আসামের মানুষ বাঙালিবিরোধী নয়, দাবি উলফার

AssamD

আসামের মানুষ বাঙালি বা বাংলাদেশের বিরোধী নয়—এমন দাবি করেছেন সংযুক্তি মুক্তি বাহিনী আসামের (উলফা) চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়ার। উলফার এই আলোচনাপন্থী নেতা আগরতলায় প্রথম আলোর কাছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও করেন।

জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা (এনআরসি) আর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাল আসামের রাজনীতি। অভিযোগ, বাঙালিবিদ্বেষ থেকেই আসামের নাগরিকেরা ৪০ লাখেরও বেশি ভারতীয়র নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে।

ত্রিপুরার সাবেক কট্টর সশস্ত্র সংগঠন অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্সের (এটিটিএফ) প্রধান সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মার ডাকে ত্রিপুরায় এসেছিলেন উলফার আলোচনাপন্থীদের নেতা অরবিন্দ। আগরতলা থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে এসরাই গ্রামে দুই নেতাই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ করেন।

উলফা চেয়ারম্যানের দাবি, ‘আমরা মোটেই বাঙালিবিদ্বেষী নই। আসামের নাগরিকেরা বরং বাঙালিদের বন্ধু বলে মনে করেন।’ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘আমাদের (আসামের নাগরিক ও বাঙালিদের) লড়াই লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছিল এই দ্বিজাতি তত্ত্ব। এখনো সেটাই অব্যাহত।’

একই সঙ্গে সম্প্রতি আসামের তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালি হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অরবিন্দ রাজখোয়ার। তিনি মনে করেন, এর পেছনে গভীর রহস্য রয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওঁরা কিসের বাঙালি! গরিব মানুষ। খেতে পান না। নিজেদের মধ্যে কথাও বলেন আসামের ভাষায়। রাজনৈতিক লাভের প্রশ্নেই প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁদের। উলফা করেনি। তাহলে করল কে? কে খুন করল তাঁদের?’ তাঁর অভিযোগ, ভারত সরকার ঘটা করে তাঁদের আলোচনার টেবিলে ডেকে আনলেও শান্তি আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে না। প্রতারণা করা হচ্ছে। কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁদের এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল ফের অশান্ত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অরবিন্দ রাজখোয়ার।

এদিকে অরবিন্দের বক্তব্যকে সমর্থন করে সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরাতেও একই ছবি। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে বলেও জানান তিনি।

অস্ত্র ছাড়লেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাবেক দুই নেতা বলেন, নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাবি আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আর অস্ত্র হাতে নয়, শান্তিপূর্ণভাবেই লড়াই করবেন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।

Advertisements

আসামে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বাড়ছে

ULFA-2

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হওয়ায় ভারতের আসাম রাজ্যে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের এভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ, প্রশাসন।

আসামের স্বাধীন গোষ্ঠীর (উলফা আই) স্বঘোষিত সর্বাধিনায়ক পরেশ বড়ুয়ার ভাইয়ের ছেলে মুন্না বড়ুয়া সম্প্রতি বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছেন।

ছেলের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন পরেশ বড়ুয়ার ভাই বিমল বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের কাছে বিমল বড়ুয়া বলেন, ‘ছেলে জেনেবুঝেই স্বজাতিকে রক্ষা করার কাজে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই।’

আসামের গণমাধ্যম উলফা আই নেতা পরেশ বড়ুয়াকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাঁর ভাইয়ের ছেলে স্বেচ্ছায় সশস্ত্র আন্দোলনে নাম লেখানোয় তিনি খুশি। আসাম জাতির জন্য এই আত্মত্যাগ তাঁকে গর্বিত করেছে বলেও নাকি পরেশ মন্তব্য করেছেন।

শুধু মুন্না বড়ুয়াই নন, রাজ্যে নতুন করে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা নিজেদের পেশা ভুলে যোগ দিচ্ছেন জঙ্গলের জীবনে। এই প্রবণতায় বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বন্ধে সব রকম তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আসামের পুলিশপ্রধান। সেই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এমনকি আসামের পুলিশপ্রধান তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, বন্দুকের নল দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে এই মত মানতে নারাজ উলফার আলোচনাপন্থী নেতা অনুপ চেটিয়া। তাঁর ভাষ্য, আসামের নাগরিকেরা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নাগরিকত্ব বিল পাস হলে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে যাবে আসাম। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতি তাই আস্থা নেই তরুণদের। এ কারণে তাঁরা হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত সরকার। এ জন্য বিল আনা হয়েছে পার্লামেন্টে। বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন।

অনুপ চেটিয়াদের মতে, বিলটি পাস হলে সমস্যায় পড়বে আসামের নাগরিকেরা। তাই তাঁরা ‘বিদেশি অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসছেন।


শান্তি আলোচনা নাকচ করে সশস্ত্র আন্দোলনে অনড় আলফা

ULFA-I

নিজের আধ্যাত্মিক বিষয়েই মগ্ন থাকুন৷ আমরা আমাদের স্বাধীনতার লড়াই জারি রাখব৷ খোলা চিঠি দিয়ে এমনই জানিয়ে দিল পরেশ বড়ুয়া নেতৃত্বাধীন আলফা (স্বাধীনতা) সংগঠন৷ অসমের জাতীয়তাবাদী এই সশস্ত্র  গোষ্ঠী আগেই ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া বাতিল করে দিয়েছে ৷ গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চিন থেকেই উত্তর পূর্ব ভারতে আক্রমণের পরিকল্পনা চালাচ্ছেন সংগঠনের কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বডুয়া৷

আলফা (স্বা.) সংগঠনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে ভূমিকা নিয়েছেন আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর৷ গুয়াহাটিতে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন৷ এরপরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে আলফা৷ যদিও সংগঠনের শান্তিপন্থী নেতা অনুপ চেতিয়া সহ অন্যান্যদের দাবি, অদূর ভবিষ্যতে কড়া অবস্থান থেকে সরে আসবেন পরেশ বড়ুয়া৷ এদিকে খোলা চিঠি দিয়ে আলফা (স্বা.) দাবি, অসমের মাটিতে তাদের স্বাধীনতার সশস্ত্র আন্দোলন জারি থাকবে৷ ভারত সরকারের কোনওরকম পুনর্বাসন পরিকল্পনায় সংগঠনের সায় নেই৷ নিজেদের রক্ষা করতেই সশস্ত্র পথ বেছে নেওয়া হয়েছে৷ এমনই জানিয়েছে আলফা৷

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/ulfai-asks-ravi-shankar-to-stick-to-his-pretentious-religion-not-make-false-promises.html