আগামীকাল ২৪শে নভেম্বর USDF এর তৃতীয় রাজ্য সম্মেলন

‘প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধ’ স্বরের চিৎকার আজ সারা পৃথিবীর ভূখণ্ড জুড়ে আছড়ে পড়ছে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে খোদ মার্কিন মুলুক, রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছিটকে আসছে প্রতিবাদ প্রতিরোধের অবিচ্ছিন্ন স্বর। সম্প্রতি চিলির জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্যের দাবিতে জঙ্গী আন্দোলন, হংকং থেকে শুরু করে ভেনিজুয়েলার প্রতিষ্ঠানবিরোধী জঙ্গী আন্দোলন, বাংলা দেশে কিছু বছর আগে VAT বিরোধী আন্দোলন, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো বিরোধী আন্দোলন, কাশ্মীরের জনগণের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন,সম্প্রতি আমাজন অরণ্যের আদিবাসীদের সশস্ত্র আন্দোলন, কর্পোরেটদের হিংসার কবলে থাকা কঙ্গো ও তার আগুন, লেবাননের আন্দোলন, ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন, ফিলিপিন্সের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন থেকে শুরু করে কাতালোনিয়া, কুর্দিস্তান, বালুচিস্তান, কাশ্মীর, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, গোর্খাল্যান্ড, কামতাপুরির মুক্তিকামী জনগণের জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতা আন্দোলন, প্যালেস্টাইনের সাধারণ জনমানুষের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন কোনোটাই আমাদের রাখা খবরের বাইরে নয়। সাধারণ মানুষের উপরে প্রতিষ্ঠানের জোর-জুলুমবাজের বিরুদ্ধে বরাবর সাধারন মানুষই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে এবং এখনও করে চলেছে। খোদ আমাদের চারপাশে আমরা যদি দেখি, সংকটাপন্ন বিশ্ব পুঁজিবাদ ‘জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের’ মুখোশ ছিঁড়ে বেরিয়ে এসে যতবার মানুষের সাধারন অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে চেয়েছে, যতবার সে আঁচড় বসিয়েছে মানুষের প্রতিদিনকার রুটি-রুজির যাপনের অধিকারের উপর, যতবার সে ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের মৌলিক অধিকার, কৃষিক্ষেত্রে মেরেছে কৃষককে, কারখানার পর কারখানা বন্ধ করে ছাঁটাই করেছে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, শিক্ষাকে প্রাইভেট মুনাফাখোরদের হাতে বিক্রি করে দিয়ে পরিণত করেছে ব্যাবসাক্ষেত্রে, কেড়ে নিয়েছে মানুষের কথা বলার অধিকার; ততবার এই মাটির সাধারন মানুষেরা নেমেছে রাস্তায় রাস্তায়, প্রতিবাদে গড়ে তুলেছে প্রতিরোধের ব্যারিকেড। সে ঔপনিবেশিক শাসকের করাল গ্রাস হোক, কিংবা তথাকথিত স্বাধীনতা পরবর্তী ব্রিটিশদের দালাল এদেশের মুৎসূদ্দি মুনাফাবাজরা হোক, কিংবা তেলেঙ্গানার জমিদাররা হোক, কিংবা নকশালবাড়ির জোতদারেরা হোক, কিংবা সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম লালগড়ের জনবিরোধী জমিলুটেরারা হোক; মানুষের বিক্ষুব্ধ প্রতিরোধের হাত থেকে রেহায় পায়নি কোনও শাসকই। বর্তমানের কাশ্মীর, বাংলাদেশ, হংকং, গোর্খাল্যান্ড কিংবা খোদ কলকাতা শহরেই, রাষ্ট্রের মস্তান বাহিনী, জলকামান ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ থামাতে পারছেনা।

আজকে সারা দেশজুড়ে চলমান ফ্যাসিবাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন মানুষের যাপনের প্রতিটি উপাদানের উপর নেমেছে আক্রমণ, রক্তাক্ত হয়েছে মানুষের অর্থনীতি,সংস্কৃতি; ঠিক তেমনি ‘অত্যাচার থাকলে প্রতিরোধও থাকে’ এই সুরে তাল মিলিয়ে ইতিহাসের গতিও আবার এক ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজয়ের লক্ষ্যে তার নিজস্ব দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এই পথ সুগম নয়। তাই আমাদের সমাজের মূল দ্বন্দ্ব শ্রেণীদ্বন্দ্ব- এই মার্ক্সবাদী শিক্ষাকে উর্দ্ধে তুলে ধরে শ্রেণীসংগ্রামের মাধ্যমে সমাজ বদলের মৌলিক প্রশ্নকে সামনে রেখেই সমস্ত ফ্যাসিস্ট শক্তির সামনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অন্যদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে নিও এডুকেশন পলিসি, সিবিসিএস এর মতন ছাত্রছাত্রী বিরোধী পরিকাঠামো লাগু করে শিক্ষাকে পুরোপুরি ব্যাবসার ক্ষেত্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র আগামী দিনের ছাত্রছাত্রী আন্দোলনের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ।

