আগামীকাল ২৪শে নভেম্বর USDF এর তৃতীয় রাজ্য সম্মেলন

‘প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধ’ স্বরের চিৎকার আজ সারা পৃথিবীর ভূখণ্ড জুড়ে আছড়ে পড়ছে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে খোদ মার্কিন মুলুক, রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছিটকে আসছে প্রতিবাদ প্রতিরোধের অবিচ্ছিন্ন স্বর। সম্প্রতি চিলির জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্যের দাবিতে জঙ্গী আন্দোলন, হংকং থেকে শুরু করে ভেনিজুয়েলার প্রতিষ্ঠানবিরোধী জঙ্গী আন্দোলন, বাংলা দেশে কিছু বছর আগে VAT বিরোধী আন্দোলন, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো বিরোধী আন্দোলন, কাশ্মীরের জনগণের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন,সম্প্রতি আমাজন অরণ্যের আদিবাসীদের সশস্ত্র আন্দোলন, কর্পোরেটদের হিংসার কবলে থাকা কঙ্গো ও তার আগুন, লেবাননের আন্দোলন, ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন, ফিলিপিন্সের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন থেকে শুরু করে কাতালোনিয়া, কুর্দিস্তান, বালুচিস্তান, কাশ্মীর, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, গোর্খাল্যান্ড, কামতাপুরির মুক্তিকামী জনগণের জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা আন্দোলন, প্যালেস্টাইনের সাধারণ জনমানুষের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন কোনোটাই আমাদের রাখা খবরের বাইরে নয়। সাধারণ মানুষের উপরে প্রতিষ্ঠানের জোর-জুলুমবাজের বিরুদ্ধে বরাবর সাধারন মানুষই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে এবং এখনও করে চলেছে। খোদ আমাদের চারপাশে আমরা যদি দেখি, সংকটাপন্ন বিশ্ব পুঁজিবাদ ‘জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের’ মুখোশ ছিঁড়ে বেরিয়ে এসে যতবার মানুষের সাধারন অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে চেয়েছে, যতবার সে আঁচড় বসিয়েছে মানুষের প্রতিদিনকার রুটি-রুজির যাপনের অধিকারের উপর, যতবার সে ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের মৌলিক অধিকার, কৃষিক্ষেত্রে মেরেছে কৃষককে, কারখানার পর কারখানা বন্ধ করে ছাঁটাই করেছে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, শিক্ষাকে প্রাইভেট মুনাফাখোরদের হাতে বিক্রি করে দিয়ে পরিণত করেছে ব্যাবসাক্ষেত্রে, কেড়ে নিয়েছে মানুষের কথা বলার অধিকার; ততবার এই মাটির সাধারন মানুষেরা নেমেছে রাস্তায় রাস্তায়, প্রতিবাদে গড়ে তুলেছে প্রতিরোধের ব্যারিকেড। সে ঔপনিবেশিক শাসকের করাল গ্রাস হোক, কিংবা তথাকথিত স্বাধীনতা পরবর্তী ব্রিটিশদের দালাল এদেশের মুৎসূদ্দি মুনাফাবাজরা হোক, কিংবা তেলেঙ্গানার জমিদাররা হোক, কিংবা নকশালবাড়ির জোতদারেরা হোক, কিংবা সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড়ের জনবিরোধী জমিলুটেরারা হোক; মানুষের বিক্ষুব্ধ প্রতিরোধের হাত থেকে রেহায় পায়নি কোনও শাসকই। বর্তমানের কাশ্মীর, বাংলাদেশ, হংকং, গোর্খাল্যান্ড কিংবা খোদ কলকাতা শহরেই, রাষ্ট্রের মস্তান বাহিনী, জলকামান ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ থামাতে পারছেনা।

