সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (২য় পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

সাক্ষাৎকারটি প্রতি শনিবার বুধবার ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে –

c

comrades-kA7G-621x414@LiveMint

(দ্বিতীয় পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ বর্তমান সময়ে পার্টি কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে? সেগুলো অতিক্রম করার কী কী সুযোগ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

গণপতিঃ বর্তমান সময়ে আমাদের আন্দোলন যে সব প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো উল্লেখ করছি। প্রথমত, আমাদের নেতৃত্বকে বিশেষ করে পার্টির কৌশলগত নেতৃত্বকে রক্ষা করা। নতুন পার্টি গঠনের পর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ের পার্টি কমিটি পর্যন্ত সকল স্তরের অনেক নেতাকে আমরা হারিয়েছি। নেতৃত্বকে রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমাদেরকে কাজের ক্ষেত্রে অবশ্যই গোপন ও যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে, অনুশীলন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে, নতুন নেতৃত্বকে প্রস্তুত করতে হবে এবং বিপ্লবের সাফল্যের শর্ত হিসেবে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় একটি শক্তিশালী পার্টির প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সমগ্র পার্টির ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, গ্রামাঞ্চলে ও শহর এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পার্টি যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এটি তার একটি কারণ। যে সমস্ত এলাকায় আমাদের পার্টি দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করেছে কিন্তু পর্যায়ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে সে সমস্ত এলাকায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করা ও বিস্তৃত করা আমাদের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ। একইভাবে, নতুন এলাকাতেও আন্দোলন সম্প্রসারিত করতে হবে এবং গণযুদ্ধের ক্ষেত্রকে বর্ধিত করার লক্ষ্যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। এই আন্দোলনের অভিজ্ঞতার আলোকে অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে বিপ্লবের অগ্রগতির জন্য ক্রমবর্ধমান অনুকূল অবস্থাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এভাবে আমরা অবশ্যই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

তৃতীয়ত, কেউ কেউ বলছেন ভারতের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে ভারত একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এগুলো বলে বিপ্লবী ক্যাম্পে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে এধরনের ভুল দৃষ্টিভঙ্গিও তারা সামনে নিয়ে আসছেন। কিন্তু ভারতের মতো একটি আধা ঔপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী রাষ্ট্রে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করার জন্য দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধই একমাত্র সঠিক বিপ্লবী উপায় হিসেবে অনুশীলনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং, এ জাতীয় ভ্রান্ত ধারণার বিপক্ষে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং এগুলো প্রকাশ করতে হবে। একই সাথে আমাদেরকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলো গভীর ভাবে জানতে হবে ও সে অনুযায়ী আমাদের যুদ্ধ কৌশলে যথোচিত পরিবর্তন আনয়ন করতে হবে।

চতুর্থত, ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদী শক্তি এখন কেন্দ্রের ক্ষমতায় এসেছে যারা সামন্তবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল মতাদর্শ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির দৃঢ় প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া দালালদের মদদপুষ্ট মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে আর তার সাথে বিভিন্ন স্থানে যুক্ত হয়েছে সঙ্ঘ পরিবার (The Sangh Parivar) উদ্ভাবিত সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি বিদেশী ও দেশীয় বড় বড় পুঁজিবাদী ভূস্বামীদের লোভ মেটাতে বিপজ্জনক গতিতে সাম্রাজ্যবাদপন্থী, দেশ বিক্রির নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে আরম্ভ করেছে এবং সেই সাথে হিন্দু ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমকে বিভিন্ন রূপে এগিয়ে নিতে চাইছে। সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন পথ দেখাবে। সংগ্রামের এই যুদ্ধক্ষেত্রে সমাজের আরো অনেক নতুন শ্রেণী, সামাজিক গোষ্ঠী থেকে জনগণ আসবে এবং দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ তৈরী হবে।