সারা দেশজুড়ে ফ্যাসিস্ট আগ্রাসন, অর্থনৈতিক কাঠামোর অসম্ভব নিষ্ফলতা, শিক্ষা থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান,রেল,ব্যাঙ্ক প্রাইভেট মুনাফাখোরদের হাতে তুলে দেওয়া, গত চার বছরের ৯৬ লক্ষ বেকারত্ব বৃদ্ধি, উগ্র হিন্দু, ব্রাহ্মণ্যবাদী, পিতৃতান্ত্রিক আগ্রাসনের দ্বারা সংখ্যালঘু,দলিত,নারী নির্যাতনের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, NRC এর নামে কোটি কোটি মানুষের থেকে নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিয়ে তাদের সস্তার শ্রমিক তৈরী করার মাধ্যমে নতুন ক্রীতদাস ব্যাবস্থা লঞ্চ করার যোগাড়যন্তর, মানুষের কথা বলার,বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের উপর আক্রমণ।
এমনই এক অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের সংগঠনের রাজ্য সম্মেলন আয়োজন করছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতে আরও জোরদার ছাত্রছাত্রী আন্দোলনের প্রস্তুতি, আহবান ও অঙ্গীকার একইসাথে রেখে সকল প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রছাত্রীশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে USDF এর পক্ষ থেকে আমরা আগামী ২৪শে নভেম্বর, ২০১৯(রবিবার) কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ হলে রাজ্য সম্মেলনের আয়োজন করছি। সকল গণতান্ত্রিক, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে আমরা আমাদের রাজ্য সম্মেলনে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন সাথী, ‘আগামীর দ্রোহকাল আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধারণ করি।’


সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের গুজব সম্পর্কে USDF-র বিবৃতি

গত ১.৪.২০০১৭ তারিখ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে হিন্দুত্ব-ফ্যাসিবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দুত্ববাদীদের তরফ থেকে মিথ্যে গুজব প্রচার করা হয় যে বামপন্থী ছাত্ররা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু প্রতিনিধিদের শারীরিক আক্রমণ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমরা জানাতে চাই যে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আক্রান্ত এমন একজন বাংলাদেশী কেও কি দেখাতে পারবে আরএসএস? আমাদের বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই, বরং আমরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। যেমন আমরা উদ্বিগ্ন ভারতের সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান, মুসলমান, বৌদ্ধ, শিখদের নিয়ে বা মায়ানমারের রোহিঙ্গা বা শ্রীলংকার তামিলদের নিয়ে। গত এক তারিখ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সেমিনারে বক্তব্য রাখতে আসেন পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস-এর কয়েকজন কুখ্যাত দাঙ্গাবাজ নেতা। সেই সেমিনার এর বাইরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএসডিএফ কর্মী কমরেড দেবপ্রিয় ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিধনকারী আরএসএস নেতাদের বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা নিয়ে কুমিরের কান্না কাঁদার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোষ্টার লাগায়। আরএসএস এর কর্মীরা সেই পোষ্টার ছিড়ে দেয়। দেবপ্রিয় এর প্রতিবাদ করলে কম বেশী ৩০ জনের একটি দল দেবপ্রিয়কে মাটিতে ফেলে লাথি মারতে শুরু করে। দেবপ্রিয় কে বাঁচাতে অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীরা ছুটে আসলে সেই সময় একজন আইসা কর্মী ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়। দেবপ্রিয় সহ গুরুতর আহত হয় আরো কয়েকজন। এর পর ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের দেখে পালাতে বাধ্য হয় আরএসএস বাহিনী। কখনই বাংলাদেশের কোনো সংখ্যা লঘু প্রতিনিধির উপর আক্রমণ করা’ হয়নি। দক্ষিণ এশিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্নদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট ধর্মের সাম্প্রদায়িকতা প্রধান বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। আর তার বিরুদ্ধেই রাখতে হয় প্রতিবাদের বর্শা মুখ। যেমন মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন যজ্ঞের জন্য ভারতে বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িকতা বা গুজরাত গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাকে প্রধান শত্রু ঠাউরে গলা ফাটাবার কোনো মানে হয়না। মায়ানমারের ক্ষেত্রে বৌদ্ধ, ভারতের ক্ষেত্রে হিন্দু আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মুসলমান সাম্প্রদায়িকতাই প্রধান সমস্যা। তাই বিভিন্ন দেশের বামপন্থী প্রগতিশীল মানুষদের দেখা যায় যে তারা নিজের দেশের সংখ্যালঘু মানুষের পক্ষে আর সংখ্যা গুরুর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। অন্য দিকে সেই সব দেশের সাম্প্রদায়িকরা বামপন্থী প্রগতিশীল মানুষদের ঐ দেশের সংখ্যালঘুর প্রতি পক্ষপাত দুষ্ট বলে অভিযোগ করে। বাস্তবিকই অসম সমাজে নিরপেক্ষতা এক প্রকার ভন্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।ভারতে এবং বাংলাদেশের হিন্দু ও মুসলমান সাম্প্রদায়িকরা প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু নিপীড়ন কে অজুহাত করে নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বাতাবরন তৈরি করে জনগণ মুলত শ্রমজীবী জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। আদতে দুই দেশের দুই ধর্মের সাম্প্রদায়িক শক্তি একে অন্যকে “বৈধতা” প্রতিষ্ঠাতে সাহায্য করে। এবং আমরা জানি এরা সাম্রাজ্যবাদীদের চামচা ছাড়া কিছুই নয়। তাই সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধান করতে হলে এই সব ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের বিচ্ছিন্ন করা একান্ত জরুরি কর্তব্য।

