মাওবাদী তকমা দিয়ে সারা দেশ থেকে গ্রেফতার বহু মানবাধিকার কর্মী, ফ্যাসিবাদী অাক্রমণ দাবি মানবাধিকার কর্মীদের

Varavara-Rao

ভোররাতে ফের কড়া নাড়া। দেশজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও তাদের বাড়িতে পুলিসের হানা। গ্রেফতার ছত্তিশড়ের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, অাইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ। সুধাকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদ থেকে। ভারভারা রাওকে পুলিস গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ থেকে। মুম্বইয়ের অরুণ ফেরেরা ও ভেরনন গনসালভেসকেও গ্রেফতার করেছে পুণের পুলিস। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভলেখার বাড়িতেও হানা দেয় পুণে পুলিসের দল। পুলিস হানা দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের মানবাধিকার কর্মীর বাড়িতেও। পুলিসের অভিযোগ ভিমা করেগাঁও হিংসার সঙ্গে জড়িত এরা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে মারাঠা পেশওয়াদের বিরুদ্ধে দলিতদের বিজয় ২০০ বছর পূর্তিতে ভিমা করেগাঁতে এক অনুষ্ঠানের অায়োজনকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। তার জেরে এর অাগে নাগপুর ও দিল্লি থেকে  সুধীর ধাওয়ালে, সুরেন্দ্র গাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রোনা উইলসনকে গ্রেফতার করে পুণের পুলিস। সেই সময় একটি চিঠি অাবিষ্কার করে পুলিস যেখানে বলা হয় নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা করছে মাওবাদীরা। অার সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের ঘটনাকে  ফ্যাসিবাদী হামলা বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সূত্রঃ satdin.in

Advertisements

বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাওকে গ্রেফতার করা হয়েছে –

6106_varavara_rao

বিপ্লবী লেখক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী ভারাভারা রাও এবং কিছু অন্যান্য কর্মীদের এনটিআর ট্রাস্ট ভবনের সামনে প্রতিবাদ করার সময় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারাভারা রাওয়ের নেতৃত্বে এই সকল কর্মীরা রামকৃষ্ণসহ মাওবাদী নেতার অবিলম্বে আদালতে উপস্থাপন করার জন্যে অবস্থান প্রতিবাদ করছিলেন।

এ সময় কর্মীরা স্লোগান এবং ট্রাফিক ব্লক করতে থাকলে বিশাল সংখ্যক পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

পরে mediapersons এর সাথে কথা বলার সময়, ভারাভারা রাও বলেন- তিনি তথ্য পেয়েছেন যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় মাওবাদী নেতা – রামকৃষ্ণ ওরফে আরকে এবং গাজারলা রবি- যিনি অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার (AoB) এলাকার সম্পাদক নামে পরিচিত, তাদের কথিত নকশাল এনকাউন্টার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। যে ঘটনায় সাম্প্রতিক ২০জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়।

তিনি তাদের আদালতগুলোতে উপস্থাপন না করায় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ভারাভারা রাও বলেন, কোন মাওবাদী নেতা পুলিশের হেফাজতে ছিল এটা অস্বীকার করে বিশাখাপত্তনমের গ্রামীণ এসপি রাহুল দেব শর্মার দেয়া বিবৃতি তারা বিশ্বাস করেননি।

ভারাভারা রাও এসময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আরকে ও তার সহযোগীদের কোন ক্ষতি করা হলে তার জন্যে অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকার দায়ী থাকবে বলে সতর্ক করে দেন।

তিনি বনাঞ্চলে চিরুনি অভিযানের অজুহাতে ভুয়া এনকাউন্টারের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মাওবাদীদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্যেও সরকারের প্রতি ভারাভারা রাও দাবি জানান।

সূত্রঃ http://www.thehansindia.com/posts/index/Andhra-Pradesh/2016-10-28/Varavara-arrested-as-activists-stage-sit-in-at-NTR-Trust-Bhavan/261442

 


ভারত: জনগণের অর্থকে যজ্ঞের কাজে অপব্যবহার করছেন মুখ্যমন্ত্রী, অভিযোগ কবি ভারাভারা রাও এর

HY24PG-4-ARUNDHATI_1217543fওয়ারাঙ্গালঃ মুম্বাই হাই কোর্ট থেকে অধ্যাপক জি এন সাইবাবাকে জামিন মঞ্জুর না করার নির্দেশের নিন্দা জানিয়ে বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাও জনগণের কাছে এই সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অরুন্ধতি রায়ের বিরুদ্ধে জারীকৃত আদালতের সমননামা তুলে নেয়ার দাবীও জানান তিনি। শনিবার প্রেস ক্লাবে হাই কোর্ট বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে জঘন্য উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জনগণকে নিন্দা জানাতে আহ্বান করেন ভারাভারা রাও। তিনি অভিযোগ করেন, আদিবাসী ও অন্যান্য যারা কর্পোরেট কোম্পানি কর্তৃক খনিজ সম্পদ খনন কাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার নির্মূল করতে শুরু করেছে।

