মাওবাদী তকমা দিয়ে সারা দেশ থেকে গ্রেফতার বহু মানবাধিকার কর্মী, ফ্যাসিবাদী অাক্রমণ দাবি মানবাধিকার কর্মীদের

Varavara-Rao

ভোররাতে ফের কড়া নাড়া। দেশজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও তাদের বাড়িতে পুলিসের হানা। গ্রেফতার ছত্তিশড়ের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, অাইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ। সুধাকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদ থেকে। ভারভারা রাওকে পুলিস গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ থেকে। মুম্বইয়ের অরুণ ফেরেরা ও ভেরনন গনসালভেসকেও গ্রেফতার করেছে পুণের পুলিস। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভলেখার বাড়িতেও হানা দেয় পুণে পুলিসের দল। পুলিস হানা দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের মানবাধিকার কর্মীর বাড়িতেও। পুলিসের অভিযোগ ভিমা করেগাঁও হিংসার সঙ্গে জড়িত এরা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে মারাঠা পেশওয়াদের বিরুদ্ধে দলিতদের বিজয় ২০০ বছর পূর্তিতে ভিমা করেগাঁতে এক অনুষ্ঠানের অায়োজনকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। তার জেরে এর অাগে নাগপুর ও দিল্লি থেকে  সুধীর ধাওয়ালে, সুরেন্দ্র গাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রোনা উইলসনকে গ্রেফতার করে পুণের পুলিস। সেই সময় একটি চিঠি অাবিষ্কার করে পুলিস যেখানে বলা হয় নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা করছে মাওবাদীরা। অার সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের ঘটনাকে  ফ্যাসিবাদী হামলা বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সূত্রঃ satdin.in


বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাওকে গ্রেফতার করা হয়েছে –

6106_varavara_rao

বিপ্লবী লেখক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী ভারাভারা রাও এবং কিছু অন্যান্য কর্মীদের এনটিআর ট্রাস্ট ভবনের সামনে প্রতিবাদ করার সময় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারাভারা রাওয়ের নেতৃত্বে এই সকল কর্মীরা রামকৃষ্ণসহ মাওবাদী নেতার অবিলম্বে আদালতে উপস্থাপন করার জন্যে অবস্থান প্রতিবাদ করছিলেন।

এ সময় কর্মীরা স্লোগান এবং ট্রাফিক ব্লক করতে থাকলে বিশাল সংখ্যক পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

পরে mediapersons এর সাথে কথা বলার সময়, ভারাভারা রাও বলেন- তিনি তথ্য পেয়েছেন যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় মাওবাদী নেতা – রামকৃষ্ণ ওরফে আরকে এবং গাজারলা রবি- যিনি অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার (AoB) এলাকার সম্পাদক নামে পরিচিত, তাদের কথিত নকশাল এনকাউন্টার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। যে ঘটনায় সাম্প্রতিক ২০জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়।

তিনি তাদের আদালতগুলোতে উপস্থাপন না করায় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ভারাভারা রাও বলেন, কোন মাওবাদী নেতা পুলিশের হেফাজতে ছিল এটা অস্বীকার করে বিশাখাপত্তনমের গ্রামীণ এসপি রাহুল দেব শর্মার দেয়া বিবৃতি তারা বিশ্বাস করেননি।

ভারাভারা রাও এসময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আরকে ও তার সহযোগীদের কোন ক্ষতি করা হলে তার জন্যে অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকার দায়ী থাকবে বলে সতর্ক করে দেন।

তিনি বনাঞ্চলে চিরুনি অভিযানের অজুহাতে ভুয়া এনকাউন্টারের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মাওবাদীদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্যেও সরকারের প্রতি ভারাভারা রাও দাবি জানান।

সূত্রঃ http://www.thehansindia.com/posts/index/Andhra-Pradesh/2016-10-28/Varavara-arrested-as-activists-stage-sit-in-at-NTR-Trust-Bhavan/261442

 


ভারত: জনগণের অর্থকে যজ্ঞের কাজে অপব্যবহার করছেন মুখ্যমন্ত্রী, অভিযোগ কবি ভারাভারা রাও এর

HY24PG-4-ARUNDHATI_1217543fওয়ারাঙ্গালঃ মুম্বাই হাই কোর্ট থেকে অধ্যাপক জি এন সাইবাবাকে জামিন মঞ্জুর না করার নির্দেশের নিন্দা জানিয়ে বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাও জনগণের কাছে এই সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অরুন্ধতি রায়ের বিরুদ্ধে জারীকৃত আদালতের সমননামা তুলে নেয়ার দাবীও জানান তিনি। শনিবার প্রেস ক্লাবে হাই কোর্ট বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে জঘন্য উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জনগণকে নিন্দা জানাতে আহ্বান করেন ভারাভারা রাও। তিনি অভিযোগ করেন, আদিবাসী ও অন্যান্য যারা কর্পোরেট কোম্পানি কর্তৃক খনিজ সম্পদ খনন কাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার নির্মূল করতে শুরু করেছে।

