কমিউনিস্ট বিরোধী আদিবাসী নেতাকে খতমের দায় স্বীকার করেছে ফিলিপাইনের মাওবাদীরা

Formation

অনূদিতঃ 

গত ৬ই জুলাই খতমের ২ দিন পর কমিউনিস্ট বিরোধী আদিবাসী নেতা রুবেন লাবাওয়ানকে খতমের দায় স্বীকার করেছে দক্ষিন মিন্দানাও মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি।

পুলিশের চর, প্রতিবিপ্লবী কর্মকাণ্ড- জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, কৃষকদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক কর্মকাণ্ড, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠীর প্রচারাভিযানে যোগ সাজশ ও সরকারী মদদপুস্ট মিলিশিয়া বাহিনীতে অংশ নেয়া ও এএফপি এর প্রতিবিপ্লবী সামরিক অভিযানে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, স্থানচ্যুতি, দুর্ভোগের জন্যে তাকে প্রমান সাপেক্ষে অভিযুক্ত করে জন আদালতে বিচারের মাধ্যমে এই আদিবাসী নেতাকে খতম করা হয়েছে বলে মাওবাদী এনপিএ এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অপারেশনস কমান্ডের মুখপাত্র রিগবার্তো সানচেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।

সূত্রঃ http://davaotoday.com/main/politics/npa-owns-up-killing-of-tribal-leader/


যুদ্ধবন্দী পুলিশ প্রধানের ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিপাইনের মাওবাদীরা

NPA

ফিলিপাইনের দাবাও ওরিয়েন্টাল গভর্নর গেনেরোসো শহর থেকে গত ২৯শে মে যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটক করা পুলিশ প্রধানের একটি ভিডিও গত ১৩ই জুন মঙ্গলবার রাতে প্রকাশ করেছে ফিলিপাইনের মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি।

৩২ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে কালো শার্ট পরিহিত ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের চীফ ইন্সপেক্টর ‘আর্নল্ড অঙ্গাছেন’ হিসেবে পরিচয় দেন।  ভিডিওতে তিনি বলেন যে, “আমি ভালো আছি এবং মাওবাদীরা আমার কোনরূপ ক্ষতি করছে না।  মাওবাদীরা আমার সাথে মানবিক আচরণ করছেন, খাদ্য দিচ্ছেন। ”  তিনি আরো বলেন- “আমি আশা করছি, মাওবাদী NPA-রা আমাকে খুব শীঘ্রই মুক্তি দেবেন। “

সূত্রঃ http://davaotoday.com/main/politics/npa-releases-video-of-police-chief-in-davao-oriental/


ফিলিপাইনে মাওবাদীদের পৃথক হামলায় ৩ পুলিশ নিহত, আহত ২

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলাদের একটি ইউনিট

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলাদের একটি ইউনিট

অনূদিতঃ

গত রবিবার সকালে মাসবেত প্রদেশের বিকোল অঞ্চলে, মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি(এনপিএ)-র লাল যোদ্ধারা পুলিশের গাড়ী লক্ষ্য করে একটি মাইন বিস্ফোরণের পর গেরিলারা পুলিশের এই গাড়ির উপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, এতে এক পুলিশ নিহত ও দুই জন আহত হয়েছে।

এই অতর্কিত হামলার, মাত্র দুই দিন আগে বিকোল সোরসোগোন অঞ্চলে কমিউনিস্ট গেরিলাদের আরেকটি হামলা হয়। এতে নিউ পিপলস আর্মি একটি মোটর সাইকেল উপর হামলা চালিয়ে ২ পুলিশকে হত্যা করে।

সূত্রঃ http://odiodeclase.blogspot.com/2016/06/filipinas-emboscadas-de-la-guerrilla.html