আজকে সারা দেশজুড়ে চলমান ফ্যাসিবাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন মানুষের যাপনের প্রতিটি উপাদানের উপর নেমেছে আক্রমণ, রক্তাক্ত হয়েছে মানুষের অর্থনীতি,সংস্কৃতি; ঠিক তেমনি ‘অত্যাচার থাকলে প্রতিরোধও থাকে’ এই সুরে তাল মিলিয়ে ইতিহাসের গতিও আবার এক ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজয়ের লক্ষ্যে তার নিজস্ব দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এই পথ সুগম নয়। তাই আমাদের সমাজের মূল দ্বন্দ্ব শ্রেণীদ্বন্দ্ব- এই মার্ক্সবাদী শিক্ষাকে উর্দ্ধে তুলে ধরে শ্রেণীসংগ্রামের মাধ্যমে সমাজ বদলের মৌলিক প্রশ্নকে সামনে রেখেই সমস্ত ফ্যাসিস্ট শক্তির সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অন্যদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে নিও এডুকেশন পলিসি, সিবিসিএস এর মতন ছাত্রছাত্রী বিরোধী পরিকাঠামো লাগু করে শিক্ষাকে পুরোপুরি ব্যাবসার ক্ষেত্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র আগামী দিনের ছাত্রছাত্রী আন্দোলনের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ।

সারা দেশজুড়ে ফ্যাসিস্ট আগ্রাসন, অর্থনৈতিক কাঠামোর অসম্ভব নিষ্ফলতা, শিক্ষা থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান,রেল,ব্যাঙ্ক প্রাইভেট মুনাফাখোরদের হাতে তুলে দেওয়া, গত চার বছরের ৯৬ লক্ষ বেকারত্ব বৃদ্ধি, উগ্র হিন্দু, ব্রাহ্মণ্যবাদী, পিতৃতান্ত্রিক আগ্রাসনের দ্বারা সংখ্যালঘু,দলিত,নারী নির্যাতনের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, NRC এর নামে কোটি কোটি মানুষের থেকে নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিয়ে তাদের সস্তার শ্রমিক তৈরী করার মাধ্যমে নতুন ক্রীতদাস ব্যাবস্থা লঞ্চ করার যোগাড়যন্তর, মানুষের কথা বলার,বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের উপর আক্রমণ।
এমনই এক অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের সংগঠনের রাজ্য সম্মেলন আয়োজন করছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতে আরও জোরদার ছাত্রছাত্রী আন্দোলনের প্রস্তুতি, আহবান ও অঙ্গীকার একইসাথে রেখে সকল প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রছাত্রীশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে USDF এর পক্ষ থেকে আমরা আগামী ২৪শে নভেম্বর, ২০১৯(রবিবার) কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ হলে রাজ্য সম্মেলনের আয়োজন করছি। সকল গণতান্ত্রিক, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে আমরা আমাদের রাজ্য সম্মেলনে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন সাথী, ‘আগামীর দ্রোহকাল আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধারণ করি।’


কলকাতাঃ ২য় সেপ্টেম্বর ধর্মঘট ; USDF এর অবস্থান

USDF2-800x445

জনৈক সাংবাদিক বলেছেন “কংগ্রেস + গরু = বিজেপি”। আবার জনৈক গন সঙ্গীত শিল্পী গেয়েছেন “মনমোহনী আজব দাওয়াই বুদ্ধ-জ্যোতির দোকানে পাই গো / শুধু লাল বুলি আর লাল কাগজে মোড়/ এদের বাইরে যত গালাগালি/ তলায় ততো ঢলা ঢলি গো/ এরা একই আত্মা একই মন আর প্রান/ উন্নয়নের ভাঙ্গা কাঁসরখান”