সৌম্য মণ্ডল,
সাধারণ সম্পাদক,
ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য কমিটি


বিশ্বভারতীতে(শান্তিনিকেতন) আক্রান্ত নকশালপন্থী ছাত্ররা

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই নকশালপন্থী একদল ছাত্র ছাত্রীকে মারধোর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ শনিবার ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকে তৃণমূলিরা আক্রমণ করে একদল ছাত্রকে, এইসব ছাত্র ছত্রীরা রাজ্যের সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিষয় যেমন ভাঙড়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ভাবাদিঘি নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসের ভেতরে পোষ্টার লাগিয়েছিল। আক্রমণের ফলে আহত হয়ে বেশ কয়েকজন ছাত্র হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছে। আয়সা, পিডিএসএফ প্রমুখ ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে বিশ্বভারতী চত্ত্বরের ভেতর যেভাবে নারী পুরুষ নির্বিশেষে তৃণমূলিদের আক্রমনের শিকার হচ্ছে তাতে এ রাজ্যের শিক্ষাভূমির সুনাম হারিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলিও ক্রমশ গুন্ডাদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে শুরু করেছে। আগামী মঙ্গলবার এর প্রতিবাদে সকল ছাত্র সমাজকে প্রতিবাদী মিছিলে হাঁটার আহ্বান করেছে aisa, pdsf, usdf সহ একাধিক নকশালপন্থী ছাত্র সংগঠন।

সূত্রঃ satdin.in


কলকাতাঃ অধ্যাপক সাইবাবাসহ অন্যান্যদের মুক্তির দাবীতে ছাত্রদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গতকাল শুক্রবার ১০/০৩/২০১৭তারিখে কলকাতায় তিন বাম ছাত্র সংগঠন USDF, AISA ও PDSF এর ডাকে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি এন সাইবাবা, জে এন ইউ’র ছাত্র হেম মিশ্র, সাংবাদিক ও মানবধিকার কর্মী প্রশান্ত রাহি এবং দুজন আদিবাসী কৃষক মহেশ তিরকি ও পান্ডু নাড়টের ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী)’র সাথে সংযুক্ত থাকার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র বিরোধী UAPA আইন বাতিল করার দাবিতে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

এ ছাড়াও মিছিলে কারখানার ম্যানেজার খতমে অভিযুক্ত মারুতি শ্রমিকদের সাজার বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে।

এসময় বিক্ষোভকারীরা বিকেল ৪টে নাগাদ কলেজ স্ট্রীট মোড় অবরোধ করে।

বিক্ষোভকারিরা- দেশের জল জঙ্গল জমি বিদেশী লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়া, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শ্রমিক কৃষক বিরোধী কার্যকলাপ এবং ভাঙ্গর সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরোধী মত দমনে UAPA আইন প্রয়োগ করার তীব্র সমালোচনা করেন।