ম্যাকিবাকাঃ ফিলিপিনো বিপ্লবী নারী আন্দোলন

hqdefault

ম্যাকিবাকাঃ ফিলিপিনো বিপ্লবী নারী আন্দোলন

স্পেনীয় ও মার্কিন উপনিবেশ, জাপানি ফ্যাসিস্ট আক্রমণ এবং স্থানীয় সামন্ত শোষণের বিরুদ্ধে ফিলিপিনো নারীদের অস্ত্র হাতে নেবার ইতিহাস গৌরবময়।  পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারাও যুদ্ধ করেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে অনেক। স্পেনীয় উপনিবেশ বিরোধী সংগ্রামে গ্যাবরিয়েলা (Gabreila) জীবন দেয়।  তাঁর সে আত্মত্যাগ আজো ফিলিপিনো নারীদেরকে বিপ্লবী সংগ্রামে উৎসাহিত করে।  কিন্তু আজকে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সশস্ত্র বাহিনীতে নারীরা যে ক্রমবর্ধিতহারে যোগ দিচ্ছে ফিলিপাইনের ইতিহাসে তার নজির নেই। বিপ্লবের সৈনিক হিসেবে নারীরা এখন গেরিলা ঘাঁটিতে, গ্রামে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায়, সংগঠনের দায়িত্বপূর্ণ পদে, নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।  নারী গেরিলা ও কৃষক নারীদের দেখা যায় সভায়। অফিস-আদালত ও মিলিটারি ক্যাম্পমুখী মিছিলে।  নারী শ্রমিকেরা যোগ দেয় সড়ক অবরোধ করতে।  র‌্যালির অগ্রভাগে থাকে সাধারণ নারীরা।  তারা সরকারি নির্মূল বাহিনীর বিরুদ্ধে বাড়ির চারপাশে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সংখ্যালঘু নারীরা, পিঠে শিশু সন্তান নিয়ে, সরকারি ও বহুজাতিক উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে ভিটেমাটি উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানায়।
এই নারীদের সংগঠিত করেছে ম্যাকিবাকা (MAKIBAKA)।  ’৭০এর দশকে মার্কোস সামরিক শাসনের দমন-নির্যাতনের মধ্যে ম্যাকিবাকা একটি গোপন নতুন বিপ্লবী নারী সংগঠন হিসেবে জন্মলাভ করে।  এর প্রধান কাজ জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণ বাস্তবায়নে গণমুক্তি বাহিনীর (NPA) সশস্ত্র প্রচার ইউনিট, গণবাহিনী ও সশস্ত্র গেরিলা ইউনিটে নারীদের বৃহত্তম অংশ, বিশেষ করে কৃষক নারী ও শ্রমিকদের নিয়োগ করা। ‘পুরুষরা বেশি ক্ষমতাবান’ এই গতানুগতিক ধারণাকে চুরমার করে ম্যাকিবাকা সামরিক কাজে নারীদের ক্ষমতা ও শক্তির প্রয়োাগ নিশ্চিত করে। তারা কৃষক নারীদের ভিতরে নিজেরা জমির মালিক হবার আকাঙ্খা সৃষ্টি করে এবং নারী শ্রমিকদেরকে কাজে উপযুক্ত পরিবেশের কর্মসূচি দিয়ে তাদেরকে আন্দোলন-সংগ্রামে আকৃষ্ট করে।
উপনিবেশপূর্ব ফিলিপাইনে নারীদের অনেক বেশি অধিকার ও স্বাধীনতা ছিল।  তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার ছিল এবং তারা দেশীয় জন্মনিয়ন্ত্রণের উপকরণ ব্যবহার করতে পারত।  স্পেনীয় উপনিবেশবাদ তাদের সে অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদেরকে আরো পিছনে ঠেলে দেয়।  সামন্ত শাসন তাদের ওপরে আরো ভারী বোঝা চাপায়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নারীদেরকে পুরুষের যৌনসামগ্রী ও ভোগ্যবস্তুতে পরিণত করে পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরো মজবুত করে।  তাই, ম্যাকিবাকার কাছে নারী নির্যাতন মূল সামাজিক দ্বন্দ্ব থেকে পৃথক নয়।  আজকের আধা ঔপনিবেশিক-আধা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যেই নারী নির্যাতনের কারণ নিহিত।   এজন্যে যতদিন না নারীরা দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় এজেন্টদের উৎখাত করার বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে ততদিন তারা ধর্ষিতা ও নির্যাতিতা হতে থাকবে।  বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণের এই প্রক্রিয়াই দেশকে নিপীড়ন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার প্রক্রিয়া।  ফিলিপাইনে নারীরা নিজেদের মুক্তির জন্যে ঐ প্রক্রিয়ার ভিত্তি রচনা করেছে।  রাজনীতিতে অংশগ্রহণ দিয়েই তারা পুরুষ শাসন ও পুরুষ কর্তৃত্বের শৃঙ্খল ভাঙ্গতে পারবে যা তাদেরকে সব জায়গায় আটকে রেখেছে। , নারী হিসেবে তাদেরকে ও কেবল ‘দেশকে নয়’ নিজেদের সবাইকে মুক্ত করার জন্যে লড়তে হবে।
