তুরস্কের শহীদ কমিউনিস্ট নারী সদস্য কমরেড শেভদা লাল সালাম !

mlkp-sevda-cagdas_1

mlkp-sevda-cagdas_2

esp-642x320

গত ২৫শে জুন তুরস্কের মার্কসবাদী লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MLCP) এর সামরিক সদস্য কমরেড শেভদা কনটেম্পোরারী ওরফে রাপের দিকেল, রোজাভার মিনবিকে আইএসআইএসের সাথে যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ২০শে জুন ইস্তাম্বুলে জন্ম নেয়া এই কমরেড গত বছর ২০১৫ এর জুনে রোজাভায় আসেন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি তুরস্কের ফ্যাসিস্ট এরদোগান সরকার ও দায়েশ(আইএসআইএস) এর বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

 

Advertisements

পিকেক ও মাওবাদীসহ ১০টি সংগঠনের “Peoples’ United Revolutionary Movement” প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

94dc54329e25f79c8a3f66d37ea38c47_L

কুর্দিস্তান ও তুরস্কের ১০টি বিপ্লবী সংগঠন যৌথ ভাবে ‘Peoples’ United Revolutionary Movement প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। একটি গেরিলা জোনের মধ্যে এক যৌথ সংবাদ সভায় ১০টি বিপ্লবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের জোটের ঘোষণা দেন। সভায় ফ্যাসিবাদী AKP সরকার ও তুর্কি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ভাবে তাদের বিপ্লবী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করা হয়।

এসময় পিকেকে’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ‘দুরান কাল্কান’ লিখিত বিবৃতি তুলে ধরেন এবং কুর্দিস্তান ও তুরস্কের ঐক্যবদ্ধ ১০টি বিপ্লবী সংগঠনের নাম ঘোষণা করেন। সংগঠনগুলো হলোঃ TKP/ML, PKK, THKP-C/MLSPB, MKP, TKEP-LENINIST, TEKP, DKP, DEVRÎMCÎ KARARGAH এবং MLKP ।

kurda

কাল্কান বলেন,  AKP যে একটি নতুন ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে বিপ্লব সম্পন্ন করার জন্যে এই ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবী বাহিনী গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া যে সকল বিপ্লবী সংগঠন ও সামাজিক পরিধির সংগঠন সমূহ, যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিতে চান, তাদের এই যৌথ সংগ্রামে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানান কাল্কান।

সভায় কাল্কান, যৌথ ঘোষণাটি তুর্কি ও কুর্দি ভাষায় পড়ে শোনান, এতে সমগ্র মানবতার জন্যে হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও সঙ্কটের প্রতি সকলকে মনোযোগ দিতে বলেন। এতে আরও জোর দিয়ে বলা হয় যে, AKP সরকার- আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো দ্বারা গঠিত কুৎসিততম জোটের শরীক হিসেবে এই রক্তাক্ত যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। যৌথ ঘোষণাপত্রে AKP সরকার আজ দেশের সব জাতি ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালাচ্ছে তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

kurdc

অনুবাদ সূত্রঃ

http://democracyandclasstruggle.blogspot.com/2016/03/kurdish-and-turkish-organisations.html


তুরস্কঃ অমর মাওবাদী নারী গেরিলা কমরেড Yeliz Erbay ও Sirin Öter লাল সালাম

1919128_1236395943041329_5690230184022804458_n

গত ২২শে ডিসেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী গেরিলা কমরেড Yeliz ErbaySirin Öter কে এক বাড়িতে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে আহত আবস্থায় হত্যা করেছে ফ্যাসিস্ট পুলিশ। সমাজতান্ত্রিক নারী কাউন্সিল (SKM) ও মার্কসবাদী লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্ট (MLCP)-র কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে SKM বলেন, পুলিশের গোলাগুলিতে তারা যখন আহত হয়, তখনি কমরেড “Yeliz Erbay এবং Sirin Öter কে ভুয়া সংঘর্ষের নামে হত্যা করে পুলিশ। কুর্দি সম্প্রদায়ে জন্ম নেয়া এই দুই কমরেড সমাজতান্ত্রিক নারী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মাওবাদী আন্দোলনে যোগ দেন। ফ্যাসিবাদী তুরস্ক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনে নারীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান খুবই উজ্জ্বল। এর মধ্যে কমরেড Yeliz Erbay, MLCP-র ৫ম কংগ্রেসে কমিউনিস্ট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

mlkp_3

অনুবাদ সূত্রঃ

http://jinha.com.tr/en/ALL-NEWS/content/view/39806

http://www.kaypakkayahaber.com/haber/gule-gule-yoldaslar-direnisinizi-ve-kavganizi-buyutecegiz


