‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ অতীত ও বর্তমান’- অনুরাধা গান্ধী

asit

[অনুরাধা গান্ধী(১৯৫৪- ১২ই এপ্রিল, ২০০৮), ভারতীয় বিপ্লবের একজন নেতৃস্থানীয় সংগঠক ও চিন্তাবিদ। তিনি ছিলেন মুম্বাই ও নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং এই দুই শহরে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরবর্তীতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় বনাঞ্চলে জনগণের উপর অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন এবং সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা উপ কমিটির প্রধান হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন দৃঢ়, নির্ভীক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী. দূরদর্শী বিবেচক। ১৯৮৩ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সদস্য কোবাদ গান্ধীকে বিয়ে করেন। দুঃখজনক ভাবে ২০০৮ সালের এপ্রিলে দণ্ডকারণ্যের গভীর জঙ্গলের গেরিলা জোনে সেরেব্রাল ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি নারী ক্যাডারদের নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।]

International_Womens_Day_19

আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ অতীত ও বর্তমানঅনুরাধা গান্ধী

২০০১ এর ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ৯১ তম বার্ষিকী যা ১৯১০ সালে সর্বপ্রথম ঘোষিত হয়। সে বছর সমাজতান্ত্রিক শ্রমজীবী নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমেরিকার শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ক্লারা জেটকিন বাৎসরিকভাবে নারী দিবস উদযাপনের প্রস্তাব পেশ করেন। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সভায় নারী অধিকারের আন্দোলনকে মর্যাদা প্রদান করতে ও সারা বিশ্বে নারীদের ভোটাধিকার অর্জনে সহায়তার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত একটি নারী দিবস চালু করা হয়। ১৭টি দেশের ১০০ জনেরও বেশী নারীদের সর্বসম্মত অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। দিবসটি পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোন তারিখ নির্বাচন করা হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে ১৯১১ সালের ১৯শে মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে দশ লাখেরও বেশী নারী ও পুরুষ এক র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করে। ভোটের অধিকার ছাড়াও তারা কাজ ও কারিগরী প্রশিক্ষণের অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধের দাবী জানায়। জার্মানীতে নারীরা ১৯শে মার্চ দিনটি বেছে নেয় কারণ ১৮৪৮ সালের এই দিনে এক সশস্ত্র বিদ্রোহের সময় প্রুশিয়ার রাজা নারীদের ভোটাধিকার সহ অনেক রকম সংস্কার সাধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

১৯১৩ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনটি বদলে করা হয় ৮ই মার্চ। ঐ দিনে ঘটে যাওয়া দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে এটি করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ নিউইয়র্ক শহরে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলের নারী শ্রমিকেরা দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ ও নিম্ন মজুরী প্রদান ইত্যাদি অমানবিক অবস্থার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এতে পুলিশ হামলা চালায় ও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই বছর পর আবারো মার্চ মাসে এই নারীরা প্রথমবারের মতো একটি ইউনিয়ন গঠন করে। ১৯০৮ সালের ৮ই মার্চ পুনরায় সীমিত কর্মঘন্টা, উন্নত মজুরী, ভোটাধিকার ও শিশু শ্রম বন্ধের দাবীতে ১৫,০০০ নারী নিউ ইয়র্ক শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

তাদের শ্লোগান ছিল ‘রুটি ও গোলাপ’; অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক হল রুটি এবং জীবনযাত্রার উন্নত মান বোঝাতে গোলাপ। সে বছরের মে মাসে আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক পার্টি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার দিনটিকে জাতীয় নারী দিবস হিসেবে পালনের জন্য মনোনীত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় নারী দিবস পালিত হয় ১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি। শীঘ্রই ইউরোপের নারীরা ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার দিনটিতে নারী দিবস উদযাপন করতে আরম্ভ করে। এই পটভূমিতে ১৯১০ সালে অনুষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন একটি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাব পেশ করেন।