ভারাভারা রাও বলেন, “ছত্তিসগড়ে গ্রিন হান্টের তৃতীয় ধাপ শুরু করার ফলে মাত্র এক মাসে একশো জনেরও বেশী মানুষ নিহত হয়েছে। ছত্তিসগড়ে প্রতিদিন বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে আর বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে”। অধ্যাপক সাইবাবা ও অরুন্ধতি রায়কে ইউনিয়ন সরকারের হুমকি দেয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “সাইবাবাকে আন্তর্জাতিক নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা তার মুক্তি দাবী করছি।” মুখ্য মন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও এর যজ্ঞ সম্পর্কে তিনি বলেন, মুখ্য মন্ত্রী জনগণের অর্থ ও সরকারি যন্ত্রপাতি অপব্যবহার করছেন।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.newindianexpress.com/states/telangana/CM-Misusing-Public-Money-for-Yagam-Alleges-Varvara-Rao/2015/12/27/article3198171.ece


নকশালপন্থী কবি ভারাভারা রাও এর কবিতা ‘মানুষকে বাঁচাতে নয়’

67817_450406961688852_166618349_n

(কবি ভারাভারা রাও ১৯৪০ সালের ৩রা নভেম্বর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ওয়ারাঙ্গাল জেলার একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তেলেগু ভাষার কবি। নিচের কবিতাটি তাঁর ‘Not to Protect People’ কবিতাটির ইংরেজি ভাষান্তর থেকে অনুবাদকৃত)

মানুষকে বাঁচাতে নয়

ভারাভারা রাও

তেলেগু আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই
আমি পড়েছি পুলিশ অর্থ অভিভাবক…
“যদি তুমি বিবাদ কর
(বিবাদ অর্থ বৃহতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ)
পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে তোমায়;
সাবধানে থেকো, পুলিশ মানে অসুর,”
শৈশবে মা বলত আমায়।
মায়ের কথাগুলো সত্যি হয়েছে।
পুলিশের হাতে ধরা বন্দুকগুলো জনগণকে রক্ষার জন্যে নয়
বরং তাদের ধরে নিয়ে গুলি করবার জন্যে।
অন্ধের সাদা ছড়ি,
পুলিশকে লাঠিচার্জের ফন্দি আঁটতে শেখায়
শেখায় না তাদের পথ দেখাবার রাস্তা।
এখন আমি জানি এই সরকার
বরাদ্দ করে চলেছে এসিড আর ধারালো সুঁই
বন্দীদের অন্ধ ক’রে দেবার জন্য।


ভারতের নকশালপন্থী কবি ভারাভারা রাও এর কবিতা

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও


কসাই কবিতাটি ভারাভারা রাও এর তেলেগু কবিতার কে বালাগোপালকৃত (k Balagopal) ইংরেজি অনুবাদ The Butcher থেকে অনুদিত। কবিতাটি লেখা হয় ৯ জুন ১৯৮৫ সালে

আমি মুক্তির সাগরে মুক্তি খুঁজে বেড়ানো একফোঁটা জল...”

কসাই
– – – ভারাভারা রাও

আমি একজন মাংসের ব্যবসায়ী
তুমি যদি আমাকে কসাই ডাকতে চাও
তবে তা তোমার ইচ্ছে
আমি রোজ পশু হত্যা করি
তাদের মাংস কেটে বিক্রি করি
রক্ত আমার কাছে এক পরিচিত দৃশ্য
কিন্তু
সেই দিন আমি দেখেছিলাম
কসাই শব্দের আক্ষরিক রূপ

আমার এই হাত দিয়ে রোজ পশু হত্যা করি
রক্ত আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেনি কোনদিন,
কিন্তু সেই দিন রক্ত রাজপথে গড়িয়ে পড়েনি
পড়েছিল আমার হৃৎপিণ্ডে
তুমি কি ধুয়ে দেবে সেই রক্ত ?

তোমাদের মাঝে কেউ কি আছো যে বাড়িয়ে দেবে
একটি মানবিক হাত
আর আমার হৃদয়কে করবে অবমুক্ত
সেই বিভৎস দৃশের অসহনীয় বোঝা থেকে ?

ছয়টি লাঠি তার অস্থিগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করেছিল
যেন-কোন উন্মাত্ত ক্রোধে-
রাইফেলের বাট তার দেহকে দুমড়ে মুচড়ে পরিণত করেছিল
একতাল মাংসপিণ্ডে

সেই মাংসপিণ্ডের মুখ আটকে দিয়েছিল পুলিশওয়ালাদের চোয়াল
তারা তখন বলেছিল
“নষ্ট যুবকটি একটি ছুরি নিয়ে হামলা চালায়
এবং সেখানে একটি ‘এনকাউন্টার’ ঘটে”

পশু হত্যা করি আমিও
কিন্তু তাদের আমি কখনো ঘৃণা করিনি ,
আমি মাংস বিক্রি করি
কিন্তু কখনো কারো কাছে
আমি নিজেকে বিক্রি করিনি

চুঁইয়ে পড়ছে রক্তধারা
তার দেহের সহস্র ক্ষতস্থান থেকে
জলে ভরা সহস্র দৃষ্টি
কিন্তু ছেলেটির শুষ্ক চোখ
আমার ছুরির ফলার নীচে ক্রন্দনরত ছাগলের মত
সে ’ব্যা ব্যা’ চিৎকার করে ওঠে না
মনে হয় তার দৃষ্টি যেন চেয়ে আছে ভবিষ্যতের পানে

