ভারতঃ মাওবাদী লিঙ্ক সন্দেহে কবির কলা মঞ্চের শিল্পী দম্পতি গ্রেফতারের প্রতিবাদে মিছিল ও সভা

11329883_757973254315444_2137629074106728376_n

গত বৃহস্পতিবার বারামতিতে পুনে ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কবির কলা মঞ্চের (KKM)  শিল্পী দম্পতি  শচিন মালি ও শীতল সাথে’র সমর্থনে বিভিন্ন দলিত ও সামাজিক সংগঠন থেকে প্রায় ২০০ কর্মী গ্রেফতারকৃত এই দম্পতির সমর্থনে এক নীরব কুচকাওয়াজ করে । সিপিআই(মাওবাদী)’র সাথে লিঙ্কের অভিযোগ এনে রাষ্ট্র সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড (ATS)  তাদের গ্রেফতার করে। এসব কর্মীরা “শাহির শচীন মালি মুক্তাত ক্রুতি সমিতি, বারামতি” এর ব্যানারে সমবেত হয়ে আর্থার রোড কারাগারে আটক শচীনের মুক্তির দাবি জানান।

শীতল জামিনে মুক্ত আছেন এবং সামাজিক ও বিপ্লবী গান ও কবিতা নিয়ে “শাহীরি জলসা”র গানের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমর্থন চাইছেন। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিজি কোলসে পাতিলের উপস্থিতিতে মোর্চার এই প্রদক্ষিণ ডঃ বাবা সাহেব আম্বেদকর থেকে শুরু হয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়। কোলসেএ সময় তার বক্তৃতায় কর্মীদের শচীন মুক্তির দাবিতে “জেলে ভরো” আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। তিনি বলেন, “শচীন ও শীতলকে মিথ্যাভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, এটা দলিত শিল্পীদের নকশাল হিসেবে তকমা দেয়ার একটি ষড়যন্ত্র”।

অনুবাদ সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/cities/mumbai/in-baramati-silent-march-around-artiste-couple-arrested-for-maoist-links/

.


‘মাওবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত শিল্পীরা জানিয়েছে, তাদের শিল্প ও কলম কখনই আত্মসমর্পণ করবে না-

kabir-kala-manch-lead  

11057304_879670872056359_8992860934256293333_n

ভারতের পুনে ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কবির কলা মঞ্চ(কেকেএম-KKM), তাদের বিপ্লবী এবং আর্থ সামাজিক-রাজনৈতিক গানের সিডি মুক্তির সকল প্রস্তুতি নিয়েছে। কেকেএম এর শিল্পীদের মাওবাদী সংযোগ আছে, এমন সন্দেহে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারীতে রয়েছেন। এতোসব কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও কেকেএম এর শিল্পীরা তাদের নতুন গানের সিডি রেকর্ড করেছে (গান- গানই সংঘর্ষচি নাভ নির্মিতিচি)। এছাড়াও কেকেএম তাদের জেলবন্দী সহকর্মী শিল্পীদের রচিত কবিতা ও গল্পের বই প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই-মাওবাদী) সঙ্গে জড়িত সন্দেহে  বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে।

কেকেএম শিল্পী জ্যোতি জাগতাপ জানিয়েছে- কেকেএম এর আগে তিনটি সিডি বের করেছে – ইয়েভো বালিচা রাজা, জাতি আনতাচি গানই, রাজিয়া দামান বিরোধী সাহরি। নতুন সিডিতে এই গান গুলো ছাড়াও নতুন কিছু গান থাকবে । এটা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে ।

জ্যোতি আরো বলেন- এই নতুন গান গুলোর মধ্যে একটি লিখেছেন কেকেএম শিল্পী রমেশ গাইছর, যিনি জেল বন্দী ছিলেন। রমেশ, শিলা বৃষ্টি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যথা অনুভব করে গানটি লেখেন (গান – গাড়পীথিতূণ আভালাতূণ জাহাড় শিভারি বাড়শাভলা- শিলা বৃষ্টি খামারে বিষ হয়ে পড়ে)। তিনি বলেন, অন্য গানটির কম্পোজ করা হয় মুক্তিযোদ্ধা ভগত সিং, রাজগুরু ও সুখদেবকে নিয়ে । এই গানটি লিখেছেন এবং গেয়েছেন কেকেএম শিল্পী দীপক ঢেঞাল, যিনি ২০১২ সালে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ।

“নতুন সিডিতে ৩২ টি গান থাকবে। ১০০ রূপীর মধ্যেই পাওয়া যাবে। এই গান গুলোর কোন কপিরাইট থাকবে না। কেকেএম হচ্ছে জনগণের আন্দোলনের জন্য জনগণের শিল্প, তাই আমাদের কোন আপত্তি নেই যদি জনগণ উন্মুক্ত ভাবে এই গান গুলো কপি ও আদান প্রদান করে। সকল কেকেএম সদস্যই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা, তাদের দুঃখ বেদনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কম্পোজিশন গুলো খুবই সহজ স্বাভাবিক, রমেশ এবং সাগর জেল বন্দী থাকাকালীন কবিতা ও গল্পগুলো লেখেন। তারা ২ বছর আগে ৭ই মে ২০১৩ সালে আত্মসমর্পণ করেন। আমরা এই বছরেই একই তারিখে বইটি বের করার পরিকল্পনা নিয়েছি”- জানালেন সহকর্মী আরেক শিল্পী রূপালী যাদভ ।

২০১১ সালের এপ্রিল-মে তে কথিত মাওবাদী সোনতাক্কে এঞ্জেলা তার সহযোগী সহ থানে এবং পুনে থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর এটিএস(ATS) কেকেএম শিল্পী দীপক, রমেশ, শচীন মালি, শীতল সাথে এবং সাগর গোরখেদের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাবদ্ধ করেন। শচীন, শীতল, রমেশ এবং সাগর ২০১৩ সালে মুম্বাইয়ে “সত্যাগ্রহ” মঞ্চস্থ করার মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আণ্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়া জ্যোতি ও রূপালীকে তাদের সাথে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিলো । আত্মসমর্পণকারী কিছু সিপিআই-মাওবাদী এটিএসকে দেয়া বিবৃতিতে জানায় – জঙ্গলে তারা কেকেএম শিল্পীদের পরিচয় “শহুরে এলাকার পার্টি কর্মী” হিসেবে পরিচিত হন ।

শিল্পীরা বলেন- পুলিশি সংস্থা গুলোর প্রতারণার কারণে তাদের পক্ষে কোন পেশাদারী স্টুডিওতে গান গুলো কম্পোজ করা সহজ ছিল না ।

“কেকেএম একটি মাওবাদী ফন্ট হিসেবে চিহ্নিত, কেকেএম কোন নিষিদ্ধ গ্রুপ নয়, কিন্তু পুলিশের সম্মুখ অনুসন্ধানের সময় যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, তারা আমাদের পরামর্শ দেন যে, বিভিন্ন নামে আমাদের কাজ বন্ধ করা উচিত। কিন্তু আমরা কেকেএম নামেই কাজ করেছি। আমাদের কলম আত্মসমর্পণ করবে না, বা আমরা আমদের শিল্পকে নিলামে তুলবো না…………

একদিন আমরা এই বেআইনি বাহিনীকে পরাজিত করবোই,” বললেন জ্যোতি ।

সুত্র

http://indianexpress.com/article/cities/pune/artistes-branded-as-maoists-say-they-wont-surrender-their-art-pen/