১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো এ দিবস উদযাপনের এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ট্র্যাজিক ট্রায়াঙ্গেল ফায়ারে’ (‘Triangle Shirtwaist Factory’তে সঙ্ঘটিত অগ্নিকাণ্ডে) ১৪০ জন শ্রমজীবী নারী নিহত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইনে এই ঘটনা সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে আরো বেগবান করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৩ সালে রুশ নারীরা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে। পরের বছর ৮ই মার্চ কিংবা তার কাছাকাছি সময়ে ইউরোপে নিপীড়িত নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে নারীরা র‍্যালির আয়োজন করে। সব থেকে বিখ্যাত শ্রমজীবী নারী দিবস ছিল ১৯১৭ সালের ৮ই মার্চ (রুশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৪শে ফেব্রুয়ারি)। এদিন সেন্ট পিটার্সবার্গের রুশ নারীদের নেতৃত্বে ‘রুটি ও শান্তি’র দাবীতে হরতাল পালিত হয়। ক্লারা জেটকিন এবং আলেকজান্দ্রা কোল্লনতাই উভয়েই এতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের হরতালে দাঙ্গা তৈরি হয় যা ৮ থেকে ১২ই মার্চের মধ্যে গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের (এটি এ নামেই পরিচিত) ফলে জারের পতন ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নে ৮ই মার্চকে বীর নারী শ্রমিকদের বীরত্ব উদযাপনের পাশাপাশি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। তখন থেকে ৮ই মার্চ এর তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে দিনটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয় যা সারা বিশ্বের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা ছিল।

১৯৪৯ সালের চীন বিপ্লব দেখিয়ে দিল সামন্তীয় মূল্যবোধ ও পিতৃতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় নিমজ্জিত বিশ্বের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটিতে নারীরা পরিবর্তনের জন্য কী করে জেগে উঠতে পারে। সমাজতান্ত্রিক চীনে নারীরা যে বিরাট পদক্ষেপটি নিয়েছিল তা ছিল গোটা তৃতীয় বিশ্বের নারীদের জন্য একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত। চীনে নারীদের ক্ষমতায়নের একটি বড় উৎস্য হিসেবে বিশেষ ভাবে কাজ করেছে মহান প্রলেতারিয়েত সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সামন্তীয় কনফুসিয় ধ্যান ধারণার উপর এর নিরন্তর আক্রমণ। কমরেড চিয়াং চিয়াং ছিলেন এর জীবন্ত প্রতীক। ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকে পুঁজিবাদী দেশগুলোতে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক উত্থান ঘটে এবং তৃতীয় বিশ্বে ক্ষমতাশালী জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে উঠে এবং এসময় নারীদের স্বাধীনতা আন্দোলনেও পুনর্জাগরণ ঘটে।

গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন এত বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিল যে সাম্রাজ্যবাদীরা আত্তীকরণের মাধ্যমে একে স্বপক্ষে এনে ও নিজেদের গ্রহণযোগ্য পথে এর গতি পরিবর্তন করে একে ধ্বংস করতে চাইল। আত্তীকরণের মাধ্যমে স্বপক্ষে টানার এই প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ রূপ হল ১৯৭৭ সালে ৮ই মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃতি প্রদান।

সেই থেকে চরম বুর্জোয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোও ৮ই মার্চ ‘উদযাপন’ করে আসছে। অবশ্য যে বিপ্লবী উপাদান ও সংগ্রামের ইতিহাস থেকে এর উদ্ভব সেটুকু তারা বর্জন করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরবর্তীতে চীনে সমাজতন্ত্রের পরিবর্তন ঘটে যা এই অবস্থার পিছনে অনুঘটকের কাজ করে। এই সব পরিবর্তনের ফলে প্রথম যে ক্ষতিটা হয় তা হল সমাজতন্ত্রের অধীনে নারীদের অর্জিত কিছু অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো। তারপরেও বিশ্বের নিপীড়িত নারীদের মাঝে আন্তর্জাতিক নারী দিবস বেঁচে আছে। কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সমাজতন্ত্রের সাময়িক অবনতি এবং পুঁজিবাদের/সাম্রাজ্যবাদের পুনর্বহাল নারীদের কঠিন আঘাত করেছিল।

