‘সংঘর্ষে’ নিহত ১৫ মাওবাদীঃ দাবি CRPF এর

cs-maoist-may8-1_647_042717042426

ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ৫ দিনে অন্তত ১৫ মাওবাদী নিহত হয়েছেন। যদিও কোন নিহত মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়নি। মঙ্গলবার দিল্লিতে এমনই দাবি করেছে CRPF । হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী CRPF এর তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন CRPF এর ১ জওয়ান, জখম হয়েছেন ২ জন। ১২ থেকে ১৬ মে এর মধ্যে একাধিক অপারেশনের জেরে এতজন মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে দাবি CRPF এর। গত ২৪ এপ্রিল সুকমাতে CRPF এর উপর হামলা চালিয়ে ২৫ জওয়ানকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে  সুকমার বদলা নিতেই এই হত্যার ছক কষেছিল CRPF । তবে এতবড় অপারেশন হয়ে গেল অথচ মিডিয়াতে কিছুই রিপোর্ট হল না। দিল্লিতে বসে CRPF এর আধিকারিকরা জানালেন তারপর তা জানা গেল! মাওবাদীদের হত্যার নাম করে  নিরীহ গ্রামবাসীদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে কিনা তাই নিয়েও  সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীদের অনেকেই।

সূত্রঃ সাতদিন.ইন


কলকাতাঃ মাওবাদী নেতা অর্ণব দামের মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা? স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি

7

কারা দপ্তরকে মহা ফাঁপরে ফেলেছে আইআইটি -র এক প্রাক্তন পড়ুয়ার চিঠি ৷ অনশন করে জেলের মধ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে আলিপুর সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ধৃত আইআইটি খড়গপুরের এক সময়কার পড়ুয়া অর্ণব দাম ওরফে বিক্রম ৷ অভিযোগ , বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় জেলের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে ৷ এ ভাবে মারা যাওয়ার থেকে তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর পথই বেছে নিতে চান ৷

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জেলবন্দির অভিযোগ দীর্ঘদিনের ৷ এ নিয়ে একাধিকবার অনশন বিক্ষোভে সামিলও হয়েছেন বন্দিরা ৷ কিন্ত্ত সরাসরি লিখিত ভাবে এমন স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি নজিরবিহীন ৷ সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সেই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন কারা দপ্তরে ৷ বিক্রমকে বোঝানোরও চেষ্টা করেছেন কারা আধিকারিকরা ৷ কিন্ত্ত তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি ৷ আলিপুর সংশোধনাগারের সুপার স্বরূপকুমার মণ্ডল এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি ৷ তিনি শুধু বলেন, ‘এ নিয়ে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবেন ৷ ’ কারা দন্তরের অন্য আধিকারিকরা অবশ্য এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন৷

বছর পঁয়ত্রিশের অর্ণবের বাড়ি আদতে সোনারপুরে ৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের ছেলে অর্ণব বরাবরই মেধাবী ৷ আইআইটিতে পড়ার সময় মাওবাদী নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন ৷ তারপর শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলা থেকে একগুচ্ছ খুন, বিস্ফোরণের মামলায় তাঁর নাম জড়ায় ৷ ২০১২ সালে অবশেষে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন ৷ মেদিনীপুর, প্রেসিডেন্সি হয়ে বর্তমানে আলিপুর সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি ৷ জেলের মধ্যে থেকেই ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটারে প্রশিক্ষণের জন্যও আবেদন করেছেন অর্ণব ৷ প্রেসিডেন্সিতে থাকাকালীন নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁকে কম্পিউটার শেখার অনুমতিও দিতে রাজি হয়নি কারা কর্তৃপক্ষ ৷ এর প্রতিবাদেও তিনি অনশন করেন ৷ কিন্ত্ত এ বার তাঁর দাবি ভিন্ন ৷ সংশোধনাগারের এক আধিকারিক জানান, বিভিন্ন মামলার জন্য তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যেতে হয় ৷ বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘদিন ধরে চলছে ৷ কারা দপ্তর সূত্রের খবর , তাতেই হতাশ হয়ে সম্ভবত স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়েছেন তিনি ৷

