ফিলিপিনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করেছে মাওবাদীরা

y101predicts_042611main

অনুদিতঃ  খুব শীঘ্রই ফিলিপিনের অন্তত পাঁচটি অবস্থানে গড়ে উঠবে এমন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে কৌশলী অভিযান পরিচালনা করতে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি(CPP), তার সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মি(NPA)কে নির্দেশ দিয়েছে।

৪ঠা এপ্রিল ২০১৬তে দেয়া এক বিবৃতিতে CPP জানায়, “বালিকাতানে শুরু হওয়া ফিলিপিন-মার্কিন যৌথ সামরিক মহড়ায় ৫০০০ মার্কিন সৈন্য, যুদ্ধের যানবাহন ও যন্ত্রপাতির প্রবেশ ও ব্যবহার হয়েছে। মহড়াটি ১৫ই এপ্রিল শেষ হয়। মার্কিন-ফিলিপিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি (Edca) এর আওতায় এ সব সেনা ফিলিপাইনে মোতায়েন করবে আমেরিকা। পাম্পাঙ্গা’র সাবেক ক্লারক বিমান ঘাঁটিতে এ সব সেনা অবস্থান করবে। মাওবাদীরা এই অঞ্চলে সকল মার্কিন কার্যকলাপ ও সামরিক অবস্থান ও তাদের দেশীয় বিশ্বাসঘাতক বাহিনীর বিরোধিতা করবে এবং এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে।”

গত ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম ফিলিপাইনে সেনা মোতায়েন করতে চলেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের ফিলিপাইনের দূতাবাস মার্কিন সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত এ ঘোষণা দিয়েছে।ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি ঘাঁটির বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। ফিলিপাইন আসার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার এমন আভাস দেন।কার্টার ঘোষণা করেন, ফিলিপাইনে শত শত মার্কিন সেনা এবং পাঁচটি রণতরী মোতায়েন করা হবে । ১১ দিনের এই মহড়ায় ৫হাজার মার্কিন এবং ৪ হাজার ফিলিপিন সেনা অংশগ্রহণ করেছে। এ ছাড়া, অস্ট্রেলিয়ারও ৮০ সেনা এ মহড়ায় অংশ নিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিপাইনের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে রাজধানী ম্যানিলায় বিক্ষোভ করেছে দেশটির ছাত্ররা। ফিলিপাইনের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনাদের অবস্থান ও যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়ার বিরুদ্ধে ছাত্ররা নিন্দা জানিয়েছে এবং একে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কথিত কৌশলগত ভারসাম্য পুন প্রতিষ্ঠার অজুহাতে ফিলিপাইনে সেনা পাঠানোর এই পরিকল্পনা নিয়েছে আমেরিকা। এর আগে, একই পরিকল্পনার আওতায় অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও মার্কিন সেনা মোতায়েনের কাজে এগিয়ে চলেছে। মার্কিন সাবেক উপনিবেশ ফিলিপাইনে অতীতে আমেরিকার কয়েকটি ঘাটি ছিল। এ সব ঘাটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘাটিগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হতো।

সূত্রঃ bulatlat


ফিলিপিনঃ ‘মিডিয়াকে দেয়া সামরিক বাহিনীর বক্তব্যে সত্যতা নেই’ – মাওবাদী মুখপাত্র

npa-formation

মাওবাদী New People’s Army (NPA)-এর আগুসান দেল নরতে’র জাবঙ্গা ক্যাম্পটি সামরিক হামলা চালিয়ে দখল নেয়া নিয়ে মিডিয়াকে দেয়া ফিলিপিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যে সত্যতা নেই বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDFP) মিন্দানাওয়ের এর মুখপাত্র মারিয়া মালয়।

মুখপাত্র মারিয়া মালয় এক ইমেল বিবৃতিতে বলেন, “ফিলিপিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক কথিত সামরিক হামলা চালিয়ে দখল নেয়া ক্যাম্পটি দুই মাস আগে মাওবাদী NPA-ফ্রন্ট ১৬ এর কমরেডদের দ্বারা পরিত্যক্ত ছিল। পরিত্যক্ত এই ক্যাম্পটি NPA-ফ্রন্ট ১৬ এর কমরেডদের পরিবার কর্তৃক বড়দিন এবং নববর্ষের জনসমাবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। এছাড়া এখানে অধ্যয়ন সভা ও প্রশিক্ষণও অনুষ্ঠিত হয়েছিল”।

১৭ই মার্চ ফিলিপিন নিউজ এজেন্সি এক রিপোর্টে জানাচ্ছে, “১৬ই মার্চ বুধবার সকালে ৪০০ ব্যক্তির ধারণক্ষম ওই ক্যাম্পটি সরকারী বাহিনী হামলা চালিয়ে দখল নেয়, এটি একটি প্রশিক্ষণ এবং একটি গঠন এলাকা, এতে ৫০টি ফাঁড়ি, ২০০টি বাংকার, একটি ফাংশন হল, ২০টি রান্নাঘর এবং ২০টি আরাম কক্ষ রয়েছে।”

মাওবাদী NPA বলছে, ‘আমাদের এই গেরিলা যুদ্ধে স্থায়ী ক্যাম্প বলে কিছু নেই’।

মালয় ব্যাখ্যা করে বলেন, গেরিলা যুদ্ধ নীতির উপর ভিত্তি করে “NPA স্থায়ী ক্যাম্প বা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে না। পরিত্যক্ত এই ক্যাম্পটি ত্যাগ করার আগেই গেরিলারা ক্যাম্পটির কাঠামো পরিস্কার করে যায়, গণমাধ্যমের উচিত তা পরীক্ষা করে সরকারী সেনাদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা।”

অনুবাদ সূত্রঃ http://davaotoday.com/main/politics/npa-says-no-truth-in-militarys-invasion-of-agusan-camp/


মোদীর সফরে মাওবাদী হাতে আটক ২৫০, মুক্তি, জনতার আদালতে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

2afeab2c-6f96-4d23-8a29-b70f89aa5714wallpaper1

কথিত উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এ বারে মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তিনি গিয়ে ওঠার আগে রাত থেকেই কমপক্ষে দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে রেখে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপরে তাদের আদৌ আস্থা নেই। মাওবাদীদের দাবি, এলাকার ভূ-সম্পদ লুঠ করে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়াই এই দুই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ দিন রাতে ওই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দিলেও, মাওবাদীরা ‘জন আদালত’-এ বিচার করে এক জনকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মোদীর সভাস্থল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জিরম উপত্যকায়। দু’বছর আগে ঠিক এখানেই কংগ্রেসের কনভয়ে বড়সড় হামলা চালিয়ে বেশ কয়েক জন নেতাকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী অধ্যুষিত দন্তেওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ গিয়েছিলেন রাজীব গাঁধী। এর তিন দশক পরে গেলেন মোদী। কলকাতায় যাওয়ার আগে তাঁর এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুটি: এক, মাওবাদী অধ্যুষিত এই একটি জেলাতেই ২৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। যে প্রকল্পে ইস্পাত কারখানা থেকে রেল লাইন পাতা হবে। দুই,  মাওবাদীদের সুস্থ জীবনে ফেরার বার্তা দেওয়া।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মাওবাদীরা বয়কটের ডাক দেয়। শুধু তাই নয়, সুকমা জেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’‌শো জন গ্রামবাসীকে আটক করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শুধুই দেশি-বিদেশি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ এই সব প্রকল্প ঘোষণা করছেন। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেই কারণেই কেন্দ্র জমি বিল আনতে চাইছে। বস্তারে হচ্ছে সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলও। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটি তাই কেন্দ্রের ‘ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের সরকার’-এর বিরুদ্ধে সংগঠিত জঙ্গি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দন্তেওয়াড়ায় শান্তি-বার্তা দিয়ে মোদী কলকাতায় পৌঁছে গেলেও রমন সরকারের মাথাব্যথা হয়ে ওঠে আটক করে রাখা গ্রামবাসীদের মুক্তির বিষয়টি। আলোচনার পথেই তাঁদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকে রাজ্য প্রশাসন। রাতে এক জন বাদে সবাইকেই ছেড়ে দেয় মাওবাদীরা। সদারাম নাগ এক জন শুধু জীবিত ফেরেননি। ‘জন আদালতে দোষী’ হওয়ায় মাওবাদীরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

images (2)

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদী মোকাবিলার পথ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। ইউপিএ আমলের এই নীতি থেকে অনেকটাই সরে এসে রাজনাথ সিংহের অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি খসড়া নীতিও তৈরি করে। যেখানে বলা হয়, দরকারে স্থলসেনা ও বায়ুসেনাকেও মাওবাদী মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে। এই খসড়া সমালোচনার ঝড় তোলে। দেশের সেনাকে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে মোদী আজ মাওবাদী গড়ে গিয়ে যে ভাবে উন্নয়নের কথা বললেন, সেখানকার মানুষের দুঃখ-বেদনা বোঝার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট, কেন্দ্র এখন দ্বিমুখী রণকৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে। এক দিকে কড়া হাতে মাওবাদী মোকাবিলার প্রস্তুতি চালানো। এর পাশাপাশি, উন্নয়নের মাধ্যমে মাওবাদীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

মোদী এই সফরে দু’টি কাজই করতে চাইলেন। চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্ত ছত্তীসগঢ়ে ১৮৮টি মাওবাদী হামলা হয়েছে। নিহত ৪৬ জন। এই অবস্থায় মাওবাদীদের গড়ে পৌঁছে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও গ্রামবাসীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করলেন। আর তাঁর বক্তব্যে জোর পেল দ্বিতীয় পথটি।

সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/india-news/pm-modi-to-visit-dantewada-today-maoists-call-for-bandh/article1-1345390.aspx