কলকাতাঃ নকশালপন্থীদের দ্বন্দ্ব – রাজনৈতিক বিতর্কের আহবান জানিয়ে USDF এর বিবৃতি

12

সমাজ বিপ্লবের লড়াই কখনো লিঙ্গবৈষম্য এবং জাতপাত বিরোধী লড়াইকে বাদ দিয়ে হতে পারে না। সমাজ বিপ্লব ছাড়া লিঙ্গ ও জাতপাত বৈষম্য বিলোপের বাস্তব ভিত্তি তৈরি হতে পারে না। আর এই লড়াই করতে গিয়ে, বিতর্ক, সমালোচনার মধ্যে দিয়ে আমরা শিখি। প্রথমেই আমরা অভিনন্দন জানাতে চাই সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী, গণতান্ত্রিক ব্যক্তিবর্গকে যাঁরা সুশীল মান্ডি নিখোঁজ হওয়ার পর পপুলিস্ট মিসোজিনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন। অভিনন্দন জানাই যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ইউএসডিএফ কর্মীদের যারা পাবলিক ট্রায়াল এবং abduction , st-sc atrocity act সহ একাধিক ধারায় fir হওয়ার পরেও কোন রকম আপোষে না গিয়ে অভিযোগকারিণীর পক্ষে অবস্থানে অবিচল ছিল। অভিনন্দন জানাই অভি্যোগকারিণী অম্বুজা রাজকে, এই পরিস্থিতিতে যার দৃঢ় অবস্থান আগামীদিনে অন্য মেয়েদের সাহস যোগাবে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে কোনো মেয়ের পক্ষে এই ধরণের অভিযোগকে সামনে আনা সব সময়েই কঠিন, তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় ভয় দেখিয়ে বা মাথায় হাত বুলিয়ে। পিতৃতান্ত্রিক মানস কখনই চায় না যে যৌন হেনস্থা, যা কিনা কার্যত পুরুষের দশ হাজার বছরের স্বাভাবিক বিশেষ অধিকার হিসেবে চলে আসছে, তার বিরুদ্ধে নারী সোচ্চার হোক। এইবারেও দেখা গেল যে অভি্যোগকারিণী এবং তার সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলায় FIR করা হল। একদিকে অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে তাদের তরফে কোন অভিযোগ নেই এমন দাবি করা, অন্য দিকে অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধেই FIR করা, অথবা ক্ষমা চাইতে রাজি হওয়ার সাথে সাথে অভিযোগকারিণী এবং তার সমর্থনকারীর বিরুদ্ধে কুৎসা ভিক্টিম ব্লেমিং , নেম সেমিং করে র‍্যাডিকালরা যে দ্বিচারিতার পরিচয় দিয়েছে আমরা তার নিন্দা করি। একটা কথা আমরা আবারও বলতে চাই যে নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে কোনো আভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়নি এমনটা একেবারেই নয়, র‍্যডিকাল এবং ইউএসডিএফ থেকে একজন করে সদস্যা এই তদন্তের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগকারিণী, অভিযুক্ত এবং সাক্ষীদের সাথে বিস্তারিতভাবে আলোচনা চালান। র‍্যাডিকালের তরফে প্রথম দিন থেকেই ক্রমাগত ভিক্টিম ব্লেমিং এবং আইসিসির ১০০% ব্যর্থতার ফলে আমাদের কমরেডরা অধৈর্য হয়ে তাড়াহুড়োবাদের খপ্পরে পড়ে পদ্ধতিগত কিছু ভুল করেছে। এই বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আমরা চাই যে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে আনার পদ্ধতি নিয়ে গণ বিতর্ক হোক, গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলো তাদের মতামত জানাক। যা পরবর্তীকালে আন্দোলনের তাত্ত্বিক বোঝাপড়াকে সমৃদ্ধ করবে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে কার্যকরী GSCASH কেন একান্ত প্রয়োজন। আমরা মনে করিনা যে আদিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রসূত কোন চক্রান্ত করেছে আমাদের কমরেডরা যেমনটা দেখানোর চেষ্টা চলছে। বরং যে ছাত্র ছাত্রী সংগঠন গুলো ধারাবাহিক ভাবে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এবং আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে আমরা তাদের মধ্যে একটি। শ্রেণীগত বা জাতি-বর্ণগত পরিচয় যদি যৌন হেনস্থার অভিযোগ থেকে বাঁচতে ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা আন্দোলনের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। সংকীর্ণ স্বার্থে শ্রেণীগত বা জাতি-বর্ণগত পরিচয়কে লড়িয়ে দেওয়াকে আমরা তীব্র বিরোধিতা করি। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নারী অধিকারের প্রশ্নে আপোষ না করেই নকশালবাড়ির ধারায় শ্রেণীসংগ্রাম বিকশিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে তা ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে বলেই আশা করা যায়। আমরা মনে করি “খারাপ মানুষ”-রাই মলেস্ট করে ব্যাপারটা এরকম নয়। বৈষম্যমূলক সমাজে পিতৃতন্ত্র থেকে মুক্ত কেউই হতে পারে না। পিতৃতান্ত্রিক আচরণ সমাজের যে কোনো অংশে, যে কোন স্তরেই আমরা দেখতে পাই। পিতৃতন্ত্রের সমস্যা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব সমস্যা নয়, এটা একটা সামাজিক সমস্যা। খোলা মনে সমালোচনা গ্রহণ, আত্মসমালোচনা ছাড়া এর বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। অভিযুক্তকে বিচ্ছিন্ন করা কোনো প্রগতিশীল পদক্ষেপ হতে পারে না। আমরা চাই অভিযুক্ত এবং তার “বন্ধুরা” নিজেদের সমস্যাকে চিহ্নিত করুক, শুধরোক, এবং অভিযুক্ত তার এমফিল শেষ করুক এবং বাকিদের কাছে আমাদের আবেদন তাঁদের এই কাজে সাহায্য করুন। গত ২৫ তারিখ ‘র‍্যাডিকেল’রা দুই তিন দিনের মধ্যে হেবিয়াস কর্পাস করবে বলে দাবি করেছিলো, কিন্তু সবশেষে হেবিয়াস কর্পাস করার আগেই ফিরে আসার জন্য অভিযুক্তকে অভিনন্দন জানাই। ব্যক্তিগত তিক্ততা নয়, গঠনমূলক রাজনৈতিক বিতর্কের মাধ্যমে সমস্যার মোকাবিলা হোক।

