তেল আবিবের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ MLKP যোদ্ধা হালিল আকসাকাল (মজলুম আক্তাস) সমাহিত

1

2

3

11053414_1603057033277305_7097852914600746596_n

তেল আবিবের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ এমএলকেপি যোদ্ধা হালিল আকসাকালকে (মজলুম আক্তাস) ২৭শে জুন তার শহর হাতায়ে সমাহিত করা হয়।

হাতায়ে শহরে জন্মগ্রহণকারী এমএলকেপি যোদ্ধা হালিল আকসাকাল তেল আবিয়াবে শহীদ হন। হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে তার শহরে তাকে সমাহিত করা হয়। ২৭শে জুন বেলা ১১টায় তার মৃতদেহ সেরিনওলের রাস্তায় আনা হয় এবং পরে গাড়িবহরে করে তাকে হারবিয়েতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় Pro-Kurdish Peoples’ Democratic Party (HDP) এর সহ সভাপতি ফিগেন ইউকসেকদাগ,  HDP এর আদানা শহরের ডেপুটি দানিস বেক্তাস ও Socialist Party of the Oppressed (Turkish: Ezilenlerin Sosyalist Partisi, ESP) এর সভাপতি সুলতান উলুসয় উপস্থিত ছিলেন।

জনতা হারবিয়ে আলি ইসমাইল কোর্কমাজ বুলভার্দে জমায়েত হয়ে স্লোগান, হর্ষধ্বনি ও হাততালির মাধ্যমে হালিল আকসাকালকে স্বাগত জানায়। হাজার হাজার মানুষ অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

আলি ইসমাইল বুলভার্দে পদযাত্রা শুরু হয়। মৃতদেহ প্রথমে হালিল আকসাকালের বাড়িতে আনা হয় ও পরে কারিয়ের সমাধিতে আনা হয়। এসময় “কমরেড হালিল অমর”, “বিপ্লবী সংহতি দীর্ঘজীবী হোক”, “কোবানি প্রতিরোধ দীর্ঘজীবী হোক”, “কমরেড হালিল দীর্ঘজীবী হোক, কমিউনিস্ট সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক” ইত্যাদি স্লোগান দেয়া হয়।

সমাধিতে এক মিনিটের নীরবতা পালনের পর HDP এর সহ সভাপতি ফিগেন ইউকসেকদাগ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “মধ্য প্রাচ্যে বর্বরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের সমর্থন দেয়া উচিৎ। গতকালের গণহত্যার জন্য মানবতার কাছে এদের জবাবদিহিতা করতে হবে। আমাদের স্মৃতিতেই শুধু নয়, কমরেড হালিল আমাদের সংগ্রামের মেঝেও বেঁচে থাকবেন। এখন আমাদের সামনে সত্যিকারের মিশন। আমরা তার নিশান ও তার লড়াইকে উর্ধ্বে তুলে ধরব।”

গেজি পার্ক আন্দোলনে শহীদদের পরিবার, রোজাভার শহীদ বেদরেত্তিন আকদেনিজের পরিবার, আলি আক্তাসের পরিবার ও DHF সহ বিভিন্ন বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সংগঠন অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়।

সূত্রঃ 

http://www.signalfire.org/2015/06/30/sehid-ma-biymut/


রোজাভায় যাওয়ার পূর্বে কমরেডদের লেখা ইভানা হফম্যানের শেষ চিঠি

 images

Ivana-Hoffmann

নোট– কমরেড ইভানা হফমান, MLKP(Marxist Leninist Communist Party Turkey) এর একজন নারী কমরেড, আই এস বিরোধী যুদ্ধে তিনিই প্রথম পশ্চিমা নারী শহীদ। আমৃত্যু সমাজ পরিবর্তনের জন্যে শেষ বুলেটটি ছোঁড়া পর্যন্ত তিনি লড়ে গেছেন। রোজাভার  যুদ্ধে যাওয়ার আগে কমরেডদের উদ্দেশ্যে লেখা তার শেষ চিঠি –

পার্টির কমরেডগণ,

সবচেয়ে সুন্দর রং গুলোকে আমি আর আলাদা করতে পারিনা, আমার ত্বকের উপর শহরের বাতাসের স্পর্শকে আমি আর অনুভব করতে পারিনা, পাখিদের গানকে এখন মুক্তির ডাক বলে মনে হয়। আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দীর্ঘ দিন দীর্ঘ রাত্রি ধরে মাথার ভেতর আমি এই ভাবনাগুলো নিয়ে ঘুরেছি এবং আমার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি দিয়ে  কাজটি সম্পন্ন করার সময় এসেছে আজ। ফোরাত নদীর স্রোতের মতই শক্তিশালী এ ইচ্ছাশক্তি। আমি রোজাভা বিপ্লবের একটি অংশ হতে চাই, আমি বিকশিত হতে চাই। সকল নির্যাতিত জনগণকে একত্রিত করেছে যে যুদ্ধ, এ ছয় মাসে সেই যুদ্ধটার সাথে আমি পরিচিত হতে চাই আর রোজাভা বিপ্লবকে বুঝতে চাই যে বিপ্লবকে আমি আমার জীবন দিয়ে রক্ষা করব। আমি জানি আমি কী উদ্দেশ্যে যাচ্ছি আর এই যুদ্ধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি প্রতিকূলতা আসবে, আমার নিজের ভেতরে কী ধরনের পুঁজিবাদী বৈশিষ্ট্য নিহিত রয়েছে, সে বিষয়ে আমাকে লক্ষ্য রাখতে হবে কিন্তু আমি এগুলোর সাথে লড়াই করে যাব।

নিজের হাতে অস্ত্র নিয়ে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রোজাভা বিপ্লবের জন্য যুদ্ধ করার  অনুভূতি কেমন, সেই অভিজ্ঞতা আমি অর্জন করব। জীবনকে আমি ভিন্নভাবে অনুভব করতে চাই, অনেক বেশী তীব্রভাবে ও সংগঠিত হয়ে। আমার হয়তো  সীমাবদ্ধতা থাকবে, হয়তো পিছিয়ে পড়ব কিন্তু আমি কোনদিন লড়াইয়ের মানসিকতা বিসর্জন দেব না। লড়াই আমি চালিয়ে যাব। আমাকে কোন কিছুই এখানে ধরে রাখতে পারছে না। আমার বোনেরা, ভাইয়েরা, বন্ধুরা, মায়েরা, বাবারা ও কমরেডরা পুঁজিবাদের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভের জন্য যেভাবে লড়াই করে যাচ্ছে তা আমার পক্ষে নিষ্ক্রিয়ভাবে তাকিয়ে দেখা সম্ভব নয়। আমি পার্টির আন্তর্জাতিকতাবাদকে প্রতিনিধিত্ব করব এবং পার্টির সশস্ত্র ও সংগঠিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করব। যেদিন আমি ফিরে আসব সেদিন আমার কমরেডদের মাঝে, আমার চারপাশে আমি ছড়িয়ে দেব লড়াইয়ের মানসিকতা আর ইচ্ছাশক্তি। আমি হব সুন্দর গানের মত, যার মাধুর্যে সবাই বিমোহিত হয়। আমি হব প্রীতি ও আশায় পরিপূর্ণ  একজন গেরিলা।

আমাদের পার্টি দীর্ঘজীবী হোক।

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।

সমাজতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক।

তোমাদের কমরেড ইভানা হফম্যান     

সুত্র – signalfire.org