গনসালো চিন্তাধারা হচ্ছে আজকের দিনের কমিউনিস্টদের জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি

5-11-2004 juicio a abimael guzman en la base naval.callao. tambiem aparecen...margie calvo,elena iparraguirre,victor zavala,angelica salas,feliciano entre otros. OPSE 2004NOV06 PERU TERRORISMO PRIMER DIA DE NUEVO JUICIO A ABIMAEL GUZMAN   Y OTROS CABECILLAS DE SENDERO LUMINOSO EN LA IMAGEN GUZMAN LEVANTANDO EL PUNO GESTOS ARENGAS  CREDITO ENRIQUE CUNEO  EL COMERCIO PERU 2004NOV06 AFD

 কমরেড গনসালো, ০৫-১১-২০০৪

গনসালো চিন্তাধারা হচ্ছে আজকের দিনের কমিউনিস্টদের জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি

–    পেরুর গণ আন্দোলন(এমপিপি)

নভেম্বর ২০০৬

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ হচ্ছে সর্বহারাশ্রেণীর একমাত্র, অপরাজেয় ও চির অম্লান মতাদর্শ এবং ইতিহাসের সবচেয়ে অগ্রসর ও চূড়ান্ত শ্রেণী মতাদর্শ। এখানে চাবিকাঠি প্রশ্ন হচ্ছে চেয়ারম্যান গনসালো কিভাবে মাওবাদ-কে তৃতীয়, নতুন ও উচ্চতর স্তর হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন; এটা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, কেননা শুধুমাত্র এভাবেই আমাদের পার্টি মাওবাদকে উপলব্ধি করে, আমাদের পার্টি বোঝাতে চায়mpp3 যে মাওবাদের আছে তিনটি স্তরঃ লেনিনবাদ মার্কসবাদের উপর নিজেকে দাঁড় করায় এবং মাওবাদ নিজেকে পূর্ববর্তী দুটির উপর দাঁড় করায়, কিন্তু তাদের বিকাশ সাধন করে। সুতরাং মাওবাদ হচ্ছে নতুন ও তৃতীয় এবং যেহেতু এটা মার্কসবাদ-কে একটা উচ্চতর স্তরে বিকশিত করেছে, মাওবাদ হচ্ছে অধিকতর উচ্চতর (Superior)।

এই চাবিকাঠি প্রশ্ন থেকেই যাত্রা শুরু করে পার্টির প্রথম কংগ্রেসে প্রতিষ্ঠিত গনসালো চিন্তাধারা হচেছ্ পেরুর সমাজ ও আজকের দুনিয়ার মূর্ত নির্দিষ্ট বাস্তবতায় মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদের সার্বজনীন সত্যের প্রয়োগ। সেই কারণে আমরা বলি যে গনসালো চিন্তাধারার সবচেয়ে পূর্ণতর ও সর্বাধিক বিকাশ পার্টির সাধারণ রাজনৈতিক লাইনে পাওয়া যায় এবং মার্কসবাদে গনসালো চিন্তাধারার অবদান ও বিকাশও সেখানে সুনির্দিষ্ট। এমনকি তদপেক্ষা, গনসালো চিন্তাধারা গণযুদ্ধের নয়া সমস্যাবলীর সমাধান দেয় এবং বিশ্ববিপ্লবের জন্য রণনীতি ও রণকৌশলের ভিত্তিসমূহের বিকাশ সাধন করেছে; এটা প্রতিষ্ঠা করেছে এর তিনটি স্তর বা পর্যায়কালকে, বিশ শতকের ১৯৮০র দিকে তৃতীয় পর্যায়কালে আমাদের অনুপ্রবেশকে এটা সঠিকভাবে নিরূপন করেছে; ১৯৯২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান গনসালো তাঁর কর্তৃত্বব্যঞ্জক বক্তব্যে দিক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের এক নয়া মহাতরঙ্গে আমরা প্রবেশ করছি। পার্টির ভিতরকার বিরুদ্ধ ডানপন্থী মতাবস্থানসমূহ ও লাইনকে মোকাবেলা করে ও তাকে চূর্ণ করে, (এবং পরবর্তীতে রিম-এর হৃতপিন্ডের ভিতর গণযুদ্ধের শক্তিশালী অগ্রগতিসহ), চেয়ারম্যান গনসালো সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে সাহসের সাথে মোকাবেলা ও বিপ্লব সংঘটিত করার জন্য  পেরুসহ দুনিয়ায় গণযুদ্ধের সূচনা ও বিকাশের আশু প্রয়োজন, সুযোগ ও সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন-এই বাস্তবতা থেকে যাত্রা করে যে বর্তমান বিশ্বে বিপ্লব প্রধান ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে এবং পেরু ও সমগ্র বিশ্বে এক বিপ্লবী পরিস্থিতির অসমান বিকাশের অস্তিত্বমানতা, শোষিত দেশসমূহ হচ্ছে বিশ্ববিপ্লবের ভিত্তি কেননা সেখানেই বিশ্বজনগণের বৃহত্তর অংশ কেন্দ্রিভূত আর বিপ্লব অধিকতর শক্তি নিয়ে ফুটন্ত অবস্থায় বিরাজ করছে-সংশোধনবাদের ধূর্তামী চূর্ণ করেছেন কারণ তারা বিশ্বের বিপ্লবী পরিস্থিতির অস্তিত্বমানতা অস্বীকার করে, বিপ্লবী সংকটের সাথে বিপ্লবী পরিস্থিতিকে জড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর পুনর্গঠন, এর সামরিকীকরণ ও সমকেন্দ্রিক বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তাকে চেয়ারম্যান গনসালো প্রতিষ্ঠা করেছেন, এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য নির্ধারক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কসীয় রাজনৈতিক অর্থনীতির তিনি বিকাশ সাধন করেছেনঃ এর আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদকে, একে সাধারণীকরণ করে এবং এর বিকাশের নিয়ম ও স্তরসমুহের প্রতিষ্ঠা করেছেন, সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে বিপ্লবের জন্য পরিস্থিতিকে এটা পরিপক্ক করে। বিশ্ব বিপ্লবে চেযারম্যান গনসালো কিভাবে অবদান রেখেছেন এগুলো হচ্ছে তার অল্পকিছু উদাহারণ। আর এভাবেই মার্কসবাদ বিকশিত হচ্ছে। রিম গঠনকারী পার্টি ও সংগঠনসমূহ, RCP সহ, সেই কারণে এর চেয়ারম্যান কম. এভাকিয়ান, ১৯৯৩ সালের তাদের এই ঘোষণাঃ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ দীর্ঘজীবি হোক!, কে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, যেখানে এই ঘোষণার সূচনাতে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির পরিপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং গণযুদ্ধে এর নেতৃত্ব উল্লেখ করা হয়েছে, যা মাওবাদের স্বীকৃতিদানের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে রিম-কে সহায়তা করেছিল, ১৯৮৪ সালে যাকে বাতিল করা হয়েছিল। এটাই এখানে বড় হরফে রয়েছে: তত্ত্ব ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতিসমূহ (পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন গণযুদ্ধ-আমাদের নোট) সর্বহারার মতাদর্শের আমাদের আত্মস্থকরণ অধিকতর গভীর করতে এবং এই ভিত্তির উপর মার্কসবাদের নতুন, তৃতীয় ও উচ্চতর স্তর হিসেবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের স্বীকৃতিদানে এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে আমাদেরকে সমর্থ করে তুলেছে।