ভারাভারা রাও বলেন, “ছত্তিসগড়ে গ্রিন হান্টের তৃতীয় ধাপ শুরু করার ফলে মাত্র এক মাসে একশো জনেরও বেশী মানুষ নিহত হয়েছে। ছত্তিসগড়ে প্রতিদিন বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে আর বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে”। অধ্যাপক সাইবাবা ও অরুন্ধতি রায়কে ইউনিয়ন সরকারের হুমকি দেয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “সাইবাবাকে আন্তর্জাতিক নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা তার মুক্তি দাবী করছি।” মুখ্য মন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও এর যজ্ঞ সম্পর্কে তিনি বলেন, মুখ্য মন্ত্রী জনগণের অর্থ ও সরকারি যন্ত্রপাতি অপব্যবহার করছেন।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.newindianexpress.com/states/telangana/CM-Misusing-Public-Money-for-Yagam-Alleges-Varvara-Rao/2015/12/27/article3198171.ece


নকশালপন্থী কবি ভারাভারা রাও এর কবিতা ‘মানুষকে বাঁচাতে নয়’

67817_450406961688852_166618349_n

(কবি ভারাভারা রাও ১৯৪০ সালের ৩রা নভেম্বর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ওয়ারাঙ্গাল জেলার একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তেলেগু ভাষার কবি। নিচের কবিতাটি তাঁর ‘Not to Protect People’ কবিতাটির ইংরেজি ভাষান্তর থেকে অনুবাদকৃত)

মানুষকে বাঁচাতে নয়

ভারাভারা রাও

তেলেগু আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই
আমি পড়েছি পুলিশ অর্থ অভিভাবক…
“যদি তুমি বিবাদ কর
(বিবাদ অর্থ বৃহতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ)
পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে তোমায়;
সাবধানে থেকো, পুলিশ মানে অসুর,”
শৈশবে মা বলত আমায়।
মায়ের কথাগুলো সত্যি হয়েছে।
পুলিশের হাতে ধরা বন্দুকগুলো জনগণকে রক্ষার জন্যে নয়
বরং তাদের ধরে নিয়ে গুলি করবার জন্যে।
অন্ধের সাদা ছড়ি,
পুলিশকে লাঠিচার্জের ফন্দি আঁটতে শেখায়
শেখায় না তাদের পথ দেখাবার রাস্তা।
এখন আমি জানি এই সরকার
বরাদ্দ করে চলেছে এসিড আর ধারালো সুঁই
বন্দীদের অন্ধ ক’রে দেবার জন্য।


ভারতের নকশালপন্থী কবি ভারাভারা রাও এর কবিতা

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও


কসাই কবিতাটি ভারাভারা রাও এর তেলেগু কবিতার কে বালাগোপালকৃত (k Balagopal) ইংরেজি অনুবাদ The Butcher থেকে অনুদিত। কবিতাটি লেখা হয় ৯ জুন ১৯৮৫ সালে

আমি মুক্তির সাগরে মুক্তি খুঁজে বেড়ানো একফোঁটা জল...”

কসাই
– – – ভারাভারা রাও

আমি একজন মাংসের ব্যবসায়ী
তুমি যদি আমাকে কসাই ডাকতে চাও
তবে তা তোমার ইচ্ছে
আমি রোজ পশু হত্যা করি
তাদের মাংস কেটে বিক্রি করি
রক্ত আমার কাছে এক পরিচিত দৃশ্য
কিন্তু
সেই দিন আমি দেখেছিলাম
কসাই শব্দের আক্ষরিক রূপ

আমার এই হাত দিয়ে রোজ পশু হত্যা করি
রক্ত আমার হৃদয়কে স্পর্শ করেনি কোনদিন,
কিন্তু সেই দিন রক্ত রাজপথে গড়িয়ে পড়েনি
পড়েছিল আমার হৃৎপিণ্ডে
তুমি কি ধুয়ে দেবে সেই রক্ত ?

তোমাদের মাঝে কেউ কি আছো যে বাড়িয়ে দেবে
একটি মানবিক হাত
আর আমার হৃদয়কে করবে অবমুক্ত
সেই বিভৎস দৃশের অসহনীয় বোঝা থেকে ?

