ভারতঃ ২০১৫ সালে বস্তার ও বিহারে নকশাল সহিংসতার পরিসংখ্যান

back2.tif

২০১৫ সালে  ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলে মাওবাদীদের আক্রমণে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৭ জন সদস্য নিহত হয়েছে, গুরুতর জখম হয়েছে ১১৫ জন, ৪৭ জন ব্যক্তিকে পুলিশের চর অভিযোগে খতম করেছে মাওবাদীরা। কথিত মাওবাদী নামে আত্মসমর্পণ করেছে ৩২৭জন! পক্ষান্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন ৪৬ জন মাওবাদী, উদ্ধার করা হয়েছে  একটি একে -47, একটি SLR, একটি 303 বন্দুক এবং চারটি 9 মিমি পিস্তল সহ ১৬৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়- ছত্তিসগড় পুলিশের মাওবাদী দমন ইউনিট (Anti-Naxal Operation (ANO) unit) গত বুধবার এই পরিসংখ্যানটি প্রকাশ করেছে।

অপরদিকে বিহারে ২০১৫ সালে ৫২৭ জন মাওবাদীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। যদিও ২০১৫ ও ২০১৪ সালে মাওবাদীদের কোন প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী। এখানে গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি গ্রামে ” প্রতিষ্ঠা করেছে মাওবাদীরা।  ২৩টি মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ৮৫টি নতুন থানা স্থাপন করেছে বিহার সরকার, এর মধ্যে নির্মাণাধীন ৪৩টি থানার কাজ ২০১৬ সালের মার্চের মধ্যে শেষ হবে বলে সুত্র জানাচ্ছে। এ ছাড়াও রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে সবচেয়ে বেশী মাওবাদী অধ্যুষিত ৬টি জেলায় আরো ৪০টি নতুন থানার অনুমোদন চেয়েছে।

অনুবাদ সূত্রঃ 

http://www.thehindu.com/news/national/other-states/140-people-killed-in-bastar-naxal-violence-in-2015/article8103681.ece

http://timesofindia.indiatimes.com/city/patna/527-Maoists-arrested-in-2015-in-Bihar/articleshow/50568562.cms

Advertisements

ভারতঃ “চলে যাও অথবা মর” -বস্তারের পুলিশদের সতর্ক করে দিল মাওবাদীরা

police_2388621f

কনস্টেবলকে অপহরণ ও খতমের দায়িত্ব স্বীকার করল মাওবাদীরা

ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলের নিম্নস্তরের পুলিশদের চাকরী ছেড়ে দেয়ার অথবা “পিএলজিএ (People’s Liberation Guerrilla Army) এর গেরিলাদের হাতে মৃত্যুর” হুমকি দিয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)।

মাওবাদীদের পশ্চিম বস্তার বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি মাধভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান,  অপহরণকৃত কনস্টেবল বীরা বসন্তকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে মাওবাদীরা । ৭ই এপ্রিল তাকে অপহরণ করা হয় ও দুই সপ্তাহ পর বিজাপুর জেলায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিরস্ত্র বীরা তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গ্রামে যাচ্ছিলেন। কনস্টেবল বীরার অপহরণ বিজাপুরের স্থানীয় অধিবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের “নীরব প্রতিবাদের” দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার মুক্তির জন্য স্কুলের বাচ্চারা প্রতিবাদ র‍্যালীর আয়োজন করেছে।

বীরার মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকার ও বিজাপুর পুলিশকে দায়ী করে মাওবাদী নেতা দাবী করেছেন, তার মুক্তির জন্য জেলা পুলিশ কোনরকম সংলাপে বসেনি। “তার বদলে, আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ র‍্যালি আয়োজন করার জন্য পুলিশ স্থানীয় অধিবাসী ও স্কুলের বাচ্চাদেরকে চাপ দেয়। আমাদের পার্টির নীতিমালায় নিরস্ত্র পুলিশদের হত্যা করার কোন বিধান নেই। আমরা অনেক জওয়ানকে মুক্তি দিয়েছি যারা নিরস্ত্র ছিল। তবে আমরা তাদের ছেড়ে দিতে পারিনা যারা জেনেশুনে জনগণের উপর নিষ্ঠুরতা চালায়। মাধভী বলেন, বীরা ছিল সেই ধরনের একজন পুলিশ”।

তিনি আরো বলেন, “সে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছিল এবং অসংখ্য সাজানো এনকাউন্টার ও বিজাপুরের আদিবাসীদের গ্রামে হামলার নেতৃত্বে সে ছিল। সে গ্রামবাসীদের থেকে অর্থও আদায় করত”।

“বীরা তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গ্রামে যাচ্ছিল”- পুলিশের এ দাবীকেও অস্বীকার করেছেন মাওবাদী নেতা। মাধভীর দাবী, “সে আওয়াপল্লী এলাকায় আমাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে বিজাপুরের এসপির অফিসের দিকে যাচ্ছিল। সে জানত সে কী করছিল এবং তার মত একজন গণশত্রুকে ছেড়ে দেয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল”।

মাওবাদী নেতা সতর্ক করে দিয়ে জানান, “বিরার এই খতম বস্তারের সকল নিম্নস্তরের পুলিশদের প্রতি একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। কর্পোরেটদের জন্য যুদ্ধ করা বন্ধ কর, -যারা আদিবাসী ভূমি দখল করার জন্য এখানে এসেছে। পুলিশের চাকরী বাদ দিয়ে অন্য কোন চাকরী যোগাড় কর যদি বস্তারে থাকতে চাও। তা না হলে PLGA এর হাতে মৃত্যুর জন্য তৈরী হও”।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/other-states/quit-or-die-maoists-warn-policemen-in-bastar/article7151053.ece