সিদ্ধার্থ – সভাপতি

সৌম্য – সাধারণ সম্পাদক

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট USDF

 ০২/০৩/২০১৭


২৫শে ফেব্রুয়ারিঃ গেরুয়া ফ্যাসিস্ট ঘাঁটি হেদুয়াতে USDF বিক্ষোভ দেখাবে

modi-hitler

দিল্লী ইউনিভার্সিটিতে গেরুয়া ফ্যাসিস্ট তান্ডবের বিরুদ্ধে, গেরুয়া ফ্যাসিস্টদের হুমকিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগামীকাল স্বঘোষিত গেরুয়া ঘাঁটি হেদুয়াতে দুপুর ২:৩০এ USDF বিক্ষোভ দেখাবে। সমস্ত ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক মানুষদের যোগ দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

@united student’s democratic front


মাতৃভাষা দিবসে USDF এর প্রচার পত্র

147_54954

নেট(গবেষণা ও অধ্যাপনার জন্য) পরীক্ষায় একটা পেপার থাকে যেটা সমস্ত বিষয়ের পড়ুয়ার জন্য বাধ্যতামূলক, সেখানকার প্রশ্নগুলো নির্দিষ্ট বিষয়ের বাইরে, কিছুটা সাধারণ চিন্তাধর্মী এবং জটিল ভাষায়। পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখা যায় অনেক প্রশ্নের মানে কিছুতেই উদ্ধার করে উঠতে পারছে না চিরকাল বাংলা মিডিয়ামে পড়ে আসা বহুসংখ্যক বাঙালি ছাত্র, কিন্তু প্রশ্নটা বাংলায় হলে দিব্যি উত্তর করে দেওয়া যেত। বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় এমন সমস্যায় অনেক ছাত্র-ছাত্রীকেই পড়তে হয়। অথচ খুব স্বাভাবিকভাবেই এই দেশের প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে এই সমস্যার মুখে না পড়ার। ১৯৫২ সাল, ২১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার রাজপথে মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে পাকিস্তানি শাসকের গুলিতে প্রাণ দিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম, বরকত, রফিক, জাব্বার সহ অনেক ছাত্র, একটা স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল তৈরী হল, জাতীয় মুক্তির লড়াই। সমাজে শোষণকারী শক্তিগুলো একটা আদর্শ নিপীড়িত জনগণের মধ্যে প্রোথিত করে, যা সেই শক্তিগুলোর আধিপত্যকে কায়েম করবে। কোনো এক জাতির বিকাশ ও পরিচিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম তার ভাষা, মাতৃভাষা। তাই ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের উপনিবেশগুলিতে মাতৃভাষার উপর আক্রমণ হানে, যা ধ্বংসের মাধ্যমে সেই নির্দিষ্ট জাতিকে সাংস্কৃতিক হীনমন্যতায় আক্রান্ত করে আধিপত্য স্থাপন করা যায়।। যে কারণে ইংরেজ আমলে মেকলে’র মিনিটের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষাগুলির অবনমনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষীর উপর চাপিয়ে দিতে চায় ঊর্দু ভাষা, যার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রেও ১৯৪৭ পরবর্তীকালে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থান নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের উপর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো শুরু হয়। অর্থাৎ যেমন ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণের জায়গা নেই দেশীয় সাম্রাজ্যবাদের বন্ধু পুঁজিপতিরা, একইভাবে ইংরেজী ভাষার আগ্রাসনের জায়গাই শুরু হয় হিন্দি ভাষার চাপিয়ে দেওয়া। সরকারী বিভিন্ন কাজকর্মে, জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় হিন্দি ও ইংরেজীকে গুরুত্ব দেওয়া হল,সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে তাদের এক অসম লড়াই এ ঠেলে দেওয়া হল। আমরা যদি পশ্চিমবঙ্গের দিকেই তাকাই তাহলেই দেখতে পাবো ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা একের পর এক পরিকাঠামোহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। যেখানে মাতৃভাষার ব্যাপারে কুন্ঠায় ভোগা মধ্যবিত্ত বাঙালি তাদের সন্তানদের পাঠাচ্ছেন, আর সেই কুন্ঠার সুযোগ নিয়ে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। এমনকি বাংলার মানুষের করের টাকাই চলা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা পরীক্ষার একমাত্র মাধ্যম ইংরেজী ঘোষণা করে(পরে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষোভ টের পেয়ে তা পালটে দেওয়া হয়)। মজার ব্যাপার হল এই যে ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার যে রাজনীতি তা থেকে আবার ভাষার জন্য লড়াই করা বাঙ্গালিও মুক্ত নয়। সে দার্জিলিং এর গোর্খা জনগোষ্ঠীর স্বাধীন হওয়ার লড়াইকে অস্বীকার করে, পুরুলিয়া-বীরভূম-বাঁকুড়া-পশ্চিম মেদিনিপুরের আদিবাসীদের উপর বাংলা ভাষা চাপিয়ে দিতে চায়। বাংলাদেশ নিজে চট্টগ্রামের চাকমা জাতির মানুষের উপর বাংলাভাষা চাপিয়ে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে দমন করতে চায়। একইরকম ভাবে মণিপুর, নাগাল্যান্ডে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ সেই একই পদ্ধতিতে দমন নামিয়ে আনে। রবি ঠাকুর, লেনিন থেকে শুরু করে সত্যেন বোস প্রত্যেকেই মাতৃভাষায় শিক্ষা অধিকারকে তুলে ধরেছেন একটি জাতির সঠিক বিকাশের পথ হিসেবে। ছোট-বড়(সংখ্যার নিরিখে) নির্বিশেষে সমস্ত ভাষাকে সমান গুরুত্ব ও সম্মান দিয়ে এবং প্রশাসনিক ভাবে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ না করার মাধ্যমে একটি জাতির সামগ্রিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। বিশ্বের দিকে তাকালে জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, ইতালি প্রভৃতি দেশ মাতৃভাষায় শিক্ষাচর্চার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চেতনার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই আজ ভাষা দিবস বেঁচে আছে ছত্তিশগড়ে বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলনের স্থানীয় গোন্ডী ভাষার লিপি, অভিধান তৈরী ও শিক্ষাচর্চার মধ্যে; বালুচিস্তান, কাশ্মীর, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, চাকমা উপজাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের স্বাধীনতার যুদ্ধ জিতিয়ে দিয়েছে মাতৃভাষা দিবসের লড়াইকে।