ভারতের শাসক শ্রেণির রাজনৈতিক দল গুলো তাদের আত্মা শোপেছে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির কাছে। আজাদহিন্দ ফৌজ গেয়েছিল “ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কউম কি”। আর আমাদের মন্ত্রী মশাইরা গায় “ ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কর্পোরেট কি”। এদের রাজনৈতিক মতাদর্শ “নয়া- উদারনীতিবাদ”। মনমোহন, মোদী, বুদ্ধ বা মমতা সবাই উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের সমস্যা দূর করতে বড় বড় পুঁজিপতিদের বিনিয়োগ কে একমাত্র সমাধান মনে করেন। ছাত্রছাত্রী ও বেকারদের কর্মসংস্থানের লাড্ডু দেখিয়ে কৃষক, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে জল্লাদ নামিয়ে তাদের “ভিটে মাটি চাটি” করার সরকারী প্রকল্পের পক্ষে আনবার চেষ্টা করে। অথচ মালিক যখন শ্রমিকদের পাওনা লোপাট করে কারখানা বন্ধ করে দেয় তখন সরকার ঠুঁটো জগন্নাথ! অন্যদিকে বন্ধ কারখানা চালু করা বা বন্ধ কারখানার জমিতে নতুন কারখানা খুলে ছাঁটাই শ্রমিক বা বেকার দের কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা না করে একের পর এক আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে বন্ধ কারখানার জমিতে।

শিক্ষার শেষে কাজ পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা আধুনিক জনকল্যানকামী রাষ্ট্রের কর্তব্য। কাজ দিতে না পারলে রাষ্ট্র বেকার ভাতা বা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে, যেমনটা ইউরোপ,আমেরিকার রাষ্ট্র গুলো করে থাকে। আমাদের দেশে বিপ্লবী ছাত্র ছাত্রী আন্দোলন শুধু শিক্ষার শেষে কাজের দাবি নয় আত্মমর্যাদার সাথে কাজের দাবি করে। আমাদের দেশের বিভিন্ন সরকার গুলো যে নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রদ্রোহিতা সহ একাধিক জনবিরোধী আইন গুলো প্রয়োগ করে, শ্রমিক সুরক্ষার আইন, পরিবেশ আইন, গুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার এক শতাংশও জিজ্ঞাসা চিহ্নতে ঝুলতে থাকে। তার উপরে দেশের সেই দুর্বল শ্রমিক সুরক্ষার আইনটাও বিলোপ করতে চলেছেন মোদী সরকার। শুধু তাই নয় দেশের অর্থনীতি হাট করে খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের জন্য, যার ফলে স্বাস্থ্য,শিক্ষা, পরিবহন সহ সব কিছুকে পুর পুরি তুলে দেওয়া হবে মুনাফাখোর দের হাতে। সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্ন আয়ের মানুষ বঞ্চিত হবে আবশ্যিক পরিষেবাগুলো থেকে। জনগনের আর্থিক সুরক্ষা তুলে দেওয়া হবে শেয়ার মার্কেটের জুয়া খেলার উপর।

পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের ধারাবাহিকতা মেনে এই জনবিরোধী নীতিগুলো বর্তমান বিজেপি সরকার লাগু করছে, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা বা সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিপতিদের নির্দেশে। এর ফলে দেশের সস্তা প্রাকৃতিক ও শ্রম সম্পদ কে আরও সস্তায় নিংড়ে নেবে বড় বড় পুঁজিপতিরা। বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে যেরকম খুশি শর্তে যেরকম খুশি পরিবেশে কাজ করতে এমনিতেই ভারতে শ্রমিক কর্মচারিরা বাধ্য হন, শ্রম আইন সংশোধন করে, সরকারী ক্ষেত্রে চাকরি সংকোচন করে ভারতের বেকারদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দাসত্বের দিকে।

কেন্দ্রের জন বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ১২ দফা দাবী জানিয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর শ্রমিক সংগঠন গুলো সারা ভারত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। যদিও যারা এই ধর্মঘট ডেকেছে তাদের মধ্যে অনেকেই এই সব জন বিরোধী নীতিগুলোর অংশীদার। কিন্তু এই বার দফা দাবী ভারতের শ্রমজীবী জনতার সমস্যাকেই প্রতিফলিত করে। বিশেষত সরকারী চাকরি সঙ্কোচন, শ্রমিক সুরক্ষা আইন সংশোধন, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের বিরোধিতা ও বন্ধ কারখানা খোলার দাবী গুলো শিক্ষার শেষে আত্মমর্যাদার সাথে কাজের অধিকারের দাবিকে এবং বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO)র কাছে আত্মসমর্পণ না করার দাবিকে শক্তিশালি করে। তাই আমাদের আবেদন আগামী ২ সেপ্টেম্বর স্কুল, কলেজ,ইউনিভার্সিটি গুলোতে ধর্মঘট পালন করো।

