আইএসের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ইয়াজিদি নারীরা

yazidi-woman-4

মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থানের পর, সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছে ইয়াজিদি সম্প্রদায়।  সারা পৃথিবীতে এ সম্প্রদায়ের প্রায় ৭ লাখ মানুষ থাকলেও, তাদের সিংহভাগের বসবাস উত্তর ইরাকের সিনজার পর্বতের আশপাশে।  ২০১৪ ও ১৫ সালে বহু ইয়াজিদি নারীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে আইএস।  আর জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত ও হত্যার শিকার হয়েছে অসংখ্য ইয়াজিদি পুরুষ।

আইএসের হাতে নির্যাতনের শিকার ইয়াজিদিদের অনেক নারী তাই এবার জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে নেমেছেন।  নিজ সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে জীবন দিতে প্রস্তুত তারা।

খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অগ্রহণযোগ্য ইয়াজিদিরা নৃতাত্ত্বিকভাবে কুর্দি সম্প্রদায়ভুক্ত।  ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থানের পর সিনজার পর্বতের আশপাশে বসবাসরত ইয়াজিদিদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় জঙ্গিগোষ্ঠীটি।

আইএস শত শত নারীকে অপহরণ করে মাসের পর মাস আটকে রাখে।  ২০১৫ সালে মুক্তির পর কয়েকজন ইয়াজিদি নারী গণমাধ্যমে আইএসের অত্যাচারের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছিলেন।  আইএসের নৃশংসতা থেকে আজও যাদের মুক্তি মেলেনি, তাদের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন হাসিবা নৌজাদ ও আসিমা দাহিরের মতো ইয়াজিদি ও কুর্দি নারী যোদ্ধারা।

এক নারী যোদ্ধা বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না, একজন পুরুষের পাশে আমরা যখন অস্ত্র হাতে দাঁড়াই- এটা তাদের আরও বেশি উৎসাহিত করে।’

ইয়াজিদি নারী ও শিশুদের আর্তনাদ, যুদ্ধের মাঠে নামিয়েছে অনেককে।  প্রথাগত সংসার ভুলে মরুভূমি আর বনে-বাদারেই কাটছে তাদের অষ্ট প্রহর। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও আইএসের নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে চান তারা।

এক নারী যোদ্ধা বলেন, ‘আমার যে বোনেরা আইএসের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের কথা ভেবে আমার দম বন্ধ হয়ে আসতো।  তাই কুর্দি নারীদের সঙ্গে আমিও যুদ্ধে নেমেছি।’

তাদের মতো আরও অনেক নারী কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে নাম লিখিয়েছেন।  পুরুষদের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে তারাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।  এমনকি ইরাকের উত্তরাঞ্চল মসুল থেকে আইএসকে হটাতে এ নারীদেরও বড় ভূমিকা ছিলো বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

১৮ ও ১৯ শতকে অটোম্যান সাম্রাজ্যের অধীনে ইয়াজিদিরা অন্তত ৭২ বার হামলা ও গণহত্যার শিকার হয়েছে।  ২০০৭ এ উত্তর ইরাকে গাড়ি বোমা হামলায় কয়েকশ’ ইয়াজিদি নিহত হয়।  আইএসের হামলার শিকার হওয়ার আগে আল-কায়দার রোষানলে পড়েছিলো ইরাক ও সিরিয়ার এ সংখ্যালঘুরা।

বারবার আক্রমণের মুখে পড়া ইয়াদিজিদের একটি বড় অংশ, এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে গেছে।  পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্যমতে, গত ২ বছরে লক্ষাধিক ইয়াজিদি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