চেয়ারম্যান গনসালো, গনসালো চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন যা আজকের পেরু এবং বিশ্বের কমিউনিস্টদের অনুশীলনের জন্য, গণযুদ্ধের জন্য তত্ত্বগত ভিত্তি স্বরূপ, যখন আমরা বিশ্বসর্বহারা বিপ্লব বিকাশের এক মহাতরঙ্গে প্রবেশ করেছি তখন গনসালো চিন্তাধারাই হচ্ছে আজকের বিশ্ববিপ্লবের তাত্ত্বিক ভিত্তি। এভাবেই গনসালো চিন্তাধারা মার্কসবাদের বিকাশে অবদান রাখছে এবং না সাম্রাজ্যবাদ না প্রতিক্রিয়া এটা চায়-সংশোধনবাদীদের অবস্থা এর চেয়ে নিম্নমানের। তারা চায়না চেয়ারম্যান গনসালোর মতো একজন তাত্ত্বিক বা ‘নেতা’ কে যিনি চেয়ারম্যান মাওয়ের তুলে ধরা চাহিদাকে পূরণ করেনঃ তত্ত্বগত দৃঢ়তা, ইতিহাসের উপলব্ধি এবং রাজনীতির উত্তম ব্যবহারিক পরিচালনা, তাই তারা তাকে মেরে ফেলতে চায় যাতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদের বিকাশ সাধনকারীর অনুপস্থিতিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটা স্বীকৃত যে, কম, এভাকিয়ান ও অন্যরা শুধুমাত্র প্রতিক্রিয়ার সাথে পরিপূর্ণভাবে সমকেন্দ্রিকই হয় নি বরং তারা চেয়ারম্যান গনসালোর এই আবদ্ধাবস্থা কামনা করে এবং গোঁড়ামীবাদী-সংকীর্ণতাবাদী সংশোধনবাদী হিসেবে অভিয্ক্তু করে তারা তাকে আক্রমণ করে, অপমান করে, তারা ভুলে যায় তাদের দ্বারা লিখিত, স্বাক্ষরকৃত ও স্বীকৃত ১৯৯৩ সালের রিমের ঘোষণায় রয়েছে মার্কসবাদে চেয়ারম্যান গনসালোর সীমাতিক্রমকারী অবদানের স্বীকৃতি।

এভাবে দেখা যাচ্ছে, মতাদর্শিক সংগ্রাম আরো শক্তি অর্জন করে এবং তাই আমরা যখন সত্যগুলোকে ও বিষয়গুলোকে খোলাখুলিভাবে বলি তখন তা রিমভুক্ত কিছূ পার্টি ও সংগঠনের কিছু কমরেডদের আঘাত লাগে। নির্দিষ্টভাবে, কমরেড এভাকিয়ান একটা বিষয়ের জন্য, মাওবাদকে সংজ্ঞয়িত করার জন্য চেয়ারম্যান গনসালোকে ক্ষমা করতে পারেননা। রিমের জন্ম থেকেই চেয়ারম্যান গনসালো এভাকিয়ানের মতাবস্থানগুলোকে ; মাওবাদ ও গণযুদ্ধের বিরোধিতাকে তীব্র সমালোচনামূলকভাবে চিহ্নিত করেছেন এবং রিমের অভ্যন্তরে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে উন্মোচন করেছেন। সেই কারণে আরসিপি চেয়ারম্যান সর্বদাই তার মতাবস্থানগুলোকে মধ্যবর্তী মাধ্যমের সাহায্যে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেন এবং মুখোমুখিভাবে দুই লাইনের সংগ্রাম পরিচালনায় অবতীর্ণ হননা।