সূত্রঃ http://toanewdawn.blogspot.nl/2016/08/protest-dilution-of-labor-lawsobserve.html


এন্ট্রান্স পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা ব্যবসায়ীদের স্বার্থবাহী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে USDF এর বিবৃতি

13051499_1049025341831499_8396734736245131935_n

সারা দেশে একক মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষাঃ শিক্ষা ব্যবসায়ীদের স্বার্থবাহী এই পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে-

দু’বছর ধরে মামলা চলার পর অবশেষে সারা দেশে একক মেডিকেল এন্ট্রান্স পরিক্ষার পক্ষে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।  অর্থাৎ এই বছর থেকে আর রাজ্য ভিত্তিক পরীক্ষা দিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না ছাত্রছাত্রীরা।  এতদিন অব্দি রাজ্যভিত্তিক মেডিকেল জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা থাকার ফলে রাজ্যের এক বড়ো সংখ্যক ছাত্রছাত্রী মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হও য়ার কিছুটা হলেও সুযোগ পেত।  কিন্তু বর্তমানে প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় মূলত CBSE বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র হওয়ার ফলে বিভিন্ন রাজ্য বোর্ডের শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়বে, এবং বাধ্য হবে আকাশ-বাতাস-পাথফাইন্ডার প্রভৃতি শিক্ষা ব্যবসায়ী সংস্থা গুলির দারস্থ হতে; যেখানে হাজার হাজার টাকায় শিক্ষার বেচা কেনা চলে।  সুতরাং এক বড়ো অংশের ছাত্রছাত্রী, যারা মূলত শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসে তাদের সামনে মেডিকেল পড়ার কোন সুযোগই আর অবশিষ্ট থাকছে না, এবং মেডিকেল ক্ষেত্রে একচেটিয়া ভাবে উচ্চবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের এই অগণতান্ত্রিক রায় শুধু যে এক বড়ো অংশের ছাত্রছাত্রীদের মেডিকেল পড়া থেকে বঞ্চিত করবে তাই নয়, এই রায় আরও বেশি পরিমানে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসায় মদত দেবে, শিক্ষার বেসরকারিকরনের নীতিকে আরও পুষ্ট করবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী।
আমরা, ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট, সুপ্রিম কোর্টের এই অগনতান্ত্রিক রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছি, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এই রায় অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পুনরায় রাজ্যভিত্তিক মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষা চালু করার দাবী জানাচ্ছি।

সৌম্য মণ্ডল
সাধারণ সম্পাদক
ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট
তারিখ: 10/05/2016


Non Net Fellowship বাতিল – শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছাঁটাই : কর্পোরেট পুঁজির প্রবেশ ও বৌদ্ধিক পশ্চাদপদতার প্রকল্প

a

কিছুদিন আগে UGC চেয়ারম্যান ঘোষনা করেছেন NON NET দের ক্ষেত্রে গবেষনার কাজে বরাদ্দ স্কলারশিপ আর দেওয়া হবে না আর। অর্থাৎ গবেষনার কাজে স্কলারশিপ পেতে হলে NET থাকা জরুরি। এতদিন NON NET M.PHIL গবেষকদের মাসে ৫০০০ টাকা এবং P.HD দের ক্ষেত্রে মাসে ৮০০০ টাকা দেওায়া হত;যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। সেটিও আবার ছাঁটাই হচ্ছে।
এমনিতে ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ হয়েছে ৬৯,০৭৪ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ৩%।কিন্তু মাস দুয়েক আগে সেই বরাদ্দ থেকে ছাঁটাই হয়েছে আবার তিন হাজার কোটি টাকার মত।এই অর্থ মূলত বরাদ্দ করা হয়েছিল IIT, NIT র পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এবং আরও ৭টি IIT গড়ে তোলার জন্য। এই ছাঁটাই এর ফলে NIT তে ফী বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩০০% এর মত। অন্যদিকে এই কর্পোরেট প্রেমী মোদী UGC র বরাদ্দ কমিয়েছে ৩২% এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ন গবেষনা সংস্থা ‘ ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন এন্ড রির্সাচ’(CSIR) এর বরাদ্দ কমিয়েছে ২৫%।সার্বিকভাবে এ বছর শিক্ষাখাতে প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকার মত ছাঁটাই করা হয়েছে আগের বছরের বাজেটের তুলনায়।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছাঁটাই এবং কর্পোরেট পুঁজির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করার প্রবনতা নতুন কিছু নিয়। সেই বৃটিশ আমল থেকেই এর চলন। আসলে ঔপনিবেশিক শক্তি যেমন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির উপর কব্জা করতে চাই তেমনি জ্ঞানভান্ডারও নিজের মুষ্টিবদ্ধ করে রাখতে চায়।