কলকাতায় নকশালপন্থী ছাত্র সংগঠনের দ্বন্দ্বঃ USDF এর বিবৃতি

12

( বিবৃতিটি USDF এর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে )

আমাদের কাছে আসা একটি মলেস্টেশানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, প্রথমেই মুক্তকন্ঠে সেই বিষয়ে আত্মসমালোচনা করছি। আসলে সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হওয়া যৌন হেনস্থার কোনো ঘটনার ক্ষেত্রেই ICC ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেনি। আর সেটাকে মাথায় রেখেই USDF ও RADICAL ঠিক করে যে কমিটির কাছে যাওয়ার পরিবর্তে তারা নিজেরাই বিকল্প কোনো পন্থায় অভিযোগটিকে উদ্দেশ করবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু দুঃখের কথা, এই বিষয়ে নিতে চাওয়া যাবতীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যর্থ প্রতিপন্ন হয়। একটি সক্রিয় GSCASH এর – যেখানে ছাত্রছাত্রীদের তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং যা ক্যাম্পাসে লিঙ্গ সচেতনতা গড়ে তোলার কার্যক্রমের পাশাপাশি হেনস্থা-নির্যাতনের অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রেও ভূমিকা নেবে – প্রয়োজনীয়তা যে কতখানি, তা আবারও প্রকট হল এই ঘটনায়। অভিযোগের বিষয়টির উল্লেখ করে গত ২৮শে জানুয়ারি আমাদের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের পেজ’এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেহেতু এই বিবৃতিতে অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তাই এটিকে কেন্দ্র করে দেখা দেয় কিছু বিতর্ক। ‘Gender Justice’ এর জন্য সক্রিয় নারীবাদী, বামপন্থী ও নানান গণতান্ত্রিক সংগঠন অতীতে একাধিকবার এইধরনের কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে নারীনিগ্রহ-নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে। প্রাসঙ্গিকভাবে মনে পড়ে যাচ্ছে একলব্য চৌধুরী, কৌশিক রায়, ফ্রান্সিস মণ্ডল, তরুণ তেজপাল ও মানিক কাটিয়ালের কথা। বর্তমান ঘটনায় আমাদের বিবৃতির প্রেক্ষিতে যে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে, সেগুলিকে আমরা আমাদের পদক্ষেপের সমালোচনার অংশ হিসাবে গ্রহণ করছি। আমরা আশা করছি যে নারীবাদী রাজনীতির প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট এই কৌশলের ব্যবহার প্রসঙ্গে আলোচনাকেও সমৃদ্ধ করবে এইসমস্ত মতামত। অভিযুক্ত সুশীল মান্ডি গত ২’রা ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ। এরপর থেকে ‘ফ্রেন্ডস অফ সুশীল’ নামের একটি গোষ্ঠী, যার সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাডিকালের কিছু শীর্ষস্থানীয় নেতা ও নেত্রী, লাগাতার অভিযোগকারিণীর উপর দোষারোপ, অর্থাৎ Survivor Blaming করে চলেছে। অভিযোগকারিণী অম্বুজা রাজ সহ USDF এর চার সদস্যর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে। অম্বুজাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে মানহানির মামলায় এবং USDF এর চারজনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অপহরণ ও Caste Atrocity Act এর ধারা। Gender Justice এর প্রশ্নের বিপরীতে যেভাবে দাঁড় করানো হয়েছে জাতি-বর্ণকে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এটিকে Survivor Blaming এর সংস্কৃতির অংশ বলেই মনে করছি এবং এই ঘটনাটিকে দেখছি যৌন হেনস্থার সুবিচারের জন্য সরব হওয়া ব্যক্তিবর্গের কন্ঠরোধ করার প্রয়াস হিসাবে। ‘ফ্রেন্ডস অফ সুশীল’-এর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে তীব্র নারীবিদ্বেষী, মিথ্যা অভিযোগ সম্বলিত একটি প্রেস বিবৃতি। গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর জুড়ে অভিযোগকারিণী ও তার পক্ষে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়ে লাগানো