পঞ্চমত, বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতি বিপ্লবের পক্ষে আরো বেশী অনুকূল হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব অর্থনীতি এখনো তীব্র সংকটের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং বিশ্বের সমস্ত মৌলিক অসঙ্গতিগুলো শাণিত হচ্ছে। ফলে, সাম্রাজ্যবাদ ও এর গৃহপালিত সমর্থকদের বিরুদ্ধে সারা পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও জাতীয় মুক্তি বাহিনীগুলো শক্তি লাভ করছে। মাওবাদী বাহিনীগুলোও শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিগুলোর আর কোন অস্তিত্ব নেই এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের মানসিক শক্তি খুবই দুর্বল। এটিও আমাদের সামনে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

(চলবে)

 

Advertisements

সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (১ম পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি বাংলায় প্রকাশ করছেলাল সংবাদ‘।

সাক্ষাৎকারটি প্রতি শনিবার  বুধবার ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে

c

comrades-kA7G-621x414@LiveMint

(প্রথম পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে

 

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন- 

মাওবাদী তথ্য বুলেটিন: পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে MIB এর পক্ষ থেকে আপনাকে ও আমাদের সকল কমরেডদের জানাচ্ছি বিপ্লবী শুভেচ্ছা।

গণপতিঃ ধন্যবাদ। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে MIB এর সকল কমরেডদের প্রতি বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

মাওবাদী তথ্য বুলেটিন: গত দশ বছরে পার্টির কী কী উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

গণপতিঃ ১৯২৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (Communist Party of India) গঠিত হবার পর থেকে আমাদের দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় পার করেছে। এর মধ্যে গত দশকটি অনন্য সাধারণ, কারণ এ দশকে নকশালবাড়ির পর থেকে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে পরিচালিত দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশের শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাসে কিছু অভিনব ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী গত দশক। এই দশকের তাৎপর্য্যপূর্ণ ঘটনাগুলো হল-

-ভারতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য একটি একক গাইডিং সেন্টারের সূচনা করা। পার্টি, আর্মি ও যুক্তফ্রন্ট(United Front) বিপ্লবের এই তিনটি ম্যাজিক অস্ত্র আগের থেকে আরো বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠছে; রাজনৈতিক ও সামরিক লাইন, যুক্তফ্রন্টের নীতিমালা ও অন্যান্য নীতিমালাকে ঐক্যবদ্ধ পার্টির দলিলপত্র হিসেবে সমৃদ্ধকরণ।

-কংগ্রেসের দলিলপত্র, নীতিমালার কাগজপত্র, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সার-সংক্ষেপ, আর্টিকেল ইত্যাদির সমন্বয় সাধন করা; মিলিটারি লাইনের আরো উন্নয়ন সাধন, গেরিলা যুদ্ধকৌশলের তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধে জনগণের বিশাল অংশগ্রহণ ঘটেছে যা এই লড়াইতে সত্যিকারের গণযুদ্ধের বৈশিষ্ট্য আরোপ করেছে ও নতুন নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে যার ফলে শত্রুর নৃশংসতম বিপ্লব বিরোধী দমন অভিযান পরাভূত হয়েছে। জল, জঙ্গল, ভূমি, সম্মান ও অধিকার বিষয়গুলোতে জনগণের বড় অংশ বিশেষ করে কৃষকদের অংশগ্রহণে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিপ্লবী গণ কমিটি (Revolutionary People’’s Committees- RPCs) আকারে কৌশলগত যুক্ত ফ্রন্ট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধি ও সুপরিকল্পিত যুক্তফ্রন্ট গঠনে নতুন ও অধিকতর ভালো অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। শাসক শ্রেণীর গণ বিরোধী, দেশ বিক্রিকারী উন্নয়ন মডেলের বিপরীতে বিপ্লবী গণ কমিটি (RPCs) কর্তৃক উন্নয়নের বিকল্প মডেল স্বীকৃতি পেয়েছে যেটি সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব।

বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। তা সত্ত্বেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সহযোগিতায় গোটা দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদী ভারতীয় সরকার পরিচালিত নজিরবিহীন বর্বর দমন অভিযানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় বিপ্লব টিকে আছে এবং ভারত তথা গোটা বিশ্বের মানুষের মাঝে বিপ্লবের আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। অপারেশন গ্রিন হান্টের বিরুদ্ধে ও গণযুদ্ধের স্বপক্ষে লড়াইরত বিপ্লবী গণমানুষের জন্য ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন অর্জিত হয়েছে।

সিপিআই (মাওবাদী) ও সিপিআই (এম-এল) নকশালবাড়ির একটি একক পার্টিতে একীভূত হবার ঘটনা আমাদের দেশে প্রকৃত বিপ্লবীদের মাঝে ঐক্যবদ্ধকরণের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। ভারতের গণযুদ্ধ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে যাকে ঘিরে মাওবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ঐক্য, আন্তর্জাতিক সংহতি ও সমর্থন আন্দোলন গড়ে তোলা যায়। মহান নকশালবাড়ির সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহের ফলে সূচিত এবং আমাদের পার্টির মহান প্রতিষ্ঠাতা নেতা কমরেড চারু মজুমদার ও কানহাই চট্টোপাধ্যায় প্রণীত নতুন মতাদর্শ, নতুন রাজনীতি, নতুন লাইন, নতুন পার্টি, নতুন আর্মি ও নতুন গণ ফ্রন্টের উপর ভিত্তি করে গত দশকের এই নতুন ও তাৎপর্য্যপূর্ণ উন্নয়নগুলো সাধিত হয়েছে।

এক দিকে শত্রুর নিরন্তর বর্বরোচিত দমন অভিযানের মধ্য দিয়ে পাল্টা লড়াই চালিয়ে ও অন্যদিকে আন্দোলনের বিভিন্ন সংকট মুহূর্তে পার্টির ভেতরে গজিয়ে উঠা ডান ও ‘বাম’ সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে তিক্ত সংগ্রাম চালিয়ে গত দশকের সকল উন্নয়নগুলো অর্জিত হয়েছে। ভারতীয় বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য কমিউনিস্ট ও সাধারণ মানুষ উভয়ের গৌরবময় আত্মদান। তাদের আত্মদান ছাড়া গত দশকের এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কোনটাই অর্জিত হত না। এই আত্মদানগুলোর মধ্য দিয়ে পার্টি একটি বিকল্প ধারার চিন্তা ও সংস্কৃতিকে সামনে তুলে এনেছে যেটি সর্বোচ্চ মানবীয় মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এ ধারা, শাসক শ্রেণী কর্তৃক জনসাধারণের মাঝে ধীরে ধীরে নষ্ট, অধঃপতিত ও আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা ও সংস্কৃতির ধারা প্রবেশ করানোর যে প্রক্রিয়া, তার বিরোধী। এভাবে, এই আত্মদানগুলো সমাজের নির্যাতিত শ্রেণীকে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য লড়াই করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

(চলবে)


ভারতঃ মারা গেলেন বিপ্লবী লেখক সংঘ বা ভিরাসমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ‘চালসানি প্রসাদ’

চালসানি প্রসাদ

বিপ্লবী লেখক কমরেড চালসানি প্রসাদ

বিপ্লবী লেখক সংঘের অনুষ্ঠানে চালসানি প্রসাদ

বিপ্লবী লেখক সংঘের অনুষ্ঠানে চালসানি প্রসাদ

নিজ বাসায় মারা গেলেন কমরেড চালসানি প্রসাদ

নিজ বাসায় মারা গেলেন কমরেড চালসানি প্রসাদ

৮৩ বছর বয়সে মারা গেলেন বিপ্লবী লেখক সংঘ বা ভিরাসমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা চালসানি প্রসাদ। বিশাখাপত্তনমের সিতাম্মাধারায় এইচ বি কলোনির নিজ বাসায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১ নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। দুই মেয়েকে সাথে নিয়েই থাকতেন তিনি। তার স্ত্রী কয়েক বছর আগেই মারা যান।