ম্যাকিবাকা মনে করে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষরা সবকিছুর মত আন্দোলন-সংগ্রামেও কর্তৃত্ব করে।  তাই, নারীদেরকে ‘রাজনৈতিক’ করে তোলার জন্যে তাদের সংগ্রামের পৃথক ক্ষেত্র প্রয়োজন।  প্রয়োজন ভিন্ন ফোরামের যেখানে ব্যাপক রাজনৈতিক বিষয়বস্তু মাতৃত্ব, সন্তানপালন ইত্যাদি বিষয় আলোচনা হবে। ম্যাকিবাকা মনে করে পুরুষতন্ত্র বিরোধী সংগ্রামে, সংগ্রামের ভেতরে ও বাইরে, শিক্ষা সংগ্রামের একটি প্রধান অঙ্গ। পুরুষতান্ত্রিক অহমিকাকে আঘাত করেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।  ম্যাকিবাকার একজন নেতা কোনি লেডেসমি (Coni ledesme) বলেন, একটি বাস্তব সমস্যা হ’ল দুঃখজনকভাবে সংগঠনের নিপীড়িত নারীরা এখন পর্যন্ত লজ্জা ও নিরাপত্তার অভাবের দরুন তাৎক্ষণিকভাবে বেরিয়ে আসতে পারছে না। বেরুতে পারলেই তারা পুরুষ কর্মীদের পুরুষতান্ত্রিক সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ম্যাকিবাকার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা লোরিনা ব্যারোস (Lorina Baros) নতুন নারী’র প্রতিনিধিত্ব করে পুরুষতন্ত্রের বন্ধন ও শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে এসে, বিপ্লবের জন্যে জীবনযাপন ও জীবন বিসর্জন দেন।  ’৭০-এ ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কোস দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রী হিসাবে তিনি তাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।  ’৭২-এ সামরিক শাসন জারি হলে তিনি বাধ্য হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান।  এই সময়ে তিনি গ্রেফতার হন।  তিনি যখন কারাগারে তখন তার স্বামী আন্দোলনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করে।  লোরিনা কারাগার থেকে পালিয়ে এসে তার স্বামীর এলাকার বিপ্লবী দায়িত্ব পালন করেন।  এক সময় ফিলিপাইনের রাষ্ট্রীয় বাহিনী (AFP) লোরিনার শেলটার ঘেরাও করলে লোরিনা যুদ্ধ করে শত্রুর অবরোধ ভেঙ্গে সহযোদ্ধাদের পালাবার পথ যখন নিশ্চিত করেন তখনই তিনি শত্রুর হাতে নিহত হন।  তার এই অবিস্মরণীয় ত্যাগ, আপোষহীন সংগ্রামী চেতনা ও দৃঢ় অঙ্গীকার অসংখ্য নারীদের বিপ্লবী সংগ্রামে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। সামরিক শাসক মার্কোস ধর্মঘট নিষিদ্ধ করলে ডিস্টিলারি কারখানার নারী শ্রমিকরাই প্রথম এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে।  তারা ‘চার্চ লেবার সেন্টারে’ জমায়েত হয়ে তাদের শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করে, এবং একদিন প্রকাশ্য দুপুর বেলায় কারখানায় জোর করে ঢুকে পড়ে শ্রমিকদেরকে সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান জানান। এতে ক্ষুব্ধ সরকারের সেনাবাহিনী ঐ নারীদের ঘরবাড়ি তল্লাসী করে গণহারে তাদের গ্রফতার করে।  এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে অনেক স্থানে বেপরোয়া ধর্মঘট পালিত হয়। ফলে সরকার বাধ্য হয় ঐ আইন বাতিল করতে। গড়ে উঠতে থাকে গণমুক্তি বাহিনীর বিশাল আকার।