আমরা জানি যে ডান ও তার মাথাকে চূর্ণ করাই প্রয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে যারাই ডানপন্থী অবস্থানকে গ্রহণ করবে তাদেরকেই শেষে চূর্ণ করতে হবে; কারণ, দ্বান্দ্বিক গতিবিদ্যার নিয়মে সর্বদাই বিপরীতের সংগ্রাম চলবে। চেযারম্যান গনসালো সর্বদাই আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন; এটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের অভিজ্ঞতা। পেরুতেও এরকমটা ছিল, যেই একে (ডানপন্থী অবস্থান) ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিল তার বিরুদ্ধেই এটা (চূর্ণ) করা হয়েছিল, যে মুখ খুলেছে তার বিরুদ্ধে নয়। অন্যেরা পদের জন্য তাদের প্রাণপন চেষ্টার কারণে অতিকথন করছেন, তারা রিমে একজন ‘নেতা’ খোজার চেষ্টা করছেন। আমরা ভুলি নাই ঘৃণ্য তেং এর কার্যকলাপকে, সেও অন্যদের ব্যবহার করত পরবর্তীকালে পর্দার অন্তরালের স্রষ্টা হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য, যার জন্য ইয়াংকি সাম্রাজ্যবাদের কাছে সে নিজের আত্মাকে বিক্রি করেছে। আজকে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে আরো বেশী প্রয়োজন যা চেয়ারম্যান গনসালো বলেছেনঃ মৃত্যু অবধি সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। পার্টি অভিজ্ঞতা আমাদের অনুমতি দেয় এই সকল বিষয়কে বুঝতে যাতে এর (দক্ষিণপন্থী অবস্থান) ছদ্মবেশী আবরণকে খুলে দিতে পারি।

কেউ কেউ এক গণযুদ্ধের বিরুদ্ধে অন্য গণযুদ্ধকে স্থাপন করতে চেষ্টা করে, যেমন পেরুর গণযুদ্ধের বিরুদ্ধে নেপালের গণযুদ্ধকে এবং তারা বলে যে নেপালের গণযুদ্ধ যদি পেরুর গণযুদ্ধের চেয়ে “অধিকতর অগ্রসর” হয়, এবং দ্বিতীয়টি জটিল ও কঠিন পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে যাচ্ছে, এটার কারণ হচ্ছে একটার ‘পথ’ অন্যটার ‘চিন্তাধারা’র চেয়ে উতকৃষ্টতর, এভাবে যুদ্ধে জনগণের বিস্ফোরক অগ্রগতি নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত করার পরিবর্তে যৌথ একনায়কত্বকে সংস্থাপন করা হচ্ছে; এভাবে তারা বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করে এবং নিছক এটা বলে যেঃ আমাদের অনেক শক্তি আছে, আমাদের অনেক সম্পদ (Resource) আছে।

এই মতাদর্শিক সংগ্রামকে আমরা মহান দায়িত্বরূপে ধারণ করি; আমরা পরিষ্কার যে আমরা কি চাই, কারণ মুক্ত প্রতিজ্ঞাসহ দৃঢ় প্রত্যয় দ্বারা আমরা এটা ধারণ করি। আমাদের অবশ্যই সর্বদা দূরপানে তাকাতে হবে; আমরা এটাকে দৃঢ়ভাবে ধারন করি। যখন ২০০৪ইং এর নভেম্বরে আমাদের পার্টি আমাদের সতর্ক করেছিল যে আরো বিশোধিত মতাদর্শিক সংগ্রাম হবে, এবং আমাদের অতি অবশ্যই গনসালো চিন্তাধারাকে রক্ষা করতে হবে। অতঃপর আমরা প্রতিক্রিয়ার সকল চালাকির অসারতা প্রমাণ করি, যেমন ‘সাধারণ ক্ষমা’র নয়া প্রতিক্রিয়াশীল প্রতারণা যা চেয়ারম্যান গনসালোর বিরুদ্ধে ‘বিচার’-এর প্রতারণা (Hoax) সাথে অবিচ্ছেদ্য, কাজেই পুরনো রাষ্ট্র, প্রতিক্রিয়া, সি.আই.এসহ সংশোধনবাদী ও আত্মসমর্পণকারী ROL (ডান সুবিধাবাদী লাইন) এর চামচাদের দ্বারা সরবরাহকৃত প্রমাণ ছাড়া দুনিয়ার নতুন-পুরাতন সংশোধনবাদীদের হাতে আর কোন যুক্তি প্রমাণ নেই।

আমরা পেরুর গণআন্দোলন (এমপিপি), যেমন পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি জনসম্মুখে ঘোষণা দিয়েছে, চেয়ারম্যান গনসালো ও তাঁর সর্বশক্তিমান চিন্তাধারাকে রক্ষার আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আমরা ধারন করি, বিশ্ববিপ্লব ও গণযুদ্ধকে সেবা করার মাধ্যমে, এটা আমরা নিরন্তরভাবে পালন করি, সর্বদাই এই নিশ্চয়তা সহকারে যে এমপিপি জীবনের মূল্যে হলেও এরকম উচ্চ ভূমিকা পালন করে। অপরপক্ষে, ঐসকল লোকদের পরিণতি কি হল? ইউরোপের ঐসকল সিএসআরপি ও ইউএসের লোকেদের অথবা ঐসব বাজে সাংবাদিকদের? যখন ‘পত্রগুলো’ আবির্ভূত হল, প্রথম তারা বলেছিলঃ হয় তিনি অথবা তিনি নন? সম্ভবতঃ হ্যাঁ অথবা সম্ভবতঃ না; কোরিম (রিম কমিটি) পর্যায়ে প্রকাশিত সংশোধনবাদী অবস্থানের সাথে হয় এভাবে নয় ওভাবে পরিশেষে তারা এক কাতারে মিলিত হতে এই অবস্থানকে তারা ব্যক্ত করল যে তারা সংগ্রামরত; স্ফটিকের মতো স্বচ্ছভাবে বিষয়গুলো যখন আমরা তাদের বললাম, ঐ মতাবস্থানের প্রতিনিধিদের তা আঘাত করলো। শুধুমাত্র আমরাই তাদের মনে করিয়ে দিলাম যে রিমের একেবারে প্রথম মুহুর্ত থেকে চেয়ারম্যান গনসালো তীব্র সমালোচনামুলকভাবে চিহ্নিত করেছেন কমরেড এভাকিয়ানকে।