11012053_905329912893032_1587487116223284801_n
বৃটিশ সাম্রাজ্য ভারতে সায়েন্স অ্যান্ড রির্সাচ ছিল খুবই সীমাবদ্ধ; উপনিবেশ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকুই চালানো হত। স্বাধীন ভারতে এসে সেই চিত্র খুব একটা বদলায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে বড় বড় কতগুলি গবেষনা কেন্দ্র খোলা হলেও তা কর্পোরেট পুঁজির দাসত্ব করেগেছে। ১৯৬৪ সালে কোঠারী কমিশন সুপারিশ করেছিল, শিক্ষাকে লাভজনক ক্ষেত্র হিসাবে দেখা উচিতনা। পরবর্তী বি জি খের কমিশনের বক্তব্য ছিল GDP এর ১০% শিক্ষাখাতে খরচ করা হোক। কিন্তু সমস্ত কিছুকে ডাস্টবিনে ফেলে বেসরকারিকরণের গতি বেড়েছে বহুগুন। A.R RAJESWARI -র ‘RESEARCH AND DEVLOPMENT EXPENDITURE- DATA COLLECTION AND RELEVENT ISSUES’ প্রবন্ধে দেখা যাচ্ছে ১৯৭৬-৮৮ সালের মধ্যে বেসরকারি বরাদ্দ বেড়েছে ৪৮.৪২% থেকে ৩৬৩.৭৯ কোটি টাকা। বিষয়টি বেশ পরিষ্কার।
এবার বর্তমান দশকের কথায় আসা যাক; রির্সাচ এন্ড ডেভলপমেন্ট খাতে ভারতে খরচ করা হয় বাজেটের .9% । অনান্য দেশের মধ্যে রাশিয়া করে ১.১২%, ব্রাজিল- ১.২৫% এবং চিনের ক্ষেত্রে ১.৮৪%। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী যা অন্তত ২% হওয়া দরকার মোট GDP –র।(nature.com) এই বিশাল ঘাটতি ঢাকার জন্য 12th Five year planning এর সময়সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছিল রির্সাচ এন্ড ডেভলপমেণ্ট খাতে সরকার ১% ব্যয় করবে এবং Private Investment হবে ১%।
এছাড়াও UGC চেয়ারম্যানের NON NET স্কলারশিপ বন্ধের পিছনে যে ‘মেধা’র যুক্তি দিচ্ছেন; NET না পাশ করলে স্কলারশিপ মিলবে না। সেটি আদতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রছাত্রীকে গবেষনা ক্ষেত্র থেকে দূরে রাখার এবং জ্ঞানকে পুঁজির কুক্ষিগত করে রাখার প্রচেষ্টা তা প্রমাণ হয় RICHARDA VAN NOORDEN এর সমীক্ষা থেকে; যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতি ১০০০০ জন জীবিকানির্বাহীর মধ্যে ভারতে ৪ জন গবেষণা ক্ষেত্রে আসেন যা রাশিয়া বা আমেরিকার ক্ষেত্রে ৫৮ ও ৭৯ জন।
অন্যদিকে ভারতে গবেষনার আউটপুটের দিকে নজর দিলে সরকারের সব ঢাক ফেঁসে যায়; ২০১৩ সালে সাউথ কোরিয়া পেটেন্ট ফাইল করেছে ৪৪০০ টি, আমেরিকা ৯১০,চীন ৫৪১ টি ভারতের সংখ্যা সেখানে ১৭। কাছাকাছি থাকা দেশ বলতে অর্থনৈতিকভাবে জর্জরিত ব্রাজিল, যদিও তাদের পেটেন্ট সংখ্যা ভারতের দ্বিগুণ- ৩৪টি।