তুরস্কঃ ডানপন্থী সংবাদপত্র ও AKP জেলা অফিসে মাওবাদীদের সশস্ত্র অ্যাকশন

gazi1.jpgfxg6br

MLKP এর সশস্ত্র শাখা এক ঘোষণায় জানিয়েছে গত ১৯ ও ২০ জুলাই তারা কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।

১৯শে জুলাই সংবাদপত্র স্টার এর অফিসের বাহিরে MLKP একটি বোমা পেতে রাখে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, “সংবাদপত্র স্টার যেখানে সম্পাদনা করা হয় সেই ভবনের বাহিরে আমরা একটি বোমা রেখে এসেছি। একজন বিপ্লবী নারীর প্রতি অভিশাপসূচক মন্তব্য করে তারা সকল নারীকেই অপমান করেছে। এমএলকেপি-ওকেসি (MLKP-OKC) চিহ্নিত একটা পতাকাও আমরা রেখে এসেছি যাতে লেখা ছিল, “তোমরা নারীদের থামাতে পারবে না। আমরা বেড়েই চলব”। এর কয়েকদিন পর স্টার মিডিয়ার মুখপাত্ররা যে বক্তৃতা সর্বস্ব বিবৃতিটা দিয়েছে তাদের জানা দরকার যে ভবিষ্যতে এধরনের বিপ্লবী এ্যাকশন আরো সংঘটিত হবে এবং আগে থেকে সতর্ক হবার কোন সুযোগ তারা আর পাবে না।”

MLKP-FESK তাদের ঘোষণায় জানায় ২১শে জুলাই সানকাকতেপে জেলায় AKP এর দপ্তরের সামনে রেখে আসা বোমাটি বিস্ফোরিত হবার আগেই সেটি খুঁজে পাওয়া যায়।

“ঘটনাস্থলে আমরা আমাদের পতাকা রেখে এসেছিলাম। শ্রমিক ও মজুরদের থেকে ফ্যাসিবাদী পুলিশ পতাকাটা লুকিয়ে ফেললেও তারা জানে এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে। সানকাকতেপেতে যেখানে আমাদের কমরেড ইয়াসেমিন শহীদ হয়েছিল আমরা সেখানে এ্যাকশন চালিয়েছি; তার পতাকা ভবিষ্যতেও আবারো উত্তোলিত হবে।”

MLKP-FESK বলেছে ”তারা দায়বদ্ধ থাকবে”‘ এবং জোর দিয়ে জানিয়েছে, “প্রলেতারিয়েত ও নিপীড়িত জনগণ নিশ্চিতভাবেই ন্যায়বিচার পাবে”।

সূত্রঃ Via New Turkey


তুরস্কঃ বামপন্থীদের হত্যার প্রতিবাদে আইএসকে সহায়তাকারী ২ তুর্কি পুলিশকে খতম করল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (PKK- পিকেকে)

২ পুলিশের লাশ উদ্ধারের পরে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা

২ পুলিশের লাশ উদ্ধারের পরে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা

সিরিয়া সীমান্তের কাছে তুরস্কের দুই পুলিশকে খতম করা হয়েছে। তুরস্ক সরকারের সহায়তায় আই এসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১জন বামপন্থীদের হত্যার ও শতাধিক আহতের প্রতিবাদে খতমের এ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেছে দেশটির স্বাধীনতাকামী সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে।

এর আগে, তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি শহর থেকে দুই পুলিশের মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাদেশিক গভর্নর ইজ্জেদিন কুচাক জানান, নিহত দুই পুলিশের মাথায় গানশটের গুলির চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, দুই পুলিশ নিহতের ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নিহত দু জনের একজন ছিলেন তুরস্কের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ বিভাগের সদস্য; অন্যজন দাঙ্গা পুলিশ হিসেবে কাজ করছিলেন।

তুরস্কের সানলিরউফা প্রদেশের সুরাক শহরে, কোবানিতে আটকে থাকা বেসামরিক লোকজনের জন্য ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বামপন্থীদের প্রায় ৩শ’ তরুণ একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘আমারা সংস্কৃতি কেন্দ্রে‘ সোস্যালিস্ট ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের সমাবেশে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ১০০ মানুষ আহত হওয়ার দু দিন পর পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলো। উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএআইএল ওই সমাবেশে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

এদিকে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স(HPG) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দুই পুলিশ অফিসার আইএস জঙ্গিদের সহায়তা করছিল। আজ ভোর ৬টায় তাদের খতম করা হয়েছে।