বিশ্বায়ন ও এর সাথে চূড়ান্ত ভোগবাদের ফলে নারীদের যে মাত্রায় পণ্যায়ন ঘটেছে তা আগে শোনা যায়নি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের প্রতি কোন ধরনের সম্মান না দেখিয়ে প্রসাধনী শিল্প, পর্যটন ও বুর্জোয়া গণমাধ্যম এমনভাবে নারীদের মর্যাদার হানি করেছে যা পূর্বে কখনো ঘটেনি। এর সাথে গণ দারিদ্র্য যোগ হয়ে গোটা জনগোষ্ঠীকে দেহব্যবসার দিকে ঠেলে দিয়েছে যেমনটা ঘটেছে পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, নেপাল ইত্যদি স্থানে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদ এবং বিভিন্ন উপদলের উত্থান যা নারীদের আরেকটি অংশকে প্রাচীন অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই দুই চরমপন্থীর মাঝখানে চাপা পড়ে নারীরা আজ তাদের পুরুষ প্রতিমূর্তির সাথে স্বাধিকারের, আত্মমর্যাদার ও সমতার প্রয়োজনীয়তা আগের থেকে অনেক বেশী করে অনুভব করছে। সুতরাং, আজ ৮ই মার্চের তাৎপর্য্য আরো বেশী।

সংশোধনবাদী ও বুর্জোয়া উদারবাদীরা সহানুভূতিশীল ত্রাতার ভূমিকায় অভিনয় করে ও ছদ্ম ‘উদ্বিগ্নতা’ দেখিয়ে নারীদেরকে গৃহবন্দী করে তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে স্তিমিত করার পায়তারা খোঁজে। তারা পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামন্তীয় ধ্যান ধারণার সাথে আপোষ করে আর নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাধিকারকে ভয় পায়। অবশ্য এরাও রুটিনমাফিক নারী দিবস ‘উদযাপন’ করে এবং নিয়মিত ভণ্ডামিপূর্ণ বিবৃতি দেয়।

সারা পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবী শক্তি বিশেষ করে মাওবাদীরা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মাঝে জীবনীশক্তি ফিরিয়ে এনেছে; দিনটিকে তারা আরো একবার সকল পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শোষণমূলক রীতি থেকে মুক্তির জন্য, আত্মমর্যাদার জন্য, সমতা ও ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারত সহ সারা পৃথিবীর নিপীড়িত নারীদের মাঝে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে এই বিপ্লবী চেতনা।

অনুবাদ সূত্রঃ Scripting the Change- Selected writings of Anuradha Ghandy


গত কয়েকদিনের ভারতের গণযুদ্ধের সংবাদ সমূহ-

যোধান মাহাতো ওরফে চিরাগ

যোধান মাহাতো ওরফে চিরাগ

0_1454145662

112_1454144803

পুলিশের কথিত এনকাউন্টারের নামে হত্যা করা হয়েছে সিপিআই(মাওবাদী) বিহার-ঝাড়খণ্ড জোনাল কমিটির সামরিক বিভাগের প্রধান যোধান মাহাতো ওরফে চিরাগ’কে। গত ৩০শে জানুয়ারি গভীর রাতে বিহারের জামুই জেলার চরকাপাথর থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, বিহার-ঝা়ড়খণ্ডের বেশিরভাগ মাওবাদী গেরিলা হামলায় নেতৃত্ব দিতেন চিরাগ। লখিসরাই, মুঙ্গের, বাঁকা, জামুই-সহ বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে নতুন ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও ছিল তার হাতে। সংগঠনের সামরিক শাখার কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিল চিরাগ। ২০১২-র ৯ নভেম্বর গিরিডির জেল ভেঙে আট মাওবাদী-সহ ২১৯ জন পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তিন পুলিশকর্মীরও মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, সেই ঘটনার পিছনেও নায়ক ছিল বোকারোর বাসিন্দা চিরাগ। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে। মাওবাদী সংগঠনে বিহার-ঝাড়খণ্ড এরিয়া কমিটির প্রধান অরবিন্দ চৌহানের পরেই স্থান ছিল চিরাগের। চিরাগকে ধরে দেওয়ার জন্য বিহার সরকার ৫ লক্ষ এবং ঝাড়খণ্ড সরকার ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

