে ধ্বংসাত্মক এবং গণবিরোধী নীতি বাস্তবায়নকারী হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি , পি মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও কে দায়ী করেন। 

Source – http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/Naxals-call-for-5-state-bandh-on-Feb-20/articleshow/46224136.cms