গতকালের দৃষ্টি
না, এটি ইতোমধ্যেই পরশু দিনের
এটি ১৫ই মে’র বন্ধের দৃশ্য
আমার সে স্মৃতি তাড়ানো যাবে না কোনদিন
যতদিন নিঃশ্বাস বইবে এ দেহে

আজ আমি তোমাকে অনুভব করাতে পারছি
কারণ আমি নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারছি না
লুকিয়ে ফেলতে পারি কাল

আমার জীবিকা ওরা ধ্বংস করুক
কিন্তু সেই শিশুটি
আমাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে ।

শোনো আমার ভাই, বোন, তোমরা শোনো
একটি সাপও আমরা ওভাবে মারি না
যে আমি, রোজ পাঁঠা হত্যা করি, সেদিন বুঝেছিলাম
নিষ্ঠুরতা কী, যা সম্মিলিত হয়ে ষড়যন্ত্র চালায়
একটি জীবনকে কেড়ে নেবার জন্য

আমি মাংসের ব্যবসায়ী
হ্যাঁ, আমি একজন কসাই
ভেড়ার মাংস আর পাঁঠার মাংস
আমি বিক্রি করি জীবিকার জন্য

সেই মন্ত্রী নিজে
পুলিশওয়ালাদের ভূষিত করে
পুরস্কার আর পদোন্নতি দিয়ে
পদক আর টাকার ওজন দিয়ে
মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার পুরস্কার হিসেবে
মন্ত্রী অর্থ সরকার
পুলিশ আমাদের রক্ষক
যাদের(যে মন্ত্রীদের) নিয়ে এ সরকার আর
যার রক্ষক হল তারা(পুলিশ)

অসীমে ভেসে চলা
সেই ছেলেটির প্রাণ
বলে গিয়েছিল আমাকে
জেনেছিলাম
প্রকৃত কসাই এর পরিচয়
রাষ্ট্র
***

৯ই জুন ১৯৮৫


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকার (সম্পূর্ণ)

c

comrades-kA7G-621x414@LiveMint

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি গত ০৮/০৮/২০১৫ থেকে ০৯/০৯/২০১৫ পর্যন্ত মোট ৮ টি পর্ব ধারাবাহিক ভাবে বাংলায় প্রকাশ করেছে ‘লাল সংবাদ‘। কিন্তু আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ২ পর্ব প্রকাশ করতে পারিনি। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমরা বাকি দুই পর্ব সহ সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি PDF আকারে প্রকাশ করছি।

পাঠক কমরেডগণ নীচে ক্লিক করেই সাক্ষাৎকারটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন– 

কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকার


ভারতঃ ভুয়ো সংঘর্ষে মারা হয়েছে ২ মাওবাদীকে অভিযোগ ভারাভারা রাওয়ের

11062155_1150105731672313_2111781750894714765_n

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

মঙ্গলবার ভোররাতে ওয়ারাঙ্গলে পুলিসের গুলিতে ২ মাওবাদীর নিহত হওয়ার ঘটনাকে ভুয়ো সংঘর্ষ বলে অভিযোগ করলেন ভারভারা রাও। নিহত দুই মাওবাদীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানে মানবাধিকার সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীরা বিক্ষোভ দেখান। বিশাল পুলিসি ঘেরাটোপের মধ্যে হাসপাতালে ময়না তদন্ত হয় নিহতদের। পুলিস দাবি করেছিল মঙ্গলবার ভোররাতে ওয়ারঙ্গলের জঙ্গলে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরেই মৃত্যু হয় ওই ২ মাওবাদীর।

সূত্রঃ দ্যা হিন্দু


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৮ম পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি ধারাবাহিক ভাবে বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

c

comrades-ka7g-621x414livemint

(অষ্টম পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে “

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ পার্টি যাচাই করে দেখেছে যে বিশ্ব পরিস্থিতির অবজেকটিভ বাস্তবতা বিপ্লবের অনুকূলে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে International Communist Movement (ICM) আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের অবস্থান কী? আভাকিয়ানিজম ও প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোট কর্তৃক নেপাল বিপ্লবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার কী ধরনের প্রভাব ICM এর উপর পড়তে পারে বলে আপনি মনে করেন?

গণপতিঃ বিপ্লবের অগ্রগতির পক্ষে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি চমৎকার। আগেই উল্লেখ করেছি, মহা মন্দার (Great Depression) পর সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা ভয়াবহতম সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। যার ফলে প্রচুর পরিমাণে কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে। একদিকে আছে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য ও অন্যদিকে শ্রমজীবী শ্রেণীর উপর শোষণ ও নিপীড়িত জনগণের দেশসমূহে নয়া ঔপনিবেশিক লুণ্ঠন। রাষ্ট্র দখলের যুদ্ধ স্তিমিত হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; ইরাক, আফগানিস্তান ও অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আটকে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাম্রাজ্যবাদ ও তার গৃহপালিত দোসরদের বিরোধী বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বাধীনতাকামী বাহিনী শক্তিশালী হচ্ছে। শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত শ্রেণী,কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, মুসলিম ও অন্যান্য নির্যাতিত সম্প্রদায়,নারী,শিক্ষার্থী,তরুণ ও আরো অনেক নিপীড়িত শ্রেণী ও গোষ্ঠী পথে নেমে আসছে।