কিন্তু ’৮০ দশকে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের বিরোধী একটি ধারা দ্রুত বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নারীদেরকে সামরিক কাজের বাইরে রাখার লাইন নিয়ে আসে। তাদের সে লাইন গৃহীত হলে নারী আন্দোলনের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নারীদের সাহসিকতা নারী মুক্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।  শহরে সশস্ত্র যুদ্ধ হলে গণতান্ত্রিক নারী সংগঠনগুলোর ভূমিকা যুদ্ধের সহায়তামূলক কাজে রূপান্তরিত হয়।  কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনী আকস্মিক হামলা চালিয়ে বউ-ঝি সহ সন্দেহভাজন বিদ্রোহী নারীদের বন্দী করে। এতে নারী আন্দোলনের গতি স্থবির হয়।  এই সময় উচ্চ আমলাতান্ত্রিক শ্রেণির সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলো সমাজ পরিবর্তনের ধ্বজা ধরে আসে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো লিঙ্গ ভিত্তিক অর্থাৎ ‘নারী-পুরুষের পার্থক্যকে’ শ্রেণিবহির্ভূত বিষয় হিসাবে গণ্য করে ‘শ্রেণি’ সংজ্ঞার বিকৃতি ঘটায়।  তারা আপোস ও সংস্কারের লক্ষ্যে ‘সমাজতান্ত্রিক নারীবাদের’ নামে ‘বুর্জোয়া নারীবাদ’কে চালিয়ে দিয়ে বিপ্লবী আন্দোলনের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়। ‘নারী সম্প্রদায়ের’ ধুয়ো তুলে ‘শ্রেণি বিভাজনকে’ আড়াল করে। তার জ্বলন্ত প্রমাণ পাওয়া যায় কোরি এ্যাকুইনোকে একজন নারী ও উদার গণতান্ত্রিক হিসাবে ধরে তার শাসনের প্রথম ছয় মাস তাকে তাদের সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে।  পরে গ্যাবরিয়েলার (GABRIELA) গণতান্ত্রিক নারী ফোরাম ব্যানারে বিপ্লবী নারী আন্দোলন নারী আন্দোলনের প্রতিবিপ্লবী ধারাকে পরাস্ত করে সশস্ত্র সংগ্রামে নারীদের অংশগ্রহণের ধারাকে প্রবাহিত করতে সক্ষম হয়।
ম্যাকিবাকা বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগতিার বিরুদ্ধে তার জোরালো প্রতিবাদ সংগঠিত করে এক প্যারালাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  তারা নারীদেরকে ‘মিস বেকার’ ও ‘মিস দারিদ্র’ খেতাবে ভূষিত করে দ্রুত জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেয়।  তারা বৈশ্বীকরণের বিনাশ প্রক্রিয়া ২০০০ সালের মধ্যে রামোস সরকারের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি, বহুজাতিক লগিং এ্যান্ড মাইনিং কোম্পানিগুলির স্বার্থে বনভূমি উজাড়কালে সেনাবাহিনীর বোমা নিক্ষেপের বিরোধিতায়, মুক্ত বাণিজ্যিক এলাকায় যৌনপীড়ন, কুমারীত্ব পরীক্ষা, কাজের শর্তের বিরুদ্ধে ধর্মঘট পালন এবং APEC গঠনের গণপ্রতিরোধ, মিছিল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতেও সাহসী ভূমিকা রেখেছে।
ফিলিপাইনে যে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা পুঁজিবাদ দীর্ঘদিন জনগণকে শোষণের জোয়ালে বেঁধে রেখেছে তা উৎখাতের যে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে ম্যাকিবাকার আন্দোলন তার এক অখ- অংশ। ম্যাকিবাকা মনে করে, এই সংগ্রাম কেবল পুরুষদের নয় বরং অনেক বেশি নারীদের।  কারণ তারাই ঐ ব্যবস্থা দ্বারা বেশি শোষিত ও নির্যাতিত এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ বেয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামো ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে তারাই বেশি লাভবান হবে।  এই হিসাবে অন্যান্য আন্দোলনের সাথে পার্থক্য ও সমন্বয় সৃষ্টি করে ম্যাকিবাকা তাদের নির্দিষ্ট দাবি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা সফলতার সাথে বিপ্লবী কর্মসূচিতে নারী প্রশ্ন স্থাপন করতে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বিপ্লবী সচেতনতা একটি সাধারণ মাত্রায় উন্নীত করতে পেরেছে।