প্রতিবছর ভারতে ‘নেট’ নামক গবেষনার জন্য বাছাই করার পরীক্ষা হয় বছরে দু’বার। এই পরীক্ষার ব্যাপারটা অনেকটা হাতি-গরু-ঘোড়া-বাঘকে বট গাছে চড়ে যোগ্যতা প্রমান করতে বলার মত। বছরের পর বছর গবেষনাকে সঙ্কুচিত করে এক জায়গাতে রাখতে এই পরীক্ষাটি সফল। সুতরাং, ‘নেট’ পাশ করলে তবে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে- এই বক্তব্য রেখে, মেধার নাম করে শিক্ষার অধিকার হরণ করা ছাড়া আর কিছুনা। এই ভাঁওতাবাজির বাইরে চোখ ঘোরালে দেখি; ভারতের অন্যতম গবেষণা কেন্দ্র CSIR এর ৩৫টি গবেষনাগারের মধ্যে ২৫টি তে ফুলটাইম ডিরেক্টার আছে। দিল্লীর CSIR হেডকোয়ার্টাসেও ফুল টাইম ডিরেক্টার নেই।এমনকি গবেষনার জন্য গবেষক ছাত্রছাত্রীরা নূন্যতম সুযোগসুবিধাও পাইনা।গবেষনার সুবিধার জন্য বিদেশ ভ্রমনে যেতে চাইলে বা কোনো সেমিনারে যোগ দিতে চাইলে কোনো প্রকার সরকারি সুবিধা তারা পাইনা। আসলে পরিকাঠামো-অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে গবেষণা ক্ষেত্রকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি পর্দা এই NET নামক ধাপ্পাবাজি এবং UGC এর নতুন নিয়ম। মেধা নিয়ে প্রচুর কচকচানি আবার ফাঁপা হয়ে পড়ে এবং আসল চেহারা সামনে এসে পড়ে যখন দেখা যায় ৫ বছরের Doctorates program শেষে Post doc. করার সময় প্রায় ৮২% ‘BRAIN DRAIN’ হয় বিদেশে।
সামনের ডিসেম্বরে নাইবেরিয়াতে World Trade Org(WTO) এর সম্মেলন। দালাল মোদির প্রভুরা বসে থাকবেন উপহারের আশায়। ভক্ত মোদীও উপহার তৈরি করে ফেলেছেন অনেকগুলি- কৃষক শ্রামিক বিরোধী আইন, গেরুয়াকরণ এবং সর্বপরি NON NET FELLOWSHIP বন্ধ করে গবেষনা ক্ষেত্রেকে সঙ্কুচিত করা কর্পোরেটের দাপট বৃদ্ধির রাস্তা প্রশস্ত করা। আর আমাদের সামনের দিন জোর লড়াই।এই লড়াইটা সবার, কারণ শিক্ষা বাজারে কেনাবেচার জিনিস না আমাদের অধিকার । এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার মানুষের হাজার হাজার বছরের শ্রমের দান।বিশ্বের শিক্ষাক্ষেত্র জুড়ে কর্পোরেট হাঙরদের দাপট চূর্ণ করে এগিয়ে চলা চিলির এবং আফ্রিকার  ছাত্র আন্দোলনই দিশা দেখাচ্ছে আমাদের। বিশ্বজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসাবে- কর্পোরেট প্রভুদের ‘আচ্ছে দিন’ রুখে দিয়ে, দেশের মেহনতি জনগনের ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘আচ্ছে দিন’ নিয়ে আসার লড়াই চলছে।

লেখকঃ শুভ দীপ (United Student’s Democratic Front-USDF এর কমরেড)