দুই লাইনের সংগ্রামের বিকাশের প্রশ্নে নয়া প্রজাতন্ত্র, ঘাঁটি, নয়া ক্ষমতা-কে আমরা কিভাবে উপলব্ধি করি, আমরা অবিরামভাবে আমাদের সেই মতাবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করছি, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারার প্রয়োগে, কীভাবে এটা আমাদের সৃষ্টি ও ধ্বংসের অনুমতি দেয়, বিপ্লবের তিন হাতিয়ারের সমকেন্দ্রিক বিনির্মাণ, এক নয়া অর্থনীতি, নয়া সংস্কৃতির নির্মান, ইত্যাদি এবং সর্বহারা একনায়কত্বের একটা প্রকাশ হিসেবে যৌথ একনায়কত্বে পুরোনো রাষ্ট্র, এর পেটি-পার্টিসমূহ, চার্চ, এর ‘প্রতিবিধান’ ও এর এন.জি.ওসমূহের ধ্বংস সাধন। এসমস্ত সকল নয়া বিষয়সমূহ, নয়া ক্ষমতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা, রক্ষা করা এবং বিকাশ করা হয়েছে বাহিনী সহকারেঃ মিলিশিয়া, স্থানীয় বাহিনী, প্রধান বাহিনী; বিকশিত করা হয়েছে এক উচ্চতর চলমান গণযুদ্ধের মাধ্যমে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের প্রয়োগে আমাদের অভিজ্ঞতাকে আমরা পার্টি ও সংগঠনসমূহের কাছে ব্যাখ্যা করছি এবং যারা নিজেদের এর নীতিসমূহ থেকে দূরে রাখছে যেমন ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ ওয়ালারা, তারা পার্টি, নয়া ক্ষমতা, দখলীকৃত অর্জনগুলোকে বিলোপ করায় নেতৃত্ব দিচ্ছে, এখানে দুইটি পরিপ্রেক্ষিত, এক, দীপ্তিময় গণযুদ্ধে অটল থাকা, যা আমরা করছি এবং অন্যটি হচ্ছে কালো আঁধার, বিশ্বাসঘাতকতা, যদি কেউ গণযুদ্ধে অটল না থাকে, যদি কেউ এর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি, বিদেশে তার পার্টির কাজের অঙ্গ এমপিপি, সকল মাওবাদী এবং সকল মাওবাদী পার্টি ও সংগঠনসমুহের সাথে একত্রে এই সংগ্রামকে বহন করে যাচ্ছে। কারণ আমাদের প্রয়োজন মাওবাদের মূর্ত প্রকাশ, এবং এটাই বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের নয়া মহাতরঙ্গ পরিচালনা, নেতৃত্ব দিতে কমিউনিস্ট পার্টিসমূহ সৃষ্টি করার কাজ চালিয়ে যায় এবং আপোষ ও দ্বন্দ্বে নেতৃত্ব দেয়া একচ্ছত্র আধিপত্যবাদী পরাশক্তি হিসেবে ইয়াংকী সাম্রাজ্যবাদ-নেৃতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদ, প্রতিক্রিয়া ও সংশোধনবাদী সাধারণ প্রতিবিপ্লবী আক্রমণ চূর্ণ করে।

মাওবাদ জিন্দাবাদ!

চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ জিন্দাবাদ!

বর্তমান দুনিয়ার মহানতম জীবিত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী চেয়ারম্যান গনসালা জিন্দাবাদ!                                     

দুনিয়ার সর্বহারা এক হও!


পেরুর গণযুদ্ধের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও চিত্র


পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নারী যোদ্ধাদের ভিডিও

গৌরবান্বিত পেরুর গণযুদ্ধে্র ৩৬তম বার্ষিকী উদযাপন করুন!

 

12122950_1663091003932724_6146809722157539183_n (1)


পেরুর মহান মাওবাদী নেত্রী কমরেড ‘নোরা’

অগাস্টা লা তোররে কারাস্কো ওরফে কমরেড নোরা(১৯৪৬-১৯৮৮) হচ্ছেন মাওবাদী পেরু কমিউনিস্ট পার্টি, যা Sendero Luminoso (শাইনিং পাথ) নামে পরিচিত, এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও নেত্রী ছিলেন। তার অন্য একটা পরিচিতি হল, তিনি পেরু কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড এবিমেল গুজম্যান গণজালোর স্ত্রী ছিলেন। কমরেড নোরা তার কমিউনিস্ট বাবা এবং প্রগতিশীল দাদা’র রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তবে তিনি কমরেড গণজালো’র মাধ্যমে মাওবাদী আন্দোলনের প্রতি প্রভাবিত হন।