lorena barros

সূত্রঃ লেখাটি পিপলস রেজিস্ট্যান্স, অক্টোবর-ডিসেম্বর, ১৯৯৬ থেকে ভাষান্তরিত এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা সমাজ চেতনা’র ৫/১২/’৯৭-এ প্রকাশিত নারী প্রশ্ন ও নারীমুক্তি কলাম থেকে নেয়া।  লেখক সাজ্জাদ হাফিজ।


রিপোর্টঃ বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি মাওবাদীদের

maxresdefault

অনূদিতঃ

বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি ফিলিপাইনের মাওবাদীদের ।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির(CPP) সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মির(NPA) মাওবাদী দশজন গেরিলা ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ফিলিপাইনের কুইজন প্রাদেশিক কারাগারে প্রবেশ করে।   এসময় তারা ফিলিপাইন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পোশাক পরা ছিল।  কুইজন কারাগারের কর্মকর্তারা গেরিলাদের ছদ্মবেশি ফাঁদে পা দেয়।  গেরিলারা ভেতরে ঢুকেই কারারক্ষীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।  ঘটনার আকস্মিকতায় বোকা বনে যাওয়া ২৪জন কারারক্ষী ও প্রহরীরা কোনো প্রকার বাঁধা না দিয়েই আত্মসমর্পন করে। বাকি ২৬জন কারারক্ষী ও ডেপুটি প্রহরী তখন ম্যানিলায় একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করছিল।  স্বশস্ত্র নিউ পিউপলস আর্মি গেলিরারা কারারক্ষী ও প্রহরীদের একটি সেলে বন্ধী করে রাখে।  এরপর তারা কারাগারের বিভিন্ন অংশ থেকে তাদের ৭জন নেতাকে খুঁজে বের করে যারা এই কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ করছিল। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত চারটি ভ্যানে গেলিরারা তাদের নেতাদের নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিউ পিপলস আর্মির এই অপারেশনটি মাত্র ১৫মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।  এই অপারেশনে কোনো গুলিবর্ষন ও রক্তপাত হয়নি।  কারাগার থেকে মাওবাদী বন্দী উদ্ধার করা অপারেশন এর থেকে দ্রুত গতিতে ও সার্থক ভাবে বিশ্বের কোন গেরিলা দল আগে করতে পারেনি।

১৯৬০ দশকে ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ ও ছাত্রদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের একটি জোয়ার দেখা যায়।  ওই রেঁনেসা বা জোয়ারের অংশ হিসেবে নিউ পিপলস আর্মি ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় যাদের উদ্দেশ্য ছিল মাওবাদী গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস শাসিত সরকারের পতন ঘটানো ও দেশে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা।  মার্কসবাদী আদর্শ ও মাওবাদী লাইন নিয়ে এই গ্রুপটি গঠন করা হয়।  ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীনের সরকার নিউ পিপলস আর্মিদের বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা দিয়েছিল।  এই সময়ে দলটি প্রচুর গেরিলা নিবন্ধন করে এবং বেশ কিছু বড় অপারেশন পরিচালনা করে।  কিন্তু ১৯৭৬ সালে চীন সরকার তাদের সব ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।  চীনের সমর্থন হারানোর পর নিউ পিপলস আর্মি বেশ খারাপ কয়েকটি বছর অতিক্রম করে। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝিতে নিউ পিপলস আর্মির নেতারা পশ্চিমা কমিউনিস্ট পার্টি বিশেষ করে কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার নতুন উৎস তৈরি করে।  একই সময়ে তারা ফিলিপাইনের ধনীব্যক্তি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘বিপ্লবী কর’ হিসেবে টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতে শুরু করে।

নিউ পিপলস আর্মি তাদের অপারেশনে এম-১৬, এম-১৪, এম১ গারান্ডস, কার্বিনেস ও স্প্রিংফিল্ড রাইফেল, সি৪ এক্সপ্লোসিভ, বি৪০ এন্টি ট্যাংক রকেট এবং হাতে তৈরি গ্রেনেড ব্যবহার করে।

যদিও নিউ পিপলস আর্মিরা প্রাথমিকভাবে একটি গ্রাম্যভিত্তিক গেরিলা দল, কিন্তু তারা শহুরে অবকাঠামোর মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।  ১৯৮৫ সালে তারা শহর ভিত্তিক গেরিলা স্কোয়াড তৈরি করে।  নিরাপত্তা বাহিনী, রাজনীতিবিদ, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত অপরাধীদের টার্গেট করা হয়।  নিউ পিপলস আর্মি মাওবাদী আদর্শের অনুসারী হওয়ায় শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ছিল তাদের অবস্থান। তাই ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারির বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেয় এবং আমেরিকার সামরিক ব্যক্তিদের তাদের প্রধান টার্গেট হিসেবে নেয়।  এক সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহীনির মেজর জেমস রোকে গুলি করে হত্যা করে যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘সার্ভাইভাল, এভাসন, রেসিস্ট্যান্ট ও এস্কেপ স্কোয়াড প্রতিষ্ঠাতা।  ২০০২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০০৫ সালের নভেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মাওবাদীদের বৈদেশিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।

বর্তমানে নিউ পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাতা হোসে মারিয়া সিসন সহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তরা আত্মগোপনে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।  এখন তাদের কার্যক্রম ফিলিপাইনের ৬০টি প্রদেশে রয়েছে।

 

সূত্রঃ https://page11.wordpress.com/2014/07/09/the-story-of-new-peoples-army/


ফিলিপাইনে মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় ৩ সেনা নিহত

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলাদের একটি ইউনিট

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলাদের একটি ইউনিট

অনূদিতঃ 

ফিলিপাইনে মাওবাদী NPA গেরিলাদের হামলায় ৩ সৈন্য নিহত হয়েছে।  দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট স্থগিত শান্তি আলোচনা পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দেয়ার পর এই প্রথম সহিংস রক্তপাতের ঘটনা ঘটল।

রোববার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একথা বলা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার মধ্যাঞ্চলীয় দ্বীপ নেগরোসে সৈন্যদের সঙ্গে প্রায় ১০ জন মাওবাদী গেরিলার সংঘর্ষ হয়।  এ সময় সৈন্যরা নিউ পিপলস আর্মির গেরিলারা গ্রামবাসীদের কাছ থেকে সাংগঠনিক অর্থ সংগ্রহ করছে এমন একটি খবরের তদন্ত করছিল বলে জানায়।

রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে ৩ সৈন্য নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে।  নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতের্তে শান্তি আলোচনার শুরু করার কথা বলার কয়েকদিন পর এই সহিংস ঘটনাটি ঘটল।

