জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর মাওবাদী নেতা ‘কোবাদ গান্ধী’র প্রথম সাক্ষাৎকার

kobad

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুম্বাইয়ের নিজ বাড়ীতে মাওবাদী তাত্ত্বিক ‘কোবাদ গান্ধী’

মুক্ত হতে পেরে খুশি, কিন্তু এটি কেবল অর্ধ-স্বাধীনতা: মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী

“অনেক বছর পরে মুক্ত হওয়ার পর ভাল লাগছে” বলছেন মাওবাদী তাত্ত্বিক কোবাদ গান্ধী, যিনি ৮ বছর জেলে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। “আমি পার্সি খাবারগুলোকে খুব মিস করি। অনেক বছর ধরে আমার প্রিয় খাবারের স্বাদ নিতে পারিনি।”

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই(মাওবাদী) সদস্যের অভিযোগ এনে কোবাদ গান্ধী’কে গ্রেফতার করা হয় এবং বেআইনী কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা হয়। গত বছর মামলায় তাকে খালাস দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং দিল্লির তিহার এবং হায়দরাবাদের চেরপালাপাল্লি সহ বিভিন্ন কারাগারে তাকে ৮ বছর কাটাতে হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী গান্ধীকে মুম্বাই যাওয়ার আগে আরও দুটি আদালতে উপস্থিতি হতে হয়েছে –যে শহরে তিনি এবং তার বোন মাহরুখ বড় হয়েছিলেন, ২১ বছর আগে এই শহর তার বাড়ি ছিল, লন্ডনে চার্টার্ড একাউন্টেন্সী পড়তে যাওয়ার আগে এবং ১৯৭০ সালে বামপন্থী আন্দোলনের আদর্শবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন পরিবর্তিত মানুষ হিসাবে লন্ডন থেকে এই শহরেই ফিরে আসেন তিনি।

ফিরে আসার পর, ধনী পারসী দম্পতি- নার্গিস এবং আদি গানি’র পুত্র গান্ধী, ১৯৭৮ সালে জরুরী অবস্থা পরবর্তী নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি মনোযোগ দেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই মুম্বাইয়েই হবু স্ত্রী, এলফিনস্টোন কলেজের এমফিলের ছাত্রী অনুরাধা শানবাগ’র সাথে তার দেখা হয়। ২০০৮ সালে এই দম্পতি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়, ম্যালেরিয়ায় অনুরাধার মৃত্যু হয়। এর এক বছর পর, গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়।

“মুম্বাইতে যাওয়ার জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারি না। আমার বোন, শাশুড়ি, শ্যালক সুনিল (শানবাগ, থিয়েটারের ব্যক্তিত্ব)… তারা সবাই আমাকে দেখার জন্যে অপেক্ষা করছে। প্রাথমিকভাবে, তারা আমার শাশুড়িকে বলেনি যে, আমি মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু তিনি খবরের কাগজে পড়েছেন। সুতরাং যখন আমি সেখানে যাব, এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার হবে,” তিনি বলেন। তার মুক্তির সময়ে ফোনে কথা বলার মুহুর্তে আনন্দ প্রকাশ ছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলার কথা বলেন।

“এখনও পর্যন্ত ৭টি’র মত মামলা আছে, ১০-১৫ বছর পুরনো এই মামলাগুলোর এখনো কোনো  অভিযোগপত্র তারা(পুলিশ) দাখিল করেনি। তাই আমি উদ্বিগ্ন যে, মামলাগুলো তারা হঠাৎ করেই আবার পুনরুজ্জীবিত করবে। তারপর রয়েছে গুজরাটের মামলা, যেখানে পুলিশ নাগপুর থেকে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে (নকশাল কার্যকলাপের জন্যে আগস্টে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এই মামলায় কোবাদকেও অভিযুক্ত করা হয়)। এই বয়সে, এই সব বিষয় টেনশনের উৎস … তবে হ্যাঁ, আমি মুক্ত হতে খুশি, কিন্তু এটি শুধুমাত্র আধা-স্বাধীনতা” তিনি বলেন। “আমি সত্যিই বিরক্ত হয়েছি যে, যখন পুলিশ চার্জশিট দাখিল করার কোন উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও এতদিন ধরে আমাকে কারাগারে আটকে রেখেছিল”।