ছয়টি লাঠি তার অস্থিগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করেছিল
যেন-কোন উন্মাত্ত ক্রোধে-
রাইফেলের বাট তার দেহকে দুমড়ে মুচড়ে পরিণত করেছিল
একতাল মাংসপিণ্ডে

সেই মাংসপিণ্ডের মুখ আটকে দিয়েছিল পুলিশওয়ালাদের চোয়াল
তারা তখন বলেছিল
“নষ্ট যুবকটি একটি ছুরি নিয়ে হামলা চালায়
এবং সেখানে একটি ‘এনকাউন্টার’ ঘটে”

পশু হত্যা করি আমিও
কিন্তু তাদের আমি কখনো ঘৃণা করিনি ,
আমি মাংস বিক্রি করি
কিন্তু কখনো কারো কাছে
আমি নিজেকে বিক্রি করিনি

চুঁইয়ে পড়ছে রক্তধারা
তার দেহের সহস্র ক্ষতস্থান থেকে
জলে ভরা সহস্র দৃষ্টি
কিন্তু ছেলেটির শুষ্ক চোখ
আমার ছুরির ফলার নীচে ক্রন্দনরত ছাগলের মত
সে ’ব্যা ব্যা’ চিৎকার করে ওঠে না
মনে হয় তার দৃষ্টি যেন চেয়ে আছে ভবিষ্যতের পানে

গতকালের দৃষ্টি
না, এটি ইতোমধ্যেই পরশু দিনের
এটি ১৫ই মে’র বন্ধের দৃশ্য
আমার সে স্মৃতি তাড়ানো যাবে না কোনদিন
যতদিন নিঃশ্বাস বইবে এ দেহে

আজ আমি তোমাকে অনুভব করাতে পারছি
কারণ আমি নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারছি না
লুকিয়ে ফেলতে পারি কাল

আমার জীবিকা ওরা ধ্বংস করুক
কিন্তু সেই শিশুটি
আমাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে ।

শোনো আমার ভাই, বোন, তোমরা শোনো
একটি সাপও আমরা ওভাবে মারি না
যে আমি, রোজ পাঁঠা হত্যা করি, সেদিন বুঝেছিলাম
নিষ্ঠুরতা কী, যা সম্মিলিত হয়ে ষড়যন্ত্র চালায়
একটি জীবনকে কেড়ে নেবার জন্য

আমি মাংসের ব্যবসায়ী
হ্যাঁ, আমি একজন কসাই
ভেড়ার মাংস আর পাঁঠার মাংস
আমি বিক্রি করি জীবিকার জন্য

সেই মন্ত্রী নিজে
পুলিশওয়ালাদের ভূষিত করে
পুরস্কার আর পদোন্নতি দিয়ে
পদক আর টাকার ওজন দিয়ে
মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার পুরস্কার হিসেবে
মন্ত্রী অর্থ সরকার
পুলিশ আমাদের রক্ষক
যাদের(যে মন্ত্রীদের) নিয়ে এ সরকার আর
যার রক্ষক হল তারা(পুলিশ)

অসীমে ভেসে চলা
সেই ছেলেটির প্রাণ
বলে গিয়েছিল আমাকে
জেনেছিলাম
প্রকৃত কসাই এর পরিচয়
রাষ্ট্র
***

৯ই জুন ১৯৮৫


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকার (সম্পূর্ণ)

c

comrades-kA7G-621x414@LiveMint

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি গত ০৮/০৮/২০১৫ থেকে ০৯/০৯/২০১৫ পর্যন্ত মোট ৮ টি পর্ব ধারাবাহিক ভাবে বাংলায় প্রকাশ করেছে ‘লাল সংবাদ‘। কিন্তু আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ২ পর্ব প্রকাশ করতে পারিনি। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমরা বাকি দুই পর্ব সহ সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি PDF আকারে প্রকাশ করছি।

পাঠক কমরেডগণ নীচে ক্লিক করেই সাক্ষাৎকারটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন– 

কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকার


ভারতঃ ভুয়ো সংঘর্ষে মারা হয়েছে ২ মাওবাদীকে অভিযোগ ভারাভারা রাওয়ের

11062155_1150105731672313_2111781750894714765_n

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

কবি ও লেখক ভারাভারা রাও

মঙ্গলবার ভোররাতে ওয়ারাঙ্গলে পুলিসের গুলিতে ২ মাওবাদীর নিহত হওয়ার ঘটনাকে ভুয়ো সংঘর্ষ বলে অভিযোগ করলেন ভারভারা রাও। নিহত দুই মাওবাদীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানে মানবাধিকার সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীরা বিক্ষোভ দেখান। বিশাল পুলিসি ঘেরাটোপের মধ্যে হাসপাতালে ময়না তদন্ত হয় নিহতদের। পুলিস দাবি করেছিল মঙ্গলবার ভোররাতে ওয়ারঙ্গলের জঙ্গলে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরেই মৃত্যু হয় ওই ২ মাওবাদীর।

সূত্রঃ দ্যা হিন্দু