গেরিলাদের এক দশকের তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে এ শান্তি আলোচনাটি শুরু হয়েছিল।

৯ মে নির্বাচনে জয়লাভ করার পর দুতের্তের মুখপাত্র বলেছিলেন, পুনরায় শান্তি আলোচনার শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি জেলখানায় আটক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ছেড়ে দিতে পারেন।

তার পূর্বসুরী বেনিগনো অ্যাকুইনো ২০১৩ সালে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আলোচনা ভেঙ্গে দেন। মাওবাদীদের পক্ষ থেকে আটক বিদ্রোহীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করা হলে অ্যাকুইনোর সঙ্গে তাদের শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে যায়।

এদিকে দুতের্তের বিজয় সত্ত্বেও মাওবাদীরা তাদের গণযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছে এটা গণযুদ্ধে কোন প্রভাব ফেলবে না।

সূত্রঃ http://philippineslifestyle.com/blog/2016/05/16/npa-guerrillas-kill-3-soldiers-negros/


যুদ্ধবন্দী ৫ পুলিশ অফিসারকে মুক্তি দিলেন ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলারা (ভিডিওসহ)

যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি অনুষ্ঠান

যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি অনুষ্ঠান

অনূদিতঃ

গত ২৫শে এপ্রিল ফিলিপিনের বারাঙ্গায় লিমিয়াদ এ একটি জনাকীর্ণ ব্যায়ামাগারে ফিলিপিনের মাওবাদী NPA-নিউ পিপলস আর্মি’র সদস্যরা গত ১৬ই এপ্রিল তাদের হাতে ৫ পুলিশ কর্মকর্তা আটক হওয়ার পর হেফাজতে থাকা যুদ্ধবন্দী এই ৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মেয়র রডরিগো দুতেরতে’র কাছে হস্তান্তর করেছে।  এসময় মাওবাদীদের ১ম পুলাং বাগানি ব্যাটেলিয়ন যুদ্ধবন্দীদের প্রহরারত ছিল।

মাওবাদী NPA এর কম্যান্ডার কা ইয়াঞ্চ্য বলেন, পাঁচ পুলিশকে তাদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে।  “সামরিক, আধা-সামরিক বা পুলিশ, যারা আমাদের এলাকায় প্রবেশ করবে তারা সবাই ধরা পড়বে ও জনগণের আদালতে তাদের বিচার করা হবে” বলে জানান কা ইয়াঞ্চ্য।

এসময় যুদ্ধবন্দী পুলিশ কর্মকর্তা আলী জুনিয়র বলেন যে, “তার জন্যে শুয়োরের মাংস ছাড়া খাবার প্রস্তুত করে তাকে সম্মানিত করায় তিনি মাওবাদীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ।”

আরেক যুদ্ধবন্দী পুলিশ প্রধান তারঙ্গয় বলেন, “মাওবাদীরা আমাদের সাথে যা করেছেন, তা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত, যা আমাদের পুলিশ ইউনিটে হয় না, মাওবাদীরা আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছেন, খাবার দিয়েছেন, শোবার জায়গা দিয়েছেন, চিকিৎসা করিয়েছেন, এমনকি যে সব পুলিশ সদস্যরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের ঔষধ দিয়েছেন, তারা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ, আমরা খুব উঁচু সম্মান পেয়েছি তাদের কাছ থেকে, বুঝেছি এটা তাদের মানবাধিকার বোধ থেকেই আসে।  আমাদের বন্দী করার পর প্রথমেই খাবার দেয়া হয়েছিল, এক পর্যায়ে অনুভব করতে পারি যে আমরা নিজেরা তাদের উপর বোঝা হয়ে পরেছি।  তাদের ধন্যবাদ জানাই “।

উপস্থিত মেয়র দুতেরতে ও যাজক জেইমি যুদ্ধবন্দীদের সুশৃঙ্খল মুক্তি বাস্তবায়নে মাওবাদী এনপিএ-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সূত্রঃ  http://davaotoday.com/main/politics/duterte-receives-npas-prisoners-of-war/