এমন কিছু বিষয় আছে যা তাকে বিরক্ত করে। “গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অনেক বিষয় পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তিটি এতটাই বদলে গেছে যে, স্মার্টফোন ব্যবহার করা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই” তিনি শুকনো কণ্ঠে বলেন।

“প্রায় ৮ বছর পর কারাগার থেকে বের হতে পেরে ভালোই লাগছে। আমি চাইতাম আমার স্বাস্থ্য একটু ভাল থাক”। গান্ধী বলেন যে, ‘তিনি হালকা বুকের ব্যথার চিকিৎসার পাওয়ার জন্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে জামিনের জন্যে আবেদন করেন’।

“ভারাভারা রাও মত পুরানো বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে ভাল লাগছে। তিনি আমাদের পুরনো সুখস্মৃতির কাহিনী দিয়ে আমাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। আমরা ‘সিভিল লিবারিটিজ মনিটরিং কমিটি’তে আমাদের ঐ দিনগুলোতে ফিরে যাই। তবে, কয়েক দশক আগের অনেক কিছু আমি এখন স্মরণ করতে পারিনা”।

নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যতের কথা এখনো ভাবিনি, আমি জানি না আমি কী করব। এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমার পরিবারকে এবং মুম্বাইতে নিজের ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।”

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/happy-to-be-free-but-this-is-only-semi-freedom-maoist-ideologue-kobad-ghandy-4983420/

Advertisements

সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাস্তারের আদিবাসী তরুণ হিদমা

hidma-naxal-leader-crpf-attack-sukma-chhattisgarh-647_042517021335

বাস্তার থেকে প্রথম আদিবাসীকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিল সিপিআই(মাওবাদী)। দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী PLGA এর সদস্য থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত হওয়া হিদমা হলেন দ্বিতীয় আদিবাসী সদস্য। শুধু তাই নয়, তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। ৩৬ বছরের হিদমা সামরিক দিক থেকে দলে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেনই আগে এবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসায় নিরাপত্তা বাহিনীর মাথা ব্যথার বাড়তি কারণ হতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। আদিবাসীদের দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে মাওবাদীরা জায়গা দেয়না বলে সরকারি প্রচারে বেশ ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন তারা। সাম্প্রতিক সময় দেশজুড়ে মাওবাদী আন্দোলন বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে, সেই সময় বাস্তার থেকে এক আদিবাসী তরুণকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা যথেষ্ট তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন মাওবাদী সমর্থকরাও।

ছত্তিশগড়ের আদিবাসী যুবক মাদবি হিদমা উচ্চতায় ছোট, বুদ্ধিতে তীক্ষ্ম এই যুবকের নেতৃত্বে মাওবাদীরা সুকমায় সিআরপিএফের বিরুদ্ধে অপারেশন চালালে অতর্কিত ওই হামলায় নিহত হয় ২৫ জন জওয়ান। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এত বড় একটি হামলার কোনও আগাম খবর গোয়েন্দাদের কাছে ছিল না। এখানেই মাওবাদী কমান্ডার মাদবি হিদমার সাফল্য বলে মনে করছে গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের বক্তব্য, হিদমা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। সংবাদমাধ্যমে খুব একটা ছবিও প্রকাশিত হয়নি। শুধু জানা যায়, দক্ষিণ সুকমার পুর্বতী গ্রামে হিদমার জন্ম। সুকমা, দান্তেওয়াড়া এবং বিজপুর হল তাঁর অপারেশন ক্ষেত্র। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, গত ১১ মার্চ নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর মাওবাদী হামলার অন্যতম মাথা ছিলেন এই হিদমা। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তা আধিকারিক নিহত হয়। স্থানীয় যুবক হিদমা বস্তার জঙ্গল নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। বেশ কয়েক বছর আগে এক সাংবাদিক তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন, খুব চাপা স্বভাবের হিদমার চোখ দু’টি জ্বল জ্বল করে। ‘কথা কম, কাজ বেশি’ তত্ত্বে বিশ্বাসী হিদমার দেখা সহজে পাওয়া যায় না। অল্প বয়সে মাওবাদী হিসাবে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার পর শীর্ষে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগেনি হিদমার। তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেকেই বলেন, হিদমার এই উন্নতির কারণ, তাঁর হিংস্র মনোভাব। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে ওই মাওবাদী কমান্ডারের চেহারা পালটে যেতে সময় লাগে না। এছাড়াও নেতৃত্বে দেওয়ার ক্ষমতা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের উপর হিদমার প্রভাব যথেষ্ট বেশি। তাই কখন, কোথায় হিদমা থাকেন, তার কোনও খবর পুলিশের কাছে থাকে না। আরও অনেক নবীন মাওবাদীর রোল মডেল হিদমা কোথাও সন্তোষ বা হিদমালু নামে পরিচিত। শুধু হিদমা নয়, ছত্তিশগড়ে মাওবাদী গতিবিধির খবর পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক। তিনি বলেন, স্থানীয় গ্রামবাসীরা পুলিশকে বিন্দুমাত্র সাহায্য করেন না। তার কারণ, প্রথমত, মাওবাদীদের ভয়। আর দ্বিতীয়ত, মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতি। এছাড়া, মাওবাদী হিসাবে যারা পরিচিত, তাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে গ্রামবাসীদের সহানুভূতি সহজেই পায় তারা। অতর্কিতে হামলা চালানোর পর গভীর জঙ্গলে মিলিয়ে যায় মাওবাদীরা। তারপর তাদের খোঁজ মেলে না।