জামুইয়ের পুলিশ সুপার জয়ন্তকান্ত বলেন, ‘‘গত কাল বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত গুলির লড়াই চলে। রাতে ওই মাওবাদী নেতার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বেশ কিছু আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়। সম্ভবত আরও দু’জন মাওবাদী মারা গিয়েছে। তাদের দেহ উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চলছে।’’

চিরাগের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পলামুর মাইন বিস্ফোরণের পরে ঝাড়খণ্ড পুলিশ লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। বেশ কিছু মাওবাদী বিহারের দিকে চলে গিয়েছে বলে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একাংশের দাবি। ঝাড়খণ্ড-বিহারের সীমানাও সিল করে দেওয়া হয়েছে।

30_01_2016-naxali01

অন্য দিকে, মুঙ্গের, লখিসরাই ও জামুই জেলা সহ মুঙ্গেরের ধরধরা থানার বাঙালি বাঁধ এলাকায় মাওবাদী সন্দেহে ললন কোড়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করার সময়ে আদিবাসীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তির-ধনুক নিয়ে পিড়িবাজার থানায় ঢুকে প়ড়েন তাঁরা। চলে ভাঙচুর। পুলিশকর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে চম্পট দেন। পুলিশ পরে বিশাল বাহিনী নিয়ে এলে পুলিশের সাথে মাওবাদী সমর্থকদের সঙ্গে লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হন এস আই ভবেশ সিং। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই ভবেশ সিংয়ের মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি বেগুসরাইয়ের সাহেবপুরে। মুঙ্গেরের এই এলাকা মাওবাদীদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ২০০৫ সালে এই এলাকাতেই মুঙ্গেরের তৎকালীন এসপি কে সুরেন্দ্রবাবু-সহ ছয় পুলিশকর্মী বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিলেন। অবশ্য জনগণের চাপের মুখে ললন কোড়াকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গত ৩০শে জানুয়ারি ছত্তিসগড়ের বস্তারে দুই নারী সহ তিন মাওবাদী গেরিলাকে হত্যা করেছে পুলিশ।

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.newindianexpress.com/nation/ASI-Killed-in-Encounter-With-Maoist-Supporters/2016/01/30/article3253151.ece

http://news.webindia123.com/news/Articles/India/20160130/2782284.html

http://timesofindia.indiatimes.com/city/patna/Major-encounter-in-Jamui-CPIM-member-killed-in-shootout/articleshow/50783919.cms

http://www.newindianexpress.com/nation/Two-Women-Among-3-Naxals-Killed-in-Chhattisgarh/2016/01/30/article3252989.ece


ভারতঃ ৫ মাওবাদীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট

মাওবাদী নেতা রূপেশ ও সাইনা

মাওবাদী নেতা রূপেশ ও সাইনা

প্রতিদিন তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার শর্তে গত বছরের মে মাসে কোয়েম্বাটুর থেকে Q শাখা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়া এক কেরল দম্পতি সহ ৫ মাওবাদীকে এক মাসের জন্যে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।সিপিআই(মাওবাদী) পশ্চিমঘাট আঞ্চলিক কমিটির শীর্ষ মাওবাদী নেতা রূপেশ ও তার স্ত্রী সাইনা সহ অন্য চারজন ২০১৫ সালের ৪ঠা মে কোয়েম্বাটোরের কারুমাথামপাত্তি’র কাছে Q শাখা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে রাজনৈতিক অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তারিখে কোয়েম্বাটোরের মুখ্য দায়রা জজ, পাঁচ বন্দীর জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, মাওবাদীরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। এই আবেদনের জবাবে গত বুধবার বিচারপতি সি টি সেলভাম এই পাঁচ বন্দীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর  করেন এবং এক মাসের জন্য প্রতিদিন তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত সংস্থা চাইলে যে কোন সময় তাদের তলব করতে পারবে।