তুরস্কের মাওবাদী ও বামপন্থী কুর্দিরা অভিযোগ করে আসছিল যে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সরকার আইএস জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে এবং উক্ত সমাবেশে হামলার ঘটনার সাথে তুরস্ক সরকার জড়িত। মাওবাদীরা ওই হামলার পর থেকেই তুরস্ক রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা শুরু করেছে, এরই ধারাবাহিকতায় পিকেকে ২ পুলিশকে খতম করে।

সূত্রঃ http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/europe/turkey/11755018/Two-Turkish-police-officers-killed-close-to-Syria-border.html


তেল আবিবের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ MLKP যোদ্ধা হালিল আকসাকাল (মজলুম আক্তাস) সমাহিত

1

2

3

11053414_1603057033277305_7097852914600746596_n

তেল আবিবের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এমএলকেপি যোদ্ধা হালিল আকসাকালকে (মজলুম আক্তাস) ২৭শে জুন তার শহর হাতায়ে সমাহিত করা হয়।

হাতায়ে শহরে জন্মগ্রহণকারী এমএলকেপি যোদ্ধা হালিল আকসাকাল তেল আবিয়াবে শহীদ হন। হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে তার শহরে তাকে সমাহিত করা হয়। ২৭শে জুন বেলা ১১টায় তার মৃতদেহ সেরিনওলের রাস্তায় আনা হয় এবং পরে গাড়িবহরে করে তাকে হারবিয়েতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় Pro-Kurdish Peoples’ Democratic Party (HDP) এর সহ সভাপতি ফিগেন ইউকসেকদাগ,  HDP এর আদানা শহরের ডেপুটি দানিস বেক্তাস ও Socialist Party of the Oppressed (Turkish: Ezilenlerin Sosyalist Partisi, ESP) এর সভাপতি সুলতান উলুসয় উপস্থিত ছিলেন।

জনতা হারবিয়ে আলি ইসমাইল কোর্কমাজ বুলভার্দে জমায়েত হয়ে স্লোগান, হর্ষধ্বনি ও হাততালির মাধ্যমে হালিল আকসাকালকে স্বাগত জানায়। হাজার হাজার মানুষ অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

আলি ইসমাইল বুলভার্দে পদযাত্রা শুরু হয়। মৃতদেহ প্রথমে হালিল আকসাকালের বাড়িতে আনা হয় ও পরে কারিয়ের সমাধিতে আনা হয়। এসময় “কমরেড হালিল অমর”, “বিপ্লবী সংহতি দীর্ঘজীবী হোক”, “কোবানি প্রতিরোধ দীর্ঘজীবী হোক”, “কমরেড হালিল দীর্ঘজীবী হোক, কমিউনিস্ট সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক” ইত্যাদি স্লোগান দেয়া হয়।

সমাধিতে এক মিনিটের নীরবতা পালনের পর HDP এর সহ সভাপতি ফিগেন ইউকসেকদাগ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “মধ্য প্রাচ্যে বর্বরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের সমর্থন দেয়া উচিৎ। গতকালের গণহত্যার জন্য মানবতার কাছে এদের জবাবদিহিতা করতে হবে। আমাদের স্মৃতিতেই শুধু নয়, কমরেড হালিল আমাদের সংগ্রামের মেঝেও বেঁচে থাকবেন। এখন আমাদের সামনে সত্যিকারের মিশন। আমরা তার নিশান ও তার লড়াইকে উর্ধ্বে তুলে ধরব।”

গেজি পার্ক আন্দোলনে শহীদদের পরিবার, রোজাভার শহীদ বেদরেত্তিন আকদেনিজের পরিবার, আলি আক্তাসের পরিবার ও DHF সহ বিভিন্ন বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সংগঠন অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়।

সূত্রঃ 

http://www.signalfire.org/2015/06/30/sehid-ma-biymut/


রোজাভায় গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিকতাবাদী মুক্ত ব্রিগেড

R1

R2

R3

 

রোজাভা ও মধ্য পূর্বাঞ্চলীয় জনগণের শক্তিমত্তাকে বিবেচনায় রেখে রোজাভায় মুক্ত ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে।

এই ব্রিগেডটি আইএসআইএস ও সমগোত্রীয় দখলদারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালাবে।

জানুয়ারী থেকে এমএলকেপি (MLKP) ব্রিগেড স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

ব্রিগেডের যোদ্ধাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন যেমন, Reconstruction (Spain), TIKKO, United Freedom Forces (BÖG), MLSPB Revolution Front ও গ্রীসের বিপ্লবীরা

৬ জুন থেকে শুরু হওয়া YPJ (Women’s Protection Units) এর কমান্ডার রুবার কামিসলোর উদয়োগকে  ব্রিগেড সমর্থন জানায় এবং এ প্রসঙ্গে নিম্নে উল্লেখিত বিবৃতিটি তারা প্রকাশ করেছে।

