জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর মাওবাদী নেতা ‘কোবাদ গান্ধী’র প্রথম সাক্ষাৎকার

kobad

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুম্বাইয়ের নিজ বাড়ীতে মাওবাদী তাত্ত্বিক ‘কোবাদ গান্ধী’

মুক্ত হতে পেরে খুশি, কিন্তু এটি কেবল অর্ধ-স্বাধীনতা: মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী

“অনেক বছর পরে মুক্ত হওয়ার পর ভাল লাগছে” বলছেন মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী, যিনি ৮ বছর জেলে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। “আমি পার্সি খাবারগুলোকে খুব মিস করি। অনেক বছর ধরে আমার প্রিয় খাবারের স্বাদ নিতে পারিনি।”

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই(মাওবাদী) সদস্যের অভিযোগ এনে কোবাদ গান্ধী’কে গ্রেফতার করা হয় এবং বেআইনী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। গত বছর মামলায় তাকে খালাস দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং দিল্লির তিহার এবং হায়দরাবাদের চেরপালাপাল্লি সহ বিভিন্ন কারাগারে তাকে ৮ বছর কাটাতে হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী গান্ধীকে মুম্বাই যাওয়ার আগে আরও দুটি আদালতে উপস্থিতি হতে হয়েছে –যে শহরে তিনি এবং তার বোন মাহরুখ বড় হয়েছিলেন, ২১ বছর আগে এই শহর তার বাড়ি ছিল, লন্ডনে চার্টার্ড একাউন্টেন্সী পড়তে যাওয়ার আগে এবং ১৯৭০ সালে বামপন্থী আন্দোলনের আদর্শবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন পরিবর্তিত মানুষ হিসাবে লন্ডন থেকে এই শহরেই ফিরে আসেন তিনি।

ফিরে আসার পর, ধনী পারসী দম্পতি- নার্গিস এবং আদি গানি’র পুত্র গান্ধী, ১৯৭৮ সালে জরুরী অবস্থা পরবর্তী নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি মনোযোগ দেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মুম্বাইয়েই হবু স্ত্রী, এলফিনস্টোন কলেজের এমফিলের ছাত্রী অনুরাধা শানবাগ’র সাথে তার দেখা হয়। ২০০৮ সালে এই দম্পতি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়, ম্যালেরিয়ায় অনুরাধার মৃত্যু হয়। এর এক বছর পর, গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়।

“মুম্বাইতে যাওয়ার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারি না। আমার বোন, শাশুড়ি, শ্যালক সুনিল (শানবাগ, থিয়েটারের ব্যক্তিত্ব)… তারা সবাই আমাকে দেখার জন্যে অপেক্ষা করছে। প্রাথমিকভাবে, তারা আমার শাশুড়িকে বলেনি যে, আমি মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু তিনি খবরের কাগজে পড়েছেন। সুতরাং যখন আমি সেখানে যাব, এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হবে,” তিনি বলেন। তার মুক্তির সময়ে ফোনে কথা বলার মুহুর্তে আনন্দ প্রকাশ ছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলার কথা বলেন।

“এখনও পর্যন্ত ৭টি’র মত মামলা আছে, ১০-১৫ বছর পুরনো এই মামলাগুলোর এখনো কোনো  অভিযোগপত্র তারা(পুলিশ) দাখিল করেনি। তাই আমি উদ্বিগ্ন যে, মামলাগুলো তারা হঠাৎ করেই আবার পুনরুজ্জীবিত করবে। তারপর রয়েছে গুজরাটের মামলা, যেখানে পুলিশ নাগপুর থেকে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে (নকশাল কার্যকলাপের জন্যে আগস্টে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এই মামলায় কোবাদকেও অভিযুক্ত করা হয়)। এই বয়সে, এই সব বিষয় টেনশনের উৎস … তবে হ্যাঁ, আমি মুক্ত হতে খুশি, কিন্তু এটি শুধুমাত্র আধা-স্বাধীনতা” তিনি বলেন। “আমি সত্যিই বিরক্ত হয়েছি যে, যখন পুলিশ চার্জশিট দাখিল করার কোন উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও এতদিন ধরে আমাকে কারাগারে আটকে রেখেছিল”।

এমন কিছু বিষয় আছে যা তাকে বিরক্ত করে। “গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অনেক বিষয় পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তিটি এতটাই বদলে গেছে যে, স্মার্টফোন ব্যবহার করা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই” তিনি শুকনো কণ্ঠে বলেন।

“প্রায় ৮ বছর পর কারাগার থেকে বের হতে পেরে ভালোই লাগছে। আমি চাইতাম আমার স্বাস্থ্য একটু ভাল থাক”। গান্ধী বলেন যে, ‘তিনি হালকা বুকের ব্যথার চিকিৎসার পাওয়ার জন্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে জামিনের জন্যে আবেদন করেন’।

“ভারাভারা রাও মত পুরানো বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে ভাল লাগছে। তিনি আমাদের পুরনো সুখস্মৃতির কাহিনী দিয়ে আমাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আমরা ‘সিভিল লিবারিটিজ মনিটরিং কমিটি’তে আমাদের ঐ দিনগুলোতে ফিরে যাই। তবে, কয়েক দশক আগের অনেক কিছু আমি এখন স্মরণ করতে পারিনা”।

নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যতের কথা এখনো ভাবিনি, আমি জানি না আমি কী করব। এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমার পরিবারকে এবং মুম্বাইতে নিজের ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/happy-to-be-free-but-this-is-only-semi-freedom-maoist-ideologue-kobad-ghandy-4983420/

Advertisements

ভারতঃ নকশাল তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী অনশন ভঙ্গ করেছেন

SS-E2614-KobadG

k1

তিহার জেলে আটক বিচারাধীন ৬৮ বছর বয়সী নকশাল তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী শুক্রবার অনশন ভঙ্গ করেছেন। আদালত থেকে কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোবাদ গান্ধীকে যথাযথ স্বাস্থ্য সুবিধা ও মৌলিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের নির্দেশ আসার পরপরই তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। কোবাদের আইনজীবী ভাভুক চৌহান সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত উপযোগী একটি নির্দেশ। আদালত তার (কোবাদের) বয়স ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেছে।” মাওবাদী মতাদর্শবাদী তাত্ত্বিক হবার অভিযোগে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বাস্থ্যের যাতে অবনতি ঘটে সেই উদ্দেশ্যে তিহার কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হয়রানি করছে এই অভিযোগে গত শনিবার থেকে কোবাদ অনশন শুরু করেন। এক কারাগার থেকে তাকে আরেক কারাগারে স্থানান্তর করা হলে ঔষধপত্র, গরম পানি, বিছানা ও কমোড ইত্যাদি মৌলিক সুবিধাগুলো থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন; তাই মুলতঃ এই স্থানান্তরের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেছিলেন। কোবাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিহার কারা কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন পেশ করে, যাতে উল্লেখ করা হয় তাকে চিকিৎসা সেবা থেকে কখনো বঞ্চিত করা হয়নি। ‘অভিযুক্তকে যেসকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করার কথা সেগুলো যেন তাকে যথাযথ ভাবে প্রদান করা হয়’ সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে আদালত জেল সুপারিন্টেন্ডেন্টকে নির্দেশ দেয়। ১৫ মিনিটের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

সুত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/ghandy-ends-hunger-strike/article7287551.ece


ভারতঃ তিহার জেলে আটক ‘নকশাল বাদী’ কোবাদ গান্ধী অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন

kabodghandy_quoute

নকশাল বাদী হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে নয়াদিল্লীর তিহার জেলে আটক কোবাদ গান্ধী কারা কর্তৃপক্ষের হয়রানির প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্যে অনশন শুরু করেছেন।

বর্তমানে কোবাদ গান্ধী(৬৮)কে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানেই রাখার জন্য তার একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ এখন তাকে ৮ নম্বর কারাগারে স্থানান্তর করছে । সীমিত পরিসরে হলেও এখানে তার মত শারীরিকভাবে অসুস্থ একজন সিনিয়র বন্দী নাগরিকের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া, যাবতীয় বই পুস্তক জিনিসপত্র এক জেল থেকে বহুদূরে অবস্থিত অন্য জেলে টেনে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত শ্রম সাপেক্ষ বিষয় যা এ মুহূর্তে কোবাদের বর্তমান ভঙ্গুর শারীরিক অবস্থায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এক বিবৃতিতে কোবাদ গান্ধী জানান, তিনি হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, বাত এবং আর্থরাইটিস, কিডনি সহ বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। অথচ, এসব জেনেও কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত তাকে হয়রানি করে যাচ্ছে।

যেহেতু এটা পরিস্কার যে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানান্তর করবেই; তার অসংখ্যবার অনুরোধের পরেও তার কোন কথা তারা কানে তুলছে না, এ পরিস্থিতিতে এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনশনে যাওয়া ছাড়া কোবাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।

সুত্রঃ http://zeenews.india.com/news/india/naxalite-kobad-ghandy-on-indefinite-hunger-strike-inside-tihar-jail_1606746.html


ভারতঃ দিল্লির তিহার জেলে আটককৃত রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধী অনশনে যাচ্ছেন

11351235_1082607471755473_838892894812323698_n

তিহার কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধীর উপর হয়রানি চলছে এখনো। বর্তমানে তাকে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানেই রাখার জন্য তার একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ এখন তাকে ৮ নম্বর কারাগারে স্থানান্তর করছে । সীমিত পরিসরে হলেও এখানে তার মত শারীরিকভাবে অসুস্থ একজন সিনিয়র বন্দী নাগরিকের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া, যাবতীয় বই পুস্তক জিনিসপত্র এক জেল থেকে বহুদূরে অবস্থিত অন্য জেলে টেনে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত শ্রম সাপেক্ষ বিষয় যা এ মুহূর্তে কোবাদের বর্তমান ভঙ্গুর শারীরিক অবস্থায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু এটা পরিস্কার যে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানান্তর করবেই; তার অসংখ্যবার অনুরোধের পরেও তার কোন কথা তারা কানে তুলছে না, এ পরিস্থিতিতে এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনশনে যাওয়া ছাড়া কোবাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।

তিহার কারা কর্তৃপক্ষের অমানবিক স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতি নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধীর অনশনের প্রতি সমর্থন জানান ও কারাগারের ডিরেক্টর জেনারেলের কাছে – দিল্লি, তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স, এই ঠিকানায় বিচারাধীন রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধীকে ৮ নম্বর কারাগারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন জানান।

সুত্রঃ https://www.facebook.com/lalsalampage?fref=ts

        Date -30.05.2015