মনিপুরের মাওবাদীদের গণযুদ্ধের সংবাদ

12342450_1647526612183299_3845455455006015542_n

মনিপুরের ইম্ফলে গত ৪ঠা জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে জওহরলাল নেহেরু ইনস্টিটিউট (JNIMS) এর পরিচালক ড, লাইশ্রাম দেবেনের বাসভবনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের রেখে যাওয়া শক্তিশালী বোমা পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে নিরাপদে বোমাটি উদ্ধার করেছে। ডা দেবেন গত পাঁচ মাস থেকে ইন্সটিউটের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন।

মনিপুরের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। মনিপুরের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রচার ও প্রকাশনা সচিব কমরেড  ননগ্লেন মেইতেই স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “পার্টির স্পেশাল রেড গার্ড ওই বোমাটি বহন করেছিল। JNIMS দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে ভরে গিয়ে নামমাত্র হাসপাতালে পরিণত হয়েছে, রোগীদের প্রতি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছে, হাসপাতালে কর্মী নিয়োগে চরম দুর্নীতি হচ্ছে। যদি পরিচালক তার এই দুর্নীতি ও অপকর্ম বন্ধ না করে, তাহলে একই ঘটনা পুনরায় ঘটানো হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। “

অনুবাদ সূত্রঃ http://kanglaonline.com/2016/01/bomb-placed-at-jnims-directors-residence-maoist-claims-responsibility/

Advertisements

তুরস্কের শহীদ ১৭ জন মাওবাদী কমরেড স্মরণে –

তুরস্ক-কুর্দিস্তানের দারসিমের মেরকান অঞ্চলে ২০০৫ সালের ১৬ই জুন বৃহস্পতিবার থেকে ১৭ই জুন শুক্রবারের মধ্যে তুরস্কের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ১৭ জন মাওবাদী কমরেডকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে ও অন্য ৩ জনকে আহত করে। তুরস্কের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MCP) এর সাধারণ সম্পাদক সহ ৬জন কেন্দ্রীয় সদস্য এতে শহীদ হন। MCP-র কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবর্ধিত সভার সময় আক্রমণটি ঘটে। প্রথমে রাষ্ট্র এই সম্পর্কে কোনো বিবৃতি দেয়নি। পরে টেলিভিশন সংবাদে দেখানো হয়, রাষ্ট্র কর্তৃক আটক ১৭ জন গেরিলাকে হত্যা এবং অপর ৩ জনকে আহত করা হয়, এ সময় তাদের নাম প্রকাশ প্রত্যাখ্যান করা হয়।

মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MCP)র শহীদ ১৭ জন মাওবাদী কমরেড

মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MCP)র শহীদ ১৭ জন মাওবাদী কমরেড

শহীদ কমরেডদের নাম  –

Cafer Cangöz (MCP কেন্দ্রীয় সদস্য),

Aydýn Hanbayat (MCP কেন্দ্রীয় সদস্য),

Ali Riza Sabur (MCP কেন্দ্রীয় সদস্য),

Cemal Çakmak (MCP কেন্দ্রীয় সদস্য),

Ökkeþ Karaoðlu (MCP কেন্দ্রীয় সদস্য),

Gülnaz Yýldýz (MCP কেন্দ্রীয় সদস্য),

Okan Ünsal (Conference Security Unity Commander),

Berna Ünsal,

Alaattin Ataþ,

Kenan Çakýcý,

Taylan Yýldýz,

Ýbrahim Akdeniz,

Binali Güler,

Dursun Turgut,

Ahmet Bektaþ ,

Cagdas Can ve Ersin Kantar.

রাষ্ট্র কর্তৃক বিকৃত মৃতদেহ গুলি মর্গ থেকে মুক্তি দেয়ার পর, শহীদ গেরিলাদের জন্য শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময় শহীদদের মৃতদেহের ছবি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তুরস্ক সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন ইউনিট প্রথমে গেরিলাদের উপর তীব্র নির্যাতন চালায় ও পরে হত্যা করে।

মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MCP) ২০০৩ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়, এর আগে দলটিকে TKP-ML/ টিকেপি (এম-এল) বলা হতো । শীতকালের এই হামলাটি তুরস্কের মাওবাদীদের উপর ধারাবাহিক ব্যাপক নিপীড়ন ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ঐ শীতকালীন সময়টিতে বিশেষ করে তুরস্ক-কুর্দিস্তানের দারসিমে তুরস্কের ফ্যাসিবাদী সেনাবাহিনীর ও পিপলস আর্মি TIKKO (যা তুরস্কের অন্যতম মাওবাদী দল TKP-ML এর নেতৃত্বাধীন) ও পিএলএ(পিপলস লিবারেশন আর্মি-MCP নেতৃত্বাধীন) এর মধ্যে অনেক বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এই সময়কালীন MCP-র ২০ জনেরও বেশী গেরিলা ও তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি – মার্কসবাদী লেনিনবাদী(TKP-ML) এর ৩ জন গেরিলা কমরেড Cafer Kara, Aþkýn Günel ও Muharem Yiðitsoy শহীদ হন। পুরো শীতকাল জুড়েই তুরস্ক-কুর্দিস্তানের সর্বত্র দারসিম সিরনাক, ভান ও মূপ সহ বিভিন্ন এলাকায় তুর্কী সেনাবাহিনী মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অনেক অপারেশন চালায়। এ ছাড়াও হাকাকীতে PKK/পিকেকে‘র অনেক গেরিলাকেও হত্যা করা হয়।


যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাঠানো মণিপুর মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (Maoist Communist Party-MCP) এর একটি প্রতিবেদন

mani

11427882_946682592061300_682535535_n

মণিপুরের চ্যান্ডেল জেলায় ভারতীয় মিলিটারিদের অপারেশন চলছে। এই কারণে চ্যান্ডেল জেলার জনসাধারণকে মণিপুরের অন্যান্য স্থান থেকে পৃথক করে দেখাটা কাপুরুষতা। মণিপুর মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির জন্য চ্যান্ডেল জেলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য কারণ পার্টির প্রথম গঠন ও রূপায়ণের পর এর প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান কমরেড নাগামলেত বেইতে এ জেলা থেকেই এসেছিলেন। এখনো পর্যন্ত এই জেলাটিতে আমাদের পার্টি কমিটি পরিপূর্ণ ও বলিষ্ঠ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তার প্রভাব বজায় রেখেছে। এ জেলায় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কিছু যুদ্ধরত দল ভারতীয় আর্মির উপর হামলা চালানোর পর থেকে ভারতীয় আর্মি ক্রমাগত এই স্থানের নিরীহ জনগণের জীবন ভীতসন্ত্রস্ত ও বিপন্ন করে চলেছে।

চলমান শান্তিচুক্তির অজুহাতে সাসপেনশন অফ অপারেশনের (SoO) অধীনে কালো পোশাকধারী সশস্ত্র একটি গ্যাং ভারত সরকারের সাথে যোদ্ধাদের খোঁজে এখনো Search and Destroy অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। চ্যান্ডেল জেলায় লড়াইরত মণিপুর মাওবাদী দলের ক্যাডারদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, Suspension of Operation (SoO) এর আওতাধীন একটি সশস্ত্র কালো গ্যাং (Armed black gang) এর নেতৃত্বে আছে আর ভারতীয় আর্মি তাদের অনুসরণ করছে। এই গ্যাং এর নেতা মিনথাং, বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডে আছে এবং থাংবই জ্যাকব আছে দ্বিতীয় শীর্ষ কমান্ডে; আর ভারতীয় আর্মি তাদেরকে পিছন থেকে অনুসরণ করছে। যদিও, শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য SoO এর অধীনে কিছু ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে,  মূলতঃ তাদেরকে এই কথিত মিলিটারি অপারেশনে মানব রোবট হিসেবে ব্যবহার করছে ভারতীয় আর্মি। জ্যাকব থাংবই, তার গ্যাং ও ভারতীয় আর্মির মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কারণ ভারতীয় আর্মির সদস্যরা স্থানীয় ভাষা বুঝতে ও বলতে পারে না। জ্যাকবই একমাত্র ব্যক্তি যে হিন্দি বুঝতে ও বলতে পারে।

মিনথাং ও জ্যাকবের নেতৃত্বাধীন এই প্রতিক্রিয়াশীল গ্যাংকে চ্যান্ডেল জেলার খামারোল গ্রামে ভারত সরকার নির্মিত একটি ক্যাম্প থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। Suspension of Operation (SoO)  কিংবা শান্তি চুক্তির অধীনে চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় আর্মির কথিত মাওবাদী নিধন অপারেশনে এই গ্যাংকে ব্যবহার করার অনুমতি নেই। চ্যান্ডেলের মানুষ খুব ভালভাবেই জানে মিনথাং ও জ্যাকব থাংবই United Kuki Liberation Front, (UKLF) এর সদস্য। মণিপুরের চ্যান্ডেল জেলার বিভিন্ন স্থানে অনেক পার্টি ক্যাডার ও পার্টির ইউনিট রয়েছে। মিলিটারিদের অপারেশন যেখানে চলছে সেখানে পার্টির সদস্যদের কেউ আহত বা জখম হয়নি। এনকাউন্টারে নেতৃত্ব দিতে ভয় পায় যে ভারতীয় আর্মি, তাদের দিক থেকে মণিপুরের বিপ্লবী পার্টিকে দমন ও পরাজিত করা অসম্ভব বিষয়।

