মেক্সিকোয় নিখোঁজ ৪৩ ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থার সদস্যদের সাক্ষাৎ

epa04451484 Students, teachers and relatives of 43 Mexican youths missing since last 26 September after being detained by police in the city of Iguala march to demand their return, in city of Acapulco, Mexico, 17 October 2014. EPA/JOSE MENDEZ

মেক্সিকোর গুয়েরেরো রাজ্যের ইগুয়ালা শহরে গত বছর নিখোঁজ ৪৩ ছাত্রের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটস’ এর একটি দল।

মেক্সিকোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণের পর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থাটি। ২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইগুয়ালা শহরে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পর নিখোঁজ হয়ে যায় ৪৩ জন ছাত্র। এখনও পর্যন্ত যাদের খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজের ঘটনায় ইগুয়ালার মেয়র ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার পরই ওই এলাকায় তদন্ত করে ৬০ টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। যেগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় একশোরও বেশি মৃতদেহ।

স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরোধিতা করায় তাদের হত্যা করা হয় বলে ধারণা করে পুলিশ।

পূর্ব সূত্রঃ

সরকারি তদন্তে বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হবার কয়েক ঘন্টা পরেই একটি ভাগাড়ে মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটস‌ (আইএসিএইচআর) বলছে, তারা মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার সরকারি দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ পায়নি।

আইএসিএইচআর তদন্ত দলের অর্ন্তভুক্ত এক বিশেষজ্ঞ বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর স্থলভূমিবেষ্টিত শহর কোকুলায় এতোগুলো মরদেহ পুড়িয়ে ফেলাটা অসম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির হোসে টোরেরো বলেন, মরদেহগুলোকে পোড়াতে তের টন টায়ার, বিশ টন কাঠ এবং তের টন ডিজেলের দরকার পড়বে। আর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ষাট ঘন্টা সময় লাগার কথা।

সরকারি তদন্তে বলা হয়, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চাকরিতে বৈষম্যের প্রতিবাদে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষানবীস শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মেয়রের স্ত্রীর আয়োজন করা র‍্যালি পণ্ড করার অভিযোগ এনে কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ তাদের আটক করে। পরে স্থানীয় অপরাধী চক্র গুয়েরেরোস ইউনিডোসের হাতে তাদের তুলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় মেয়র, তার স্ত্রী, কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

নিখোঁজদের স্বজনরা সরকারি তদন্তকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে আগে থেকেই। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের হাত রয়েছে বলে সরকার এই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনাটি পুরো মেক্সিকোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আন্দোলনকারীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিটোর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। আইএসিএইচআর এর প্রতিবেদনের ফলে প্রেসিডেন্ট এনরিকের উপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ছবির সংবাদঃ মেক্সিকোর নিখোঁজ ৪৩ ছাত্রের একজন Arnulfo Felipe Rosa

1

 

2

3

4

5

 

মেক্সিকোর ইগুয়ালাতে Ayotzinapa পরিবার গুলোর নিখোঁজ ৪৩ ছাত্রের একজন Arnulfo Felipe Rosa এর দরিদ্র পরিবারের ছবি এটি। মেক্সিকোর নারকো রাষ্ট্র তার সন্তানকে হত্যা করে করেছে এবং Enrique Peña Nieto এর অপরাধী সরকার এই সংঘটিত অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

সূত্রঃ http://maoistroad.blogspot.com/2015/08/mexico-la-humilde-familia-de-felipe.html


দেশব্যাপী সংগঠিত অপরাধ থেকে মেক্সিকোকে রক্ষার জন্যে শত শত নারী অস্ত্র হাতে নেমে পড়েছেন –

protecting-bell

মেক্সিকান শহরের এক্সালতিয়াঙ্গুইস এর শত শত  নারী  সংগঠিত অপরাধ থেকে তাদের শহরকে রক্ষা করতে নিজস্ব সম্প্রদায়ের  প্রতিরক্ষা সংস্থা গঠন করেছে।  এই সব নারীরা Union of Peoples and Organizations of Guerrero State বা UPOEG এর হয়ে সংগঠিত হয়েছেন ।

স্থানীয় এই সম্প্রদায়ের আত্মরক্ষা বাহিনী কমান্ডার মিগুয়েল এঞ্জেল জিমেনেয এর মতে, এসব নারী বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে এক্সালতিয়াঙ্গুইস এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় টহল দেবে।
যা শুধু আকাপূল্কো এর বাইরে একটি ছোট শহর কেন্দ্রিক।

এঞ্জেল জিমেনেয বলেন, “আমাদের মাত্র ৮০টি অস্ত্র আছে। প্রতিটি নারী সদস্যই অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। তারা পালা বদল করে অস্ত্র গুলো ব্যবহার করেন। আমি বিশ্বাস করি, একসময় যখন জনগণ দেখবে যে, নারীরা ব্যাপকভাবে অংশ নিচ্ছে, তখন জনগণই অস্ত্রের জোগান দেবে।”

সিলভিয়া হিপ্লিতো ২ সন্তানের মা, এমন আরও অনেক মা আছেন যারা এই সংস্থায় যোগ দিয়েছেন ।

হিপ্লিতো বলেন, নারীরা সাহসী হয়, এতে করে আমরা আমাদের শহর রক্ষা করতে সক্ষম।

সরকার এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনী অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ হাওয়ায় সারা মেক্সিকো জুড়ে এই ধরণের নিজস্ব সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবক  প্রতিরক্ষা সংস্থা গঠন হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মেক্সিকোতে বর্তমানে গণ অপহরণ ও ৪৩ জন ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশব্যাপী বড় আকারের বিক্ষোভ হচ্ছে।  বলা হচ্ছে, এই বিষয়ে সরকার ও সংগঠিত অপরাধী উভয়েই একটি বড় ভূমিকা পালন করছে ।

সুত্র– https://redpowermedia.wordpress.com/2014/12/08/hundreds-of-armed-women-defend-mexican-city-from-cartels/