চাকুরী থেকে ছাঁটাই,বেকারত্ব ও আংশিক বেকা্রত্ব,প্রকৃত মজুরী কর্তন,সামাজিক নিরাপত্তা খরচ প্রত্যাহার এবং সরকারের অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা দেশে শ্রমিকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও ধর্মঘট সংঘটিত হয়েছে যা দেশগুলোকে নাড়া দিয়েছে। ধনী ও গরীবের ব্যবধান যত বাড়ছে ও শ্রেণী দ্বন্দ্ব যত তীব্রতর হচ্ছে, পুঁজিবাদী দেশগুলোর জনগণ তত বেশি সংগ্রামে যোগদান করছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ, মুসলিম, অভিবাসী ও অন্যান্য নিপীড়িত জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বিক্ষোভ করছে। পশ্চাদপদ দেশগুলোতেও শ্রমজীবী জনগণের সম্পদের অসমতা,দারিদ্র্য, অভাব ও রাজনৈতিক নিপীড়ন গণ অভ্যুত্থানের জন্ম দিচ্ছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যা ও রক্তের বন্যার মধ্য দিয়েও ইরাকি, আফগান,কুর্দি ও অন্যান্য জনগণের সশস্ত্র জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রগতি ঘটছে।

স্কটিশ, ক্যাটালনিয় ও ইউরোপের অন্যান্য জাতীর জাতীয় আকাঙ্ক্ষা অব্যাহত আছে। ব্রাজিলের মত গণ বিরোধী নয়া উদারবাদী নীতিমালা গ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আমেরিকায় জনগণ বৃহদাকারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।তবে বর্তমান বিশ্বের অনুকূল অবজেকটিভ পরিস্থিতি থেকে ICM এর সাবজেকটিভ শক্তিগুলো গুরুতরভাবে পিছিয়ে আছে। অবজেকটিভ পরিস্থিতির সম্ভাবনা ও বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অগ্রগতির জন্য একে সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাওবাদী বাহিনীর সাবজেকটিভ ক্ষমতার মধ্যে একটি বৈপরীত্য রয়েছে। ইতিহাসের শিক্ষা থেকে আমরা জানি যে, প্রধানত প্রতিটি দেশের বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী বিপ্লব সংঘটনের মাধ্যমে এই সাবজেকটিভ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা যায়।

সংশোধনবাদী ও সংস্কারবাদীরা জনগণের সমস্যা সমাধানে অসমর্থ হওয়ায় মাওবাদী শক্তির সাথে তাদের পুনরায় একত্রিত হবার সম্ভাবনা বাড়ছে। অনেক দেশে মাওবাদী পার্টি ও সংগঠন শক্তি অর্জন করছে এবং নতুন কিছু পার্টি গঠিত হবার প্রক্রিয়া চলছে। মাওবাদী পার্টি, সংগঠন ও বাহিনীর ভেতরে ঐক্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশ কিছু বিতর্কের মধ্য দিয়ে ফিলিপিন ও ভারতের দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ চলমান রয়েছে। অন্যান্য বেশ কিছু দেশেও মাওবাদী পার্টিরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের গণযুদ্ধের সমর্থনে আন্তর্জাতিক মাওবাদী শক্তিগুলোর সংহতি কার্যক্রম, বিপ্লবী বিরোধী অপারেশন গ্রিন হান্ট ও ওপলান বায়ানিহানের (ফিলিপিনের বিপ্লবী বিরোধী অপারেশন)বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত, রাজবন্দীদের অধিকার নিশ্চিতকরণের সংগ্রাম ইত্যাদি চলমান রয়েছে। সুতরাং, ICM ও মাওবাদী শক্তিগুলোর গণ সংগ্রামে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারাটা সম্ভব এবং এই পথ ধরে ভবিষ্যতে একটি বিপ্লবী জোয়ারের সূচনা ঘটবে।

প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোটের সংশোধনবাদ ও নেপালি জনগণের সাথে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা অবশ্যই ICM কে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই বিশ্বাসঘাতকেরা গৌরবময় গণযুদ্ধকে ভেতর থেকে ধ্বংস করেছে এবং নিপীড়িত নেপালি জনগণের উপর কঠোর দমন পীড়ন অব্যাহত রাখতে শত্রুকে সাহায্য করেছে। শুধু নেপালি জনগণের জন্যই নয়, পুরো ICM এর জন্য এটি একটি উলট পালট ঘটিয়েছে। অবশ্য, প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোটের বিরুদ্ধে প্রকৃত মাওবাদী শক্তির তিক্ত লড়াই, সাম্রাজ্যবাদী ও তার দালালদের কাছে তাদের নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ এবং সর্বোপরি, এই বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে নেপালি জনগণের নিজেদের সংগ্রাম এই জোটের প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রকে উন্মোচন করেছে এবং মার্কসবাদ- লেনিনবাদ- মাওবাদকে সমৃদ্ধ করার নামে এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার চিত্রকে উন্মোচন করেছে।