অনুবাদ সুত্রঃ http://www.thehindu.com/news/cities/chennai/hc-grants-interim-bail-to-five-maoists/article8137257.ece


ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তি

1011610_1055767584463365_8212218657693314756_n

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

২৮শে নভেম্বর, ২০১৫

In Bastar’s Bijapur area, under the direct supervision of the top Police officials and officers of Air Force, aerial attack mock drills have been carried out, using 3 helicopters on 13th of October last. Modi’s brahmanical hindutva fascist BJP government prepared an action plan “Mission 2016″ to wipe out Dandakaranya revolutionary struggle by the end of 2016 and part of it are these drills. These mock drills are part of the process to cruelly suppress maoist struggle and anti displacement mass struggles and to hand over natural wealth and resources to domestic and international Corporate Houses as early as possible. Our Party strongly condemns it and appeals to the people to oppose and raise voice against the proposed aerial attacks.

In Dandakaranya, at present, near about 1,20,000 (one lakh twenty thousand) paramilitary, police and commando forces are deployed. Carpet security is being strengthened continuously. Battalions of CRPF, CAF, CoBRA, Indo Tibetan Border Police, Border Security Force are being brought in and the process of setting up new camps in and around the proposed big mining projects, mega industrial plants, big dams, rail- lines is continuing. Thousands of billions rupees of MOU’s are being signed in Chattisgarh’s Rajnandgaon, Bastar division’s 7 districts and Maharashtra’s Gadchirolli adivasi majority areas with the aim to benefit Tata, Jindal, Essar, Neco Jaiswal, Lloyd, Adani, TPG-Texas Power Generation, etc Comprador Bureaucratic Bourgeoisie and Multi National Companies and also with the intention to benefit the above, MOU’s are signed with NMDC-National Mineral Development Corporation and SAIL-Steel Authority of India Limited.

To facilitate transportation of raw materials and goods of these companies and for the easy deployment of armed forces, Dalli-Raoghat-Jagdalpur rail-line is being laid under the strict vigil of forces. It is Proposed to build an army training school in the midst of “Abuj Maad’s” two thirds of the land which is the habitat of Maadia Adivasis- who are one of the ancient tribes. Air force bases, airports, helipads, fortified camps are being built with the armed forces’ gun point. Efforts are on to snatch lakhs of acres of land for the implimentation of these MOU’s. Conspiracy to chase away lakhs of people and rob their lands of Maadia, Muria, Halba, Batra, Durva adivasis, in addition to Mahar, Marar, Kalad, Yadav, Gando non-adivasis. Due to anti displacement mass struggles, people’s resistance and people’s war under the leadership of our party, Bodhghat, Mendki dam projects, Raoghat, Chargaon, Amdai, Tulad, Surjagad, Damkodi, etc projects; big industries stopped. Few among them could not be started for the last 25 years.

In Lohandiguda area of Bastar district, local masses with their 10 years of relentless resistance, compelled Tata to shut the proposed steel plant project. This is a great victory of heroic public. Imperialist economic and financial crisis is intensifying continuously. In this situation, Central-State governments have given top priority in their agenda to annihilate Maoist struggle at the earliest, newly shaping people’s political power organs-Krantikari Janatana Sarkar (Revolutionary People’s Committees) and to plunder country’s natural wealth at a speedy pace at any cost. Modi, who is the prime servant of domestic and foreign Corporate Houses, not only initiated but also aggressively implementing the third phase of Operation Green Hunt, which is an unjust war on people, which is continuing since 2009, to wipe out countrywide revolutionary struggle. Aerial attacks can well be understood in this context. National Security Adviser Ajit Dobhal and internal security affairs adviser Vijay Kumar visited Bastar in the first and second weeks of October.