সূত্রঃ the hindu, satdin.in


ছত্তিশগড়ে পুলিসের সঙ্গে ‘সংঘর্ষে’ নিহত ৩ মাওবাদী

cs-maoist-may8-1_647_042717042426

রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড়ে পুলিসের গুলিতে নিহত হলেন ২ মহিলা সহ ৩ মাওবাদী। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী রাজনন্দগাঁ জেলার পুলিস সুপার জানিয়েছেন তল্লাশির সময় এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। পুলিসের পাল্টা গুলিতে নিহত হন ৩ মাওবাদী। প্রতিবারের মত এবারের সংঘর্ষেও মাওবাদীরা নিহত হলেও কোন পুলিসের হতাহতের খবর নেই। সংঘর্ষটি যে ভুয়ো এমন কোন তথ্য ওই রিপোর্টে না থাকলেও ছত্তিশগড়ে পুলিস-আধাসেনাদের বিরুদ্ধে বারবারই ভুয়ো সংঘর্ষে আদাবাসী ও মাওবাদীদের হত্যার অভিযোগ উঠছে। থানা আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে বিদ্যুতের শক দেওয়ার অভিযোগ করায় রায়পুর সেট্রাল জেলার ডেপুটি জেলার বর্ষা ডোঙ্গরেকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার।

সূত্রঃ satdin.in


ভারতের ছত্তিসগড়ে প্রতিদিন চলছে মাওবাদী–সেনা সংঘর্ষ

maoist_naxal_20091026-e

প্রায় প্রতিদিন মাওবাদী–সেনা সংঘর্ষ চলছে ছত্তিসগড়ে। বুধবার মাওবাদী অধ্যুষিত দান্তেওয়াড়ায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন এক জওয়ান। এক মাওবাদী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে সেনা সূত্র জানাচ্ছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দান্তেওয়াড়া এবং বস্তার জেলার মাঝে বারসুর থানা এলাকার পিছিকোডার গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে অভিযান চালায় সিআরপিএফ, এসটিএফ এবং ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড বা ডিআরজি। পিছিকোডার জঙ্গলের দিকে দল এগোতেই গুলি ছুড়তে শুরু করে মাওবাদীরা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মাওবাদীরা পালাতে সক্ষম হয়।

আহত ডিআরজি–র কনস্টেবল ঝুমর মাণ্ডবীকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে এয়ারলিফ্‌ট করে রায়পুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জওয়ানদের কাছে মেলা তথ্য এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের দাগ দেখে মনে হচ্ছে কমপক্ষে ৪ মাওবাদী খতম হয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন দান্তেওয়াড়ার পুলিস সুপার কামলোচন কাশ্যপ। তবে তাদের দেহ না মেলায় তল্লাশি চলছে। তল্লাশিতে এ পর্যন্ত একটি টুয়েল্‌ভ বোরের বন্দুক, একটি ১০ কেজি বোমা, মাওবাদীদের তিনটি ইউনিফর্ম, তিনটি ওয়াকিটকি এবং মাওবাদী পুস্তিকা উদ্ধার হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজাপুর জেলার মিরতুর থানা এলাকার তিমেনার জঙ্গলে সিআরপিএফ, ডিআরজি এবং জেলা পুলিসের টহলদারির সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। তারপরই বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীও। সংঘর্ষের শেষে সুকালু কুঞ্জাম নামে এক মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করে বাহিনী। বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ৫ কেজির টিফিন বোমা, দুটি ব্যাগ, একটি রেডিও, একটি মাওবাদী ব্যানার এবং একটি মাওবাদী পুস্তিকা। এ কথা জানান বিজাপুরের অতিরিক্ত পুলিস সুপার মোহিত গর্গ।