“সাম্রাজ্যবাদী রক্তপিপাসু শোষকদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে রক্তের বন্যা বইছে।

এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি একত্রে আইএসআইএস কে নিয়ে এসেছে যাতে করে এ অঞ্চলের জনগণ দখলদারিত্ব ও শোষণের কাছে মাথা নত করে। আইএসআইএস জঙ্গিরা খ্রিস্টান, আরবীয় ও মুসলমান জনগণদের নির্বিচারে হত্যা করেছে।

জঙ্গিরা নারী ও শিশুদের দাস বাজারে বিক্রি করছে এবং ব্যাপক আকারে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে যা তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের শতাব্দীর পুরনো কৌশলকেই মনে করিয়ে দেয়।

এই সব গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য তাদের ভাষা, সংস্কার, জীবনযাত্রা ও পরিচয়কে ধ্বংস করা, আর এই উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করতে YPG-YPJ এর নেতৃত্বে  যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে তা কোবানি, সিঞ্জর, তিল-হেমিস ও সেরেকানিয়েতে সফল হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির সম্মুখ ভাগে উঠে এসেছে রোজাভা বিপ্লব। দারিদ্র্যপীড়িত গণমানুষের কাছে YPG-YPJ এর প্রতিরোধ প্রশংসিত হয়েছে ও সমর্থন পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক যোদ্ধাদের সহযোগিতায় রোজাভা আজকের বেকা ও ফিলিস্তিন হয়ে উঠেছে।

রোজাভা বিপ্লব হয়ে উঠেছে জার্মান অবরোধ কালীন প্যারি কমিউন, স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ কালীন মাদ্রিদ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালীন স্টালিনগ্রাদ।

রোজাভা বিপ্লব প্রতিবেশী দেশগুলোর (বিশেষত তুরস্কে) ক্ষমতার ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করেছে এবং এভাবে বিশ্ব বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ও নিপীড়িত জনগণের প্রতিরোধের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে।

নারীদের বিপ্লব হিসেবে রোজাভা নারীর ইচ্ছাকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি পিতৃতন্ত্র ও বৈশ্বিক ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সারা বিশ্বের বিপ্লবীরা রোজাভার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন এবং বিপ্লবকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে এখানে বিজয় অর্জনের জন্য লড়াই করে মৃত্যু বরণ করতে তারা দ্বিধা করেননি।

বিপ্লবকে শক্তিশালী করা ও তারা যে সকল স্থান থেকে এসেছেন সে সব স্থানে যুদ্ধকে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে তুরস্কের বিপ্লবী বাহিনী ও বিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে বিপ্লবীরা রোজাভায় এসেছেন।

আমরা রোজাভায় যুদ্ধ করছি, শহীদ হচ্ছি ও প্রতিরোধের ঝান্ডা বহন করে চলেছি…

আমরা এ অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অগ্রভাগে যুদ্ধ করছি…

আমরা এ বিপ্লবে আইএসআইএস জঙ্গিদের নৃশংস আক্রমণের মোকাবেলা করছি…

আমরা বিপ্লবে বসবাস করছি ও নিজেদের ধমনী ও কোষের ভিতরে বিপ্লবকে অনুভব করছি…

YPG-YPJ এর পতাকার নীচে লড়াই করে আমরা কুর্দিস্তানের মেহনতি মানুষ, নিপীড়িত জনগণ, নারী ও আন্তর্জাতিকতাবাদী বিপ্লবীরা একত্রে রোজাভা বিপ্লব ঘটিয়েছি…

আমরা স্প্যানিশ, জার্মান, গ্রীক, তুর্কি, আরব, আর্মেনিয়, লাজ, সার্কেশীয় ও আলবেনিয়…

আন্তর্জাতিকতাবাদী মুক্ত ব্রিগেড গঠনের লক্ষ্যে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিপ্লবী বাহিনী ও সংগঠন।

গোটা বিশ্বের নিপীড়িত, মেহনতি, শ্রমিক, নারী, তরুণ, ধ্ররমীয় দল, পরিবেশবিদ, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ফ্যাসিবাদ বিরোধী, পুঁজিবাদ বিরোধী, গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী গণমানুষকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি,  মধ্যপ্রাচ্য ও সারা বিশ্বে জনগণের ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের লক্ষ্যে রোজাভা বিপ্লবকে এগিয়ে নেয়া ও একে বিস্তৃত করতে আন্তর্জাতিকতাবাদী মুক্ত ব্রিগেডের পতাকার নীচে লড়াই করুন।”

সূত্রঃ

http://en.firatajans.com/kurdistan/internationalist-free-brigade-established-in-rojava