সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাস্তারের আদিবাসী তরুণ হিদমা

hidma-naxal-leader-crpf-attack-sukma-chhattisgarh-647_042517021335

বাস্তার থেকে প্রথম আদিবাসীকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিল সিপিআই(মাওবাদী)। দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী PLGA এর সদস্য থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত হওয়া হিদমা হলেন দ্বিতীয় আদিবাসী সদস্য। শুধু তাই নয়, তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। ৩৬ বছরের হিদমা সামরিক দিক থেকে দলে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেনই আগে এবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসায় নিরাপত্তা বাহিনীর মাথা ব্যথার বাড়তি কারণ হতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। আদিবাসীদের দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে মাওবাদীরা জায়গা দেয়না বলে সরকারি প্রচারে বেশ ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন তারা। সাম্প্রতিক সময় দেশজুড়ে মাওবাদী আন্দোলন বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে, সেই সময় বাস্তার থেকে এক আদিবাসী তরুণকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা যথেষ্ট তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন মাওবাদী সমর্থকরাও।

ছত্তিশগড়ের আদিবাসী যুবক মাদবি হিদমা উচ্চতায় ছোট, বুদ্ধিতে তীক্ষ্ম এই যুবকের নেতৃত্বে মাওবাদীরা সুকমায় সিআরপিএফের বিরুদ্ধে অপারেশন চালালে অতর্কিত ওই হামলায় নিহত হয় ২৫ জন জওয়ান। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এত বড় একটি হামলার কোনও আগাম খবর গোয়েন্দাদের কাছে ছিল না। এখানেই মাওবাদী কমান্ডার মাদবি হিদমার সাফল্য বলে মনে করছে গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের বক্তব্য, হিদমা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। সংবাদমাধ্যমে খুব একটা ছবিও প্রকাশিত হয়নি। শুধু জানা যায়, দক্ষিণ সুকমার পুর্বতী গ্রামে হিদমার জন্ম। সুকমা, দান্তেওয়াড়া এবং বিজপুর হল তাঁর অপারেশন ক্ষেত্র। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, গত ১১ মার্চ নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর মাওবাদী হামলার অন্যতম মাথা ছিলেন এই হিদমা। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তা আধিকারিক নিহত হয়। স্থানীয় যুবক হিদমা বস্তার জঙ্গল নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। বেশ কয়েক বছর আগে এক সাংবাদিক তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন, খুব চাপা স্বভাবের হিদমার চোখ দু’টি জ্বল জ্বল করে। ‘কথা কম, কাজ বেশি’ তত্ত্বে বিশ্বাসী হিদমার দেখা সহজে পাওয়া যায় না। অল্প বয়সে মাওবাদী হিসাবে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার পর শীর্ষে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগেনি হিদমার। তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেকেই বলেন, হিদমার এই উন্নতির কারণ, তাঁর হিংস্র মনোভাব। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে ওই মাওবাদী কমান্ডারের চেহারা পালটে যেতে সময় লাগে না। এছাড়াও নেতৃত্বে দেওয়ার ক্ষমতা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের উপর হিদমার প্রভাব যথেষ্ট বেশি। তাই কখন, কোথায় হিদমা থাকেন, তার কোনও খবর পুলিশের কাছে থাকে না। আরও অনেক নবীন মাওবাদীর রোল মডেল হিদমা কোথাও সন্তোষ বা হিদমালু নামে পরিচিত। শুধু হিদমা নয়, ছত্তিশগড়ে মাওবাদী গতিবিধির খবর পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক। তিনি বলেন, স্থানীয় গ্রামবাসীরা পুলিশকে বিন্দুমাত্র সাহায্য করেন না। তার কারণ, প্রথমত, মাওবাদীদের ভয়। আর দ্বিতীয়ত, মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতি। এছাড়া, মাওবাদী হিসাবে যারা পরিচিত, তাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে গ্রামবাসীদের সহানুভূতি সহজেই পায় তারা। অতর্কিতে হামলা চালানোর পর গভীর জঙ্গলে মিলিয়ে যায় মাওবাদীরা। তারপর তাদের খোঁজ মেলে না।

সূত্রঃ the hindu, satdin.in