বাসায় এ্যাম্বুলেন্স পৌছার আগেই হৃদরোগে তিনি মারা যান।

চালসানি প্রসাদ, কৃষ্ণ জেলার ভাটলাপেনুমাররুতে এক কমিউনিস্ট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পুরো জীবনটাই মার্কসবাদী আদর্শে পরিচালিত হন। জরুরী অবস্থা চলাকালীন তিনি আটক হন এবং তার মার্কসবাদী মতাদর্শ ও ঘোষণাগুলোর কারণে বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ রাষ্ট্র ভিরাসমকে সিপিআই(মাওবাদী) এর অঙ্গ সংগঠন হিসেবে মনে করে। অবসরপ্রাপ্ত এই কলেজ শিক্ষক আগাগোড়াই মাওবাদী আদর্শে বিশ্বাস করতেন। সিপিআই মাওবাদীরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।

প্রসাদ বিশাখাপত্তনমে মিসেস এ.ভি.এন এ কলেজ থেকে রাজনীতি প্রভাষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজেকে ছাত্রদের কাছে প্রিয় বন্ধু হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি তাদের ব্যক্তিত্বের উন্নয়নে আগ্রহী ছিলেন। তিনি শ্রী শ্রী, রবি শাস্ত্রী, রাঙ্গানায়াকাম্মা এবং বিভিন্ন জনদের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

একজন উৎসুক পাঠক, চালসানি প্রসাদের এইচ বি কলোনির বাসায় হাজার হাজার বই বস্তাবন্দী অবস্থায় আছে, এগুলোর বেশীর ভাগই দুষ্প্রাপ্য। তিনি অনেক বিষয় নিয়ে গভীর ভাবে আলোচনা করতে পারতেন এবং একজন লেখকের মর্যাদা যাই হোক না কেনো, তিনি যে কোন ভালো লেখার সঠিক মূল্যায়ন করতেন এবং একই সময়ে অন্যান্য সুপ্রতিষ্ঠিত লেখকদের মত যদি তিনি ভুল করতেন বা কিছু লিখতেন তবে সেটা সমাজের স্বার্থবিরোধী হত।

তিনি একজন বামপন্থী হতে পারেন, কিন্তু বিশ্বনদ সত্যনারায়ণের একটি সাহিত্য সভায়ও অনুপস্থিত থাকতেন না, কারণ তিনি তার লেখার জন্যে সবসময় প্রশংসিত হতেন।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/andhra-pradesh/chalasani-prasad-passes-away/article7464236.ece


ভারতঃ আগামীকাল বিপ্লবী লেখক সমিতির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আগামীকাল হায়দ্রাবাদে ভিরাসাম এর সভা

আগামীকাল হায়দ্রাবাদে ভিরাসাম এর সভা

অন্ধ্র প্রদেশ ও ছত্তিশগড় সীমান্তে এঙ্কাউণ্টারে নিহত ১৯ বছরের আইনের ছাত্র সহ ৪ মাওবাদীকে হত্যার বিষয়কে সামনে রেখে বিপ্লবী লেখক সমিতি, ভিরাসাম নামে পরিচিত (বিপ্লব রচয়িতা সংগ্রাম)/ VIRASAM (Viplava Rachayitala Sangham) এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল রবিবার সুন্দারাইয়াহ ভিগানানা কেন্দ্রম এ অনুষ্ঠিত হবে। সমিতির সদস্যদের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি ভারভারা রাও এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সভায় “নিপীড়িত এবং অত্যাচারীর মধ্যকার সংগ্রামে কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবীরা কার পক্ষ নেবেন?” শীর্ষক বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর হবে।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/andhra-pradesh/45th-foundation-day/article7409412.ece