সূত্রঃ http://www.kalerkantho.com/online/world/2017/05/25/501276


‘সংঘর্ষে’ নিহত ১৫ মাওবাদীঃ দাবি CRPF এর

cs-maoist-may8-1_647_042717042426

ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ৫ দিনে অন্তত ১৫ মাওবাদী নিহত হয়েছেন। যদিও কোন নিহত মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়নি। মঙ্গলবার দিল্লিতে এমনই দাবি করেছে CRPF । হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী CRPF এর তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন CRPF এর ১ জওয়ান, জখম হয়েছেন ২ জন। ১২ থেকে ১৬ মে এর মধ্যে একাধিক অপারেশনের জেরে এতজন মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে দাবি CRPF এর। গত ২৪ এপ্রিল সুকমাতে CRPF এর উপর হামলা চালিয়ে ২৫ জওয়ানকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে  সুকমার বদলা নিতেই এই হত্যার ছক কষেছিল CRPF । তবে এতবড় অপারেশন হয়ে গেল অথচ মিডিয়াতে কিছুই রিপোর্ট হল না। দিল্লিতে বসে CRPF এর আধিকারিকরা জানালেন তারপর তা জানা গেল! মাওবাদীদের হত্যার নাম করে  নিরীহ গ্রামবাসীদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে কিনা তাই নিয়েও  সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীদের অনেকেই।

সূত্রঃ সাতদিন.ইন


কলকাতাঃ মাওবাদী নেতা অর্ণব দামের মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা? স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি

7

কারা দপ্তরকে মহা ফাঁপরে ফেলেছে আইআইটি -র এক প্রাক্তন পড়ুয়ার চিঠি ৷ অনশন করে জেলের মধ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে আলিপুর সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ধৃত আইআইটি খড়গপুরের এক সময়কার পড়ুয়া অর্ণব দাম ওরফে বিক্রম ৷ অভিযোগ , বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় জেলের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে ৷ এ ভাবে মারা যাওয়ার থেকে তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর পথই বেছে নিতে চান ৷

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জেলবন্দির অভিযোগ দীর্ঘদিনের ৷ এ নিয়ে একাধিকবার অনশন বিক্ষোভে সামিলও হয়েছেন বন্দিরা ৷ কিন্ত্ত সরাসরি লিখিত ভাবে এমন স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি নজিরবিহীন ৷ সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সেই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন কারা দপ্তরে ৷ বিক্রমকে বোঝানোরও চেষ্টা করেছেন কারা আধিকারিকরা ৷ কিন্ত্ত তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি ৷ আলিপুর সংশোধনাগারের সুপার স্বরূপকুমার মণ্ডল এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি ৷ তিনি শুধু বলেন, ‘এ নিয়ে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবেন ৷ ’ কারা দন্তরের অন্য আধিকারিকরা অবশ্য এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন৷

বছর পঁয়ত্রিশের অর্ণবের বাড়ি আদতে সোনারপুরে ৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের ছেলে অর্ণব বরাবরই মেধাবী ৷ আইআইটিতে পড়ার সময় মাওবাদী নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন ৷ তারপর শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলা থেকে একগুচ্ছ খুন, বিস্ফোরণের মামলায় তাঁর নাম জড়ায় ৷ ২০১২ সালে অবশেষে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন ৷ মেদিনীপুর, প্রেসিডেন্সি হয়ে বর্তমানে আলিপুর সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি ৷ জেলের মধ্যে থেকেই ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটারে প্রশিক্ষণের জন্যও আবেদন করেছেন অর্ণব ৷ প্রেসিডেন্সিতে থাকাকালীন নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁকে কম্পিউটার শেখার অনুমতিও দিতে রাজি হয়নি কারা কর্তৃপক্ষ ৷ এর প্রতিবাদেও তিনি অনশন করেন ৷ কিন্ত্ত এ বার তাঁর দাবি ভিন্ন ৷ সংশোধনাগারের এক আধিকারিক জানান, বিভিন্ন মামলার জন্য তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যেতে হয় ৷ বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘদিন ধরে চলছে ৷ কারা দপ্তর সূত্রের খবর , তাতেই হতাশ হয়ে সম্ভবত স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়েছেন তিনি ৷