Later, in a meeting at Raipur of top police officials and Air Force officers, the decision of aerial attacks was taken. It is appropriate to note that Modi visited Dantewada on 9th May, with the sole motives of Capital investment and Salwa Judum-2. It is well known that, in the name of “War on Terror” by the imperialists, especially by America and for their mean selfish interests, more of innocent people lost their lives than the agitators. in the Drone and Air strikes carried out in Iraq, Afghanistan, Pakistan, Syria and other countries and Israeli attacks on Palestine. This is continuing even today. There is no need to mention separately that in Dandakaranya too, innocent adivasis and non-adivasi population will be victims of these air strikes. Well before itself, eight MI-17 helicopters, eight drones are hovering day and nights on the heads of the people of Chattisgarh. Air force’s 5 helicopters from Nagpur are also taking part in anti Naxal Operations.

Talk is on to purchase much more of such drones and helicopters in the coming days. There is a need to raise voice from all corners against the use of army and air force, which were formed to tackle threats to country from abroad than for the war on people. Steps should be taken from all sides to safeguard self respect and very self existence of adivasis. All patriots should come forward to protect country’s natural wealth and resources for our future generations.

Our Party appeals to all Maoist parties the world over, revolutionary organizations, international human rights organizations, trade unions, renowned democratic-progressive intellectuals, all the progressive, democratic intellectuals of the country, human rights organizations, activists, various adivasi and non- adivasi social organizations, workers-peasants, students, youth, artists, writers, scientists, environmentalists, teachers, employees, patriotic citizens to raise their voice against the decision of aerial attacks on Dandakaranya, i.e. Rajnandgaon, Bastar and Gadchirolli’s adivasi majority areas and to take to streets in protest.

(Vikalp)

Spokesperson,

Dandakaranya Special Zonal Committee,

CPI (Maoist).


ভারতঃ তেলেঙ্গানায় পুলিশ ও নকশাল[সিপিআই (এমএল-নয়া গণতন্ত্র)] গুলি বিনিময়

maoist_journalism_illus_20100412

২৩শে অক্টোবর খাম্মাম জেলার বাইয়ারাম মণ্ডলের (প্রশাসনিক বিভাগ) পন্ডিপাম্পুলা জঙ্গল এলাকায় সিপিআই (এমএল নয়া গণতন্ত্র) এর ক্যাডারদের সাথে পুলিশের বিশেষ টিমের গুলি বিনিময় হয়। তবে এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যায় পন্ডিপাম্পুলা ও কম্বলপল্লি জঙ্গল এলাকার মাঝামাঝি স্থানে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রঃ http://www.satp.org/satporgtp/detailed_news.asp?date1=10/25/2015&id=3#3


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকার (সম্পূর্ণ)

c

comrades-kA7G-621x414@LiveMint

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি গত ০৮/০৮/২০১৫ থেকে ০৯/০৯/২০১৫ পর্যন্ত মোট ৮ টি পর্ব ধারাবাহিক ভাবে বাংলায় প্রকাশ করেছে ‘লাল সংবাদ‘। কিন্তু আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ২ পর্ব প্রকাশ করতে পারিনি। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমরা বাকি দুই পর্ব সহ সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি PDF আকারে প্রকাশ করছি।

পাঠক কমরেডগণ নীচে ক্লিক করেই সাক্ষাৎকারটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন– 

কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকার


ভারতঃ নকশালদের improvised explosive device (IED) আক্রমণ বেড়েছে

12ORIBOMB1_14c1d-f943b

নিরাপত্তা বাহিনীর দাপ্তরিক সুত্র জানাচ্ছে, গত বছর নকশালরা আমাদের বিরুদ্ধে ৯০৪টি improvised explosive device (IED) আক্রমণ চালিয়েছিল, বর্তমানে এরই মধ্যে এই বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০৩টিতে। এই বিস্ফোরণ গুলোতে বেশ কিছু সংখ্যক সৈন্য জখম হয়েছে।

সূত্রঃ http://economictimes.indiatimes.com/news/defence/security-forces-on-anti-naxal-operations-face-40-increase-in-ied-attacks/articleshow/49185416.cms