আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতীকঃ শহীদ নারী কমরেড ‘বারবারা আন্না কিস্টলার’

466218_o70cb

বারবারা আন্না কিস্টলার ২১ নভেম্বর, ১৯৫৫ সালে জুরিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা শ্রমিক ছিলেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং যারা শাসক ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন সেসব জনগণকে দলে সংগঠিত করতে শুরু করেন। ১৭ বছর বয়সে, তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।  এছাড়া তিনি বিভিন্ন নারী সংগঠনে কাজ করতেন। তার লক্ষ্য ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মাধ্যমে নারীদের নারীবাদী ধারণার পরিবর্তন করা। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ফ্যাসিবাদ বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করেন। বিচ্ছিন্নতা (KGI) বিরোধী দলের সাথে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল, যারা সুইজারল্যান্ডে একটি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিল।একই সাথে তিনি অন্যান্য দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পরিস্থিতি অনুসন্ধান করতেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের আন্দোলনের প্রতি তিনি আগ্রহী ছিলেন।

১৯৮০ সালে, তিনি সামরিক অভ্যুত্থান এড়িয়ে যে সমস্ত বিপ্লবী তুরস্ক থেকে সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান, তাদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি সহানুভূতিশীল হিসেবে মাওবাদী TKP/ML[তুর্কি কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী] এর সংস্পর্শে আসেন। এ সময় পার্টি তাঁকে আরো গভীর ভাবে মাওবাদী TKP/ML এর প্রোগ্রাম অধ্যয়নের বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়। এরপর তিনি সুইজারল্যান্ডের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন, তাই তিনি তুরস্ক থেকে যান এবং মাওবাদী TKP/ML এর নেতৃত্বে শ্রেণী সংগ্রামে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯১ সালের ১৯শে মে তিনি ইস্তাম্বুলে অন্যান্য কমরেডদের সাথে একত্রে গ্রেফতার হন।ফ্যাসিস্ট তুর্কি রাষ্ট্রের আদালতের সামনে তিনি- “সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদকে দোষারোপ করার কোন অধিকার আপনাদের নেই!” এই কথাগুলো বলে তুর্কি ফ্যাসিবাদের নিন্দা জানান। ১৬ই সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি মুক্তি পান এবং সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান। কিন্তু তিনি কেবল এক মাসের জন্য সেখানে থাকেন এবং আবার তিনি তুরস্কে ফিরে যান।

তিনি মাওবাদী TKP/ML এর সশস্ত্র শাখা TIKKO[তুরস্কের শ্রমিক ও কৃষকদের মুক্তি সেনা] এর সশস্ত্র সংগ্রামে যোগদানের জন্য পাহাড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৩ সালে রিপোর্ট আসে যে তিনি শহীদ হন।

কমরেড বারবারা ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ এবং প্রতিক্রিয়াশীলসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃস্থানীয় সংগ্রামে তার জীবন দিয়েছেন। তার সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম এবং তিনি আমাদের সংগ্রামে বেঁচে থাকবেন।

কমরেড বারবারা আন্না কিস্টলার অমর হোন!

নয়া গণতান্ত্রিক যুব – Yeni Demokratik Genclik (YDG)

মহান আন্তর্জাতিকতাবাদী নারী কমরেড ‘বারবারা আন্না কিস্টলার‘ এর প্রতি রইল ‘লাল সংবাদ‘ এর লাল সালাম।

(অনূদিত)