এক কারাকর্তা জানান , বিক্রমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৯টি বিভিন্ন মামলা ঝুলে রয়েছে ৷ তার মধ্যে বেশিরভাগ মামলাতেই তিনি জামিন পেয়ে গিয়েছেন ৷ কিন্ত্ত শিলদা ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় এখনও তিনি জেলে রয়েছেন ৷মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর -এর মুখপাত্র রঞ্জিত শূর শনিবার বলেন, ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর বিধান আমাদের দেশে নেই ৷ এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না ৷ তবে উনি যে অভিযোগ করেছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ৷ অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, বিচারের নামে অবিচার হচ্ছে ৷ এটা প্রশাসন বা বিচারবিভাগের দেখা প্রয়োজন ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা প্রয়োজন ৷ ’

কারা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বিচার প্রক্রিয়া তাঁদের হাতে নেই৷ তাই তাঁরা সরাসরি এ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন না ৷ তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানানো হবে ৷ শিলদা ক্যাম্পে হামলার মামলায় দিন কয়েক আগেই মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিক্রমকে ৷ সেখানেও আদালতে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার কথা বলেছেন তিনি ৷ তবে তাঁর আইনজীবী অজয় ঘোষ এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি ৷ কারা দন্তর সূত্রে জানা গিয়েছে , রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে এখন প্রায় ১৫ হাজার বিচারাধীন বন্দি রয়েছেন ৷ তাঁদের মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে থমকে রয়েছে ৷ পাঁচ বছর বা তার বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে এমন মামলায় বিভিন্ন সংশোধনাগারে তিনশো জনের বেশি বন্দি রয়েছেন ৷ এছাড়াও দু’-তিন -চার বছর মামলা ঝুলে আছে , এমনও বেশ কয়েক হাজার বন্দি আছেন ৷ বিক্রমের স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি তাঁদের প্রত্যেকের তরফ থেকে প্রতিবাদ বলেই মনে করছেন কারা আধিকারিকরা৷

সূত্রঃ eisamay.com


থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে ‘শক’ দেওয়ার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট জেলের ডেপুটি সুপারের

Varsha-Dongre-post-300x169

”থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে  স্তনে  ও কবজিতে বিদ্যুতের শক দিতে দেখিছি আমি”। চমকে উঠলেও এই বক্তব্য ছত্তিশগড়ের রায়পুর  সেন্ট্রাল  জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরের। দ্য ওয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী মাওবাদী দমনের নামে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আদিবাসীদের উত্খাতের বিরুদ্ধে নিজের মতামত পোস্ট করেন বর্ষা। অবশ্য পরে তা সরিয়ে নেন তিনি। দ্য ওয়ারে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্ষা লিখেছেন আদিবাসীদের উপর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম জ্বালিয়ে, আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ করে গ্রাম থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে জঙ্গলের দখল নেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী সন্দেহে মহিলাদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তাতে দুধ আছে কিনা।

জঙ্গলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে হবে। বর্ষা মনে করেন জঙ্গল আদিবাসীদের জন্মভূমি, তারা তা ছাড়বেন না। আদিবাসীরাও নকশালপন্থার শেষ চায়। কিন্তু যেভাবে  দেশের রক্ষকরাই তাদের মহিলাদের ধর্ষণ করছে, গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মিথ্যে মামলায় জেলে পুরে দিচ্ছে, তাতে সুবিচারের আশায় কার কাছে যাবেন তাঁরা? প্রশ্ন বর্ষার।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী- নিরাপত্তারক্ষীদের লড়াইয়ে উভয় দিকের  যারা মারা যাচ্ছেন তারা সবাই দেশের সন্তান। এই সব মৃত্যু মন ব্যথিত করে। বর্ষা মনে করেন মন্থনের প্রয়োজন। তাতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

আগাগোড়া একরোখা মনের এই সরকারি আধিকারিক মামলায় রাজ্য সরকারকে পরাস্ত করে রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার হন। ফেসবুকে এই ‘মারাত্মক’ পোস্টের পর এবার তাঁর উপর শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেদিকে নজর থাকবে আমাদেরও।

সূত্রঃ satdin.in