হয়েছে পোস্টার। অভিষেক মুখার্জীর উস্কানিতে জনসমক্ষে বিশ্বরূপ প্রামাণিক (অভিষেক ও বিশ্বরূপ দুজনেই র‍্যাডিকালের সদস্য) প্রহার করেছে কৌস্তভ মন্ডলকে। অভিষেক মুখার্জী প্রকাশ্যে অম্বুজা রাজকে হুমকি দিয়েছে এবং তাকে মিথ্যাবাদী বলেছে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও আমরা নোংরা আইনি লড়াইয়ের খেলায় নামতে চাইনি। ঘটনাক্রম যাতে আরো অনভিপ্রেত ও তিক্ত রূপ না নেয়, সে কথা মাথায় রেখে র‍্যাডিকাল ও আমরা একসাথে আলোচনায় বসি। আমরা নিজেদের পদক্ষেপের (অভিযুক্তের নাম প্রকাশ্যে আনার) সমালোচনা করি এবং দাবি জানাই যে র‍্যাডিকালকে তাদের ‘Survivor blaming’ এর জন্য আত্মসমালোচনা করতে হবে। কিন্তু এই আলোচনায় যা অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, র‍্যাডিকাল তা অচিরেই নস্যাৎ করে দেয় এবং সেদিনই সন্ধ্যেবেলা নতুনভাবে তিন দফা দাবি পেশ করে – ক) অম্বুজাকে এই মর্মে বিবৃতি দিতে হবে যে, সে সুশীলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই মলেস্টেশানের অভিযোগ তুলেছিল ; খ) USDF কে এটা বলতে হবে যে তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছিল, এবং গ) সৌম্য মণ্ডলকে USDF এর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। এখান থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে FIR’গুলিকে র‍্যাডিকাল নিজেদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থের জায়গা থেকে ব্যবহার করছে অভিযোগকারিণী ও তার পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের চাপ দেওয়ার জন্য। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করি। আমরা কোনোমূল্যেই মলেস্টেশানের অভিযোগ ফিরিয়ে নেব না। আর নিজেদের এই অবস্থানের জন্য যদি আমাদের গ্রেপ্তার হতে হয়, তবে তাই হোক। র‍্যাডিকালের পুংবাদী ভাবনা-মূল্যবোধসঞ্জাত কার্যকলাপের আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা করছি। সুশীল মান্ডির নিরুদ্দেশ হওয়ার দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে পশ্চাৎপদ নারী-বিদ্বেষী উন্মাদনা তৈরি হয়েছে তার রাজনৈতিক মোকাবিলা না করতে পারলে আমাদের হয়ত আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে লিঙ্গসচেতনা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যে রাজনৈতিক ও চেতনাগত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছিল নির্ভয়া আন্দোলনের পরবর্তীতে, তার থেকে পিছিয়ে যেতে হবে। বর্ণ ব্যবস্থা ও লিঙ্গবৈষ্যম্যর অবসান ব্যতিরেকে মানুষের মুক্তির স্বপ্নের বাস্তবায়ন কখনোই সম্ভব নয়। লিঙ্গ রাজনীতির বিপরীতে বর্ণ রাজনীতিকে দাঁড় করানোটা একটা পশ্চাৎপদ ভাবনার প্রতিফলন। কেননা, এভাবে চলতে থাকলে তো হেনস্থাকারী/নির্যাতনকারীর বর্ণগত পরিচয় না জানা থাকলে প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযগো জানানো বা তা নিয়ে সোচ্চার হওয়া যাবে না, তাই না? ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরেও বিবিধ গণতান্ত্রিক স্বর অবস্থান নিক Gender Justice এর পক্ষে; পাশে দাঁড়াক অভিযোগকারিণী, পাশে দাঁড়াক আমাদের – প্রত্যাশা রইল এমনটাই। যেটা এখানে বলা একান্তই প্রয়োজনীয়, এবং আমরা দ্বিধাহীনভাবে বলছিও, তা হল – আমরা একেবারেই মনে করিনা যে সুশীল মান্ডি একজন ‘খারাপ মানুষ’, বা ‘বাজে মানুষ’ এবং আমরা আন্তরিকভাবেই চাই যে সুশীল সুস্থ শরীরে ফিরে আসুক ক্যাম্পাসে। শ্রেণী, বর্ণ, লিঙ্গ ও শারীরিক সক্ষমতার নিরিখে থাকবন্দি এই সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই প্রয়োজন। লড়াই প্রয়োজন আমাদের অন্তরে ও বাইরে।

USDF

[USDF, Jadavpur University Preparatory Unit এর পক্ষে নবোত্তমা ও দিব্যকমল]


ছাত্র নিখোঁজঃ ফেসবুকে খামচা-খামচি যাদবপুরের ‘মাওবাদী ছাত্রদের’