সাম্রাজ্যবাদ, গৃহপালিত সামন্তবাদী ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী বেনিয়া ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের সব থেকে বিশ্বাসী পা চাটা কুকুরে পরিণত হয়েছে এই আধুনিক সংশোধনবাদীরা। তাদের শ্রেণী সহযোগীদেরকে নেপালি জনসাধারণ ও ICM সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখান করেছে এবং এইসব বিশ্বাসঘাতকদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে জনগণ নিশ্চিতভাবেই বিপ্লবের পথে অগ্রসর হবে। একইভাবে, আভাকিয়ানিজমের তথাকথিত নয়া সিনথেসিসও কিছু মাওবাদী পার্টিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ ছদ্মবেশী সংশোধনবাদ ও লিকুইডেশনিজম (liquidationism) ছাড়া আভাকিয়ানিজম আর কিছুই নয়। ICM এর উপর ক্ষণস্থায়ীভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও এটি অবশ্যই পরাজিত হবে। আভাকিয়ানিজম ও সব ধরনের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও দেশের ভেতরে কমিউনিস্ট আন্দোলনে বিশ্ব প্রলেতারিয়েতের অংশ হিসেবে  আমাদের পার্টি সংগ্রাম করে যাবে।

(চলবে)


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৭ম পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

সাক্ষাৎকারটি প্রতি শনিবার ও বুধবারের পরিবর্তে প্রতি রবিবারবৃহস্পতিবার ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে –

c

comrades-ka7g-621x414livemint

(সপ্তম পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে “

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ শত্রুরা প্রচার করছে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের লাইন সেকেলে। কেউ কেউ শাভেজের একুশ শতকের সমাজতন্ত্রকে সমর্থন করছে। প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোট নেতৃত্বাধীন ইউসিপিএন (মাওবাদী) UCPN (Maoist) দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের লাইন ত্যাগ করে সংসদীয় পথ বেছে নিয়েছে। ভারত ও বর্তমান বিশ্বায়নের পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এইসব তর্ক বিতর্ক সম্পর্কে পার্টির বক্তব্য কী?

গণপতিঃ যখন থেকে মার্কস ও এঙ্গেলস প্রলেতারিয়েত মতাদর্শ প্রস্থাপন করেছেন এবং সামন্তবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী শক্তি হিসেবে শ্রমিক শ্রেণীর উদ্ভব হয়েছে তখন থেকে বিশেষ করে প্যারি কমিউনে প্রলেতারিয়েত বিপ্লবের পর থেকে শুধু আমাদের দেশেই নয়, পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও শোষক ও প্রতিক্রিয়াশীলেরা সবসময় মার্কসবাদ ও বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। রাশিয়া আর চীন যখন সংশোধনবাদীতে পরিণত হল, তখন তারা প্রচার করতে আরম্ভ করল যে মার্কসবাদ সেকেলে। কারণটা বলাই বাহুল্য। বিপ্লব ও মার্কসবাদ তাদের ধ্বংস বয়ে আনবে। দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের লাইন কী করে সেকেলে হতে পারে? মাও এর মৃত্যুর পর পৃথিবীতে যত নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব কিংবা জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে সেগুলো সবই ছিল দীর্ঘস্থায়ী।

এসব যুদ্ধের কোন কোনটাতে বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা যুদ্ধ ত্যাগ করার ঘটনা ঘটলেও এই সবগুলো যুদ্ধই ছিল দীর্ঘস্থায়ী। যতদিন পর্যন্ত আধা সামন্তবাদী কাঠামো মৌলিকভাবে পরিবর্তিত না হবে এবং যতদিন আমাদের দেশের মত দেশগুলোকে সাম্রাজ্যবাদ এর মুঠোর মধ্যে রেখে স্বনির্ভর উন্নয়ন ঘটাতে বাধা দান করবে ততদিন পর্যন্ত এই দেশগুলোর জন্য দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন পথ নেই। সামন্তীয় কিছু রূপ বদলালেও সামন্তবাদ একইরকম থাকবে কারণ এটি সাম্রাজ্যবাদ ও আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া বেনিয়াদের স্বার্থকে রক্ষা করে। এ কারণে, একটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, সামন্তবাদ বিরোধী নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়ের লক্ষ্যে পার্টির অধীনে জনগণ দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যই নির্ধারণ করে দেয় যে এটি হবে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যেটি আমাদের পার্টির নেতৃত্বে জনগণ চালাবে।

সুতরাং, আমি ইতোমধ্যে বলেছি ভারতের মত একটি দেশে একটি সফল বিপ্লব ঘটানোর জন্য দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের লাইনকে আমরা কেন অপরিহার্য বলে মনে করি। এখন শাভেজ এবং তার কথিত একুশ শতকের সমাজতন্ত্রের মডেল প্রসঙ্গে আসি।

এখনো পর্যন্ত পৃথিবীতে বিপ্লবের দুইটি পথ তৈরি হয়েছে; একটি হল অভ্যুত্থান ও অপরটি হল দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ। নিজ নিজ দেশের বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এই দুটি পথ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। নতুন ঐতিহাসিক অনুষঙ্গে এই দুটিতে পরিমার্জনও ঘটতে পারে। মার্কসবাদ এটাই বলে যে, যান্ত্রিকভাবে বা অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে নয় বরং সৃষ্টিশীলতার সাথে বিপ্লব ঘটাতে হয়। কিন্তু যে ধরনের পরিমার্জনই হোক না কেন, তা হতে হবে বিপ্লবের আওতার মধ্যে। এই কারণে বিপ্লব আবশ্যকীয়। অবশ্য, তা হতে হবে একটি নির্দিষ্ট দেশের সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী। একটি শ্রেণীহীন সমাজের দিকে যাওয়ার জন্য কোন দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত অবক্ষয়প্রাপ্ত একটি সমাজ ব্যবস্থাকে সংশোধন করার প্রচেষ্টা বৃথা।

শাভেজের মডেল কোন বিপ্লবের মডেল নয়, এটি নিছক সংশোধনবাদী মডেল। কাঠামো বা উপাদান কোন দিক থেকেই এটি সমাজতন্ত্র নয়। রুশ ও চীনা বিপ্লবের পর পৃথিবীতে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটেছে। পুঁজিবাদী ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ক্ষুদে বুর্জোয়া গোষ্ঠী অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের একটি অংশ উদার বুর্জোয়া আদর্শ ধারণ করে ও অপর অংশটি ইউটোপিয় সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ধারণ করে। যেসব দেশে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব কিংবা নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়নি, যেখানে বিপ্লবী আন্দোলন সে দেশের জনগণকে এর আওতায় নিয়ে আসতে পারেনি, সেসব দেশের ক্ষুদে বুর্জোয়াদের অধিকাংশই বুর্জোয়া সংসদীয় ব্যবস্থার ভেতরে কিছু পরিবর্তন বা সংশোধন প্রত্যাশা করে। ভেনেজুয়েলার শ্রমিক শ্রেণী ও কৃষকদের স্বার্থে শাভেজ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তাদের প্রধান পণ্য তেল। যদিও তেল ও অন্যান্য কিছু শিল্প জাতীয়করণ হয়েছে তারপরেও নিশ্চিতভাবেই সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী বেনিয়াদের নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

 বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থা থেকে তারাও আলাদা নয়, সুতরাং, ব্যবস্থায় কোন মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থেকে তারা পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন নয়। ভেনেজুয়েলার সামন্তবাদী ও পুঁজিবাদী বেনিয়াদের একটি অংশ এত বেশীমাত্রায় গরীবদের বিরোধী যে তারা এই জাতীয় সংশোধনেরও প্রচণ্ড বিরোধী। আর এটি শাপে বর হয়ে দেখা দিচ্ছে কারণ জনগণের নানা অংশ থেকে শাভেজের মডেলের জন্য এটি বৃহৎ পরিসরে প্রচারণা পাচ্ছে। তিনি কখনো জনগণকে শ্রেণী সংগ্রামে সংগঠিত করেননি। শাভেজ বলিভার ও চে গুয়েভারার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন কিন্তু তার মডেল হল মাইনাস বলিভারিজম এবং মাইনাস চে গুয়েভারাইজম। এটি মূলতঃ সংশোধনবাদ এবং এই কারণে আমাদের দেশে দেউলিয়া হয়ে পড়া সিপিআই ও সিপিআই (এম) শাভেজের এই মডেলের উপর গুরুত্ব আরোপ করছে। ঐক্যবদ্ধ পার্টিতে থাকাকালীন তারা নেহেরুভিয়ান সমাজতন্ত্রকে উর্ধ্বে তুলে ধরে বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।

নেপালে আধা সামন্তবাদের উপর ভিত্তি করে সাম্রাজ্যবাদের জোয়ালের নীচে সংসদীয় ব্যবস্থা টিকে আছে; নেপালের উপর এক দিকে রয়েছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের আধিপত্য ও অন্যদিকে রয়েছে চীনের প্রভাব। যে কেউ এখানে যোগদান করবে তাকেই বিপ্লব ত্যাগ করতে হবে। নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বেশ ভাল সাফল্য সত্ত্বেও ইউসিপিএন (মাওবাদী) UCPN(Maoist) এর প্রচণ্ড-ভট্টরায়ের আধুনিক সংশোধনবাদী জোট এই পথ বেছে নিয়েছে। লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ ও হাজার হাজার শহীদের সাথে তারা স্রেফ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। পূর্ববর্তী সব সংশোধনবাদীদের মতো শাসক শ্রেণীর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে নিজেদের স্বার্থে তারা এই কাজ করেছে। আমরাও স্বীকার করি যে বিশ্বায়নের ফলে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু কাদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো ঘটানো হয়েছে? পুঁজিবাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের স্বার্থ কায়েমের জন্য এই পরিবর্তনগুলো ঘটানো হয়েছে। গত ২৩ বছরে বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এইসব পরিবর্তন ঘটিয়েছে।

আর এটি পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর শাসক শ্রেণীর একটি অংশকে শ্রমিক, মেহনতি জনসাধারণের উপর অপরিমেয় শোষণ চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে এবং তাদেরকে উপনিবেশ ও আধা উপনিবেশের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদ নির্বিচারে লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে, ধনী ও গরীবের আয়ের তফাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুঁজির একত্রীকরণ ও কেন্দ্রীয়করণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সময়েই পশ্চিম এশিয়া ও পরবর্তীতে আফগানিস্তানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। প্রায় সব সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এর অনুগত রাষ্ট্রসমূহ নয়া ফ্যাসিবাদীতে রূপান্তরিত হয়। শাসক শ্রেণীরা নয়া উদারবাদী নীতিমালাকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে তুলে ধরে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, এই নীতিমালা জিডিপি বৃদ্ধি করবে; অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উন্নয়নকে তরান্বিত করবে আরো অনেক কিছু করবে। ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে এইসব দাবী তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ল। সুতরাং, এইসব নয়া উদারবাদী নীতিমালার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ জনগণের জীবনের উপর যে চরম সর্বনাশ ডেকে এনেছে সেদিকে আমাদের দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। কেবল অর্থনৈতিক মন্দাই নয়, বরং রাষ্ট্র দখলের যুদ্ধ, নয়া ঔপনিবেশিক হস্তক্ষেপ, বলপ্রয়োগ ও অন্যান্য তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদিও নয়া উদারবাদী নীতিমালার সৃষ্টি।

সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র সমাধান হিসেবে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘বিশ্বায়ন’কে গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর মানুষের উপর বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের জনগণের উপর যুদ্ধ চাপানো, আরো শোষণ, নির্যাতন ও দমন পীড়ন। কাজেই, সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের অনুচর ভৃত্যদের বিরুদ্ধে লড়াই না চালালে জনগণ স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবে না। সুতরাং, আমাদেরকে আমাদের বৃহৎ কৌশলকে সমৃদ্ধ করতে হবে ও এই পরিবর্তনসমূহকে মাথায় রেখে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৌশলে পরিবর্তন সাধন করতে হবে এবং জনগণকে বিপ্লবী যুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে হবে। স্লোগান, রাজনৈতিক কৌশল, সামরিক কৌশল ও কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনয়ন করতে হবে আর তাহলেই কেবল আমরা অগ্রসর হতে পারব। রাজনৈতিক লাইন ও দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের পথকে ত্যাগ করা কোন সমাধান নয় বরং এর প্রতি আরো দৃঢ়ভাবে অনুগত থাকাটাই সমাধান। আমরা যে কৌশলই গ্রহণ করি না কেন, তার লক্ষ্য হতে হবে রাজনৈতিক লাইন ও দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের পথকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি পুনরায় বলছি যে, আমাদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার জন্য বর্তমান আধা ঔপনিবেশিক, আধা সামন্তবাদী ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে হলে যা প্রয়োজন তা হল সঠিক মতাদর্শ, একটি সঠিক রাজনৈতিক লাইন, একটি সঠিক সামরিক লাইন, একটি শক্তিশালী ভ্যানগার্ড পার্টি, একটি শক্তিশালী জনগণের আর্মি এবং শক্তিশালী যুক্ত ফ্রন্ট। আর এটিই নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করার একমাত্র সমাধান।

(চলবে)


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৬ষ্ঠ পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

সাক্ষাৎকারটি প্রতি শনিবার ও বুধবারের পরিবর্তে প্রতি রবিবারবৃহস্পতিবার ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে –

c

comrades-ka7g-621x414livemint

(ষষ্ঠ পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে 

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ পার্টি বলশেভিকীকরণ প্রচারণার প্রয়োজন বোধ করল কেন? এটা থেকে আপনারা কী ধরনের ফলাফল আশা করছেন?

গণপতিঃ ২০১৩ সালে পার্টির ভেতরে বলশেভিকীকরণ প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানায় আমাদের পার্টি এবং বর্তমানে পার্টি, PLGA ও গণ সংগঠনগুলোতে এই প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া সমাপ্ত হতে আরো সময় লাগবে আর কেবল তখনই যাচাই করা সম্ভব হবে বলশেভিকীকরণের মাধ্যমে পার্টিকে নতুনভাবে গঠন করার কাজ কতটুকু সফল হল। রাশিয়ান বলশেভিক পার্টি নামে পরিচিত CPSU(B) বিশ্বে প্রথমবারের মতো বুর্জোয়া শ্রেণীকে উৎখাত করে প্রলেতারিয়েত একনায়কত্ব কায়েম করে। যেসময় বিশ্বে কোন কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসেনি সেসময় এই পার্টি মেহনতি ও শ্রমজীবী জনতাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। মানব ইতিহাসে বলশেভিক পার্টি সর্বপ্রথম সমাজতন্ত্রের সূচনা ঘটায়। সুতরাং এই পার্টিকে আমরা মডেল হিসেবে গ্রহণ করছি এবং এর থেকে শিক্ষা নিয়ে এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে আত্মস্থ করে আমাদের পার্টিকে এরকম একটি প্রলেতারিয়েত পার্টিতে রূপান্তরের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। এই কারণে আমরা এর নাম দিয়েছি বলশেভিকীকরণ প্রচারণা (Bolshevisation Campaign)।

অন্যদিকে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) মডেলটিও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ একটি আধা ঔপনিবেশিক, আধা সামন্তবাদী পশ্চাদপদ কৃষি প্রধান দেশে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের লাইনের উন্নতি ঘটিয়ে, একটি জনতার বাহিনী ও একটি সফল যুক্তফ্রন্ট গঠন করে মুক্তাঞ্চল স্থাপনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি একটি সফল বিপ্লব ঘটিয়ে সমাজতন্ত্র কায়েম করতে সক্ষম হয়েছিল। সুতরাং CPC এর বৈশিষ্ট্যগুলো জানা ও সেগুলো আত্মস্থ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ চীন ও ভারতের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। গঠিত হবার পর থেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (CPC) রাশিয়ান বলশেভিক পার্টি CPSU(B) কে মডেল ধরে নিজেদের শক্তিশালী করে গড়ে তোলার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে গেছে। তাই এই পার্টির অভিজ্ঞতাকে মনে রেখে বিশেষ করে মহা বিতর্ক (Great Debate ) ও মহান প্রলেতারিয়েত সাংস্কৃতিক বিপ্লব থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার আলোকে আমরা এই প্রচারণা চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা এই দুটি পার্টিকে আমাদের মডেল হিসেবে গ্রহণ করে পার্টির বলশেভিকীকরণের প্রচেষ্টা চালাব কিন্তু তা হবে আমাদের পার্টির দীর্ঘ বিপ্লবী ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে।