এক কারাকর্তা জানান , বিক্রমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৯টি বিভিন্ন মামলা ঝুলে রয়েছে ৷ তার মধ্যে বেশিরভাগ মামলাতেই তিনি জামিন পেয়ে গিয়েছেন ৷ কিন্ত্ত শিলদা ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় এখনও তিনি জেলে রয়েছেন ৷মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর -এর মুখপাত্র রঞ্জিত শূর শনিবার বলেন, ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর বিধান আমাদের দেশে নেই ৷ এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না ৷ তবে উনি যে অভিযোগ করেছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ৷ অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, বিচারের নামে অবিচার হচ্ছে ৷ এটা প্রশাসন বা বিচারবিভাগের দেখা প্রয়োজন ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা প্রয়োজন ৷ ’

কারা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বিচার প্রক্রিয়া তাঁদের হাতে নেই৷ তাই তাঁরা সরাসরি এ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন না ৷ তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানানো হবে ৷ শিলদা ক্যাম্পে হামলার মামলায় দিন কয়েক আগেই মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিক্রমকে ৷ সেখানেও আদালতে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার কথা বলেছেন তিনি ৷ তবে তাঁর আইনজীবী অজয় ঘোষ এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি ৷ কারা দন্তর সূত্রে জানা গিয়েছে , রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে এখন প্রায় ১৫ হাজার বিচারাধীন বন্দি রয়েছেন ৷ তাঁদের মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে থমকে রয়েছে ৷ পাঁচ বছর বা তার বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে এমন মামলায় বিভিন্ন সংশোধনাগারে তিনশো জনের বেশি বন্দি রয়েছেন ৷ এছাড়াও দু’-তিন -চার বছর মামলা ঝুলে আছে , এমনও বেশ কয়েক হাজার বন্দি আছেন ৷ বিক্রমের স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি তাঁদের প্রত্যেকের তরফ থেকে প্রতিবাদ বলেই মনে করছেন কারা আধিকারিকরা৷

সূত্রঃ eisamay.com


থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে ‘শক’ দেওয়ার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট জেলের ডেপুটি সুপারের

Varsha-Dongre-post-300x169

”থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে  স্তনে  ও কবজিতে বিদ্যুতের শক দিতে দেখিছি আমি”। চমকে উঠলেও এই বক্তব্য ছত্তিশগড়ের রায়পুর  সেন্ট্রাল  জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরের। দ্য ওয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী মাওবাদী দমনের নামে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আদিবাসীদের উত্খাতের বিরুদ্ধে নিজের মতামত পোস্ট করেন বর্ষা। অবশ্য পরে তা সরিয়ে নেন তিনি। দ্য ওয়ারে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্ষা লিখেছেন আদিবাসীদের উপর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম জ্বালিয়ে, আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ করে গ্রাম থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে জঙ্গলের দখল নেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী সন্দেহে মহিলাদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তাতে দুধ আছে কিনা।

জঙ্গলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে হবে। বর্ষা মনে করেন জঙ্গল আদিবাসীদের জন্মভূমি, তারা তা ছাড়বেন না। আদিবাসীরাও নকশালপন্থার শেষ চায়। কিন্তু যেভাবে  দেশের রক্ষকরাই তাদের মহিলাদের ধর্ষণ করছে, গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মিথ্যে মামলায় জেলে পুরে দিচ্ছে, তাতে সুবিচারের আশায় কার কাছে যাবেন তাঁরা? প্রশ্ন বর্ষার।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী- নিরাপত্তারক্ষীদের লড়াইয়ে উভয় দিকের  যারা মারা যাচ্ছেন তারা সবাই দেশের সন্তান। এই সব মৃত্যু মন ব্যথিত করে। বর্ষা মনে করেন মন্থনের প্রয়োজন। তাতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

আগাগোড়া একরোখা মনের এই সরকারি আধিকারিক মামলায় রাজ্য সরকারকে পরাস্ত করে রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার হন। ফেসবুকে এই ‘মারাত্মক’ পোস্টের পর এবার তাঁর উপর শাস্তিমূলক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেদিকে নজর থাকবে আমাদেরও।