১৯৬২ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি পেরু কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তখন তিনি পেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক গণজালো’র সাথে পরিচিত হন। ওই সময় রাজনৈতিক কারণে তার বাড়ীতে কমরেড গণজালো’র নিয়মিত যাতায়ত ছিল। এক সময় মতাদর্শগত মিল থাকায় তারা পরস্পরকে বিয়ে করেন। ১৯৭৮ সালে তারা গোপন রাজনৈতিক জীবনে চলে যান। ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কমরেড গণজালো’র সাথে পেরুর গণযুদ্ধের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পার্টি ও জনগণের সেবা করে যান।

তিনি ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া পেরুর গণযুদ্ধের সময় গোপনে নারীদের সংগঠিত করে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা অব্যাহত রাখেন। তিনি আলোচনা, লিখিত প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করে বিপ্লবী আন্দোলনকে নারীদের অংশগ্রহণের জনপ্রিয় কেন্দ্রে পরিণত করেন। তিনি গেরিলা অ্যাকশনের সময় পার্টিতে নারীদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেন।

কমরেড 'নোরা'

কমরেড ‘নোরা’

nora

কমরেড নোরা ও কমরেড গণজালো

কমরেড নোরা ও কমরেড গণজালো

কমরেড নোরা ও কমরেড গণজালো

কমরেড নোরা ও কমরেড গণজালো

augusta-wedding-full

abimael-guzman

কমরেড নোরার শবদেহের প্রতি লাল সালাম জানাচ্ছেন কমরেড গণজালো

কমরেড নোরার শবদেহের প্রতি লাল সালাম জানাচ্ছেন কমরেড গণজালো

DIRE220610abima


“লাল সংবাদ” এর বিশেষ প্রতিবেদনঃ জেল অভ্যন্তরে মাওবাদী নারীদের ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’

পেরুর কান্টো গ্র্যান্ড কারাগারের নারী বন্দীরা

পেরুর কান্টো গ্র্যান্ড কারাগারের নারী বন্দীরা আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছেন

স্থানঃ ক্যান্টোগ্র্যান্ড

সময়ঃ মার্চ, ১৯৯২

পেরুর রাজধানী লিমার অন্যতম কারাগার।  কঠোরতম বেষ্টনীতে আবদ্ধ বিপ্লবী কারাবন্দি নারীরা এখানে সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত।  ওরা নিজেরাই খাবার রান্না করে এবং নিজেরাই পরিবেশন করে ও রাজনৈতিক পড়াশুনা করে।  বন্দিদের বাসগৃহের দেয়ালে দেয়ালে হাতে আঁকা মার্কস-এঙ্গেলস, লেনিন ও মাওয়ের ছবি।  কারাগার অঙ্গনের প্রশস্ত দেয়ালে গনযুদ্ধ ও চেয়ারম্যান গনজালোর বিচিত্র রঙে অসংখ্য চিত্রে সজ্জিত।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি তেজদীপ্ত ও বিস্তারিত কর্মসূচীর পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের জন্যে কঠোর পরিশ্রম করেছে।  বন্দিরা দীর্ঘ সারি বেঁধে নিজ নিজ হাতে তৈরি কালো প্যান্ট ও সবুজ খাকি শার্ট ও মাও টুপি লাগিয়ে উন্নত শিরে কুচকাওয়াজের তালে তালে কারাগার প্রদক্ষিণ করে।  হাতে ওদের বড় বড় লাল পতাকা আর কুচকাওয়াজের তালে তালে প্রত্যেকের হাতেই আন্দোলিত হচ্ছে লাল রুমাল।  ওরা বহন করছে চেয়ারম্যান গনজালোর বৃহদাকৃতি প্রতিকৃতি(ছবি)।

বাদ্যের তালে তালে বন্দিদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছিল বিপ্লবী গন সংগীত।  কারাগারের উঁচু দেয়াল ডিঙ্গিয়ে সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠের সংগীত ধনী-“বিপ্লবী যোদ্ধা ও অগ্রণী জনতা, ক্ষুধা ও শোষণের বিরুদ্ধে আমাদের এ সশস্ত্র সংগ্রাম আমরা মানব জাতির শত্রু  সাম্রাজ্যবাদকে উৎখাত করবোই।  বিজয় আজ জনতার, বিজয় আজ অস্ত্রের, বিজয় আজ গণ নারী আন্দোলনের।  চেয়ারম্যান গনজালো আমাদের পথ প্রদর্শক।  তিনি বিশ্ব মানবতাকে বিজয়ের পথে নিয়ে চলেছেন।  আমরা আলোকোজ্জ্বল পথের অনুসারী, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবো, নতি স্বীকার না করার প্রশ্নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ”

ওরা ব্যঙ্গ রচনা পঠন ও নারী মুক্তি সম্পর্কে মার্কস-লেনিন-মাওয়ের উক্তি প্রদর্শন করে।  হাতে তৈরি কাঠের বন্দুক উঁচিয়ে ধরে ওরা মাও সেতুং ও চীনের সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের সংগীত পরিবেশন করে।

কারাবন্দী নারীদের এক প্রতিনিধি বলেন, আমরা হলাম যুদ্ধ বন্দি।  গণ গেরিলা বাহিনীর যোদ্ধাদের মত আমরা তিনটি কাজ করি।

() সরকারের বন্দি গণহত্যার নীল নকশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম

() জেল বন্দিদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম এবং

() মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদী আদর্শিক রাজনীতিতে সজ্জিত হওয়ার জন্য সংগ্রাম।  আমরা সবসময়ই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করি।

ক্যান্টোগ্র্যান্ডের বীর সন্তানগণ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ২ মাস পর ১৯৯২ সালের মে মাসের ৬ তারিখে পেরুর খুনি সরকারী বাহিনী ক্যান্টোগ্র্যান্ড জেলখানায় ৫০০ বিপ্লবী জেল বন্দিকে আক্রমণ করে। সারা দুনিয়ার মাওবাদী কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের ঐক্যের কেন্দ্র আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলনের(আর.আই.এম- RIM) কমিটির এক বিবৃতি থেকে এ সম্পর্কে জানা যায়।

যে ২টি জেলখানায় নারী ও পুরুষ বিপ্লবীরা বসবাস করতো সরকারী বাহিনী তা অবরোধ করে রাখে। ফলে বন্দিরা খুবই সতর্ক হয়ে পড়ে এবং গোপনে সারা বিশ্বে প্রচার করে দিতে সক্ষম হয় যে, সরকারী বাহিনী জেলখানার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্যে বন্দি হত্যার ফন্দি আঁটছে। আর বিপ্লবী বন্দিদের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্যে বিভিন্ন জেলে বদলি করার চেষ্টা করছে।

এপ্রিল মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পেরুর প্রেসিডেন্ট কুখ্যাত ফুজিমোরি, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজ হাতে গ্রহণ করে। এজন্য দেশি বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের কাছে ফুজিমোরি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করা এবং তার বিরুদ্ধবাদীদের ছায়া দূর করার এমন একটা বিপ্লবী গণহত্যা যজ্ঞ প্রয়োজন ছিল।

ভারী অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী ও পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাগণ ৬ই মে নারীদের জেলখানা ঘেরাও করে। তারা আশা করেছিল প্রথমে নারীদের এবং পড়ে পুরুষদের আটক করবে।  কিন্তু তা পারেনি। যে কারাগার ওরা তৈরি করেছিল সেই কারাগারই ওদের রুখে দাঁড়াল।  ঘন সিমেন্টের প্রলেপ দেয়া দেয়াল ও উঁচু ছাদের উপর দাঁড়িয়ে নারীরা বন্দুক-গোলাগুলি-বিস্ফোরণ-ধোঁয়া, টিয়ার গ্যাস, জলকামানের বৃষ্টির মধ্যেও যাদের কিঞ্চিৎ দেখা যাচ্ছিল- হাতের কাছে যার যা ছিল তাই আক্রমণকারীদের ছুঁড়ে মারল। বাড়ীতে তৈরি গ্যাস মুখোশ পরে বন্দিরা প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে গেলেন।  এতে কমপক্ষে ২জন পুলিশ নিহত হয়। যে দালানে পুরুষ বন্দিদের আটকে রাখা হয়েছিল নারীরা সে দালান দখল করে ফেললো। তারপর নারী পুরুষ উভয়ই মিলে ৯ই মে পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে পুলিশদের তাড়িয়ে দিল। অবশেষে ৩০মিনিট ব্যাপী এক স্থায়ী যুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সম্ভাব্য সকল ভারী অস্ত্র কাজে লাগিয়ে বিপ্লবীদের পরাজিত করল।

১০ই মে এক কুৎসিত বিজয় উৎসব পালনের উদ্দেশ্যে স্বয়ং খুনি ফুজিমোরিকে জেল পরিদর্শনে আনা হলো। ঘাড়ের পিছনে হাত মোড়া ও অধঃমুখী অবস্থায় কারাবন্দীদের তার পেছনে দেখা গেলো। বেত ও মুগুর দিয়ে ওদের প্রহার করা হলো, উন্মুক্ত কুকুরগুলোকে বিপ্লবীদের দিকে লেলিয়ে দেয়া হ্য়। তবুও দেখা গেল বন্দিরা বিপ্লবী সংগীত গেয়ে চলেছে।

ক্যান্টোগ্র্যান্ডিতে ৪০জনেরও বেশী বন্দিকে হত্যা করা হয়। ১০০জনেরও বেশি বন্দিকে আহত করা হয়। যুদ্ধ থামার পর বিপ্লবী নেতাদের অনেককে ফাঁসির মঞ্চে চড়ানো হয়।

pol9

সূত্রঃ [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিপ্লবী পত্রিকা – রেভ্যুলেশনারী ওয়ার্কার, লন্ডন থেকে প্রকাশিত “বিশ্ব বিজয়”-(AWTW) এবং ব্রিটেনের টিভি Channel 4 কর্তৃক প্রচারিত পেরুর যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা অবলম্বনে লিখিত।]


পেরুর সংগ্রামী এলাকায় নতুন শক্তি ও নতুন নারীদের অবস্থান

 

fmln-16

গ্রামাঞ্চলের মূল বিপ্লবী এলাকাগুলোতে(Base Area) গণযুদ্ধে নতুন জনশক্তি গড়ে উঠেছে। জনগন নতুন নতুন সংগঠন, নতুন রেজিমেন্টে এবং নতুন বিপ্লবী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে।  নারীদের জীবনে এ কর্মসূচীর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। নারী নির্যাতনের মূলভিত্তি উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, নারী নেতৃত্ব এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি বিষয়ে নারী ও পুরুষের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসছে। যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক সম্পদ ও সম্পর্কের কথা।