12

যাদবপুরের এমফিলের ছাত্র সুশীল মান্ডি নিখোঁজ। সুশীল নকশালপন্থী সংগঠন বলে পরিচিত RADICAL এর সদস্য। এই সংগঠনের নেতা রাজ্যের সিপিআই(মাওবাদী)-র নগর কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক অভিষেক মুখার্জী। অপরদিকে USDF সংগঠনের এর নেতা সৌম্য মণ্ডল। সুশীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি যাদবপুরের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ছাত্রীর সমর্থনে এগিয়ে এসেছে মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে পরিচিত USDF। অন্যদিকে RADICAL এর অভিযোগ সুশীল আদিবাসী বলেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই RADICALও  USDF দুপক্ষের মধ্যে মারপিট পর্যন্ত হয়ে গেছে। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু তার থেকেও মারাত্মক উভয়পক্ষ ফেসবুককে বেছে নিয়েছে একে অপরকে আক্রমণের জায়গা হিসাবে। যে নোংরা ভাষায় দুই সংগঠনের সমর্থকরা ফেসবুকে লিখছেন তা নিয়ে রুচির প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

সূত্রঃ ফেসবুক ও satdin.in


ডিমনিটাইজেশানের প্রহসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কিছু প্রশ্ন

usdf

গত ৮ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাটকীয় ভঙ্গিমায় ঘোষণা করেন যে সেইদিন রাত বারোটার পর থেকে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট আর চলবে না। ‘কালো’ টাকার সঞ্চয় ও চলাচল রুখতেই নাকি এহেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে এই সিদ্ধান্তের ফলে আদতে ক্ষতিগ্রস্তই হবেন সাধারণ মানুষ। আমরা সরকার কর্তৃক আরোপিত এই ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি’ অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখছি –

১)২০১৪ সালে নির্বাচনের পূর্বে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে তারা সুইস ব্যাঙ্কে গচ্ছিত সমস্ত ‘কালো’ টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার এতদিন পরেও  সরকারের তরফে এই নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি, যদিও কাদের টাকা গচ্ছিত রয়েছে সুইস ব্যাঙ্কে, সে তালিকা সামনে এসেছে একবছরেরও বেশি আগে। এই দ্বিচারিতার কারণ কি?

২)হিসেব বহির্ভূত অর্থ উদ্ধার করার জন্য রয়েছে আয়কর বিভাগ, যা চলে জনগণের আয়করের টাকাতেই। তাহলে নরেন্দ্র মোদীর সরকার কেন অহেতুক সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে দুর্দশার মুখে?

৩)সরকারি প্রতিনিধিদের রিপোর্ট মোতাবেক ৪৪ জন কর্পোরেট কর্তা  বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি থেকে ৫০০০ কোটি টাকা করে ঋণ নিয়ে নিয়েছেন এবং মোট ঋণের পরিমান ২৩.৫২ লক্ষ কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বের হয়ে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?

৪) ললিত মোদী ও বিজয় মালিয়ার মত ঋণখেলাপী, যাঁরা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রেখেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

৫)বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরকার বিপুল পরিমাণ কর-ছাড় দিয়েছে, যার ফলে আর্থিকভাবে সংস্থাগুলি ব্যাপক লাভবান হয়েছে। এটাও কি ‘কালো’ টাকা ‘সাদা’ করার আরেকটা নমুনা?

৬)অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আয়কর বৃদ্ধির সুফল শেষ বিচারে গরিব মানুষরাই পাবেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারি বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহণের মত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির অর্থ বরাদ্দ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এই পলিসি কিভাবে গরিব মানুষের উপকারে আসতে পারে? এই সরকারের উপর কি আদৌ আস্থা রাখা যায়?

৭)জনসংখ্যার অর্ধেকেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা মানুষজন ও এবং বিক্রেতারা সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কাজ ফেলে তাঁদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নোট বাতিল পরবর্তী অর্থসংকটের ফলে চা-বাগান শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মাইনে বন্ধ হয়ে রয়েছে। বেশ কিছু কৃষক ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনাও খবরে এসেছে। দেশের দুঃস্থ, দরিদ্র মানুষদেরকেই সরকারের এই ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর লক্ষ্যবস্তু করা হল কেন?

৮) ছোটো ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবার, যাঁরা নিজেদের আয়ের পূর্ণ খতিয়ান সরকারকে দেননি, বর্তমান পদক্ষেপের ফলে তাঁদের আয়ের হিসেব চলে আসবে সরকারি নজরের আওতায়। কিন্তু এঁদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, তাদের ছেড়ে কেবল এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে কেন?

৯)কাগজের নোটের বদলে ‘প্লাস্টিক মানি’র কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই প্লাস্টিক মানির ব্যবহার আর্থিক দুর্যোগের হাত থেকে গরিব মানুষদের রক্ষা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। ২০০৮ এর বিশ্বজোড়া আর্থিক সংকটের সময় তা আমরা দেখেছি। সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল অংশকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

বাস্তবে মোদী সরকারের মুখোশ খুলে গিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে ব্যাপক জনসাধারণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা তাদের হিন্দু রাজনৈতিক কর্মসূচী রূপায়নের লক্ষ্যে কাজ করতেই বদ্ধপরিকর। সমস্ত গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এই ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য।

ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ ডেমোক্রাটিক ফ্রন্টের পক্ষে সৌম্য মণ্ডল (জেনারেল সেক্রেটারি) ও সিদ্ধার্থ(প্রেসিডেন্ট) কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত।