ভারতঃ ৫ মাওবাদীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট

মাওবাদী নেতা রূপেশ ও সাইনা

মাওবাদী নেতা রূপেশ ও সাইনা

প্রতিদিন তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার শর্তে গত বছরের মে মাসে কোয়েম্বাটুর থেকে Q শাখা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়া এক কেরল দম্পতি সহ ৫ মাওবাদীকে এক মাসের জন্যে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।সিপিআই(মাওবাদী) পশ্চিমঘাট আঞ্চলিক কমিটির শীর্ষ মাওবাদী নেতা রূপেশ ও তার স্ত্রী সাইনা সহ অন্য চারজন ২০১৫ সালের ৪ঠা মে কোয়েম্বাটোরের কারুমাথামপাত্তি’র কাছে Q শাখা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে রাজনৈতিক অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তারিখে কোয়েম্বাটোরের মুখ্য দায়রা জজ, পাঁচ বন্দীর জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, মাওবাদীরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। এই আবেদনের জবাবে গত বুধবার বিচারপতি সি টি সেলভাম এই পাঁচ বন্দীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর  করেন এবং এক মাসের জন্য প্রতিদিন তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত সংস্থা চাইলে যে কোন সময় তাদের তলব করতে পারবে।

অনুবাদ সুত্রঃ http://www.thehindu.com/news/cities/chennai/hc-grants-interim-bail-to-five-maoists/article8137257.ece

Advertisements

ভারতঃ ‘কেরালা পুলিশ ও সরকার আমাকে মাওবাদী বানিয়েছে’- সাইনা

download (7)

কোয়েম্বাটোরঃ পুলিশের হয়রানির ফলে শিকড়হীন ও বাসস্থানচ্যুত হয়ে মাওবাদী নেতা রূপেশের স্ত্রী সাইনা ২০০৮ সালে কেরালার তৎকালীন মুখ্য মন্ত্রী ভি এস আচুদানন্দনকে একটি চিঠি লেখেন। নিপীড়নকারী রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রতিনিয়ত পুলিশের হয়রানি কীভাবে তাকে মাওবাদী আন্দোলনে যোগদান করতে বাধ্য করেছে সে বিষয়ে চিঠিতে লেখেন তিনি। ই-মেইলটিতে সাইনা বর্ণনা করেছেন কীভাবে গ্রেফতার এড়াতে এক রাতে হঠাৎ তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। আবেগের সাথে স্মরণ করেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে তিনি আর কখনো সন্তানদের সাথে তার বাড়িতে ঘুমাতে পারবেন না। ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, “আমার বাচ্চারা অনেক দিন ধরে কাঁঠাল খাওয়ার জন্য আর ওদের ইউনিফর্ম পরার জন্য অপেক্ষা করে ছিল; সেগুলো ওদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হল। আমাদের সব প্রিয়জনদের ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে আমরা পালালাম। সেই সন্ধ্যায় আমরা জানলাম পুলিশ আমার বাড়িতে আমার ল্যাপটপের জন্য হামলা চালিয়েছে অথচ ঐ ল্যাপটপ আমার ছিলই না।” “বাচ্চাদেরকে ওদের নানির বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে আমি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাই। জেনেছিলাম পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমার বাড়িতে হানা দিয়েছিল। খবরের কাগজে পড়েছি আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সি ও UAPA (Unlawful Activities Prevention Act) এর অধীনে অভিযোগ আনা হবে।”

আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবার আগে কেরালা হাই কোর্টের ক্লার্ক ছিলেন সাইনা। তিনি তার চিঠিতে লিখেছেন, যেহেতু তিনি শ্রমিকদের সাথে সংহতি জানিয়েছিলেন এবং প্রায়ই ইউনিয়ন নেতাদের সাথে ও কোচিন ইকোনোমিক জোনের শ্রমিকদের সাথে কিংবা আদিবাসীদের সাথে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকতেন, সেহেতু সরকার সবসময় তাকে ভাতা ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেছে। তিনি বর্ণনা করেছেন পুলিশ কীভাবে তাকে হয়রানি করা শুরু করল। বামধারার ম্যাগাজিন ‘পিপলস মার্চ’ এর সম্পাদক গোভিন্দন কুট্টির সাথে সাক্ষাৎ করতে একটি সত্য অনুসন্ধানী দলের সাথে তিনি ভিয়ুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। এসময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে; পুলিশের দাবী ছিল তিনি নাম ভাঁড়িয়ে কুট্টির সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন।

তবে সাইনা ও জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের এই দাবী মিথ্যে প্রমাণিত হয়। জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরই নাম ভাঁড়িয়ে কারাগারে ঢোকার অভিযোগ আনা হয়েছিল সাইনার বিরুদ্ধে। দুই দিন পর সাইনা দাবী করেন পুলিশ চারজন ব্যক্তিকে মাওবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং তাদেরকে আশ্রয় দেবার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করেছে; নন্দীগ্রামে সহিংসতার উপর কেরালায় সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন এই চারজন। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলন কর্মীদেরকে পুলিশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। কলমাসেরি থানায় লক আপে ঢুকিয়ে পুলিশ তাদের পোশাক খুলে ফেলে। আমার বাচ্চারা এক রাত কারাগারে কাটাতে বাধ্য হয়।” “ছাড়া পাবার পর আমাদেরকে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকতে বাধ্য করা হয় যাতে করে প্রমাণ হয় যে আমরা সন্ত্রাসী না কিংবা গোপন কোন সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে আসা মাওবাদী না। ব্রংকাইটিসের চিকিৎসা চলাকালীন সাইনা জানতে পারেন মল্ল রাজা রেড্ডি ও তার স্ত্রীকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হবে। “আমাকে বলা হয়েছিল যদি আমি বাচ্চাদের নিয়ে শীঘ্রই পালিয়ে না যাই তাহলে আমার ভাগ্যও গোভিন্দন কুট্টির মতো হবে।”

সাইনা ই-মেইল শেষ করেছেন এভাবে, “আমি উপলব্ধি করেছি কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি আমার জোরালো অবস্থান আমার সরকারি চাকরীকে প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীন করে ফেলেছিল। আমি উপলব্ধি করেছি আমরা ন্যায্য প্রশ্ন করা শুরু করলে রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদেরকে হত্যা করবে। আমি বুঝেছি, যে ব্যক্তির চিন্তা ও কর্ম রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত, বিদ্রোহ ছাড়া তার আর কোন পথ নেই। আমাকে মাওবাদী বানিয়েছে আপনার পুলিশ এবং সরকার।”

সূত্রঃ  

http://www.newindianexpress.com/states/tamil_nadu/Kerala-Police-Government-Made-Me-a-Maoist/2015/07/19/article2928272.ece


ভারতঃ মাওবাদী সাইনাকে ডাক্তারী পরীক্ষা                

Maoist Shyna

কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতারকৃত পাঁচজন মাওবাদীদের একজন সাইনাকে শুক্রবার সরকারী হাসপাতালে দাঁতের পরীক্ষা ও ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে। সেশন আদালতের  নির্দেশ অনুযায়ী এই পরীক্ষা করানো হয় ও এরপর তাকে পুনরায় হেফাজতে নেয়া হয়। ৪ মে করুণামাথামপট্টি থেকে সাইনা ও তার স্বামী রূপেশ সহ পাঁচজন মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত ৬ মে থেকে মাওবাদীদেরকে তামিলনাড়ু পুলিশের  Q Branch (Internal Security  ‘Q’ Branch CID ) এর কাছে দশ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে  সাইনার দাঁতের সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তাকে সকালে হাসপাতালে নেয়া হয়। পুলিশ জানায়, তাকে আমাশার জন্যও চিকিৎসা দেয়া হয় ও পরে হেফাজতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পুলিশ জানায়, মাওবাদী এ দম্পতি গত আড়াই বছর ধরে তিরুপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন, তারা প্রতিবেশীদের সাথে বিশেষ মেলামেশা করতেন না বলে তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ আরো জানায়, বৃহস্পতিবার রূপেশকে তাদের সেই বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন, সিডি ও মাওবাদী সাহিত্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতে হাজির করার আগে Q branch এর যে অফিসে মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার দুইটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন ব্যক্তি Q branch এর অফিসে আসে ও তাদের নেতাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে কর্তব্যরত দুইজন কনস্টেবলকে হুমকি দেয়। তারা অফিসের ছবি তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। কনস্টেবলরা তাদের মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নিয়ে রাখে ও কন্ট্রোল অফিসকে সতর্ক বার্তা পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট স্কুলেও (Police Recruitment School) নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে কারণ এখানেই বর্তমানে মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু রাজ্য পুলিশের যৌথ অপারেশনে পাঁচ মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র-   http://www.business-standard.com/article/pti-stories/dental-medical-check-up-for-woman-maoist-115050800532_1.html


ভারতঃ মাওবাদী হিসেবে অভিযুক্ত সাইনা, রুপেশ, ভীরামণি, কন্নান ও অনুপকে আদালতে হাজির করা হয়েছে

11049635_1649591178597610_2582165009342228596_n

06TV_RUPESH3_GL_06_2396411e

11159948_1649590958597632_6525823512410860199_n

11162457_1649591111930950_5994585131373088336_n

11204982_1649590141931047_241088721030950378_n

সাইনা, রুপেশ, ভীরামণি, কন্নান ও অনুপকে ভ্যাকেশন আদালতের ভারপ্রাপ্ত মহিলা আদালত জজ এম পি সুব্রামানিয়ামের কাছে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১২৪ (A) ( দেশদ্রোহীতা) ও ১২০ (B) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় ও Unlawful Activities (Prevention) Act  এর ২০ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের আইনজীবীদের একজন People’s Union of Civil Liberties (PUCL) এর তামিলনাড়ুর সাধারণ সম্পাদক এস বালামুরুগান জানিয়েছেন,  বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে  তাদেরকে হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল কোয়ে্মবাটোর পুলিশ। পুলিশের আবেদনপত্রে বিস্তারিত বর্ণনা ছিলনা উল্লেখ করে এই আবেদন নাকচ করা হয়েছে এবং তাদেরকে জুন মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আদালতে নেয়ার সময় রূপেশ গণমাধ্যমকে বলেন তাদেরকে মূলত বেশ কয়েকদিন আগে অন্ধ্র প্রদেশের ভিন্ধ্য নগর থেকে ধরে আনা হয়েছে। পুলিশ তাদেরকে আইনী সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা মঙ্গলবার পর্যন্ত অনশন করছিলেন।  রূপেশ আরো বলেন, বুধবার তাদেরকে আদালতে হাজির করা হবে এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই তারা অনশন ভঙ্গ করেন।

সূত্র- http://www.madhyamam.com/en/kerala/2015/may/5/roopesh-shyna-three-others-remanded-custody-till-june-3