সূত্রঃ satdin.in

 


মহারাষ্ট্র: মাওবাদী হামলায় C 60 কমান্ডো বাহিনীর নিহত ১, আহত ১৫ পুলিশ কর্মী

PLGA 3 - copia

মহারাষ্ট্রের গাড়চিরৌলিতে C 60 কমান্ডো বাহিনীর এক গাড়িতে মাওবাদী হামলার ঘটনায় নিহত হল ১ পুলিশ কর্মীর, আহত হয়েছেন ১৫ জন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মাওবাদীরা ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই হামলা চালায়, বলে খবর। জানা গিয়েছে, কমান্ডো বাহিনীর রুটিন টহলদারির সময় এই ঘটনা ঘটে, গাড়িটিতে কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ ছিলেন বলে জানা গিয়েছ। এদিকে, গুরুতর আহত ৩ জওয়ানকে তড়িঘড়ি নাগপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় এলাকায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাওবাদীদের পাকড়াও করতে চলছে চিরুনি তল্লাশি। এর ঠিক একদিন আগে, ওই এলাকায় মাওবাদী ও পুলিশের মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা গুলির লড়াই চলে বলে খবর। প্রসঙ্গত গত ২৪ এপ্রিল ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হামলায় ২৬ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার পর ফের এরকম মাওবাদী হামলায় চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের কপালে।

অপরদিকে, ছত্তীসগঢ়ে পুলিশের চর সন্দেহে কোন্ডাগাঁওতে একজনকে খতম করেছে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ  

http://bengali.oneindia.com/news/india/maoists-attack-armoured-vehicle-police-personnel-maharashtra-injured-017143.html

http://www.hindustantimes.com/india-news/maoists-attack-security-forces-armoured-vehicle-in-maharashtra-several-injured/story-cKGvz0mX3XetdSaPofgLDP.html


মাওবাদীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র সম্ভারে বিস্মিত CRPF বাহিনী

40_mm_under_barrel_grenade_launcher_3

সুকমায় মাওবাদী হামলায় ২৬ জন জওয়ানের নিহতের ৪৮ ঘন্টা পরও বিস্ময়ের ঘোর কাটছে না প্রশাসনের ৷ ছক কষে , অতর্কিতে যে ভাবে এই গেরিলা হামলা চালানো হয়েছে , তাতে হতবাক বাহিনীর কর্তারা ৷ তবে , তার থেকেও বেশি হতবাক এই হামলায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অস্ত্র -শস্ত্র দেখে ! হামলার তদন্ত করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন , এই প্রথম আইইডি সম্বলিত তীর ব্যবহার করেছে মাওবাদীরা৷ যেমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি ৷

এছাড়াও , হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (ইউবিজিএল )৷ যা দিয়ে সিআরপিএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের দিকে কমপক্ষে ২০০ টি গ্রেনেড ছুড়েছে তারা ৷ গ্রেনেড গুলি সবই ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং যথেষ্ট ক্ষমতাশালী ৷ কয়েকটি গ্রেনেডের অবশিষ্ট পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে , টার্গেট ৯ মিটার (৩০ ফুট ) রেঞ্জের মধ্যে থাকলে , তাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা এই গ্রেনেডের রয়েছে ৷ কিন্তু , কী ভাবে বস্তার অঞ্চলের মাওবাদীরা এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে পেল , তা ভেবে পাচ্ছেন না সিআরপিএফ কর্তারা ৷ সিআরপিএফের ডিআইজি ডিপি উপাধ্যায় টেলিফোনে জানিয়েছেন , ‘এই প্রথম আমরা দেখতে পেলাম , মাওবাদীরা আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ) লাগানো তির ব্যবহার করেছে ৷ এই কৌশল একেবারে নতুন ৷ এই উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক লাগানো তির যেখানে আঘাত হানবে, সেই জায়গার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷ ফলে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে ৷ ’ সিআরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে , তদন্তে নেমে আধা সামরিক বাহিনীর কর্তারা জানতে পেরেছেন , হামলায় কমপক্ষে ১২০টি আইইডি লাগানো তির ব্যবহার করা হয়েছে ৷ ওই তির যে জওয়ানের গায়ে লেগেছে তাঁর পাশাপাশি পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই চালানো জওয়ানও মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন ৷ পাশাপাশি আন্ডার ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (ইউবিজিএল ) ব্যবহার করেও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের চমকে দিয়েছে মাওবাদীরা ৷ বাহিনী কর্তার কথায়, ‘এটি অত্যাধুনিক অস্ত্র ৷ বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়া এটা ব্যবহার করা সম্ভব নয় ৷ যা একমাত্র সেনা বা আধা সেনাদের থাকে ৷ মাওবাদীরা কী করে এই প্রশিক্ষণ পেল , সেটাই ভাবার ৷ ’ সিআরপিএফ কর্তারা মনে করছেন , গত মাসে সুকমায় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর হামলা চালিয়ে যে গ্রেনেড লঞ্চারগুলি লুঠ করেছিল মাওবাদীরা , সেগুলি দিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছে৷

এই হামলায় সশস্ত্র মাওবাদীদের দলে অন্তত প্রায় ২০০ জন মহিলা ছিল বলে জানা গিয়েছে ৷ এমন হামলায় এত বেশি সংখ্যায় মহিলা এর আগে কখনও দেখা যায়নি ৷ সূত্রের খবর , সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময়, মাথায় কাঠের বোঝা নিয়ে একের পর এক মহিলাকে সেখানে আসতে দেখেন জওয়ানরা ৷ ভাবেন , স্থানীয় মহিলারা বোধহয় কাঠ কুড়োতে এসেছেন জঙ্গলে ৷ কিন্ত্ত , চোখের পলক ফেরার আগেই , ওই কাঠের বোঝা থেকে একে -৪৭ বের করে গুলি চালাতে শুরু করে তারা ৷ ভুল ভাঙার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অধিকাংশ জওয়ান ৷ সিআরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে , সুকমার জঙ্গলে হামলা চালানোর পর ১৩টি একে -৪৭ , ৫টি ইনসাস রাইফেল , ২২টি পিস্তল , ৩৪২০টি তাজা কার্তুজ , একে -৪৭ রাইফেলের ৭৫টি গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন , ২২টি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট , দুটি শক্তিশালী দূরবীন , ৫টি ওয়ারলেস সেট এবং একটি মেটাল ডিটেক্টর লুঠ করে পালিয়ে যায় মাওবাদীরা ৷

সূত্রঃ http://eisamay.indiatimes.com/nation/crpf-is-stunned-by-the-arms-maoists-are-using/articleshow/58396298.cms


সরকারী বাহিনীর গতিবিধির খবর মাওবাদীদের কাছে পৌঁছে দেয় গ্রামবাসীরা, দাবি আহত CRPF জওয়ানের

CRPF জওয়ানদের গতিবিধির যাবতীয় খবরাখবর মাওবাদীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল কয়েকজন গ্রামবাসী। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন আজ সুকমার হামলায় আহত এক সিআরপিএফ জওয়ান।

ওই জওয়ানের দাবি, বুর্কাপাল অঞ্চল লাগোয়া মাও-সহানুভূতিশীলরা ও সংঘম সদস্যরা প্রতিনিয়ত মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তারাই বাহিনীর যাতায়াতের পথ ও সময় আগে থেকেই মাওবাদীদের জানিয়ে দিয়েছিল।

শেখ মহম্মদ নামে এক আহত জওয়ান জানান, এদিনের হামলায় প্রায় ৩০০ জনের বেশি মাওবাদী ছিল। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলা ক্যাডারও ছিল। মাওবাদীদের হাতে একে-সিরিজের অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই জওয়ান বলেন, সাধারণত গ্রামবাসীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে মাওবাদীরা। তাঁর দাবি, কিন্তু এবার জওয়ানদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে গ্রামবাসীদের পাঠানো হয়েছিল। ওরাই মাওবাদীদের প্রতিনিয়ত খবরাখবর দিত।

যার ফলে, পুরো পরিকল্পনা করে এদিন বাহিনীকে অ্যাম্বুশ করতে সক্ষম হয় মাওবাদীরা।

তবে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে দলীয় কর্মী ও জনভিত্তির উপর আস্থা ফেরাতেই মাওবাদীদের অত্যন্ত পরিকল্পনা মাফিক এই  হামলা চালিয়েছে।  আধাসামরিক বাহিনীর উপর সাম্প্রতিক সময় এটাই সবথেকে বড় হামলা চালাল মাওবাদীরা। এর আগে ২০১০ সালে ৬ এপ্রিল দায়েন্তেওয়াড়ায় মাওবাদীদের মাইন  বিস্ফোরণে নিহত হন CRPF এর ৭৬জন জওয়ান। ছত্তিশগড়ে মহিলাদের ধর্ষণ থেকে ভুয়ো সংঘর্ষে গ্রামবাসীদের মারার একের পর এক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নীরব থাকলেও এদিনের হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের এই হামলাকে ভীরুদের কাজ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন জওয়ানদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ যাবে না। কিছুদিন আগে মালকানগিরিতে সংঘর্ষের নামে  ৩০জন মাওবাদীকে হত্যা করেছিল গ্রেহাউন্ড।

সূত্রঃ

http://abpananda.abplive.in/india-news/some-villagers-gave-info-about-our-location-to-maoists-claims-injured-crpf-jawan-331971

satdin.in


ছত্তিশগড়ে মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় ২৬ সিআরপিএফ জওয়ান নিহত, আহত ৬

আজ ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে অন্তত ২৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান। দোরনাপালের পাশে বুরকাপাল গ্রামের কাছে সোমবার দুপুরের দিকে এই মাওবাদী গেরিলাদের হামলা হয়েছে। সিআরপিএফ-এর একটি রোড ওপেনিং পার্টি (আরওপি) হামলার মুখে পড়ে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। অন্তত ৬ জন জখম হয়েছেন। ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য রায়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ দিন দুপুর ১টা নাগাদ সিআরপিএফ-এর ৭৪ ব্যাটালিয়নের রোড ওপেনিং পার্টিটি গেরিলা হামলার মুখে পড়ে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। উপদ্রুত এলাকা দক্ষিণ বস্তারের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল বুরকাপাল-চিন্তাগুফা এলাকায় হামলাটি হয়। শেখ মহম্মদ নামে এক সিআরপিএফ জওয়ান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ মাওবাদীর একটি বিশাল দল জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। সিআরপিএফ-এর দলটি বুরকাপালে পৌঁছতেই চার দিক দিয়ে ঘিরে ধরে মাওবাদীরা গুলি চালাতে শুরু করে। হামলাকারীদের হাতে ইনস্যাস রাইফেল, একে-৪৭, লাইট মেশিন গানের মতো অস্ত্রশস্ত্র ছিল বলে ওই সিআরপিএফ জওয়ান জানিয়েছেন। এসময় তৈরি হওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি তারা। কয়েকজন জওয়ান কোনোক্রমে আড়ালে গিয়ে পাল্টা গুলি চালান।

ছত্তিশগড় পুলিশ সূত্রের খবর, বুরকাপালে কোবরা বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। সংঘর্ষ এখনও চলছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে দন্তেওয়াড়া রেঞ্জের ডিআইজি সুন্দররাজ পি জানিয়েছেন, ‘‘অন্তত ২৬ জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন।’’ ৬ জন জওয়ানকে গুরুতর জখম অবস্থায় রায়পুরের রামকৃষ্ণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। ইনসপেক্টর র‌্যাঙ্কের অফিসারও এই দলে ছিলেন।

মাওবাদী হামলার খবর পেয়েই বুরকাপালের কাছাকাছি অবস্থিত সিআরপিএফ ক্যাম্পগুলি থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয় অতিরিক্ত বাহিনী। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই ভয়াবহ মাওবাদী হামলার প্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। চলতি বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বড়সড় মাওবাদী হামলার মুখে পড়ল ছত্তিশগড়ের পুলিশ বাহিনী। এ বছরের গোড়ার দিকে এই সুকমাতেই মাওবাদী হামলায় ১২ জওয়ান নিহত হয়েছিল।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/india-news/6-crpf-men-injured-in-maoist-encounter-in-chhattisgarh/story-zhvoqjdt5djW8aLpZpMCGJ.html