বার্মার (মায়ানমার) সীমানায় মণিপুর মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির একটিও ক্যাম্প নেই। পৃথিবীর যেখানে যতদিন মণিপুরিদের অস্তিত্ব আছে ততদিন পর্যন্ত মণিপুরের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না কিংবা উপড়ে ফেলা যাবে না। মাসিক বেতনের জন্য ভারতীয় আর্মিতে যোগদানকারী যেসব ব্যক্তিকে সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশবাদী ভারত সরকার অপারেশনে পাঠাচ্ছে, তারা কোনদিন মণিপুরের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে দমন করতে সক্ষম হবে না। মণিপুরে কী ঘটছে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না রেখে, রণাঙ্গন কিংবা কাছাকাছি গ্রামগুলো থেকে অপারেশন সম্পর্কে কোন সঠিক তথ্য সংগ্রহ না করে কতিপয় মূল ধারার গণমাধ্যম ভারতীয় আর্মিকে শক্তিশালী বাঘে রূপান্তরিত করেছে। এ ধরণের ভাড়া করা প্রোপাগান্ডায় আস্থা রাখার ও আমলে নেয়ার কোন কারণ নেই। এই ধরনের ব্যক্তি ও তাদের কার্যকলাপকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কমরেড চেয়ারম্যান মাও। এর মধ্যে, সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল মণিপুরের স্থানীয় সাংবাদিকরা বাস্তব পরিস্থিতি চাক্ষুষ দেখছে অথচ মণিপু্রের গণমাধ্যমগুলো মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে (জাতীয় গণমাধ্যম,  যেগুলো মণিপুর থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছে) প্রকাশিত বানোয়াট তথ্যকে কপি কিংবা অনুবাদ করে পুনরায় মণিপুরে প্রকাশ করছে।

SoO এর অধীনে কালো গ্যাং এর নেতৃত্বে ভারতীয় আর্মি যেসব স্থানে অপারেশন চালাচ্ছে মূল ধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিক, এমনকি মনিপুরী গণমাধ্যমের একজন সাংবাদিকও এখনো পর্যন্ত সেসব স্থা্ন পায়ে মাড়ায়নি। সুতরাং, গণমাধ্যমগুলোতে মিলিটারি অপারেশন নিয়ে যেসব সংবাদ ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো সবই করা হয়েছে ভারতীয় আর্মির মনোবল টিকিয়ে রাখার জন্য। ভারতে যেসব প্রধান সংবাদপত্রগুলো রয়েছে সেগুলো সব ভারতীয় বহুজাতিক সহযোগিতা গ্রহণ করছে। দুর্ভাগ্যবশত, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তের সন্ধিক্ষণে মণিপুরের সাংবাদিকদের দায়িত্ব গ্রহণ করার যে নমুনা, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক যা মণিপুরের ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি। এমন এক পরিস্থিতিতে যখন ভারতীয় মিলিটারিদের অপারেশন চলছে ও রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, এ সময়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য নিজেদের ঝুঁকি ও দায়িত্ব সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করার সর্বোৎকৃষ্ট সময়।

SoO এর অধীনস্থ কালো পোশাকধারী সশস্ত্র গ্যাংদের ব্যবহার করে পরিচালিত মিলিটারি অপারেশনের প্রকৃত চিত্র এখনো পর্যন্ত স্থানীয় গণমাধ্যম ও দখল হয়ে যাওয়া ভারতীয় গণমাধ্যম প্রকাশ করেনি। সুতরাং, অত্যাবশ্যকীয়ভাবে আমাদের বক্তব্যকে ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে করে মণিপুরের জনগণ ও গোটা বিশ্বের মানুষ জানতে পারে ভারত সরকার কী ধরনের মেকী নাটক সাজাচ্ছে। ভারতের কোন গণমাধ্যম হয়তো আমাদের এই বিবৃতি প্রকাশ করবে না। সুতরাং, এই বিবৃতিকে সারা বিশ্বে প্রকাশ করার জন্য বিশ্বের সমস্ত মাওবাদী দলের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি।

চলমান মিলিটারি অপারেশন মণিপুর মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির বিপ্লবী আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে পারবে না, এই বক্তব্যটি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে মুক্তকণ্ঠে নিশ্চিতভাবে জানানো ও প্রচার করা হল।

সূত্রঃ

http://www.signalfire.org/2015/06/14/a-report-from-war-zone-of-manipur-mcp/