Advertisements

রোজাভা কমিউনের উন্নয়ন ঘটছে দিনদিন

rojavakomunleri

জনপ্রিয় কুর্দিশ নেতা আব্দুল্লাহ ওকালানের গণতন্ত্র স্বায়ত্বশাসনের প্রস্তাবনায় অর্থনৈতিক ভিত্তি হল মুক্ত অর্থনৈতিক মডেল। এর লক্ষ্য, একটি গণতান্ত্রিক, লৈঙ্গিক সমতায় ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠন করা।  এই ধরনের সমাজ চিত্র রোজাভায় দৈনন্দিন দেখা যায় বলে ‘ওজগুর গুনদেম’ (Özgür Gündem) নামে একটি পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এফরিন ক্যান্টনের সিন্ডিরেসে জেলায় শহীদ ফাদিল কমিউন গড়ে তোলা হয়েছে, এ কমিউন পুঁজিবাদী বাজারের যুক্তিকে সরিয়ে জনগণের বাজার তৈরী করেছে। এ জেলার বাজারটি এ ধরনের সর্বপ্রথম বাজার। প্রতি বৃহস্পতিবার এ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে প্রয়োজনীয়  দ্রব্য সরবরাহ করে এ বাজার। অত্যন্ত অল্প লাভে জনগণের কাছে পণ্য দ্রব্য বিক্রয় করা হয়, এবং অর্জিত অর্থ স্থানীয় জনসাধারণের কল্যাণে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়। ফলমূল, সবজি, পোশাক ও অন্যান্য বস্ত্র ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয় করা হয় এ বাজারটিতে। বাজারটির সম্প্রসারণ বিষয়ে শহীদ ফাদিল কমিউনের অর্থনৈতিক কমিটির সদস্য এহমেদ সিয়া বলেন, “জেলা বাজার সার্ভিস কমিটির সহযোগিতায় এ বাজারটি স্থাপন করা হয়েছে, এর মোট আয়তন ২৫০০ বর্গমিটার। এর মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৫০০ বর্গমিটার জনগণের বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাজারটি এলাকা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় আমরা কাছাকাছির মধ্যে একটি জেলা বাজার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেই। সামাজিক মডেলের সাথে সংগতিপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আমরা এ বাজারটির আরো  উন্নয়ন ঘটাতে চাই।”

সূত্রঃ https://rojavareport.wordpress.com/2015/05/11/communes-in-rojava-growing-daily/


প্রতি তিন দিনে একজন সিআরপিএফ জওয়ান আত্মহত্যা করে বলে পরিসংখ্যানে প্রকাশ

09Fir06.qxp

 

 

ভারত

মাওবাদীদের বুলেটে ভারত যত না মিলিটারি জওয়ান হারাচ্ছে তার চেয়ে বেশী হারাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে দরিদ্র অবস্থা ও উচ্চ মানসিক চাপের কারণে। আশংকাজনক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি তিন দিনে একজন প্যারামিলিটারি জওয়ান আত্মহত্যা করে। মাওবাদীদের সাথে যুদ্ধরত সিআরপিএফ জওয়ানরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে থাকে।

হৃদরোগ, ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি র মত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সিআরপিএফ বাহিনীর জওয়ানরা। গত পাঁচ বছরে এই তিনটি রোগে ১,১৩১ জন জওয়ান মৃত্যবরণ করেছে অথচ মাওবাদীদের হাতে মৃত্যুবরণ করেছে মাত্র ৩২৩ জন। দেশটির বৃহত্তম প্যারামিলিটারি বাহিনী সিআরপিএফ এ তিন লাখের বেশি জওয়ান রয়েছে যারা প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধরত। জঙ্গলে মাওবাদীদের সাথে, জম্মু ও কাশ্মীরে, উত্তর পূর্ব অঞ্চলে সর্বত্র জওয়ানদের পরিস্থিতি শোচনীয়। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্যারামিলিটারি বাহিনীর ৩৭০ জন জওয়ান আত্মহত্যা করে। প্যারামিলিটারি বাহিনীর ভেতরে সিআরপিএফ এ জওয়ানদের ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশী। অন্যান্য বাহিনীর ভেতরে এ হার সীমিত অথচ সিআরপিএফ ঝরে পড়ার হার অনেক বেশী। ২০১৪ সালে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন জওয়ানকে হারায় এ বাহিনী। ২০১৪ সালে পরিণত হবার আগেই ছয় হাজারের বেশী জওয়ান বাহিনী ত্যাগ করে। অপরদিকে ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১৮৬। টয়লেটের অভাব সহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ সুবিধার অভাবে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলগুলোতে বাহিনীর জওয়ানরা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মানবেতর অবস্থার কারণে সিআরপিএফ এর জওয়ানরা বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সূত্রঃ dailymail.co.uk