এই প্রচারণা চালানোর কারণগুলো হল-

(১) দেশব্যাপী শত্রুর হামলার ভেতরে পরিবর্তন ঘটেছে। আক্রমণ তীব্রতর হয়েছে;

(২) পার্টিতে বেশ কিছু বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে এবং বর্তমানে আন্দোলন অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে।

(৩) পার্টিতে কৃষক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কমরেডদের সংখ্যা বেশী; এই কারণে পার্টিতে প্রলেতালিয়েত দৃষ্টিভঙ্গি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

(৪) সমাজে ও বিপ্লবী যুদ্ধে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, সে অনুযায়ী যথাযথ কৌশল পর্যালোচনা ও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমাদের ত্রুটি; এবং

(৫) পার্টির ভেতরে বড় ধরনের কিছু অপ্রলেতারিয়েত ধারার অস্তিত্ব রয়েছে।

এই বিষয়গুলোকে মনে রেখে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবেলা করার লক্ষ্যে ও সাংগঠনিকভাবে পার্টিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পার্টিতে মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক মানের উত্তরণের জন্য আমরা বলশেভিকীকরণ প্রচারণা গ্রহণ করেছিলাম। এর মাধ্যমেই কেবল পার্টি PLGA কে একটি ক্ষমতাশালী অস্ত্রে পরিণত করতে পারবে এবং আন্দোলনের গণভিত্তিকে মজবুত করতে পারবে। আর এর মধ্য দিয়েই কেবল বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিকে অতিক্রম করে আমরা সামনে এগোতে পারব। কিছু বাস্তব লক্ষ্য অর্জন করার জন্য আমরা এই প্রচারণাকে পরিকল্পতিভাবে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করার মাধ্যমে আমরা কিছু ফলাফল আশা করছি। এই প্রচারণা বিশ্ব প্রলেতারিয়েত দৃষ্টিভংগির মাধ্যমে পার্টিকে পুনরায় গঠন করবে এবং পার্টির অভ্যন্তরে বিশেষ করে নতুনদের ভেতরে একে প্রসারিত করবে।

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের অধ্যয়নকে বর্ধিত করে সমগ্র পার্টিকে এবিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে। এর ফলে সমগ্র পার্টি, পার্টির প্রতিটি ইউনিট নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্য সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা পাবে এবং বর্তমান সংকট মুহূর্তে যেসমস্ত বাস্তব লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হবে সেগুলো পরিস্কারভাবে বুঝতে সমর্থ হবে। এর মাধ্যমে মাও নির্দেশিত কাজ করার তিনটি কৌশল গভীরভাবে বোঝা সম্ভবপর হবে এবং এতে করে আমাদের কাজ করার ধরন উন্নত হবে। গোপন পার্টির গঠন ও কার্যক্রম সম্পর্কে এটি আমাদের ধারণা বৃদ্ধি করবে; যে সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে সাহায্য করবে এবং গেরিলা যুদ্ধ সচল রাখার মূলনীতিগুলোর বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। পার্টির ভেতরে চলমান অপ্রলেতারিয়েত ধারাকে সংশোধন করে এরর বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর লক্ষ্যে পার্টির ভেতরে সচেতনতা ও সতর্কতা বৃদ্ধি করবে।

এর মাধ্যমে চিন্তা, কাজ ও শৃঙ্খলার ঐক্য মজবুত হবে ও বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে, জনগণের সাথে দৃঢ়ভাবে সংহতি স্থাপন এবং তাদেরকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য সংগ্রামে সংগঠিত করার মাধ্যমে পার্টির গণভিত্তি শক্তিশালী হবে। কৃষি বিপ্লবে কৃষকদেরকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করে কৃষক ছাড়াও অন্যান্য জনগণ ও শহরের জনগণের মাঝে বিশেষ তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রেও এটি নেতৃত্ব দেবে। এর ফলে পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা বিষয়ে জানাবোঝা্র ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে ও সে অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করতে হবে; এভাবে সফলতার সাথে আন্দোলনের অগ্রগতি ঘটবে। আমরা আশা করছি এই প্রচারণা আমাদের কমরেডদেরকে দৃঢ় করে তুলবে যাতে করে বিপ্লবের পথ ধরে আসা কঠিনতম পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মোকাবেলা করার মতো সচেতনতা তারা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রাণপণে শত্রুর সাথে লড়াই চালানোর লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতিকে তীব্রতর করতে পারে। আর সব শেষ যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তা হল, আমরা আশা করছি এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বকে এবং আন্দোলনকে শত্রুর নিষ্ঠুরতম আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হব। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদকে এই প্রচারণার কেন্দ্রে রেখে এবং গভীরভাবে আঁকড়ে ধরার মধ্য দিয়ে এতক্ষণ যেসকল ফলাফলগুলোর কথা উল্লেখ করা হল সেগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে।

(চলবে)