গণকমিটি নির্বাচিত হচ্ছে। তাদের নেতৃত্ব সংগঠিত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থা, নতুন সংস্কৃতি, বিচার ব্যবস্থা, জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক। গণ প্রতিনিধিগণ এক নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে পুরনো ঘুণে ধরা উৎপাদন ও বিনিময় সম্পর্ক উচ্ছেদ করে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে। অতীতে বড় বড় সামন্ত প্রভু ও মাদক ব্যবসায়ীদের খবরদারীতে উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হত। এখন গণযুদ্ধের অনুকূলে যৌথ শ্রম ও আত্মনির্ভরশীলতার ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংঘটিত হচ্ছে। জমিদারদের জমি দখল করে ভূমিহীন ও গরীব চাষীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। জমি শুধু পরিবার প্রধান পুরুষদের নামে দেয়া হয়নি, পরিবারের সকল সদস্যদের নামে বরাদ্দ করা হয়। সম্পত্তির উপর নারীদের সমান অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ থাকে। প্রত্যেক পরিবারকে ভিন্ন ভিন্ন জমি বরাদ্দ করা হলেও চাষাবাদ ব্যবস্থা/পদ্ধতি পরিবার ভিত্তিক নয়। চাষের কাজ যৌথভাবে পরিচালিত হয়। যেখানে সার্বিক সমাজ কল্যাণে সকলকেই অংশগ্রহণ করতে হয়।

দাবী জানালে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমুতি প্রদান করা হয়। নারী ও সন্তানেরা স্বামী কিংবা পিতার সম্পত্তি নয়। পিতা অথবা স্বামীর অনুমতি ছাড়াই নারীরা ইচ্ছা করলেই গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে। গণকমিটিগুলো বেশ্যাবৃত্তি, মাদকশক্তি, স্ত্রী পেটানো বন্ধ করে দিয়েছে।  বিধবা ও বয়স্করা সমাজের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে থাকে। শিক্ষা সুবিধা সকলের জন্য সহজলভ্য। সামন্ত ও পুঁজিবাদী প্রথায় জবরদস্তিমূলকভাবে কৃষকদের যে অবস্থায় বাস করতে বাধ্য করতে হতো- এসব ব্যবস্থা তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

সংগ্রামী এলাকাগুলোতে সর্বক্ষেত্রেই অভিনব রূপান্তর কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতা চলছে।  এভাবেই গণযুদ্ধ সমগ্র জাতির রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের পথকে প্রস্তুত করে দিচ্ছে।

১৯৮২ সালে এল কোল্লাওতে এক নারী বন্দির সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে নারীদের ভুমিকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।  লিলিয়ান টয়েছ ছিলেন লিমার রাজপথের ফেরিওয়ালা। গণযুদ্ধে যোগদানের অপরাধে তাকে জেল বন্দি করা হয়।  তিনি বলেন, প্রথম যখন ওরা আমাকে পার্টিতে যোগদানের প্রস্তাব আনে, তখন আমি কিছুটা আতংকিত হয়ে পড়ি।  কিন্তু পরিশেষে আমি যখন বুঝতে পারলাম, আমি শুধু পেরুর জন্যে যুদ্ধ করছি না, যুদ্ধ করছি সারা বিশ্বকে শৃঙ্খল মুক্ত করার জন্যে, বিশ্ব বিপ্লবের জন্যে। তারপর আমি আতংক মুক্ত হলাম।  অবশেষে বুঝলাম আমার বাঁচা-মরার কিছু উদ্দেশ্য আছে। তখন আমি বাজারে সবজির মত বেচাকেনা হতে অস্বীকার করলাম। এমনি ধারণায় সজ্জিত হয়ে অসংখ্য নারী যোদ্ধা বিপ্লবকে শক্তিশালী ও বিজয়মণ্ডিত করতে এগিয়ে আসছে।

সূত্রঃ [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিপ্লবী পত্রিকা – রেভ্যুলেশনারী ওয়ার্কার, লন্ডন থেকে প্রকাশিত “বিশ্ব বিজয়”-(AWTW) এবং ব্রিটেনের টিভি Channel 4 কর্তৃক প্রচারিত পেরুর যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা অবলম্বনে লিখিত।]


পেরুর বিপ্লবী সংগ্রামে মাওবাদী নারীদের আত্মত্যাগ

পেরুর কান্টো গ্র্যান্ড কারাগারের নারী বন্দীরা

পেরুর কান্টো গ্র্যান্ড কারাগারের নারী বন্দীরা

প্রায় তিন যুগ ধরে পেরুতে সশস্ত্র সংগ্রাম চলছে । শুরু থেকেই এ মুক্তিযুদ্ধে বিপ্লবী যোদ্ধা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীদের প্রায় অর্ধ সংগঠন শক্তি রয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে সরকারী বাহিনী অনেক নারীকে হত্যা করেছে। শাসক গোষ্ঠী বন্দি করেছে অনেক নারীকে। অসংখ্য নারীকে বন্দিশালায় হত্যা অত্যাচার-নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে- গুম করা হয়েছে। বিপ্লবী যুদ্ধে নজিরবিহীন আত্মবলিদানের জন্যে আজ ওরা স্মৃতিতে ভাস্বর ও সম্মানিত।

এদের মধ্যে বীর নারী শহীদ এডিথ লাগোস অন্যতম। ১৯৮২- এর দিকে এই নারী ছিলেন ১৯ বছরের নবীন গেরিলা যোদ্ধা। তিনি আয়াকুচো জেলখানায় গোপন গর্ত খননের কাজে একটি ছোট গেরিলা দলের নেতৃত্ব দেন। এই গেরিলা দল সকল বন্দি বিপ্লবীদের মুক্ত করে নিরাপদে ফিরে আসে। এই ঘাঁটি থেকে অনেক সরকারী অস্ত্রশস্ত্র দখল হয়। পরবর্তীতে এডিথ লাগোস পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। শাসক শ্রেণী তাদেরই সৃষ্ট আইনে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের জন্য এডিথ লাগোস আয়কুচোতে অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশের জন্য শেষকৃত্যানুষ্ঠানে জনতার ভীড়কে সরকার বেআইনি ঘোষণা করে। তবুও ৭০,০০০ জনপদ অধ্যুষিত আয়কুচোতে ৩০,০০০ লোক এডিথের বিদায়ের শোক মিছিলে যোগদান করে।

শুধু পেরুতেই নয়-এডিথ লাগোস বিশ্বব্যাপী বিপ্লবীদের আদর্শের প্রতীকে পরিণত হন। ’৯২ সালে জার্মানির তরুণ বিপ্লবীরা এডিথ লাগোস গ্রুপ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন। বিভিন্ন দেশে বিপ্লবী কবিতা গানে এডিথ লাগোসের বীরত্বের কথা ছড়িয়ে পড়েছে।

আর এক মহান বিপ্লবী নারী যোদ্ধা হচ্ছেন লোরা জ্যাম্বানো পাছিলা নামে একজন স্কুল শিক্ষিকা। যিনি মিচি নামেই সর্বাধিক পরিচিত। ১৯৮৪ সালে তাঁকে বন্দি করে ১০ বছর সাজা দেয়া হয়। শাসক গোষ্ঠী মিচি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে রাজধানী লিমা অঞ্চলে পার্টি সংগঠনে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখার জন্য। ১৯৮১ সালের মার্চে জারীকৃত তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী ৪৬ ধারা অনুসারে তাকে দোষী বলে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেসিডেন্ট এই অধ্যাদেশ বলে পেরু কমিউনিস্ট পার্টি(পিসিপি)কে বেআইনি ঘোষণা করে। তারা সন্ত্রাস শব্দটির একটি আইনগত সংজ্ঞা প্রদান করে- যার অর্থ হলো পিসিপি চালিত সশস্ত্র সংগ্রামের পক্ষে যে কোন মন্তব্যই সন্ত্রাসের আওতাধীন।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত “বিশ্ব বিজয়” (A world to win)- AWTW পত্রিকায় ১৯৮৫ সালে মিচির একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল। সে বিবৃতিতে মিচি বিশ্ববাসীকে বলেছিলেন- “যে পুরনো ঘুণে ধরা শোষণনীতি, অত্যাচারী আইন ও বিচার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে তা এই রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতিবিপ্লবী বৈশিষ্টকেই তুলে ধরেছে। এমনকি এই আইনি ব্যবস্থার অন্ধ ও অমানবিক খুঁটিনাটি দিকগুলোকেও নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে। কিন্তু আইনের নামে এই কসাইখানার শাস্তি ও শোষণ নীতি বিপ্লবীদের দমন করতে পারেনি। ওরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং বিপ্লবী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সকল কালাকানুন প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০ জুলাই দু’জন নারী পুলিশ আমাকে আটক করে। ২৩ জুলাই পর্যন্ত আমি সিভিল গার্ডের নিয়ন্ত্রনে থাকি। সে কয়দিন প্রতিক্রিয়াশীল চক্র আমাকে সকল ধরণের নির্যাতন চালায়। ওরা আমার সকল মনোবল চুরমার করে দিতে চেষ্টা করে। মিথ্যা স্বীকারোক্তির জন্যে আমার উপর অত্যাচার চালায়। সবচেয়ে জঘন্য ও বিকৃত নির্যাতনের মাধ্যমে আমার বিপ্লবী নৈতিকতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। সেখান থেকে আমাকে সন্ত্রাস দমনকারী পুলিশ বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়। যেখানে ৪ আগস্ট শনিবার পর্যন্ত আমাকে তাদের মাটির নীচে কারাকক্ষে থাকতে হয়। আমাকে তিন ধরণের নির্যাতন সহ্য করতে হয়।

() মানসিক নির্যাতন- যাতে ছিল নিদ্রাহীন ও বিশ্রামহীন অবস্থায় একনাগাড়ে ৪ দিন দাঁড়িয়ে থাকা, সর্বক্ষণ প্রহরীর দৃষ্টি আতঙ্কিত ও নির্যাতিত অবস্থায়।

() এভাবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলে, আমার দেহের বিভিন্ন অংশে পিটাতে শুরু করে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে।

() তারপর পিঠ মুড়ে হাত বেঁধে আমাকে শিকল দিয়ে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়। আর আমার সর্ব অঙ্গে চলতে থাকে প্রহার। তারপর এসিড কিংবা পায়খানার মলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়। কারণ ওরা আমাকে শারীরিকভাবে ধ্বংস করে দিতে চেষ্টা করে।

 রক্তপাত ঘটিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলচক্র বিপ্লবকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু যতই রক্তপাত ঘটছে বিপ্লব ততই তীব্র হচ্ছে। ঝরে যাওয়া রক্তে বিপ্লব তলিয়ে যায় না বরং ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রতিক্রিয়াশীল হায়েনার দল জনগণের লাশ খাওয়ায় স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সশস্ত্র সংগ্রামের লেলিহান শিখা তাদের পুড়িয়ে ছাই ভস্মে পরিণত করবে। আমাদের লক্ষ্য পৃথিবীকে পরিবর্তন করা। নতুন বিশ্ব পুরনো পৃথিবীকে পরাজিত করবেই।”

সূত্রঃ [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিপ্লবী পত্রিকা – রেভ্যুলেশনারী ওয়ার্কার, লন্ডন থেকে প্রকাশিত “বিশ্ব বিজয়”-(AWTW) এবং ব্রিটেনের টিভি Channel 4 কর্তৃক প্রচারিত পেরুর যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা অবলম্বনে লিখিত।]